তিস্তা মহাপরিকল্পনা বর্ধিত কলেবরে বাস্তবায়ন করুন
jugantor
আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটির বিবৃতি
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বর্ধিত কলেবরে বাস্তবায়ন করুন

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তিস্তা নদী নিয়ে চীনের ঋণ সহায়তায় নেয়া মহাপরিকল্পনা বর্ধিত কলেবরে বাস্তবায়ন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটি (আইএফসি)। শনিবার এক বিবৃতিতে আইএফসি নেতারা এ আহ্বান জানান। এতে তারা বলেন, এই পরিকল্পনা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করে নদীকে জীবিত রাখার প্রচেষ্টার বিকল্প নয়। তবুও বন্যা ভাঙনের ক্ষয়ক্ষতি লাঘব ও সমন্বিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে এই প্রচেষ্টা সফল হতে পারে। প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে উজানে যখন পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনার তাগিদ আসবে তখন বাংলাদেশের তিস্তা অংশ নতুন জীবন ফিরে পাবে।

তিস্তা নিয়ে মহাপরিকল্পনা বর্ধিত কলেবরে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, মহাপরিকল্পনাকে আরেকটু বাড়িয়ে বাংলাদেশে তিস্তার পুরনো মূল অববাহিকায় অবস্থিত আত্রাই, করতোয়া এবং পুনর্ভবা নদী এর আওতায় আনা হলে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। এতে প্রকল্পের ব্যাপ্তি চার হাজার বর্গকিলোমিটারের জায়গায় হবে ২৮ হাজার বর্গকিলোমিটার। বিশাল চলনবিলে বর্ষা মৌসুমে অনেক পানি ধরে রেখে মাছ চাষ, হাঁস পালন এবং শুকনো মৌসুমে সেচের ব্যবস্থা করা যাবে। নদীগুলো নাব্য ফিরে পেলে এই অঞ্চলে নৌচলাচল, কৃষি, কৃষিজাত শিল্পসহ শিল্প উন্নয়নে অবদান রাখবে। নদীভিত্তিক আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠবে। আশপাশের এলাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর উপরে উঠে আসবে এবং সব নলকূপ সারা বছর সচল থাকবে।

তিস্তা নিয়ে বারবার আশ্বাস দেয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পানিপ্রাপ্তির আশ্বাস অব্যাহত আছে, কিন্তু পানি আসছে না। অপর দিকে উজানে পানির গতিপথ পরিবর্তন করে গংগা নদীতে ফেলা হয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে যত দিন যাচ্ছে তত পানিপ্রাপ্তির সম্ভাবনা ক্ষীণতর হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিস্তা বেসিনে অতি বন্যা ও ভাঙনে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয় তা মোকাবেলার পাশাপাশি এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের একটা মহাপরিকল্পনার ছক তৈরি করেছে চীনের পাওয়ার চায়না কোম্পানি। প্রায় আট হাজার কোটি টাকার এই পরিকল্পনায় নীলফামারীর ডালিয়ায় নির্মিত তিস্তা ব্যারেজ থেকে মহিপুর ও কাউনিয়া হয়ে তিস্তার মোহনা পর্যন্ত ১০২ কিলোমিটার এলাকার টেকসই উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে প্রকাশ এই মহাপরিকল্পনা ঋণের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর নাব্য বৃদ্ধির পাশাপাশি ১৭০ বর্গকিলোমিটার জমি উদ্ধার এবং নদীর মূল স্রোত স্টেবিলাইজ করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে তিস্তার উভয় তীরে স্যাটেলাইট টাউন নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। সঙ্গে থাকবে উচ্চ আয়ের শিল্প এবং কৃষি উন্নয়নের ব্যবস্থা। সোলার পার্ক, স্কুল, হেলথ কমপ্লেক্স, মসজিদ এবং সাধারণের ব্যবহার্য সুযোগ সুবিধা। নদীর দুই তীরে তৈরি বাঁধ এবং তার সঙ্গে সংযুক্ত সড়কপথে যান চলাচল এবং নদীতে নৌযানের ব্যবস্থা এই অঞ্চলের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবে। জরিপ করে নদীর বাম তীরে ২৭টি গ্রোয়েন, ক্রসবার ও ৪৬ কিলোমিটার লেভি এবং ডান তীরে ২৩টি গ্রোয়েন, ক্রসবার ও ৭৮ কিলোমিটার লেভি নির্মাণের মাধ্যমে মাঝখানে মূল স্রোত সৃষ্টির পরিকল্পনা করা হয়েছে।

মূল স্রোত উপরের অংশে ৭০০ মিটার এবং নিুাংশে এক কিলোমিটার প্রশস্ত হবে। খননের ফলে নদীর পানি পরিবহন ক্ষমতা বেড়ে যাবে। বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য ইতোপূর্বে নির্মিত লেভিগুলোর সংস্কার করা হবে। তিস্তার ১০২ কিলোমিটার এলাকাকে তিনটি অংশে উন্নয়নের কথা বলে হয়েছে। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন আইএফসি নিউইয়র্ক চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান সালু, মহাসচিব সৈয়দ টিপু সুলতান, আইএফসি বাংলাদেশ সভাপতি অধ্যাপক জসিম উদ্দিন আহমাদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি ড. এসআই খান এবং আইএফসি সমন্বয়ক মোস্তফা কামাল মজুমদার।

আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটির বিবৃতি

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বর্ধিত কলেবরে বাস্তবায়ন করুন

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

তিস্তা নদী নিয়ে চীনের ঋণ সহায়তায় নেয়া মহাপরিকল্পনা বর্ধিত কলেবরে বাস্তবায়ন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটি (আইএফসি)। শনিবার এক বিবৃতিতে আইএফসি নেতারা এ আহ্বান জানান। এতে তারা বলেন, এই পরিকল্পনা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করে নদীকে জীবিত রাখার প্রচেষ্টার বিকল্প নয়। তবুও বন্যা ভাঙনের ক্ষয়ক্ষতি লাঘব ও সমন্বিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে এই প্রচেষ্টা সফল হতে পারে। প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে উজানে যখন পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনার তাগিদ আসবে তখন বাংলাদেশের তিস্তা অংশ নতুন জীবন ফিরে পাবে।

তিস্তা নিয়ে মহাপরিকল্পনা বর্ধিত কলেবরে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, মহাপরিকল্পনাকে আরেকটু বাড়িয়ে বাংলাদেশে তিস্তার পুরনো মূল অববাহিকায় অবস্থিত আত্রাই, করতোয়া এবং পুনর্ভবা নদী এর আওতায় আনা হলে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। এতে প্রকল্পের ব্যাপ্তি চার হাজার বর্গকিলোমিটারের জায়গায় হবে ২৮ হাজার বর্গকিলোমিটার। বিশাল চলনবিলে বর্ষা মৌসুমে অনেক পানি ধরে রেখে মাছ চাষ, হাঁস পালন এবং শুকনো মৌসুমে সেচের ব্যবস্থা করা যাবে। নদীগুলো নাব্য ফিরে পেলে এই অঞ্চলে নৌচলাচল, কৃষি, কৃষিজাত শিল্পসহ শিল্প উন্নয়নে অবদান রাখবে। নদীভিত্তিক আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠবে। আশপাশের এলাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর উপরে উঠে আসবে এবং সব নলকূপ সারা বছর সচল থাকবে।

তিস্তা নিয়ে বারবার আশ্বাস দেয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পানিপ্রাপ্তির আশ্বাস অব্যাহত আছে, কিন্তু পানি আসছে না। অপর দিকে উজানে পানির গতিপথ পরিবর্তন করে গংগা নদীতে ফেলা হয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে যত দিন যাচ্ছে তত পানিপ্রাপ্তির সম্ভাবনা ক্ষীণতর হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিস্তা বেসিনে অতি বন্যা ও ভাঙনে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয় তা মোকাবেলার পাশাপাশি এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের একটা মহাপরিকল্পনার ছক তৈরি করেছে চীনের পাওয়ার চায়না কোম্পানি। প্রায় আট হাজার কোটি টাকার এই পরিকল্পনায় নীলফামারীর ডালিয়ায় নির্মিত তিস্তা ব্যারেজ থেকে মহিপুর ও কাউনিয়া হয়ে তিস্তার মোহনা পর্যন্ত ১০২ কিলোমিটার এলাকার টেকসই উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে প্রকাশ এই মহাপরিকল্পনা ঋণের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর নাব্য বৃদ্ধির পাশাপাশি ১৭০ বর্গকিলোমিটার জমি উদ্ধার এবং নদীর মূল স্রোত স্টেবিলাইজ করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে তিস্তার উভয় তীরে স্যাটেলাইট টাউন নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। সঙ্গে থাকবে উচ্চ আয়ের শিল্প এবং কৃষি উন্নয়নের ব্যবস্থা। সোলার পার্ক, স্কুল, হেলথ কমপ্লেক্স, মসজিদ এবং সাধারণের ব্যবহার্য সুযোগ সুবিধা। নদীর দুই তীরে তৈরি বাঁধ এবং তার সঙ্গে সংযুক্ত সড়কপথে যান চলাচল এবং নদীতে নৌযানের ব্যবস্থা এই অঞ্চলের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবে। জরিপ করে নদীর বাম তীরে ২৭টি গ্রোয়েন, ক্রসবার ও ৪৬ কিলোমিটার লেভি এবং ডান তীরে ২৩টি গ্রোয়েন, ক্রসবার ও ৭৮ কিলোমিটার লেভি নির্মাণের মাধ্যমে মাঝখানে মূল স্রোত সৃষ্টির পরিকল্পনা করা হয়েছে।

মূল স্রোত উপরের অংশে ৭০০ মিটার এবং নিুাংশে এক কিলোমিটার প্রশস্ত হবে। খননের ফলে নদীর পানি পরিবহন ক্ষমতা বেড়ে যাবে। বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য ইতোপূর্বে নির্মিত লেভিগুলোর সংস্কার করা হবে। তিস্তার ১০২ কিলোমিটার এলাকাকে তিনটি অংশে উন্নয়নের কথা বলে হয়েছে। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন আইএফসি নিউইয়র্ক চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান সালু, মহাসচিব সৈয়দ টিপু সুলতান, আইএফসি বাংলাদেশ সভাপতি অধ্যাপক জসিম উদ্দিন আহমাদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি ড. এসআই খান এবং আইএফসি সমন্বয়ক মোস্তফা কামাল মজুমদার।