কুড়িগ্রামে পানিবন্দি ৭০ হাজার মানুষ
jugantor
বন্যা পরিস্থিতির অবনতি
কুড়িগ্রামে পানিবন্দি ৭০ হাজার মানুষ

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুড়িগ্রামে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ধরলার পানি বাড়তে থাকায় ৭০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গাইবান্ধায় করতোয়া, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ঘাঘটসহ জেলার সবগুলো নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। পদ্মার পানি বাড়তে থাকায় শরীয়তপুরের জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলার চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় আগাম ফসল ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

কুড়িগ্রাম : ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে পানি বাড়তে থাকায় কুড়িগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। সোমবার বিকালে ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছিল। পানি বাড়ছে তিস্তায় ও ব্রহ্মপুত্র নদে। দেড় শতাধিক চর প্লাবিত হওয়ায় ৭০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, নতুন করে প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর আমনসহ ১৮ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমির ফসল বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। শত শত হেক্টর জমির বেগুন, মুলা, কপি, লালশাকের ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। ধরলা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদের ভাঙন অব্যাহত রয়েছে বিভিন্ন এলাকায়।

গাইবান্ধা : কয়েকদিনের ভারি বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে গাইবান্ধায় করতোয়া, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ঘাঘটসহ সব নদীর পানি বাড়ছে। করতোয়া গোবিন্দগঞ্জের কাটাখালী পয়েন্টে সোমবার বিকাল ৩টায় বিপদসীমার ৬২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দরবস্ত, শিবপুর, সাপমারা, নাকাই, কাটাবাড়ী, ফুলবাড়ী, হরিরামপুর, মহিমাগঞ্জ, রাখালবুরুজ ও তালুকানুপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়িতে পানি ঢুকেছে। ডুবে গেছে হাজার হাজার একর ফসলি জমি। পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ি ও হোসেনপুর ইউনিয়নের বেশকিছু এলাকায় পানি ঢুকেছে। জেলা প্রশাসন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বন্যাদুর্গতদের জন্য ৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে।

শরীয়তপুর : পদ্মার পানি বৃদ্ধির ফলে শরীয়তপুর জেলার জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলার চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ফলে আগাম ফসল ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। কয়েকদিন আগে বন্যায় ফসলের ক্ষতি কাটিয়ে না উঠতেই আবারও লোকসানের মুখে পড়েছে কৃষক। শরীয়তপুর কৃষি বিভাগ জানায়, পদ্মা নদীর পানি গত ৪-৫ দিনে ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়ে চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। স্বাভাবিকের চেয়ে ২-৩ ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলা শাকসবজি, মরিচ, আমন ও মাষকলাইসহ আগাম ফসল ক্ষতির মুখে পড়েছে। এবার বর্ষার শুরুতেই বন্যায় জেলার ১৯ হাজার ৭৬৯ চাষীর ৮৮২ হেক্টর জমির আমন বীজতলা, রোপা আমন, আউশ, বোনা আমন, পাট, শাকসবজি, আখ, পান, ফলবাগান বিনষ্ট হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১২ কোটি ১৮ লাখ ৬০ হাজার টাকার ফসল। এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ফের বন্যার পানিতে ফসলের জমি প্লাবিত হয়েছে। এভাবে ২-৩ দিন নিমজ্জিত থাকলে এসব ফসল সমূলে বিনষ্ট হবে।

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

কুড়িগ্রামে পানিবন্দি ৭০ হাজার মানুষ

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কুড়িগ্রামে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ধরলার পানি বাড়তে থাকায় ৭০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গাইবান্ধায় করতোয়া, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ঘাঘটসহ জেলার সবগুলো নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। পদ্মার পানি বাড়তে থাকায় শরীয়তপুরের জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলার চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় আগাম ফসল ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

কুড়িগ্রাম : ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে পানি বাড়তে থাকায় কুড়িগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। সোমবার বিকালে ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছিল। পানি বাড়ছে তিস্তায় ও ব্রহ্মপুত্র নদে। দেড় শতাধিক চর প্লাবিত হওয়ায় ৭০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, নতুন করে প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর আমনসহ ১৮ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমির ফসল বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। শত শত হেক্টর জমির বেগুন, মুলা, কপি, লালশাকের ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। ধরলা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদের ভাঙন অব্যাহত রয়েছে বিভিন্ন এলাকায়।

গাইবান্ধা : কয়েকদিনের ভারি বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে গাইবান্ধায় করতোয়া, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ঘাঘটসহ সব নদীর পানি বাড়ছে। করতোয়া গোবিন্দগঞ্জের কাটাখালী পয়েন্টে সোমবার বিকাল ৩টায় বিপদসীমার ৬২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দরবস্ত, শিবপুর, সাপমারা, নাকাই, কাটাবাড়ী, ফুলবাড়ী, হরিরামপুর, মহিমাগঞ্জ, রাখালবুরুজ ও তালুকানুপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়িতে পানি ঢুকেছে। ডুবে গেছে হাজার হাজার একর ফসলি জমি। পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ি ও হোসেনপুর ইউনিয়নের বেশকিছু এলাকায় পানি ঢুকেছে। জেলা প্রশাসন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বন্যাদুর্গতদের জন্য ৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে।

শরীয়তপুর : পদ্মার পানি বৃদ্ধির ফলে শরীয়তপুর জেলার জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলার চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ফলে আগাম ফসল ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। কয়েকদিন আগে বন্যায় ফসলের ক্ষতি কাটিয়ে না উঠতেই আবারও লোকসানের মুখে পড়েছে কৃষক। শরীয়তপুর কৃষি বিভাগ জানায়, পদ্মা নদীর পানি গত ৪-৫ দিনে ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়ে চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। স্বাভাবিকের চেয়ে ২-৩ ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলা শাকসবজি, মরিচ, আমন ও মাষকলাইসহ আগাম ফসল ক্ষতির মুখে পড়েছে। এবার বর্ষার শুরুতেই বন্যায় জেলার ১৯ হাজার ৭৬৯ চাষীর ৮৮২ হেক্টর জমির আমন বীজতলা, রোপা আমন, আউশ, বোনা আমন, পাট, শাকসবজি, আখ, পান, ফলবাগান বিনষ্ট হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১২ কোটি ১৮ লাখ ৬০ হাজার টাকার ফসল। এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ফের বন্যার পানিতে ফসলের জমি প্লাবিত হয়েছে। এভাবে ২-৩ দিন নিমজ্জিত থাকলে এসব ফসল সমূলে বিনষ্ট হবে।