টানা বর্ষণে চট্টগ্রামে আবার পাহাড় ধসের ঝুঁকি
jugantor
টানা বর্ষণে চট্টগ্রামে আবার পাহাড় ধসের ঝুঁকি
সাড়ে ৮শ’ পরিবারকে সরাতে মাইকিং

  আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম  

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কয়েক দিনের টানা বর্ষণে ধসের ঝুঁকিতে চট্টগ্রামের ১৬ পাহাড়। এসব পাহাড়ে অবৈধভাবে বসবাস করছে প্রায় সাড়ে ৮শ’ পরিবার। মৃত্যুঝুঁকি এড়াতে তাদের সরে যেতে মাইকিং করছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে মহানগরীর ৬টি সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্থানীয় মসজিদগুলো থেকেও মাইকিংয়ের মাধ্যমে লোকজনকে নিরাপদ অবস্থানে আশ্রয় নিতে আহ্বান জানানো হচ্ছে। এসব তথ্য জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব হোসেন।

২০০৭ সালে ভয়াবহ পাহাড় ধসে ১২৯ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে প্রতিবছর বর্ষা এলেই ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের উচ্ছেদে নামে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও পরিবেশ অধিদফতর। গত ফেব্রুয়ারিতে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের উচ্ছেদ অভিযানের সিদ্ধান্ত হয়। চলতি বছরের জুনের শেষদিকে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি-ফৌজদারহাট সিডিএ লিংক রোডের দু’পাশে পাহাড় কেটে ও অবৈধভাবে গড়ে তোলা সাড়ে তিনশ’ স্থাপনা উচ্ছেদ করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।

১৬টি পাহাড়ে অভিযানে ঝুঁকি পূর্ণ ঘরবাড়ি উচ্ছেদের পাশাপাশি অবৈধ বিদ্যুতের ৩০টি মিটার জব্দ করা হয়েছিল। নবনির্মিত সিডিএ লিংক রোডের দু’ধারে করোনাভাইরাসের এই দুর্যোগ পরিস্থিতিতে গত দুই মাসে (এপ্রিল-মে) পাহাড় কেটে সরকারি জমিতে প্রচুর নতুন ঘর গড়ে তোলা হয়েছিল। প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতরের যৌথ উদ্যোগে সিএমপি ও রেলওয়ের সহযোগিতায় এখানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১৬ পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে অবৈধভাবে বসবাস করছে ৮৩৫ পরিবার। এর মধ্যে পূর্ব ফিরোজ শাহ এক নম্বর ঝিল সংলগ্ন পাহাড়ে ২৮ পরিবার, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মালিনাকানাধীন কৈবল্যধাম বিশ্ব কলোনি পাহাড়ে ২৮ পরিবার, পরিবেশ অধিদফতর সংলগ্ন সিটি কর্পোরেশন পাহাড়ে ১০ পরিবার, রেলওয়ে, সওজ, গণপূর্ত অধিদফতর ও ওয়াসার মালিকানাধীন মতিঝর্ণা ও বাটালি হিল পাহাড়ে ১৬২ পরিবার, রেলওয়ের লেকসিটি আবাসিক এলাকা সংলগ্ন পাহাড়ে ২২ পরিবার, ব্যক্তি মালিকানাধীন একে খান পাহাড়ে ২৬ পরিবার, হারুন খানের পাহাড়ে ৩৩ পরিবার, পলিটেকনিক কলেজ সংলগ্ন পাহাড়ে ৪৩ পরিবার, মধুশাহ পাহাড়ে ৩৪ পরিবার, ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট সংলগ্ন পাহাড়ে ৩৩ পরিবার, মিয়ার পাহাড়ে ৩২ পরিবার, আকবরশাহ আবাসিক এলাকা সংলগ্ন পাহাড়ে ২৮ পরিবার, আমিন কলোনি সংলগ্ন ট্যাংকির পাহাড়ে ১৬ পরিবার, ফয়’স লেক আবাসিক এলাকা সংলগ্ন পাহাড়ে ৯ পরিবার এবং এমআর সিদ্দিকী পাহাড়ে আটটি পরিবার, লালখান বাজার জামেয়াতুল উলুম মাদ্রাসা সংলগ্ন পাহাড়ে ১১ পরিবার, ভেড়া ফকিরের পাহাড়ে ১১ পরিবার বসবাস করে আসছিলেন।

জেলা প্রশাসকের স্টাফ অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব হোসেন যুগান্তরকে জানান, চট্টগ্রামে ধসের ঝুঁকিতে থাকা ১৬টি পাহাড়ের লোকজনকে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। করোনাভাইরাস দুর্যোগের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে যাতে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে সরে নিরাপদে অবস্থান গ্রহণ করতে পারে এজন্য চান্দগাঁও, বাকলিয়া, আগ্রাবাদ এবং কাট্টলী সার্কেলাধীন এলাকায় প্রস্তুত করা হয়েছে ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র।

টানা বর্ষণে চট্টগ্রামে আবার পাহাড় ধসের ঝুঁকি

সাড়ে ৮শ’ পরিবারকে সরাতে মাইকিং
 আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম 
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কয়েক দিনের টানা বর্ষণে ধসের ঝুঁকিতে চট্টগ্রামের ১৬ পাহাড়। এসব পাহাড়ে অবৈধভাবে বসবাস করছে প্রায় সাড়ে ৮শ’ পরিবার। মৃত্যুঝুঁকি এড়াতে তাদের সরে যেতে মাইকিং করছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে মহানগরীর ৬টি সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্থানীয় মসজিদগুলো থেকেও মাইকিংয়ের মাধ্যমে লোকজনকে নিরাপদ অবস্থানে আশ্রয় নিতে আহ্বান জানানো হচ্ছে। এসব তথ্য জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব হোসেন।

২০০৭ সালে ভয়াবহ পাহাড় ধসে ১২৯ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে প্রতিবছর বর্ষা এলেই ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের উচ্ছেদে নামে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও পরিবেশ অধিদফতর। গত ফেব্রুয়ারিতে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের উচ্ছেদ অভিযানের সিদ্ধান্ত হয়। চলতি বছরের জুনের শেষদিকে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি-ফৌজদারহাট সিডিএ লিংক রোডের দু’পাশে পাহাড় কেটে ও অবৈধভাবে গড়ে তোলা সাড়ে তিনশ’ স্থাপনা উচ্ছেদ করে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।

১৬টি পাহাড়ে অভিযানে ঝুঁকি পূর্ণ ঘরবাড়ি উচ্ছেদের পাশাপাশি অবৈধ বিদ্যুতের ৩০টি মিটার জব্দ করা হয়েছিল। নবনির্মিত সিডিএ লিংক রোডের দু’ধারে করোনাভাইরাসের এই দুর্যোগ পরিস্থিতিতে গত দুই মাসে (এপ্রিল-মে) পাহাড় কেটে সরকারি জমিতে প্রচুর নতুন ঘর গড়ে তোলা হয়েছিল। প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতরের যৌথ উদ্যোগে সিএমপি ও রেলওয়ের সহযোগিতায় এখানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১৬ পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে অবৈধভাবে বসবাস করছে ৮৩৫ পরিবার। এর মধ্যে পূর্ব ফিরোজ শাহ এক নম্বর ঝিল সংলগ্ন পাহাড়ে ২৮ পরিবার, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মালিনাকানাধীন কৈবল্যধাম বিশ্ব কলোনি পাহাড়ে ২৮ পরিবার, পরিবেশ অধিদফতর সংলগ্ন সিটি কর্পোরেশন পাহাড়ে ১০ পরিবার, রেলওয়ে, সওজ, গণপূর্ত অধিদফতর ও ওয়াসার মালিকানাধীন মতিঝর্ণা ও বাটালি হিল পাহাড়ে ১৬২ পরিবার, রেলওয়ের লেকসিটি আবাসিক এলাকা সংলগ্ন পাহাড়ে ২২ পরিবার, ব্যক্তি মালিকানাধীন একে খান পাহাড়ে ২৬ পরিবার, হারুন খানের পাহাড়ে ৩৩ পরিবার, পলিটেকনিক কলেজ সংলগ্ন পাহাড়ে ৪৩ পরিবার, মধুশাহ পাহাড়ে ৩৪ পরিবার, ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট সংলগ্ন পাহাড়ে ৩৩ পরিবার, মিয়ার পাহাড়ে ৩২ পরিবার, আকবরশাহ আবাসিক এলাকা সংলগ্ন পাহাড়ে ২৮ পরিবার, আমিন কলোনি সংলগ্ন ট্যাংকির পাহাড়ে ১৬ পরিবার, ফয়’স লেক আবাসিক এলাকা সংলগ্ন পাহাড়ে ৯ পরিবার এবং এমআর সিদ্দিকী পাহাড়ে আটটি পরিবার, লালখান বাজার জামেয়াতুল উলুম মাদ্রাসা সংলগ্ন পাহাড়ে ১১ পরিবার, ভেড়া ফকিরের পাহাড়ে ১১ পরিবার বসবাস করে আসছিলেন।

জেলা প্রশাসকের স্টাফ অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব হোসেন যুগান্তরকে জানান, চট্টগ্রামে ধসের ঝুঁকিতে থাকা ১৬টি পাহাড়ের লোকজনকে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। করোনাভাইরাস দুর্যোগের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে যাতে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে সরে নিরাপদে অবস্থান গ্রহণ করতে পারে এজন্য চান্দগাঁও, বাকলিয়া, আগ্রাবাদ এবং কাট্টলী সার্কেলাধীন এলাকায় প্রস্তুত করা হয়েছে ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র।