এফএওর প্রতিবেদন

বিশ্বে উৎপাদিত খাদ্যের এক-তৃতীয়াংশ অপচয় হচ্ছে

বছরে প্রায় ১৩০ কোটি টন খাদ্য অপচয় * ক্ষতি হচ্ছে প্রায় পঁচাত্তর হাজার কোটি ডলার * বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশের অপচয় ৩১ হাজার কোটি ডলার

  যুগান্তর ডেস্ক ০৬ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বে বছরে প্রায় একশ’ ত্রিশ কোটি টন খাদ্য অপচয় হয়, যা মোট উৎপাদিত খাদ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। অপচয় হওয়া বিপুল পরিমাণ এই খাবারের এক-চতুর্থাংশ বাঁচানো গেলে ৮৭ কোটি মানুষের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব। খাদ্য অপচয়ের কারণে বছরে আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে প্রায় পঁচাত্তর হাজার কোটি ডলার।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্বে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটায় কোটি কোটি মানুষ। কিন্তু থেমে নেই উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে খাদ্য অপচয়। উন্নত দেশগুলোতে বছরে মাথাপিছু খাবারের উৎপাদনের হার ৯০০ কেজি। এর মধ্যে ব্যক্তি পর্যায়ে পশ্চিমা দেশে মাথাপিছু অপচয়ের হার ৯৫ থেকে ১১৫ কেজি। বিপণন পর্যায়ে পণ্যের মান বিবেচনা করতে নিয়েও নষ্ট হয় প্রচুর খাদ্য। বছরে শিল্পোন্নত দেশে ৬৮ হাজার কোটি, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে খাবার অপচয়ের বাজার মূল্য ৩১ হাজার কোটি ডলার।

উন্নয়নশীল দেশে জমি থেকে ফসল সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত পর্যায়ে ৪০ শতাংশ খাদ্য নষ্ট হয়। আর শিল্পোন্নত দেশে ৪০ শতাংশ খাদ্য নষ্ট হয় বিপণন ও ভোক্তা পর্যায়ে। ফসল সংগ্রহ ও সংরক্ষণ পর্যায়ে নষ্ট হওয়া খাবার কৃষকের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বাড়ায় এবং সবশেষে ভোক্তা পর্যায়ে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলে।

এফএওর মহাপরিচালক হোসে গ্রাসিয়ানো ডি সিলভা জানান, অপচয় হওয়া খাদ্যের পরিণাম ব্যাপকভাবে বিস্তৃত। ভোক্তারা প্রতিদিন, বিশেষ করে ধনী দেশগুলোতে যে বিপুল পরিমাণে খাদ্য নষ্ট করেন তা পুরো আফ্রিকার সাবসাহারা অঞ্চলে উৎপাদিত খাদ্যের সমান। খাদ্য নিরাপত্তা এবং বিশ্বকে টেকসই করার ক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব ব্যাপক।

তিনি বলেন, এই খাদ্য অপচয় যদি কমানো সম্ভব হয় তাহলে খাদ্যের সরবরাহ বাড়বে, উৎপাদন বাড়াতে হবে না এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর চাপ কমবে। বিশ্বের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর খাদ্য অপচয়ের যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সেই প্রবণতাকে অবশ্যই বিপরীতমুখী করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ডি সিলভা বলেন, বিশ্বের মোট খাদ্যের এক-তৃতীয়াংশই নষ্ট বা অপচয় হয় কারণ আমাদের এমন সব আচরণ যা যথাযথ নয়। অথচ ওই একই সময়ে বিশ্বে দৈনিক সতেরো কোটি লোক ক্ষুধার্ত অবস্থায় দিন কাটান।

তিনি জানান, বিশ্বে যে পরিমাণে খাদ্য অপচয় হয় তা সুইজারল্যান্ডের সারা বছরের মোট জাতীয় উৎপাদন বা জিডিপির সমান। বিশ্বে যেসব মাছ ও সামুদ্রিক খাদ্য নষ্ট হয় এবং অপচয় হওয়া খাদ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য ব্যয় এই হিসাবে অন্তর্ভুক্ত নয়।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক সংস্থার কর্মকর্তা রবার্ট ভ্যান অথারিভজক বলেন, প্রযুক্তি, অর্থনীতি, মানুষের অভ্যাস ও বিভিন্ন কারণে মানুষের খাদ্যের অপচয় হয়। আর খাদ্যের অপচয় হলে তার উৎপাদনে ব্যবহৃত পানি, জমির শক্তি ও অর্থের অপচয় ঘটে। কৃষকসহ বেসরকারি পর্যায়ে সচেতন হলে প্রচুর পরিমাণ খাদ্য অপচয় রোধ করা সম্ভব।

ফুড ওয়েস্টেজ ফুটপ্রিন্ট : ইমপ্যাক্টস অন ন্যাচারাল রিসোর্সেস শীর্ষক এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি বছর যে পরিমাণ খাদ্য উৎপাদনের পর তা না খেয়ে নষ্ট করা হয় তা পচে যাওয়ার পর তা থেকে যে পরিমাণ তরল পর্দাথ তৈরি হতে পারে তা ভলগা নদীর পানিপ্রবাহের সমান।

জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক কর্মসূচি ইউএনইপির নির্বাহী পরিচালক, আচিম স্টেইনার বলেন, পঁচাত্তর হাজার কোটি ডলারের সংখ্যাটি আমাদের সবার এ বিষয়ে সতর্ক হওয়ার জন্য যথেষ্ট।

তিনি বলেন, আমরা সবাই সমাধানের অংশ হয়ে এই সমস্যাকে মোকাবেলা করতে পারি। আমরা আমাদের পরিবারে, পর্যটন খাত, রেস্তোরাঁ, ক্যান্টিন, সুপার মার্কেটসহ সব জায়গায়ই যেখানে খাদ্য তৈরি, বিক্রি অথবা খাওয়া হয় সব জায়গাতেই ভূমিকা রাখতে পারি। আমাদের সমাজে যাদের প্রাচুর্য রয়েছে তাদের কাছ থেকেও এটা শুরু হতে পারে, কেননা তারা অনেকেই সবজিটা দেখতে সুন্দর নয় বলে তা ফেলে দেন।

স্টেইনার বলেন, বিক্রির জন্য তারিখ বেঁধে দেয়ার যে ব্যবস্থা চালু আছে সেটাও এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। বিক্রির এই তারিখ শুধু নির্দেশনামূলক, ওই তারিখের পর তা ফেলে দিতে হবে বিষয়টা এমন নয়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×