সিনহা বেঁচে ছিলেন গুলি করার পরও
jugantor
সেনাবাহিনীর তদন্ত প্রতিবেদন
সিনহা বেঁচে ছিলেন গুলি করার পরও
পা দিয়ে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করেন ওসি প্রদীপ * হত্যায় সম্পৃক্ততা রয়েছে এসপি মাসুদেরও

  সংসদ রিপোর্টার  

০৮ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যার ‘সর্বশেষ তদন্ত প্রতিবেদন’ দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এতে বলা হয়েছে, গুলি করার ২০-২৫ মিনিট পরও তিনি বেঁচে ছিলেন। টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ অত্যন্ত নির্মমভাবে পা দিয়ে চেপে ধরে সিনহার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এ ছাড়া সিনহাকে বহনকারী পিকআপ হাসপাতালে দেরিতে পৌঁছানোর পেছনেও দুরভিসন্ধিমূলক অপচেষ্টা ছিল।

জাতীয় সংসদ ভবনে বুধবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। কমিটির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ সুবিদ আলী ভূঁইয়া এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী মেজর (অব.) সিনহা হত্যাকাণ্ডের একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। কমিটি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত শেষ করার তাগিদ দিয়েছে।’

বৈঠকে কমিটির সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান, মো. ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, মো. মোতাহার হোসেন, মো. নাসির উদ্দিন, মো. মহিবুর রহমান ও নাহিদ ইজাহার খান অংশ নেন। এ ছাড়াও প্রতিরক্ষা সচিব; সেনা, বিমান ও নৌবাহিনী; আবহাওয়া অধিদফতর ও জরিপ অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে ছিলেন।

বৈঠক শেষে মুহাম্মদ ফারুক খান বলেন, ‘কমিটিতে এ নিয়ে আলোচনা উঠলে আজ আমি বলেছি, এই বিচারকাজ সার্বক্ষণিক মনিটর করতে হবে। কেউ যাতে এ থেকে ফায়দা লুটতে না পারে। মন্ত্রণালয় আমাদের জানিয়েছে, এ ঘটনার বিচারে যা যা করা দরকার- সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় সবকিছু নজরে রেখেছে।’

আগস্টে এ কমিটির বৈঠকে সিনহা হত্যা নিয়ে কথা তোলেন ফারুক খান। কমিটির পরের বৈঠকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয় সেখানে। বুধবারের বৈঠকে প্রতিবেদন জমা দেয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন সিনহা হত্যায় জড়িত। তিনি ঘটনার শুরু থেকে তদন্তে বাধা দিয়ে আসছেন। ঘটনার পরপরই সিনহার পরিবার এসপি মাসুদকে বদলির দাবি জানায়। সেনা সদরও সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাকে বদলির মত পোষণ করে। পরে তাকে রাজশাহীতে বদলি করা হয়েছে।

টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে ৩১ জুলাই পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিনহা। এ ঘটনায় ৫ জুলাই তার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সাবেক পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে প্রধান আসামি করা হয়।

সিনহার মৃত্যুর পর ঘটনাটিকে বন্দুকযুদ্ধ বলে চালিয়ে দিতে চেয়েছিল পুলিশ। পুলিশের পক্ষে নন্দলাল রক্ষিতের মামলাও হয়েছিল সেভাবেই। অন্যদিকে সিনহার বোন শারমিন সরাসরি হত্যার অভিযোগ এনে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনকে সিনহা হত্যা মামলায় আসামি করতে আদালতে আবেদনও করেছিলেন তিনি। তবে বিচারক তা খারিজ করে দেন।

