ভারতের সাবেক মন্ত্রী যশোবন্ত সিং মারা গেছেন
jugantor
ভারতের সাবেক মন্ত্রী যশোবন্ত সিং মারা গেছেন

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যশোবন্ত সিং মারা গেছেন। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রোববার সকালে দিল্লির আর্মি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। খবর হিন্দুস্তান টাইমস ও আনন্দবাজারসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের।

দিল্লির আর্মি হাসপাতালের এক বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে যশোবন্ত সিংয়ের মৃত্যু হয়। অসুস্থতার জন্য তাকে ২৫ জুন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেপসিস এবং মাল্টিঅর্গান ডিসফাংশন সিনড্রোমে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। রোববার সকালে যশোবন্ত সিং হৃদরোগে আক্রান্ত হন। তার কোভিড-১৯ নেগেটিভ ছিল। যশোবন্ত সিংয়ের মৃত্যুর খবরে গভীর শোক জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘যশোবন্ত সিংজি রাজনীতি ও সমাজের প্রতি তার অনন্য দৃষ্টির জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। বিজেপিকে শক্তিশালী করতে তিনি অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। আমাদের দু’জনের মধ্যে যে ঘনিষ্ঠতা, তা আমি কখনো ভুলব না। তার পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি সমবেদনা জানাই। ওম শান্তি।’

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী যশোবন্তের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।

টুইট বার্তায় রাজনাথ সিং বলেছেন, ‘বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা ও সাবেক মন্ত্রী যশোবন্ত সিংয়ের মৃত্যুতে গভীরভাবে বেদনাহত আমি। অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে তিনি এ দেশের সেবা করেছেন।’

যশোবন্ত সিংয়ের জন্ম রাজস্থানের বাড়মের জেলার জসোল গ্রামে ১৯৩৮ সালের ৩ জানুয়ারি। মেয়ো কলেজ, ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি এবং ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমি উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৫০-এর দশকে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। কর্মরত ছিলেন ‘মেজর’ পদে। সেখান থেকে অবসর নিয়ে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।

তিনি প্রথম রাজ্যসভায় পা রাখেন আশির দশকে। ১৯৯৬-এর ১৬ মে থেকে সে বছরের ১ জুন পর্যন্ত বাজপেয়ির সংক্ষিপ্ত মন্ত্রিসভায় তিনি ছিলেন অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী হিসেবে আবার তাকে দেখা গিয়েছিল ২০০২ সালে। বাজপেয়ির মন্ত্রিসভায় তিনি ১ জুলাই, ২০০২ থেকে ২১ মে ২০০৪ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ছিলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন ১৯৯৮ থেকে ২০০২ পর্যন্ত। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন ২০০০-এর জানুয়ারি থেকে ২০০১-এর অক্টোবর পর্যন্ত।

২০১৪ সালে রাজস্থানের বাড়মের লোকসভা কেন্দ্রে লড়ার জন্য দলের টিকিট চেয়ে তিনি ব্যর্থ হন। এর পর থেকে দলের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। দলের মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়েন। তবে সে নির্বাচনে তিনি হেরে যান। পার্লামেন্টে শক্তিশালী একজন তার্কিক হিসেবে তিনি সুপরিচিত ছিলেন। যশোবন্ত সিং ছয়টি বই লিখেছেন। এর মধ্যে ‘জিন্নাহ : ইন্ডিয়া, পার্টিশন, ইনডিপেনডেন্স’ ও ‘ডিফেন্ডিং ইন্ডিয়া’ উল্লেখযোগ্য।

ভারতের সাবেক মন্ত্রী যশোবন্ত সিং মারা গেছেন

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যশোবন্ত সিং মারা গেছেন। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রোববার সকালে দিল্লির আর্মি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। খবর হিন্দুস্তান টাইমস ও আনন্দবাজারসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের।

দিল্লির আর্মি হাসপাতালের এক বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে যশোবন্ত সিংয়ের মৃত্যু হয়। অসুস্থতার জন্য তাকে ২৫ জুন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেপসিস এবং মাল্টিঅর্গান ডিসফাংশন সিনড্রোমে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। রোববার সকালে যশোবন্ত সিং হৃদরোগে আক্রান্ত হন। তার কোভিড-১৯ নেগেটিভ ছিল। যশোবন্ত সিংয়ের মৃত্যুর খবরে গভীর শোক জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘যশোবন্ত সিংজি রাজনীতি ও সমাজের প্রতি তার অনন্য দৃষ্টির জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। বিজেপিকে শক্তিশালী করতে তিনি অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। আমাদের দু’জনের মধ্যে যে ঘনিষ্ঠতা, তা আমি কখনো ভুলব না। তার পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি সমবেদনা জানাই। ওম শান্তি।’

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী যশোবন্তের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।

টুইট বার্তায় রাজনাথ সিং বলেছেন, ‘বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা ও সাবেক মন্ত্রী যশোবন্ত সিংয়ের মৃত্যুতে গভীরভাবে বেদনাহত আমি। অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে তিনি এ দেশের সেবা করেছেন।’

যশোবন্ত সিংয়ের জন্ম রাজস্থানের বাড়মের জেলার জসোল গ্রামে ১৯৩৮ সালের ৩ জানুয়ারি। মেয়ো কলেজ, ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি এবং ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমি উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৫০-এর দশকে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। কর্মরত ছিলেন ‘মেজর’ পদে। সেখান থেকে অবসর নিয়ে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।

তিনি প্রথম রাজ্যসভায় পা রাখেন আশির দশকে। ১৯৯৬-এর ১৬ মে থেকে সে বছরের ১ জুন পর্যন্ত বাজপেয়ির সংক্ষিপ্ত মন্ত্রিসভায় তিনি ছিলেন অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী হিসেবে আবার তাকে দেখা গিয়েছিল ২০০২ সালে। বাজপেয়ির মন্ত্রিসভায় তিনি ১ জুলাই, ২০০২ থেকে ২১ মে ২০০৪ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী ছিলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন ১৯৯৮ থেকে ২০০২ পর্যন্ত। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন ২০০০-এর জানুয়ারি থেকে ২০০১-এর অক্টোবর পর্যন্ত।

২০১৪ সালে রাজস্থানের বাড়মের লোকসভা কেন্দ্রে লড়ার জন্য দলের টিকিট চেয়ে তিনি ব্যর্থ হন। এর পর থেকে দলের সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। দলের মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়েন। তবে সে নির্বাচনে তিনি হেরে যান। পার্লামেন্টে শক্তিশালী একজন তার্কিক হিসেবে তিনি সুপরিচিত ছিলেন। যশোবন্ত সিং ছয়টি বই লিখেছেন। এর মধ্যে ‘জিন্নাহ : ইন্ডিয়া, পার্টিশন, ইনডিপেনডেন্স’ ও ‘ডিফেন্ডিং ইন্ডিয়া’ উল্লেখযোগ্য।