তারেক ও মাসুম পাঁচ দিনের রিমান্ডে
jugantor
এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ
তারেক ও মাসুম পাঁচ দিনের রিমান্ডে

  সিলেট ব্যুরো  

০১ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূ গণধর্ষণ মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি ছাত্রলীগ কর্মী তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮) ও ৬ নম্বর আসামি মাহফুজুর রহমান মাসুমকে পাঁচদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার সিলেটের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সকালে মাসুম ও বিকালে তারেককে হাজির করে সাতদিন করে রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে বিচারক মো. আবুল কাশেম তাদের পাঁচদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আইনজীবী দেবব্রত চৌধুরী লিটন যুগান্তরকে বলেন, এ মামলার অন্য আসামিদের মতো তারেক ও মাসুমের পক্ষেও কোনো আইনজীবী অংশ নেননি। তবে বাদীপক্ষে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে শতাধিক আইনজীবী অংশ নেন। এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি প্রাথমিক তদন্ত কাজ শেষ করেছে। প্রাথমিক রিপোর্ট দিতে তাদের বুধবার রাতে ঢাকায় যাওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া এ ঘটনা তদন্তে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

অতিরিক্ত পিপি মো. মাহফুজুর রহমান যুগান্তরকে জানান, নিজেকে নির্দোষ দাবি করে মাসুম আদালতে বলেন- ‘মোবাইল ফোনে খবর পেয়ে এমসি কলেজ গেটে যাই। সেখানে সাইফুর ভাই, তারেক ভাই ও অর্জুন দাকে একটি প্রাইভেটকারে দেখি। এ সময় তাদের সঙ্গে কারে এক মেয়েকেও দেখি। তারা আমাকে তাদের মোটরসাইকেল নিয়ে ছাত্রাবাসে যেতে বলেন। আমি সেটি নিয়ে সেখানে যাই। তবে ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। একইভাবে তারেকও নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। এসএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) জ্যোর্তিময় সরকার বলেন, এজাহারভুক্ত ছয়জন আর এজাহারের বাইরে থাকা দু’জনসহ আটজন গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত দ্রুত শেষ করার পর্যায়ে রয়েছে।

এদিকে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে সংঘটিত গণধর্ষণের ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় ঘাটতির বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। প্রায় ১৪৪ একরের এমসি কলেজে যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। অপ্রতুল সীমানা প্রাচীর, আলোর স্বল্পতার বিষয়টিও নিরাপত্তায় ব্যাঘাত ঘটছে বলে মনে করে তদন্ত কমিটি। বুধবার সন্ধ্যায় এমসি কলেজে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক শহিদুল খবির চৌধুরী। তিনি বলেন, মঙ্গলবার তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ, কলেজ প্রশাসন, নির্যাতিত নারী ও তার স্বামীর সঙ্গেও তারা কথা বলেছেন। বুধবার বিকালে তারা এমসি কলেজ ক্যাম্পাস ও ছাত্রাবাস সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এ সময় কমিটির অন্য দুই সদস্য মাউশির সিলেট অঞ্চলের উপপরিচালক (কলেজ) মো. নুরে আলম ও মাউশির সহকারী পরিচালক (কলেজ-১) লোকমান হোসেন উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ে তারা প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেবেন। এজন্য বুধবার রাতেই তারা ঢাকায় যাচ্ছেন।

ন্যক্কারজনক ঘটনার ছয়দিন পর তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। ঘটনার দায়দায়িত্ব নিরূপণের লক্ষ্যে বুধবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেট আঞ্চলিক কেন্দ্রের পরিচালক মো. গোলাম রাব্বানীকে নিয়ে এক সদস্যের কমিটি করা হয়। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ তথ্য ও পরামর্শ দফতরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. ফয়জুল করিম এ তথ্য জানান।

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণ

তারেক ও মাসুম পাঁচ দিনের রিমান্ডে

 সিলেট ব্যুরো 
০১ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূ গণধর্ষণ মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি ছাত্রলীগ কর্মী তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮) ও ৬ নম্বর আসামি মাহফুজুর রহমান মাসুমকে পাঁচদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার সিলেটের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সকালে মাসুম ও বিকালে তারেককে হাজির করে সাতদিন করে রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে বিচারক মো. আবুল কাশেম তাদের পাঁচদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আইনজীবী দেবব্রত চৌধুরী লিটন যুগান্তরকে বলেন, এ মামলার অন্য আসামিদের মতো তারেক ও মাসুমের পক্ষেও কোনো আইনজীবী অংশ নেননি। তবে বাদীপক্ষে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে শতাধিক আইনজীবী অংশ নেন। এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি প্রাথমিক তদন্ত কাজ শেষ করেছে। প্রাথমিক রিপোর্ট দিতে তাদের বুধবার রাতে ঢাকায় যাওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া এ ঘটনা তদন্তে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

অতিরিক্ত পিপি মো. মাহফুজুর রহমান যুগান্তরকে জানান, নিজেকে নির্দোষ দাবি করে মাসুম আদালতে বলেন- ‘মোবাইল ফোনে খবর পেয়ে এমসি কলেজ গেটে যাই। সেখানে সাইফুর ভাই, তারেক ভাই ও অর্জুন দাকে একটি প্রাইভেটকারে দেখি। এ সময় তাদের সঙ্গে কারে এক মেয়েকেও দেখি। তারা আমাকে তাদের মোটরসাইকেল নিয়ে ছাত্রাবাসে যেতে বলেন। আমি সেটি নিয়ে সেখানে যাই। তবে ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। একইভাবে তারেকও নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। এসএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) জ্যোর্তিময় সরকার বলেন, এজাহারভুক্ত ছয়জন আর এজাহারের বাইরে থাকা দু’জনসহ আটজন গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্ত দ্রুত শেষ করার পর্যায়ে রয়েছে।

এদিকে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে সংঘটিত গণধর্ষণের ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় ঘাটতির বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। প্রায় ১৪৪ একরের এমসি কলেজে যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। অপ্রতুল সীমানা প্রাচীর, আলোর স্বল্পতার বিষয়টিও নিরাপত্তায় ব্যাঘাত ঘটছে বলে মনে করে তদন্ত কমিটি। বুধবার সন্ধ্যায় এমসি কলেজে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক শহিদুল খবির চৌধুরী। তিনি বলেন, মঙ্গলবার তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ, কলেজ প্রশাসন, নির্যাতিত নারী ও তার স্বামীর সঙ্গেও তারা কথা বলেছেন। বুধবার বিকালে তারা এমসি কলেজ ক্যাম্পাস ও ছাত্রাবাস সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এ সময় কমিটির অন্য দুই সদস্য মাউশির সিলেট অঞ্চলের উপপরিচালক (কলেজ) মো. নুরে আলম ও মাউশির সহকারী পরিচালক (কলেজ-১) লোকমান হোসেন উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ে তারা প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেবেন। এজন্য বুধবার রাতেই তারা ঢাকায় যাচ্ছেন।

ন্যক্কারজনক ঘটনার ছয়দিন পর তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। ঘটনার দায়দায়িত্ব নিরূপণের লক্ষ্যে বুধবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেট আঞ্চলিক কেন্দ্রের পরিচালক মো. গোলাম রাব্বানীকে নিয়ে এক সদস্যের কমিটি করা হয়। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ তথ্য ও পরামর্শ দফতরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. ফয়জুল করিম এ তথ্য জানান।