এশিয়ার নতুন শীতল যুদ্ধে হেরে গেছে ন্যায়বিচার ও রোহিঙ্গারা
jugantor
গার্ডিয়ানের নিবন্ধ
এশিয়ার নতুন শীতল যুদ্ধে হেরে গেছে ন্যায়বিচার ও রোহিঙ্গারা

  যুগান্তর ডেস্ক  

২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এশিয়ার নতুন শীতলযুদ্ধে ন্যায়বিচার ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আঞ্চলিক ‘খেলোয়াড়রা’ তাদের নিজেদের স্বার্থের দিকে বেশি মনোযোগী হওয়ার কারণে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হামলার বিষয়টি অনিয়ন্ত্রিতই থেকে গেছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের অনলাইন সংস্করণে ২০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক নিবন্ধে এ কথা বলা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু মুসলমানের ওপর নিপীড়ন ও উদ্দেশ্যমূলক গণহত্যা এখন আইনের শাসনের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। আর আন্তর্জাতিক একজন শীর্ষ আইনজীবীর মতে, এটা হল সামষ্টিক বিবেক ও মানবতার ওপর একটি নৈতিক ক্ষত। চিহ্নিত অপরাধীরা যদি শাস্তিই পেয়ে থাকে তাহলে এখনও রাখাইনে হত্যাকাণ্ড ও অন্যান্য ভীতিকর অবস্থা অব্যাহত আছে কেন?

নিবন্ধটি লিখেছেন সাংবাদিক সিমন টিসডাল। ‘জাস্টিজ অ্যান্ড দ্য রোহিঙ্গা পিপল আর দ্য লুজারস ইন এশিয়া’জ নিউ কোল্ড ওয়ার’- শীর্ষক নিবন্ধে তিনি উপরোক্ত প্রশ্নের কথা উল্লেখ করে বলেন, এটা এমন একটি প্রশ্ন যার সম্ভাব্য বেশ কিছু উত্তর হতে পারে। হতে পারে দরিদ্র, বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা মিয়ানমার, যার আগের নাম ছিল বার্মা; এখনও রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নয়।

হয়তো পশ্চিমারা অবচেতন বলে বাদামি ত্বকের মুসলিম সংখ্যালঘুদের জীবন তাদের কাছে ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। অথবা, হয়তো টেকসই প্রতিবাদের অনুপস্থিতি ও বিশ্ব শক্তিগুলোর পক্ষে দুর্বল জনগোষ্ঠী ও দেশগুলোর ওপর নিপীড়ন ঠেকাতে ব্যর্থতার কারণেই এমনটা হচ্ছে। মিয়ানমারে এক শতকের বেশি সময় ধরে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের শাসনাধীন ছিল। এখন রয়েছে চীন সাম্রাজ্যবাদের অধীনে; যারা নিজ দেশ বা বিদেশ কোনো জায়গাতেই মানবাধিকারের ধার ধারে না।

গত সপ্তাহে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাই-কমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট সতর্ক করেছেন যে, মিয়ানমারে নির্যাতন বন্ধ রাখা তো দূরের কথা, তার বদলে ফের বেসামরিকদের হত্যা ও অপহরণ শুরু হয়েছে। রাখাইন ও পার্শ্ববর্তী চীন রাজ্যে দায়মুক্তির সঙ্গে এসব চালিয়ে যাচ্ছে তারা। ব্যাচেলেট বলেন, ‘কিছু ঘটনায় তারা বাছবিচারহীনভাবে হামলা চালায়। এতে আরও যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে।’

নিবন্ধে বলা হয়, গত ডিসেম্বরে মিয়ানমারের বেসামরিক নেত্রী অং সান সুচি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) হাজির হয়ে গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

বলেন, রাখাইনের ব্যাপারটি সেনাবাহিনী এবং রোহিঙ্গা ‘জঙ্গি’ ও সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মধ্যকার একটি ‘অভ্যন্তরীণ সংঘাত’। এতে যদি সেনারা ব্যক্তি পর্যায়ে অপরাধের জন্য দোষী হয়ে থাকে, তাহলে তাদের শাস্তি হবে। তবে এখন অবধি তেমন কোনো শাস্তি হয়নি। শাস্তি দেয়া হলেও তা খুব অল্প কয়েকজনই পেয়েছে।

