আটকে থাকা সাংগঠনিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে
jugantor
আ’লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক কাল
আটকে থাকা সাংগঠনিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে

  হাসিবুল হাসান  

০২ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক আগামীকাল সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত হবে। এতে দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করবেন। বৈঠকে করোনার কারণে দীর্ঘদিন আটকে থাকা দলের বেশ কয়েকটি সাংগঠনিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হবে। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। বৈঠকে সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন, জেলাগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি, বিভাগীয় উপকমিটি চূড়ান্ত করা, শূন্য হওয়া সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি, প্রেসিডিয়াম সদস্যদের সমন্বয়ে প্রস্তাবিত বিভাগভিত্তিক সাংগঠনিক টিম চূড়ান্তসহ সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি আগামী দিনের সাংগঠনিক কর্মপরিকল্পনা নিয়েও কথা হবে। এছাড়া করোনাভাইরাস পরিস্থিতিসহ সমসাময়িক সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয় আলোচনায় প্রাধান্য পাবে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান বৃহস্পতিবার বিকালে যুগান্তরকে বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, কোভিড-১৯ পরিস্থিতি এবং সেখানে আমরা কি দায়িত্ব পালন করেছি, সামনে কি করতে হবে তা নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া আমাদের সাংগঠনিক বিষয়গুলো তো থাকবেই। প্রায় সাত মাস পর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সর্বশেষ ৯ মার্চ বৈঠক হয়েছিল। এরপর করোনা মহামারী শুরু হলে সব সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। ছয় মাস পরে সেপ্টেম্বর মাসের শুরু থেকে আবার সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করে আওয়ামী লীগ।

জানা যায়, কোভিড-১৯ এর কারণে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিতসংখ্যক সদস্যের উপস্থিতিতে আগামীকালের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ৮১ সদস্য কার্যনির্বাহী কমিটির মধ্যে বর্তমানে আছেন ৭৫ জন। বিভিন্ন পর্যায়ের ৩৪ জন নেতাকে নিয়ে বৈঠক হবে। যারা উপস্থিত থাকবেন তাদের ইতোমধ্যে ফোন করে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে এই সংখ্যা বাড়তেও পারে।

সূত্র জানায়, সম্মেলন হওয়া ৩১টি জেলার মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ২৫টির খসড়া কমিটি কেন্দ্রে জমা পেড়েছে। আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে জমা পড়া প্রস্তাবিত কমিটিগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হতে পারে। এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণসহ সম্মেলন হওয়া আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ এবং শ্রমিক লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে আলোচনা হবে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে দু-একটি ছাড়া প্রায় সব বিভাগীয় উপকমিটির খসড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দফতরে জমা পড়েছে। ৩৫ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটিগুলো চূড়ান্ত করার বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে।

বৈঠকে শূন্য হওয়া আসনগুলোর উপনির্বাচন এবং পৌরসভাসহ আগামী দিনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হবে।

এছাড়া কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় দল ও সরকারের বিগত দিনের কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যতে কোন পরিস্থিতিতে কি করণীয় তা নিয়েও আলোচনা হবে। পাশাপাশি শুদ্ধি অভিযান, এমসি কলেজসহ ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও আলোচনা হতে পারে। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীদের ব্যাপারে নীতিনির্ধারণী এবং নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখতে পারেন দলীয় সভাপতি।

বৈঠকে উপস্থিত হবেন এমন কয়েকজন নেতা জানান, সভাপতি শেখ হাসিনার সম্মতি পেলে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বেশ কিছু বিষয় তুলবেন তারা। পাশাপাশি পুরনো বিষয়ও টানা হবে।

আ’লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক কাল

আটকে থাকা সাংগঠনিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে

 হাসিবুল হাসান 
০২ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক আগামীকাল সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত হবে। এতে দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করবেন। বৈঠকে করোনার কারণে দীর্ঘদিন আটকে থাকা দলের বেশ কয়েকটি সাংগঠনিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হবে। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। বৈঠকে সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন, জেলাগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি, বিভাগীয় উপকমিটি চূড়ান্ত করা, শূন্য হওয়া সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি, প্রেসিডিয়াম সদস্যদের সমন্বয়ে প্রস্তাবিত বিভাগভিত্তিক সাংগঠনিক টিম চূড়ান্তসহ সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি আগামী দিনের সাংগঠনিক কর্মপরিকল্পনা নিয়েও কথা হবে। এছাড়া করোনাভাইরাস পরিস্থিতিসহ সমসাময়িক সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয় আলোচনায় প্রাধান্য পাবে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান বৃহস্পতিবার বিকালে যুগান্তরকে বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, কোভিড-১৯ পরিস্থিতি এবং সেখানে আমরা কি দায়িত্ব পালন করেছি, সামনে কি করতে হবে তা নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া আমাদের সাংগঠনিক বিষয়গুলো তো থাকবেই। প্রায় সাত মাস পর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সর্বশেষ ৯ মার্চ বৈঠক হয়েছিল। এরপর করোনা মহামারী শুরু হলে সব সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। ছয় মাস পরে সেপ্টেম্বর মাসের শুরু থেকে আবার সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করে আওয়ামী লীগ।

জানা যায়, কোভিড-১৯ এর কারণে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিতসংখ্যক সদস্যের উপস্থিতিতে আগামীকালের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ৮১ সদস্য কার্যনির্বাহী কমিটির মধ্যে বর্তমানে আছেন ৭৫ জন। বিভিন্ন পর্যায়ের ৩৪ জন নেতাকে নিয়ে বৈঠক হবে। যারা উপস্থিত থাকবেন তাদের ইতোমধ্যে ফোন করে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে এই সংখ্যা বাড়তেও পারে।

সূত্র জানায়, সম্মেলন হওয়া ৩১টি জেলার মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ২৫টির খসড়া কমিটি কেন্দ্রে জমা পেড়েছে। আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে জমা পড়া প্রস্তাবিত কমিটিগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হতে পারে। এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণসহ সম্মেলন হওয়া আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ এবং শ্রমিক লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে আলোচনা হবে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে দু-একটি ছাড়া প্রায় সব বিভাগীয় উপকমিটির খসড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দফতরে জমা পড়েছে। ৩৫ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটিগুলো চূড়ান্ত করার বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে।

বৈঠকে শূন্য হওয়া আসনগুলোর উপনির্বাচন এবং পৌরসভাসহ আগামী দিনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েও আলোচনা হবে।

এছাড়া কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় দল ও সরকারের বিগত দিনের কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যতে কোন পরিস্থিতিতে কি করণীয় তা নিয়েও আলোচনা হবে। পাশাপাশি শুদ্ধি অভিযান, এমসি কলেজসহ ছাত্রলীগের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও আলোচনা হতে পারে। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীদের ব্যাপারে নীতিনির্ধারণী এবং নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখতে পারেন দলীয় সভাপতি।

বৈঠকে উপস্থিত হবেন এমন কয়েকজন নেতা জানান, সভাপতি শেখ হাসিনার সম্মতি পেলে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বেশ কিছু বিষয় তুলবেন তারা। পাশাপাশি পুরনো বিষয়ও টানা হবে।