প্রতিবেদনে সেদিনের ঘটনার বিবরণও তুলে ধরা হয়। বলা হয়, ৩১ জুলাই রাতে শুটিং শেষে মেজর (অব.) সিনহা সঙ্গী সাহেজুল ইসলাম সিফাতকে নিয়ে মারিশবুনিয়া পাহাড় থেকে নেমে নিজস্ব প্রাইভেটকারে মেরিন ড্রাইভ হয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা করেন। পথে শামলাপুরের পূর্বে বিজিবি চেকপোস্টে তাদের তল্লাশি করার জন্য থামানো হয় এবং পরিচয় পাওয়ার পর ছেড়ে দেয়া হয়। পরে আনুমানিক ৯টা ২৫ মিনিটে শামলাপুর পুলিশ চেকপোস্ট অতিক্রমের সময় ইন্সপেক্টর লিয়াকত এপিবিএনের ফোর্সসহ সিনহার গাড়ি থামায়।

সিনহা গাড়ি থামিয়ে তাদেরকে পরিচয় দিলে এপিবিএন সদস্যরা প্রথমে তাদেরকে যাওয়ার জন্য সংকেত দিলেও ইন্সপেক্টর লিয়াকত তাদের পুনরায় থামায় এবং তাদের দিকে পিস্তল তাক করে গাড়ি থেকে নামতে বলে। সিফাত হাত উঁচু করে গাড়ি থেকে নেমে পেছনের দিকে যায়। মেজর (অব.) সিনহা গাড়ি থেকে হাত উঁচু করে নামার পরপরই ইন্সপেক্টর লিয়াকত খুব কাছ থেকে সিনহাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। এর আনুমানিক ২০-২৫ মিনিট পর টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অত্যন্ত নির্মম ও অমানবিকভাবে পা দিয়ে চেপে ধরে মাটিতে লুটিয়ে পড়া মেজর (অব.) সিনহার মৃত্যু নিশ্চিত করে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওসি প্রদীপ সেখানে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত প্রায় ২০-২৫ মিনিট সিনহার আহত দেহ ঘটনাস্থলে পড়ে ছিল এবং তিনি তখনও জীবিত ছিলেন। ... ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী ও টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশের ঘটনাস্থলে উপস্থিতি ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা এবং পূর্বপরিকল্পনার ইঙ্গিত বহন করে। পরে রাত ১০টার দিকে একটি পিকআপে মেজর (অব.) সিনহাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

প্রায় এক ঘণ্টা ৪৫ মিনিট পরে পিকআপটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পৌঁছলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, স্বাভাবিক সময়ে ওই দূরত্ব অতিক্রমে ১ ঘণ্টা সময় লাগলেও অতিরিক্ত সময়ক্ষেপণ করে সিনহাকে বহনকারী পিকআপ হাসপাতালে পৌঁছানোর পেছনেও দায়ী ব্যক্তিদের দুরভিসন্ধিমূলক অপচেষ্টা ছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেনা সদস্যদের পক্ষ থেকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের মাধ্যমে একটি যৌথ তদন্ত আদালত গঠনের জন্য চিঠি দেয়া হয়। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে (যুগ্ম সচিব) আহ্বায়ক করে চার সদস্যের যৌথ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ৭ সেপ্টেম্বর যৌথ তদন্ত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত আদালত গঠিত হয়। যার কার্যক্রম চলছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘স্থানীয় সূত্র ও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে সিনহা হত্যায় কক্সবাজারের এসপি এবিএম মাসুদ হোসেনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে উল্লেখযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়। তিনি ঘটনার তদন্তের শুরু থেকেই অসহযোগিতা ও বাধা দিয়ে আসছেন বলে জানা যায়।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, সিনহা হত্যা মামলায় এপিবিএনের তিন সদস্য এবং ইন্সপেক্টর লিয়াকত ও এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিন বেসামরিক ব্যক্তিও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ কোনো জবানবন্দি দেননি। পুলিশ আটকের পর মেজর সিনহার সঙ্গী শিপ্রা দেবনাথ ও সাহেদুল ইসলাম সিফাতের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করে। মামলাগুলোতে তারা জামিনে আছেন।