গার্ডিয়ানের নিবন্ধ

এশিয়ার নতুন শীতল যুদ্ধে হেরে গেছে ন্যায়বিচার ও রোহিঙ্গারা

 যুগান্তর ডেস্ক 
২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এশিয়ার নতুন শীতলযুদ্ধে ন্যায়বিচার ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আঞ্চলিক ‘খেলোয়াড়রা’ তাদের নিজেদের স্বার্থের দিকে বেশি মনোযোগী হওয়ার কারণে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হামলার বিষয়টি অনিয়ন্ত্রিতই থেকে গেছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের অনলাইন সংস্করণে ২০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক নিবন্ধে এ কথা বলা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু মুসলমানের ওপর নিপীড়ন ও উদ্দেশ্যমূলক গণহত্যা এখন আইনের শাসনের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। আর আন্তর্জাতিক একজন শীর্ষ আইনজীবীর মতে, এটা হল সামষ্টিক বিবেক ও মানবতার ওপর একটি নৈতিক ক্ষত। চিহ্নিত অপরাধীরা যদি শাস্তিই পেয়ে থাকে তাহলে এখনও রাখাইনে হত্যাকাণ্ড ও অন্যান্য ভীতিকর অবস্থা অব্যাহত আছে কেন?

নিবন্ধটি লিখেছেন সাংবাদিক সিমন টিসডাল। ‘জাস্টিজ অ্যান্ড দ্য রোহিঙ্গা পিপল আর দ্য লুজারস ইন এশিয়া’জ নিউ কোল্ড ওয়ার’- শীর্ষক নিবন্ধে তিনি উপরোক্ত প্রশ্নের কথা উল্লেখ করে বলেন, এটা এমন একটি প্রশ্ন যার সম্ভাব্য বেশ কিছু উত্তর হতে পারে। হতে পারে দরিদ্র, বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা মিয়ানমার, যার আগের নাম ছিল বার্মা; এখনও রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নয়।

হয়তো পশ্চিমারা অবচেতন বলে বাদামি ত্বকের মুসলিম সংখ্যালঘুদের জীবন তাদের কাছে ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। অথবা, হয়তো টেকসই প্রতিবাদের অনুপস্থিতি ও বিশ্ব শক্তিগুলোর পক্ষে দুর্বল জনগোষ্ঠী ও দেশগুলোর ওপর নিপীড়ন ঠেকাতে ব্যর্থতার কারণেই এমনটা হচ্ছে। মিয়ানমারে এক শতকের বেশি সময় ধরে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের শাসনাধীন ছিল। এখন রয়েছে চীন সাম্রাজ্যবাদের অধীনে; যারা নিজ দেশ বা বিদেশ কোনো জায়গাতেই মানবাধিকারের ধার ধারে না।

গত সপ্তাহে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাই-কমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট সতর্ক করেছেন যে, মিয়ানমারে নির্যাতন বন্ধ রাখা তো দূরের কথা, তার বদলে ফের বেসামরিকদের হত্যা ও অপহরণ শুরু হয়েছে। রাখাইন ও পার্শ্ববর্তী চীন রাজ্যে দায়মুক্তির সঙ্গে এসব চালিয়ে যাচ্ছে তারা। ব্যাচেলেট বলেন, ‘কিছু ঘটনায় তারা বাছবিচারহীনভাবে হামলা চালায়। এতে আরও যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে।’

নিবন্ধে বলা হয়, গত ডিসেম্বরে মিয়ানমারের বেসামরিক নেত্রী অং সান সুচি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) হাজির হয়ে গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

বলেন, রাখাইনের ব্যাপারটি সেনাবাহিনী এবং রোহিঙ্গা ‘জঙ্গি’ ও সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মধ্যকার একটি ‘অভ্যন্তরীণ সংঘাত’। এতে যদি সেনারা ব্যক্তি পর্যায়ে অপরাধের জন্য দোষী হয়ে থাকে, তাহলে তাদের শাস্তি হবে। তবে এখন অবধি তেমন কোনো শাস্তি হয়নি। শাস্তি দেয়া হলেও তা খুব অল্প কয়েকজনই পেয়েছে।

 

 

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা