জাল রেজুলেশনে ভাতিজা ও স্ত্রীর নামে রেজিস্ট্রি
jugantor
কুষ্টিয়ায় নাট্য সংগঠনের জমি জালিয়াতি করে ১০ তলা ভবন
জাল রেজুলেশনে ভাতিজা ও স্ত্রীর নামে রেজিস্ট্রি
সম্পাদকসহ দু’জন মিলে টাকা লুটপাট

  এএম জুবায়েদ রিপন, কুষ্টিয়া  

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুষ্টিয়া শহরের শত বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী নাট্য সংগঠন পরিমল থিয়েটারের প্রায় ২০ কোটি টাকার সম্পত্তি জালিয়াতি করে বিক্রি করে দিয়েছে একটি প্রভাবশালীচক্র। নির্বাহী পরিষদকে না জানিয়ে ভুয়া রেজুলেশন তৈরি করে ভাতিজা ও স্ত্রীর নামে অর্ধেক জমি রেজিস্ট্রি করে দেয় জালিয়াতচক্রের হোতা ও পরিমল থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের।

সদস্যদের অভিযোগ, বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে নির্বাচিত কমিটিকে হটিয়ে রাতের আঁধারে দখলে নেয়া কমিটির দুই নেতা জালিয়াতি করে ওই জমিতে ১০ তলা বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করেছে। সেই ভবন নির্মাণেও চলেছে হরিলুট। নির্মাণ ব্যয় থেকে দোকান ঘর বিক্রিতেও আত্মসাৎ করা হয়েছে কোটি কোটি টাকা।

সভাপতির অভিযোগ, সাধারণ সদস্য দূরের কথা আমি নিজেই একটি ইটের হিসাবও জানি না। সবই করেছে দু’জন মিলে। শহরের নিয়ন্ত্রক হওয়ায় এদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি। দেশের ঐতিহ্যবাহী নাট্য থিয়েটারের এমন দশায় ক্ষুব্ধ জেলার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা।

পরিমল থিয়েটারের প্রবীণ সদস্যরা বলেন, সংস্কৃতির রাজধানী হিসেবে পরিচিত কুষ্টিয়ার শিল্প-সাহিত্য বাঁচিয়ে রাখতে ১৯১২ সালে জেলার কিছু সাংস্কৃতিক ব্যক্তি পরিমল থিয়েটার স্থাপনের উদ্যোগ নেন। শহরের প্রাণকেন্দ্র এনএস রোডে ১৯ শতক জায়গায় ওপর গড়ে তোলা হয় বিশাল থিয়েটার ভবন। সেখানে নিয়মিত চলত সাংস্কৃতিকচর্চা। অভিনেতা রাজু আহমেদ, আহমেদ শরীফ, মিজু আহমেদ, কায়েস ও সুজাতা এবং গায়ক আবদুল জব্বার, খালেদ হোসেন, ফরিদা পারভীন, সোহরাব হোসেন, আনোয়ার উদ্দিন ও নার্গিস পারভীন ছাড়াও অসংখ্য অভিনেতা-অভিনেত্রী, গায়ক-গায়িকা, কবি-সাহিত্যিক এ পরিমল থিয়েটার থেকে উঠে এসেছেন। তাই প্রভাবশালীদের দখল থেকে দেশের ঐতিহ্যবাহী থিয়েটারকে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের ফিরিয়ে দেয়ার দাবি সাংস্কৃতিক কর্মীদের।

জানা যায়, ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই দুটি দলিলের মাধ্যমে পরিমল থিয়েটারের ১৯ শতক ৩৭ পয়েন্ট জমির মধ্যে প্রায় ১০ শতক জমি দু’জনের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের। যার দলিল নং ৬৯৫৩/১৪ এবং ৬৯৫৪/১৪। এর মধ্যে প্রথম দলিলে থিয়েটারের উপদেষ্টা ও ভাতিজা শেখ সাজ্জাদ হোসেন সবুজের নামে ৮ শতক ৭১ পয়েন্ট এবং দ্বিতীয় দলিলে স্ত্রী মোছা. আয়েশা খাতুনের নামে ৯৭ পয়েন্ট জমি রেজিস্ট্রি করে দেন আবু তাহের। দলিলে শনাক্তকারী ছিলেন থিয়েটারের সভাপতি সানোয়ার উদ্দিন রিন্টু। দলিলের ৬নং পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, পরিমল থিয়েটারের ২০১৪ সালের ১১ জুলাই বার্ষিক সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে থিয়েটারের জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সেই রেজুলেশনের কপিও দলিলের সঙ্গে জমা দেয়া হয়েছে।

তবে থিয়েটারের বর্তমান সভাপতি সানোয়ার উদ্দিন রিন্টু বলেন, জমি রেজিস্ট্রির সময় আমি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম। হাসপাতালের বেডে শোয়া অবস্থায় সাধারণ সম্পাদক তাহের ও উপদেষ্টা সবুজ দুটি দলিল নিয়ে গিয়ে আমাকে স্বাক্ষর করতে বলে। আমার কাছ থেকে অনেকটা জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয়া হয়। সভাপতি আরও বলেন, পরিমল থিয়েটারের কোনো বার্ষিক সাধারণ সভায় জমি বিক্রয়ের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। দলিল রেজিস্ট্রির সময় যে রেজুলেশন জমা দেয়া হয়েছে সেটি জাল রেজুলেশন। আমার স্বাক্ষর জাল করে রেজুলেশন জমা দেয়া হয়েছে।

বর্তমান কমিটির সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক জাহিদুল হক মতিন বলেন, এসব বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। কবে সাধারণ সভা হয়েছে, কবে জমি রেজিস্ট্রি হয়েছে আমাকে কিছুই জানানো হয়নি।

সাধারণ সদস্যদের অভিযোগ, ১০ তলা বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণেও কোটি কোটি টাকা হরিলুট করেছেন সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের। ৩০ লাখ টাকার দোকানের পজিশন বিক্রয় দেখানো হয়েছে মাত্র ১৮ লাখ টাকায়। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয়তলার শতাধিক দোকানের পজিশন নির্বাহী কমিটির কোনো অনুমোদন ছাড়া সাধারণ সম্পাদক নিজের ইচ্ছামতো বিক্রি করেছেন। কেউ না জানলেও ভবন নির্মাণে ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ১৭ কোটি টাকা। কীভাবে কমিটির অনুমোদন ছাড়া ১৭ কোটি টাকা ব্যয় করল এমন প্রশ্ন তুলেছেন খোদ নির্বাহী কমিটির বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা।

পরিমল থিয়েটারের বর্তমান কমিটির এক কর্মকর্তা বলেন, ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত আয়-ব্যয়ের একটি হিসাব নিরীক্ষা করিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের। সেখানে আয় দেখানো হয়েছে ১৯ কোটি ২৪ লাখ ৯শ’ টাকা। আর ব্যয় দেখানো হয়েছে ১৭ কোটি ৮৯ লাখ ৫শ’ টাকা। এছাড়া ফ্লোর বিক্রি বাবদ ৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ৪ বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষা করেছেন শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা কাজী কাদের মোহা. ফজলে রাব্বি। তিনি নিরীক্ষাণের ২নং পয়েন্টে বলেন, নিরীক্ষণকালে দেখা যায়, কোন ক্যাশবহি লিপিবদ্ধ করা হয়নি। ২০১২ সাল পর্যন্ত নির্বাচিত কমিটির সভাপতি ছিলেন সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ.স.ম আখতারুজ্জামান মাসুম ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মতিউর রহমান মতি। রাতের আঁধারে বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে নির্বাচিত ওই কমিটিকে হটিয়ে পরিমল থিয়েটার দখলে নেয় সে সময়ে শহরের ত্রাস ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন সবুজ। তিনি হন থিয়েটারের উপদেষ্টা। তারই আরেক সেনাপতি আবু তাহেরকে সাধারণ সম্পাদক করে রাতারাতি ২১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি করা হয়। সাবেক সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতি বলেন, ৮ বছরে বহুতল ভবন নির্মাণের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আবু তাহের অস্ত্র মামলায় জেলে থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

কুষ্টিয়ায় নাট্য সংগঠনের জমি জালিয়াতি করে ১০ তলা ভবন

জাল রেজুলেশনে ভাতিজা ও স্ত্রীর নামে রেজিস্ট্রি

সম্পাদকসহ দু’জন মিলে টাকা লুটপাট
 এএম জুবায়েদ রিপন, কুষ্টিয়া 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুষ্টিয়া শহরের শত বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী নাট্য সংগঠন পরিমল থিয়েটারের প্রায় ২০ কোটি টাকার সম্পত্তি জালিয়াতি করে বিক্রি করে দিয়েছে একটি প্রভাবশালীচক্র। নির্বাহী পরিষদকে না জানিয়ে ভুয়া রেজুলেশন তৈরি করে ভাতিজা ও স্ত্রীর নামে অর্ধেক জমি রেজিস্ট্রি করে দেয় জালিয়াতচক্রের হোতা ও পরিমল থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের।

সদস্যদের অভিযোগ, বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে নির্বাচিত কমিটিকে হটিয়ে রাতের আঁধারে দখলে নেয়া কমিটির দুই নেতা জালিয়াতি করে ওই জমিতে ১০ তলা বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করেছে। সেই ভবন নির্মাণেও চলেছে হরিলুট। নির্মাণ ব্যয় থেকে দোকান ঘর বিক্রিতেও আত্মসাৎ করা হয়েছে কোটি কোটি টাকা।

সভাপতির অভিযোগ, সাধারণ সদস্য দূরের কথা আমি নিজেই একটি ইটের হিসাবও জানি না। সবই করেছে দু’জন মিলে। শহরের নিয়ন্ত্রক হওয়ায় এদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি। দেশের ঐতিহ্যবাহী নাট্য থিয়েটারের এমন দশায় ক্ষুব্ধ জেলার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা।

পরিমল থিয়েটারের প্রবীণ সদস্যরা বলেন, সংস্কৃতির রাজধানী হিসেবে পরিচিত কুষ্টিয়ার শিল্প-সাহিত্য বাঁচিয়ে রাখতে ১৯১২ সালে জেলার কিছু সাংস্কৃতিক ব্যক্তি পরিমল থিয়েটার স্থাপনের উদ্যোগ নেন। শহরের প্রাণকেন্দ্র এনএস রোডে ১৯ শতক জায়গায় ওপর গড়ে তোলা হয় বিশাল থিয়েটার ভবন। সেখানে নিয়মিত চলত সাংস্কৃতিকচর্চা। অভিনেতা রাজু আহমেদ, আহমেদ শরীফ, মিজু আহমেদ, কায়েস ও সুজাতা এবং গায়ক আবদুল জব্বার, খালেদ হোসেন, ফরিদা পারভীন, সোহরাব হোসেন, আনোয়ার উদ্দিন ও নার্গিস পারভীন ছাড়াও অসংখ্য অভিনেতা-অভিনেত্রী, গায়ক-গায়িকা, কবি-সাহিত্যিক এ পরিমল থিয়েটার থেকে উঠে এসেছেন। তাই প্রভাবশালীদের দখল থেকে দেশের ঐতিহ্যবাহী থিয়েটারকে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের ফিরিয়ে দেয়ার দাবি সাংস্কৃতিক কর্মীদের।

জানা যায়, ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই দুটি দলিলের মাধ্যমে পরিমল থিয়েটারের ১৯ শতক ৩৭ পয়েন্ট জমির মধ্যে প্রায় ১০ শতক জমি দু’জনের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের। যার দলিল নং ৬৯৫৩/১৪ এবং ৬৯৫৪/১৪। এর মধ্যে প্রথম দলিলে থিয়েটারের উপদেষ্টা ও ভাতিজা শেখ সাজ্জাদ হোসেন সবুজের নামে ৮ শতক ৭১ পয়েন্ট এবং দ্বিতীয় দলিলে স্ত্রী মোছা. আয়েশা খাতুনের নামে ৯৭ পয়েন্ট জমি রেজিস্ট্রি করে দেন আবু তাহের। দলিলে শনাক্তকারী ছিলেন থিয়েটারের সভাপতি সানোয়ার উদ্দিন রিন্টু। দলিলের ৬নং পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, পরিমল থিয়েটারের ২০১৪ সালের ১১ জুলাই বার্ষিক সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে থিয়েটারের জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সেই রেজুলেশনের কপিও দলিলের সঙ্গে জমা দেয়া হয়েছে।