সেনাবাহিনীর তদন্ত প্রতিবেদন

সিনহা বেঁচে ছিলেন গুলি করার পরও

পা দিয়ে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করেন ওসি প্রদীপ * হত্যায় সম্পৃক্ততা রয়েছে এসপি মাসুদেরও
 সংসদ রিপোর্টার 
০৮ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যার ‘সর্বশেষ তদন্ত প্রতিবেদন’ দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এতে বলা হয়েছে, গুলি করার ২০-২৫ মিনিট পরও তিনি বেঁচে ছিলেন। টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ অত্যন্ত নির্মমভাবে পা দিয়ে চেপে ধরে সিনহার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এ ছাড়া সিনহাকে বহনকারী পিকআপ হাসপাতালে দেরিতে পৌঁছানোর পেছনেও দুরভিসন্ধিমূলক অপচেষ্টা ছিল।

জাতীয় সংসদ ভবনে বুধবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। কমিটির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ সুবিদ আলী ভূঁইয়া এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী মেজর (অব.) সিনহা হত্যাকাণ্ডের একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। কমিটি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত শেষ করার তাগিদ দিয়েছে।’

বৈঠকে কমিটির সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান, মো. ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, মো. মোতাহার হোসেন, মো. নাসির উদ্দিন, মো. মহিবুর রহমান ও নাহিদ ইজাহার খান অংশ নেন। এ ছাড়াও প্রতিরক্ষা সচিব; সেনা, বিমান ও নৌবাহিনী; আবহাওয়া অধিদফতর ও জরিপ অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে ছিলেন।

বৈঠক শেষে মুহাম্মদ ফারুক খান বলেন, ‘কমিটিতে এ নিয়ে আলোচনা উঠলে আজ আমি বলেছি, এই বিচারকাজ সার্বক্ষণিক মনিটর করতে হবে। কেউ যাতে এ থেকে ফায়দা লুটতে না পারে। মন্ত্রণালয় আমাদের জানিয়েছে, এ ঘটনার বিচারে যা যা করা দরকার- সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় সবকিছু নজরে রেখেছে।’

আগস্টে এ কমিটির বৈঠকে সিনহা হত্যা নিয়ে কথা তোলেন ফারুক খান। কমিটির পরের বৈঠকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয় সেখানে। বুধবারের বৈঠকে প্রতিবেদন জমা দেয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন সিনহা হত্যায় জড়িত। তিনি ঘটনার শুরু থেকে তদন্তে বাধা দিয়ে আসছেন। ঘটনার পরপরই সিনহার পরিবার এসপি মাসুদকে বদলির দাবি জানায়। সেনা সদরও সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাকে বদলির মত পোষণ করে। পরে তাকে রাজশাহীতে বদলি করা হয়েছে।

টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে ৩১ জুলাই পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিনহা। এ ঘটনায় ৫ জুলাই তার বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সাবেক পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে প্রধান আসামি করা হয়।

সিনহার মৃত্যুর পর ঘটনাটিকে বন্দুকযুদ্ধ বলে চালিয়ে দিতে চেয়েছিল পুলিশ। পুলিশের পক্ষে নন্দলাল রক্ষিতের মামলাও হয়েছিল সেভাবেই। অন্যদিকে সিনহার বোন শারমিন সরাসরি হত্যার অভিযোগ এনে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনকে সিনহা হত্যা মামলায় আসামি করতে আদালতে আবেদনও করেছিলেন তিনি। তবে বিচারক তা খারিজ করে দেন।

