সিআরপিতে ইউএনও ওয়াহিদা
jugantor
সিআরপিতে ইউএনও ওয়াহিদা
আশাবাদী চিকিৎসকরা

  যুগান্তর রিপোর্ট  

০২ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এক মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর রাজধানীর ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরো সায়েন্স হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা-ইউএনও ওয়াহিদা খানম।

তবে থেরাপির জন্য তাকে মিরপুরের সিআরপি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ও ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরো সায়েন্স হাসপাতালের নিউরো ট্রমা বিভাগের প্রধান নিউরো সার্জন মোহাম্মদ জাহেদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ৩ সেপ্টেম্বর মুমূর্ষু অবস্থায় ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে তাকে আনা হয়েছিল স্ট্রেচারে শুইয়ে।

এক মাসের চিকিৎসায় তিনি বৃহস্পতিবার দুপুরে সেই হাসপাতাল ছেড়েছেন হেঁটে। এর পরই তাকে মিরপুরের সিআরপির উদ্দেশে নেয়া হয়। সেখানে তাকে থেরাপি দেয়া হবে। তার হাঁটা-চলা করতে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে।

হাসপাতাল থেকে ইউএনও ওয়াহিদাকে বিদায় দেয়ার পর তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ও ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরো সায়েন্স হাসপাতালের নিউরো ট্রমা বিভাগের প্রধান নিউরো সার্জন ডা. মোহাম্মদ জাহেদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, যখন তিনি আহত হয়ে এখানে ভর্তি হন তখন তার অবস্থা ছিল অত্যন্ত সংকটাপন্ন। আমরা যখন তাকে দেখেছি, তখন অপারেশন করার মতো অবস্থায় তিনি ছিলেন না।

আমরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অপারেশন করার মতো একটা অবস্থায় নিয়ে আসি। তারপর তার অপারেশন করেছি। প্রথমে তার ব্রেন ঠিকমতো কাজ করছিল না।

প্রেসার ঠিক ছিল না। তবে দু-তিন দিনের মধ্যে তিনি একটু সুস্থ হলেও ডানপাশ কোনোভাবেই কাজ করছিল না। তার শরীরের ডান পাশ শক্তি শূন্য ছিল। এক সপ্তাহ পর থেকে তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হতে শুরু করেন।

শরীরের ডান পাশটা নাড়াতে শুরু করেন। এরপর বিগত প্রায় তিন সপ্তাহের চিকিৎসায় আল্লাহর রহমতে তিনি এখন ডান পাশ পুরোটাই নাড়াতে পারছেন এবং হাঁটতে পারছেন।

একটু আগে তিনি হেঁটে অ্যাম্বুলেন্সে উঠেছেন। এখানে তার অপারেশনটা ১০০ ভাগ সফল হয়েছে বলতে পারি।

ডা. জাহেদ বলেন, তার ডান হাত ডান পায়ের শক্তি ফিরে এসেছে। তবে শতভাগ নয়। সেজন্য তাকে মিরপুরের সিআরপিতে রেফার্ড করেছি। ওখানে তাকে ফিজিওথেরাপি দেয়া হবে।

আশা করি, ফিজিওথেরাপিতে ইনশাআল্লাহ তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন। তার শারীরিক রিকভারির যা অবস্থা, তাতে আশা করা যায় দু-এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন।

তার ডিজ্যাবিলিটি থাকবে না ইনশাআল্লাহ। আমরা তাকে এক মাস পর ফলোআপে আসতে বলেছি। এক মাসের মধ্যে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন এবং কর্মস্থলেও ফিরতে পারবেন বলে আমরা আশা করছি।

গত ২ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনওর সরকারি বাসভবনে ঢুকে হামলা করে দুর্বৃত্তরা। ভেতরে ঢুকে ভারি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং আঘাত করে ইউএনও ওয়াহিদাকে গুরুতর জখম করে তারা।

এ সময় মেয়েকে বাঁচাতে এলে বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখকেও (৭০) জখম করে দুর্বৃত্তরা। পরে তারা অচেতন হয়ে পড়লে মৃত ভেবে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

ভোরে স্থানীয়রা টের পেয়ে তাদের উদ্ধার করেন। ওয়াহিদাকে প্রথমে রংপুর এবং পরে রংপুর থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় আনা হয়। তারপর থেকে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ওয়াহিদা।