তবে থিয়েটারের বর্তমান সভাপতি সানোয়ার উদ্দিন রিন্টু বলেন, জমি রেজিস্ট্রির সময় আমি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম। হাসপাতালের বেডে শোয়া অবস্থায় সাধারণ সম্পাদক তাহের ও উপদেষ্টা সবুজ দুটি দলিল নিয়ে গিয়ে আমাকে স্বাক্ষর করতে বলে। আমার কাছ থেকে অনেকটা জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয়া হয়। সভাপতি আরও বলেন, পরিমল থিয়েটারের কোনো বার্ষিক সাধারণ সভায় জমি বিক্রয়ের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। দলিল রেজিস্ট্রির সময় যে রেজুলেশন জমা দেয়া হয়েছে সেটি জাল রেজুলেশন। আমার স্বাক্ষর জাল করে রেজুলেশন জমা দেয়া হয়েছে।

বর্তমান কমিটির সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক জাহিদুল হক মতিন বলেন, এসব বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। কবে সাধারণ সভা হয়েছে, কবে জমি রেজিস্ট্রি হয়েছে আমাকে কিছুই জানানো হয়নি।

সাধারণ সদস্যদের অভিযোগ, ১০ তলা বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণেও কোটি কোটি টাকা হরিলুট করেছেন সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের। ৩০ লাখ টাকার দোকানের পজিশন বিক্রয় দেখানো হয়েছে মাত্র ১৮ লাখ টাকায়। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয়তলার শতাধিক দোকানের পজিশন নির্বাহী কমিটির কোনো অনুমোদন ছাড়া সাধারণ সম্পাদক নিজের ইচ্ছামতো বিক্রি করেছেন। কেউ না জানলেও ভবন নির্মাণে ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ১৭ কোটি টাকা। কীভাবে কমিটির অনুমোদন ছাড়া ১৭ কোটি টাকা ব্যয় করল এমন প্রশ্ন তুলেছেন খোদ নির্বাহী কমিটির বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা।

পরিমল থিয়েটারের বর্তমান কমিটির এক কর্মকর্তা বলেন, ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত আয়-ব্যয়ের একটি হিসাব নিরীক্ষা করিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের। সেখানে আয় দেখানো হয়েছে ১৯ কোটি ২৪ লাখ ৯শ’ টাকা। আর ব্যয় দেখানো হয়েছে ১৭ কোটি ৮৯ লাখ ৫শ’ টাকা। এছাড়া ফ্লোর বিক্রি বাবদ ৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ৪ বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষা করেছেন শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা কাজী কাদের মোহা. ফজলে রাব্বি। তিনি নিরীক্ষাণের ২নং পয়েন্টে বলেন, নিরীক্ষণকালে দেখা যায়, কোন ক্যাশবহি লিপিবদ্ধ করা হয়নি। ২০১২ সাল পর্যন্ত নির্বাচিত কমিটির সভাপতি ছিলেন সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ.স.ম আখতারুজ্জামান মাসুম ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মতিউর রহমান মতি। রাতের আঁধারে বুকে পিস্তল ঠেকিয়ে নির্বাচিত ওই কমিটিকে হটিয়ে পরিমল থিয়েটার দখলে নেয় সে সময়ে শহরের ত্রাস ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন সবুজ। তিনি হন থিয়েটারের উপদেষ্টা। তারই আরেক সেনাপতি আবু তাহেরকে সাধারণ সম্পাদক করে রাতারাতি ২১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি করা হয়। সাবেক সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতি বলেন, ৮ বছরে বহুতল ভবন নির্মাণের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আবু তাহের অস্ত্র মামলায় জেলে থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।