পটুয়াখালী পৌরসভা: ২শ’ কোটি টাকার প্রকল্পে দুর্নীতির তদন্ত শুরু
jugantor
পটুয়াখালী পৌরসভা: ২শ’ কোটি টাকার প্রকল্পে দুর্নীতির তদন্ত শুরু

  জাফর খান ও বিলাস দাস, পটুয়াখালী  

০১ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পটুয়াখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র ডা. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামের সময়ের প্রায় সোয়া ২শ’ কোটি টাকার প্রকল্পের অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত শুরু করেছে দুদক। এ তদন্তে কাজ করছে পটুয়াখালী জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. ওয়াজেদ গাজীর নেতৃত্বে একটি টিম।

তদন্ত চলাকালীন পটুয়াখালী পৌরসভার (অবসরপ্রাপ্ত) নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল হালিম, সহকারী প্রকৌশলী মো. সোলাইমান, অলোক সমাদ্দার, উপ-সহকারী প্রকৌশলী উজ্জ্বল কর্মকার, মো. নিয়াজুর রহমান ও প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স পল্লী স্টোর্সের স্বত্বাধিকারী গোলাম সরোয়ার বাদলকে নোটিশ দেয়া হয়েছে।

অনুসন্ধান চলাকালে নোটিশ প্রাপ্তদের অনুসন্ধানস্থলে সশরীরে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে তৎকালীন মেয়র ডা. মো. শফিকুল ইসলামকে কোনো নোটিশ দেয়া হয়নি।

পটুয়াখালী দুদক কার্যালয় থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী পৌরসভাকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়- ২০১২ থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের পৌর এলাকার সড়ক নির্মাণ/মেরামত এবং খাল খননসহ অন্তত ১২টি প্রকল্পের অনুসন্ধান করা হবে। ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা অনুসন্ধান চলবে।

বর্তমান পৌর মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, অনুসন্ধানকালে দুদককে সহযোগিতা করা হবে। তৎকালীন কাগজপত্রে প্রকল্প বাস্তবায়ন করে কোটি কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। অথচ মাঠপর্যায়ে কোনো প্রকল্পের হদিস নেই। যে কারণে পৌরসভা বিব্রত অবস্থায় রয়েছে।

দুদকে দেয়া অভিযোগে বলা হয়, সাবেক মেয়র ডা. শফিকুল ইসলাম উল্লিখিত প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করইে তার পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দিয়ে কাজ সম্পন্ন করেছেন। এছাড়াও একাধিক ভৌতিক প্রকল্প কাগজপত্রে উত্থাপন করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে।

আর এ দুর্নীতির নেপথ্যের মূল হোতা ও সহায়কের ভূমিকায় ছিলেন তৎকালীন আলোচিত পৌরসভার হিসাবরক্ষক এসএম শাহিন। অভিযুক্ত শাহিনের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৭৪ লাখ ৭৪ হাজার ৩৫০ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে দুদকের মামলা চলমান রয়েছে।

ওই অভিযোগের আলোকে দুদক প্রধান কার্যালয় থেকে তৎকালীন পটুয়াখালী দুদকের উপ-পরিচালক মো. মোজাহার আলী সরদারকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে ওই তদন্তের অগ্রগতি হয়নি।

এর আগে উল্লিখিত ঘটনায় তদন্ত শুরু হলেও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তা প্রত্যাহার করা হয়। এর পূর্বে ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক মো. মোজাহার আলী সরদার স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে বর্তমান মেয়র মো. মহিউদ্দিন আহম্মেদকে পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ সম্প্রসারণ, টিউবওয়েল স্থাপনসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যাদি চেয়ে নোটিশ দেয়া হয়।

পটুয়াখালী পৌরসভা: ২শ’ কোটি টাকার প্রকল্পে দুর্নীতির তদন্ত শুরু

 জাফর খান ও বিলাস দাস, পটুয়াখালী 
০১ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পটুয়াখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র ডা. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামের সময়ের প্রায় সোয়া ২শ’ কোটি টাকার প্রকল্পের অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত শুরু করেছে দুদক। এ তদন্তে কাজ করছে পটুয়াখালী জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. ওয়াজেদ গাজীর নেতৃত্বে একটি টিম।

তদন্ত চলাকালীন পটুয়াখালী পৌরসভার (অবসরপ্রাপ্ত) নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল হালিম, সহকারী প্রকৌশলী মো. সোলাইমান, অলোক সমাদ্দার, উপ-সহকারী প্রকৌশলী উজ্জ্বল কর্মকার, মো. নিয়াজুর রহমান ও প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স পল্লী স্টোর্সের স্বত্বাধিকারী গোলাম সরোয়ার বাদলকে নোটিশ দেয়া হয়েছে।

অনুসন্ধান চলাকালে নোটিশ প্রাপ্তদের অনুসন্ধানস্থলে সশরীরে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে তৎকালীন মেয়র ডা. মো. শফিকুল ইসলামকে কোনো নোটিশ দেয়া হয়নি।

পটুয়াখালী দুদক কার্যালয় থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী পৌরসভাকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়- ২০১২ থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের পৌর এলাকার সড়ক নির্মাণ/মেরামত এবং খাল খননসহ অন্তত ১২টি প্রকল্পের অনুসন্ধান করা হবে। ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা অনুসন্ধান চলবে।

বর্তমান পৌর মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, অনুসন্ধানকালে দুদককে সহযোগিতা করা হবে। তৎকালীন কাগজপত্রে প্রকল্প বাস্তবায়ন করে কোটি কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। অথচ মাঠপর্যায়ে কোনো প্রকল্পের হদিস নেই। যে কারণে পৌরসভা বিব্রত অবস্থায় রয়েছে।

দুদকে দেয়া অভিযোগে বলা হয়, সাবেক মেয়র ডা. শফিকুল ইসলাম উল্লিখিত প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করইে তার পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দিয়ে কাজ সম্পন্ন করেছেন। এছাড়াও একাধিক ভৌতিক প্রকল্প কাগজপত্রে উত্থাপন করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে।

আর এ দুর্নীতির নেপথ্যের মূল হোতা ও সহায়কের ভূমিকায় ছিলেন তৎকালীন আলোচিত পৌরসভার হিসাবরক্ষক এসএম শাহিন। অভিযুক্ত শাহিনের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৭৪ লাখ ৭৪ হাজার ৩৫০ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে দুদকের মামলা চলমান রয়েছে।

ওই অভিযোগের আলোকে দুদক প্রধান কার্যালয় থেকে তৎকালীন পটুয়াখালী দুদকের উপ-পরিচালক মো. মোজাহার আলী সরদারকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে ওই তদন্তের অগ্রগতি হয়নি।

এর আগে উল্লিখিত ঘটনায় তদন্ত শুরু হলেও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তা প্রত্যাহার করা হয়। এর পূর্বে ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক মো. মোজাহার আলী সরদার স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে বর্তমান মেয়র মো. মহিউদ্দিন আহম্মেদকে পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ সম্প্রসারণ, টিউবওয়েল স্থাপনসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যাদি চেয়ে নোটিশ দেয়া হয়।