প্রতিবেদনে সেদিনের ঘটনার বিবরণও তুলে ধরা হয়। বলা হয়, ৩১ জুলাই রাতে শুটিং শেষে মেজর (অব.) সিনহা সঙ্গী সাহেজুল ইসলাম সিফাতকে নিয়ে মারিশবুনিয়া পাহাড় থেকে নেমে নিজস্ব প্রাইভেটকারে মেরিন ড্রাইভ হয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা করেন। পথে শামলাপুরের পূর্বে বিজিবি চেকপোস্টে তাদের তল্লাশি করার জন্য থামানো হয় এবং পরিচয় পাওয়ার পর ছেড়ে দেয়া হয়। পরে আনুমানিক ৯টা ২৫ মিনিটে শামলাপুর পুলিশ চেকপোস্ট অতিক্রমের সময় ইন্সপেক্টর লিয়াকত এপিবিএনের ফোর্সসহ সিনহার গাড়ি থামায়।

সিনহা গাড়ি থামিয়ে তাদেরকে পরিচয় দিলে এপিবিএন সদস্যরা প্রথমে তাদেরকে যাওয়ার জন্য সংকেত দিলেও ইন্সপেক্টর লিয়াকত তাদের পুনরায় থামায় এবং তাদের দিকে পিস্তল তাক করে গাড়ি থেকে নামতে বলে। সিফাত হাত উঁচু করে গাড়ি থেকে নেমে পেছনের দিকে যায়। মেজর (অব.) সিনহা গাড়ি থেকে হাত উঁচু করে নামার পরপরই ইন্সপেক্টর লিয়াকত খুব কাছ থেকে সিনহাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। এর আনুমানিক ২০-২৫ মিনিট পর টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অত্যন্ত নির্মম ও অমানবিকভাবে পা দিয়ে চেপে ধরে মাটিতে লুটিয়ে পড়া মেজর (অব.) সিনহার মৃত্যু নিশ্চিত করে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওসি প্রদীপ সেখানে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত প্রায় ২০-২৫ মিনিট সিনহার আহত দেহ ঘটনাস্থলে পড়ে ছিল এবং তিনি তখনও জীবিত ছিলেন। ... ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী ও টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশের ঘটনাস্থলে উপস্থিতি ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা এবং পূর্বপরিকল্পনার ইঙ্গিত বহন করে। পরে রাত ১০টার দিকে একটি পিকআপে মেজর (অব.) সিনহাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

প্রায় এক ঘণ্টা ৪৫ মিনিট পরে পিকআপটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পৌঁছলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, স্বাভাবিক সময়ে ওই দূরত্ব অতিক্রমে ১ ঘণ্টা সময় লাগলেও অতিরিক্ত সময়ক্ষেপণ করে সিনহাকে বহনকারী পিকআপ হাসপাতালে পৌঁছানোর পেছনেও দায়ী ব্যক্তিদের দুরভিসন্ধিমূলক অপচেষ্টা ছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেনা সদস্যদের পক্ষ থেকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের মাধ্যমে একটি যৌথ তদন্ত আদালত গঠনের জন্য চিঠি দেয়া হয়। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে (যুগ্ম সচিব) আহ্বায়ক করে চার সদস্যের যৌথ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ৭ সেপ্টেম্বর যৌথ তদন্ত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত আদালত গঠিত হয়। যার কার্যক্রম চলছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘স্থানীয় সূত্র ও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে সিনহা হত্যায় কক্সবাজারের এসপি এবিএম মাসুদ হোসেনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে উল্লেখযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়। তিনি ঘটনার তদন্তের শুরু থেকেই অসহযোগিতা ও বাধা দিয়ে আসছেন বলে জানা যায়।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, সিনহা হত্যা মামলায় এপিবিএনের তিন সদস্য এবং ইন্সপেক্টর লিয়াকত ও এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিন বেসামরিক ব্যক্তিও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে ওসি প্রদীপ কুমার দাশ কোনো জবানবন্দি দেননি। পুলিশ আটকের পর মেজর সিনহার সঙ্গী শিপ্রা দেবনাথ ও সাহেদুল ইসলাম সিফাতের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করে। মামলাগুলোতে তারা জামিনে আছেন।

 

ঘটনাপ্রবাহ : মেজর সিনহার মৃত্যু