সিআরপিতে ইউএনও ওয়াহিদা

আশাবাদী চিকিৎসকরা
 যুগান্তর রিপোর্ট 
০২ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এক মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর রাজধানীর ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরো সায়েন্স হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা-ইউএনও ওয়াহিদা খানম।

তবে থেরাপির জন্য তাকে মিরপুরের সিআরপি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ও ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরো সায়েন্স হাসপাতালের নিউরো ট্রমা বিভাগের প্রধান নিউরো সার্জন মোহাম্মদ জাহেদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ৩ সেপ্টেম্বর মুমূর্ষু অবস্থায় ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে তাকে আনা হয়েছিল স্ট্রেচারে শুইয়ে।

এক মাসের চিকিৎসায় তিনি বৃহস্পতিবার দুপুরে সেই হাসপাতাল ছেড়েছেন হেঁটে। এর পরই তাকে মিরপুরের সিআরপির উদ্দেশে নেয়া হয়। সেখানে তাকে থেরাপি দেয়া হবে। তার হাঁটা-চলা করতে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে।

হাসপাতাল থেকে ইউএনও ওয়াহিদাকে বিদায় দেয়ার পর তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ও ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরো সায়েন্স হাসপাতালের নিউরো ট্রমা বিভাগের প্রধান নিউরো সার্জন ডা. মোহাম্মদ জাহেদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, যখন তিনি আহত হয়ে এখানে ভর্তি হন তখন তার অবস্থা ছিল অত্যন্ত সংকটাপন্ন। আমরা যখন তাকে দেখেছি, তখন অপারেশন করার মতো অবস্থায় তিনি ছিলেন না।

আমরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অপারেশন করার মতো একটা অবস্থায় নিয়ে আসি। তারপর তার অপারেশন করেছি। প্রথমে তার ব্রেন ঠিকমতো কাজ করছিল না।

প্রেসার ঠিক ছিল না। তবে দু-তিন দিনের মধ্যে তিনি একটু সুস্থ হলেও ডানপাশ কোনোভাবেই কাজ করছিল না। তার শরীরের ডান পাশ শক্তি শূন্য ছিল। এক সপ্তাহ পর থেকে তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হতে শুরু করেন।

শরীরের ডান পাশটা নাড়াতে শুরু করেন। এরপর বিগত প্রায় তিন সপ্তাহের চিকিৎসায় আল্লাহর রহমতে তিনি এখন ডান পাশ পুরোটাই নাড়াতে পারছেন এবং হাঁটতে পারছেন।

একটু আগে তিনি হেঁটে অ্যাম্বুলেন্সে উঠেছেন। এখানে তার অপারেশনটা ১০০ ভাগ সফল হয়েছে বলতে পারি।

ডা. জাহেদ বলেন, তার ডান হাত ডান পায়ের শক্তি ফিরে এসেছে। তবে শতভাগ নয়। সেজন্য তাকে মিরপুরের সিআরপিতে রেফার্ড করেছি। ওখানে তাকে ফিজিওথেরাপি দেয়া হবে।

আশা করি, ফিজিওথেরাপিতে ইনশাআল্লাহ তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন। তার শারীরিক রিকভারির যা অবস্থা, তাতে আশা করা যায় দু-এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন।

তার ডিজ্যাবিলিটি থাকবে না ইনশাআল্লাহ। আমরা তাকে এক মাস পর ফলোআপে আসতে বলেছি। এক মাসের মধ্যে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন এবং কর্মস্থলেও ফিরতে পারবেন বলে আমরা আশা করছি।

গত ২ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনওর সরকারি বাসভবনে ঢুকে হামলা করে দুর্বৃত্তরা। ভেতরে ঢুকে ভারি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং আঘাত করে ইউএনও ওয়াহিদাকে গুরুতর জখম করে তারা।

এ সময় মেয়েকে বাঁচাতে এলে বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখকেও (৭০) জখম করে দুর্বৃত্তরা। পরে তারা অচেতন হয়ে পড়লে মৃত ভেবে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

ভোরে স্থানীয়রা টের পেয়ে তাদের উদ্ধার করেন। ওয়াহিদাকে প্রথমে রংপুর এবং পরে রংপুর থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় আনা হয়। তারপর থেকে ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ওয়াহিদা।