রাজস্ব আয়ে গতি ফিরছে
jugantor
২০২০-২১ অর্থবছর
রাজস্ব আয়ে গতি ফিরছে

  সাদ্দাম হোসেন ইমরান  

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসের ধকল কাটিয়ে অর্থনীতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। সেই প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আদায়েও। গত অর্থবছরের শেষ প্রান্তিক থেকে রাজস্ব আয়ে মন্দা দেখা দিলেও চলতি অর্থবছরের শুরুতে ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে প্রবৃদ্ধি। সর্বশেষ আগস্টে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ। তবে শীতে করোনার প্রকোপ বৃদ্ধির পূর্বাভাস ভাবিয়ে তুলেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। প্রবৃদ্ধি ধরে রাখাকেই তারা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, মাসওয়ারি ভিত্তিতে আগস্ট মাসে ১৫ হাজার ৪০৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে এনবিআর। গত বছরের আগস্টে রাজস্ব আদায় হয় ১৪ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা। সে হিসেবে, প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ। রাজস্ব আদায়ে তিন খাত- আয়কর, ভ্যাট ও আমদানি শুল্কে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। যদিও মাসওয়ারি লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি এনবিআর। লক্ষ্যের তুলনায় কম আদায় করেছে ছয় হাজার ১৬২ কোটি টাকা।

খাতভিত্তিক রাজস্ব আয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত দুই মাসে আমদানি শুল্ক আদায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ভ্যাট ও আয়কর তুলনামূলক কম আদায় হয়েছে। কাস্টম হাউসের মধ্যে রাজস্ব আয়ে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ঢাকা কাস্টম হাউসে। নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে কমলাপুর আইসিডিতে। আগস্টে ঢাকা কাস্টমসে আদায় হয়েছে ৩৭৬ কোটি টাকার রাজস্ব, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২৭০ কোটি টাকা। অপর দিকে কমলাপুর আইসিডিতে আগস্টে আদায় হয়েছে ১৫২ কোটি টাকা, গত বছরের একই সময়ে আদায় হয়েছিল ২১১ কোটি টাকা। আর সবচেয়ে বেশি আমদানি শুল্ক আদায়কারী চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে, ১১ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে ভ্যাট আদায় কিছুটা বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভ্যাট আদায়কারী দফতর বৃহৎ করদাতা ইউনিটে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আগস্টে ভ্যাট আদায় হয়েছে দুই হাজার ৬১৫ কোটি টাকা, গত অর্থবছরের একই সময়ে আদায় হয়েছিল দুই হাজার ৪৯৬ কোটি টাকা। ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেটে প্রবৃদ্ধি হলেও উল্টো চিত্র উত্তর ভ্যাট কমিশনারেটে। আর দ্বিতীয় বৃহত্তম আদায়কারী দফতর চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনারেটে আগস্টে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

অবশ্য মাসওয়ারি সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে কুমিল্লা ভ্যাট কমিশনারেট, ১০৮ শতাংশ। আয়কর আদায় পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক। সবচেয়ে বেশি আয়কর আদায়কারী দফতর বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ-আয়কর), ঢাকা কর অঞ্চল-১ ও ২ এবং চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-১ এর অবস্থা শোচনীয়। কর অঞ্চল-২ এ ৪০ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

প্রসঙ্গত, চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় তিন লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে আমদানি-রফতানি শুল্ক খাতে ৯৫ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা, স্থানীয় পর্যায়ে ভ্যাট এক লাখ ২৮ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা এবং আয়কর ও ভ্রমণ কর খাতে এক লাখ পাঁচ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা লাখ ধরা হয়। যদিও এনবিআর চেয়ারম্যান রাজস্ব আয়ের এই লক্ষ্যকে যৌক্তিকীকরণ করতে বাজেটের আগেই অর্থসচিবকে চিঠি দেন। তাতে বলা হয়, ‘আগামী অর্থবছরের (২০২০-২১) শুরুতে দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও স্থানীয় ও বৈদেশিক অর্থনীতির ওপর রেখে যাওয়া বিপুল প্রতিক্রিয়ায় আশানুরূপ রাজস্ব আহরণ সম্ভব হবে না। তারপরও বর্তমান বছরের সম্ভাব্য আদায়ের ওপর পূর্ববর্তী গড় প্রবৃদ্ধি ১৪ শতাংশ হিসাব করা হলে আগামী অর্থবছরের সর্বমোট আহরণ দুই লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি হবে না। অপর দিকে আগামী অর্থবছরের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে তিন লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা আদায় দুরূহ হবে।’

এনবিআরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, তারা করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে শংকিত। শীতে করোনা বৃদ্ধির যেই পূর্বাভাস দেয়া হচ্ছে, তা সত্যি হলে রাজস্ব আদায় আবারও শ্লথ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেবে। কারণ মার্চে করোনা মোকাবেলায় লকডাউন দেয়ায় পুরো অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ে। স্থানীয় পর্যায়ে ভোগ ও চাহিদা কমে যাওয়ায় আমদানি-রফতানি কার্যক্রম ব্যাহত হয়। যার প্রভাব পড়ে রাজস্ব আদায়ে। এ অবস্থায় দ্বিতীয় ঢেউ এলে অর্থনীতিতে তার কী প্রভাব পড়বে তা কেউ বলতে পারে না।

তারা আরও বলেন, অর্থবছরের শুরুতে রাজস্ব আয়ের গতি কিছুটা কম থাকে। অর্থবছরের শেষ দিকে তা বাড়ে বিশেষত মে, জুন ও জুলাই মাসে। সেই প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে রাজস্ব আদায় পরিস্থিতিকে সন্তোষজনক বলা যায়। এছাড়া রাজস্ব আদায় বাড়াতে এনবিআর নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধিতে রেকর্ড অর্জন সম্ভব। ইতোমধ্যেই ব্যবসা কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) মেশিন বসানো হয়েছে। আরও মেশিন বসানোর প্রক্রিয়া রয়েছে। কাস্টমস ও ভ্যাটের মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।

২০২০-২১ অর্থবছর

রাজস্ব আয়ে গতি ফিরছে

 সাদ্দাম হোসেন ইমরান 
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসের ধকল কাটিয়ে অর্থনীতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। সেই প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আদায়েও। গত অর্থবছরের শেষ প্রান্তিক থেকে রাজস্ব আয়ে মন্দা দেখা দিলেও চলতি অর্থবছরের শুরুতে ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে প্রবৃদ্ধি। সর্বশেষ আগস্টে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ। তবে শীতে করোনার প্রকোপ বৃদ্ধির পূর্বাভাস ভাবিয়ে তুলেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। প্রবৃদ্ধি ধরে রাখাকেই তারা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, মাসওয়ারি ভিত্তিতে আগস্ট মাসে ১৫ হাজার ৪০৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে এনবিআর। গত বছরের আগস্টে রাজস্ব আদায় হয় ১৪ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা। সে হিসেবে, প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ। রাজস্ব আদায়ে তিন খাত- আয়কর, ভ্যাট ও আমদানি শুল্কে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। যদিও মাসওয়ারি লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি এনবিআর। লক্ষ্যের তুলনায় কম আদায় করেছে ছয় হাজার ১৬২ কোটি টাকা।

খাতভিত্তিক রাজস্ব আয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত দুই মাসে আমদানি শুল্ক আদায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ভ্যাট ও আয়কর তুলনামূলক কম আদায় হয়েছে। কাস্টম হাউসের মধ্যে রাজস্ব আয়ে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ঢাকা কাস্টম হাউসে। নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে কমলাপুর আইসিডিতে। আগস্টে ঢাকা কাস্টমসে আদায় হয়েছে ৩৭৬ কোটি টাকার রাজস্ব, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২৭০ কোটি টাকা। অপর দিকে কমলাপুর আইসিডিতে আগস্টে আদায় হয়েছে ১৫২ কোটি টাকা, গত বছরের একই সময়ে আদায় হয়েছিল ২১১ কোটি টাকা। আর সবচেয়ে বেশি আমদানি শুল্ক আদায়কারী চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে, ১১ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে ভ্যাট আদায় কিছুটা বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভ্যাট আদায়কারী দফতর বৃহৎ করদাতা ইউনিটে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আগস্টে ভ্যাট আদায় হয়েছে দুই হাজার ৬১৫ কোটি টাকা, গত অর্থবছরের একই সময়ে আদায় হয়েছিল দুই হাজার ৪৯৬ কোটি টাকা। ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেটে প্রবৃদ্ধি হলেও উল্টো চিত্র উত্তর ভ্যাট কমিশনারেটে। আর দ্বিতীয় বৃহত্তম আদায়কারী দফতর চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনারেটে আগস্টে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

অবশ্য মাসওয়ারি সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে কুমিল্লা ভ্যাট কমিশনারেট, ১০৮ শতাংশ। আয়কর আদায় পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক। সবচেয়ে বেশি আয়কর আদায়কারী দফতর বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ-আয়কর), ঢাকা কর অঞ্চল-১ ও ২ এবং চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-১ এর অবস্থা শোচনীয়। কর অঞ্চল-২ এ ৪০ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

প্রসঙ্গত, চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় তিন লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে আমদানি-রফতানি শুল্ক খাতে ৯৫ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা, স্থানীয় পর্যায়ে ভ্যাট এক লাখ ২৮ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা এবং আয়কর ও ভ্রমণ কর খাতে এক লাখ পাঁচ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা লাখ ধরা হয়। যদিও এনবিআর চেয়ারম্যান রাজস্ব আয়ের এই লক্ষ্যকে যৌক্তিকীকরণ করতে বাজেটের আগেই অর্থসচিবকে চিঠি দেন। তাতে বলা হয়, ‘আগামী অর্থবছরের (২০২০-২১) শুরুতে দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও স্থানীয় ও বৈদেশিক অর্থনীতির ওপর রেখে যাওয়া বিপুল প্রতিক্রিয়ায় আশানুরূপ রাজস্ব আহরণ সম্ভব হবে না। তারপরও বর্তমান বছরের সম্ভাব্য আদায়ের ওপর পূর্ববর্তী গড় প্রবৃদ্ধি ১৪ শতাংশ হিসাব করা হলে আগামী অর্থবছরের সর্বমোট আহরণ দুই লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি হবে না। অপর দিকে আগামী অর্থবছরের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে তিন লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা আদায় দুরূহ হবে।’

এনবিআরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, তারা করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে শংকিত। শীতে করোনা বৃদ্ধির যেই পূর্বাভাস দেয়া হচ্ছে, তা সত্যি হলে রাজস্ব আদায় আবারও শ্লথ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেবে। কারণ মার্চে করোনা মোকাবেলায় লকডাউন দেয়ায় পুরো অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়ে। স্থানীয় পর্যায়ে ভোগ ও চাহিদা কমে যাওয়ায় আমদানি-রফতানি কার্যক্রম ব্যাহত হয়। যার প্রভাব পড়ে রাজস্ব আদায়ে। এ অবস্থায় দ্বিতীয় ঢেউ এলে অর্থনীতিতে তার কী প্রভাব পড়বে তা কেউ বলতে পারে না।

তারা আরও বলেন, অর্থবছরের শুরুতে রাজস্ব আয়ের গতি কিছুটা কম থাকে। অর্থবছরের শেষ দিকে তা বাড়ে বিশেষত মে, জুন ও জুলাই মাসে। সেই প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে রাজস্ব আদায় পরিস্থিতিকে সন্তোষজনক বলা যায়। এছাড়া রাজস্ব আদায় বাড়াতে এনবিআর নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধিতে রেকর্ড অর্জন সম্ভব। ইতোমধ্যেই ব্যবসা কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) মেশিন বসানো হয়েছে। আরও মেশিন বসানোর প্রক্রিয়া রয়েছে। কাস্টমস ও ভ্যাটের মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।