অভাবের সংসারে মায়ের সন্তান বিক্রি
jugantor
নবজাতকের দাম ২০ হাজার টাকা
অভাবের সংসারে মায়ের সন্তান বিক্রি

  মো. মিজানুর রহমান দুলাল, লালমনিরহাট  

১০ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে সংসারের অভাব ঘোচাতে ২০ হাজার টাকায় নবজাতক সন্তানকে বিক্রি করে দিয়েছেন এক মা। শুক্রবার বিষয়টি জানাজানি হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই শিশুটিকে ফিরিয়া আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিশুটির মাকে ভাতাসহ থাকার ঘর তৈরি করে দেয়া হবে বলে যুগান্তরকে জানিয়েছেন আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহম্মদ মনসুর উদ্দিন।

জানা গেছে, আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের তালুক হরিদাস নয়াটারী গ্রামের হাসিনা বেগম (৩৫) তার বাবার বাড়িতে থাকেন। তার স্বামী জোকতার আলীর বাড়ি একই ইউনিয়নের টেপারহাট এলাকায়। প্রায় ১৮ বছর আগে বিয়ের পর হাসিনা জানতে পারেন তার স্বামীর আরও এক স্ত্রী আছেন। এরপর বাবার বাড়ি চলে এলেও সেখানে নিয়মিত যাতায়াত ছিল স্বামী জোকতার আলীর। সেখানেই একে একে ৩ সন্তানের জন্ম দেন হাসিনা বেগম। ফলে সংসার চালাতে তাকে প্রায়ই দিনমজুরি করতে হয়। তার ১২ বছর বয়সী ছেলে কাজ করে হোটেলে। মা-ছেলের আয়ে কোনোরকমে চলে চারজনের সংসার। এ অবস্থায় চতুর্থ সন্তানের মা হন তিনি। কিন্তু সংসারের অভাবের কথা চিন্তা করে ২০ হাজার টাকায় নবজাতক ছেলেসন্তানটিকে বিক্রি করে দেন হাসিনা বেগম।

পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছেলে হাসান ও রাসেলকে নিয়ে কৃষিশ্রমিকের কাজ করতেন হাসিনা বেগম। তবে করোনা ও বর্তমানে মাঠে কাজ না থাকায় তারা বেকার হয়ে পড়েন। তাই বড় ছেলে হাসানকে পাঠান হোটেলে। তাতেও সংসার না চলায় ১০ হাজার টাকা ধার করে সংসার চালিয়েছেন। এ অবস্থায় মঙ্গলবার চতুর্থ সন্তান জন্ম দেন হাসিনা বেগম। ফলে এই সন্তানকে লালন-পালন নিয়ে চিন্তায় পড়ে যান তিনি। এর সঙ্গে রয়েছে পাওনাদারের চাপ। এ সময় তার স্বামী ও এক প্রতিবেশী এসে নবজাতকটিকে ওইদিনই বিক্রি করে দেয়ার পরামর্শ দেন। এতে হাসিনার বড় ছেলে হাসান বাধা দিলেও কোনো কাজ হয়নি। জোর করেই শিশুটিকে প্রতিবেশী অধীর চন্দ্রের মাধ্যমে কুড়িগ্রামের রাজারহাট এলাকার এক নিঃসন্তান দম্পত্তির কাছে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়া হয়।

হাসান যুগান্তরকে বলেন, আমার ভাইকে মায়ের কাছেই রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বাবা আমাকে মারধর করে তাড়িয়ে দিয়ে তাকে বিক্রি করে দিয়েছেন।

হাসিনা বেগম বলেন, ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও প্রতিবেশী অধীরের আত্মীয়র কাছে শিশুটিকে দিয়েছি। এর বিনিময়ে তারা আমাকে যে ২০ হাজার টাকা দিয়েছে, সেখান থেকে ১০ হাজার টাকা পাওনাদারদের দিয়েছি। এদিকে স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, শিশুটি হাসিনা বেগমের গর্ভে আসার পর থেকেই প্রতিবেশী অধীর চন্দ্র অসহায় ওই পরিবারটির খোঁজখবর রাখছিলেন। পরে যখন শিশুটির জন্ম হয়, ঠিক তখনই অভাবের সুযোগ নিয়ে শিশুটিকে তার শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়র কাছে বিক্রি করতে সাহায্য করেন তিনি। আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহম্মদ মনসুর উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, ওই শিশুটি এক নিঃসন্তান দম্পতি নিয়ে গেছেন। তাদেরকে শিশু ফেরত দিতে বলা হয়েছে। না দিলে পুলিশ পাঠানো হবে। পাশাপাশি শিশুটির মাকে প্রতিবন্ধী ভাতা ও ঘর তৈরি করে দেয়া হবে।

নবজাতকের দাম ২০ হাজার টাকা

অভাবের সংসারে মায়ের সন্তান বিক্রি

 মো. মিজানুর রহমান দুলাল, লালমনিরহাট 
১০ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে সংসারের অভাব ঘোচাতে ২০ হাজার টাকায় নবজাতক সন্তানকে বিক্রি করে দিয়েছেন এক মা। শুক্রবার বিষয়টি জানাজানি হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই শিশুটিকে ফিরিয়া আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিশুটির মাকে ভাতাসহ থাকার ঘর তৈরি করে দেয়া হবে বলে যুগান্তরকে জানিয়েছেন আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহম্মদ মনসুর উদ্দিন।

জানা গেছে, আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের তালুক হরিদাস নয়াটারী গ্রামের হাসিনা বেগম (৩৫) তার বাবার বাড়িতে থাকেন। তার স্বামী জোকতার আলীর বাড়ি একই ইউনিয়নের টেপারহাট এলাকায়। প্রায় ১৮ বছর আগে বিয়ের পর হাসিনা জানতে পারেন তার স্বামীর আরও এক স্ত্রী আছেন। এরপর বাবার বাড়ি চলে এলেও সেখানে নিয়মিত যাতায়াত ছিল স্বামী জোকতার আলীর। সেখানেই একে একে ৩ সন্তানের জন্ম দেন হাসিনা বেগম। ফলে সংসার চালাতে তাকে প্রায়ই দিনমজুরি করতে হয়। তার ১২ বছর বয়সী ছেলে কাজ করে হোটেলে। মা-ছেলের আয়ে কোনোরকমে চলে চারজনের সংসার। এ অবস্থায় চতুর্থ সন্তানের মা হন তিনি। কিন্তু সংসারের অভাবের কথা চিন্তা করে ২০ হাজার টাকায় নবজাতক ছেলেসন্তানটিকে বিক্রি করে দেন হাসিনা বেগম।

পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছেলে হাসান ও রাসেলকে নিয়ে কৃষিশ্রমিকের কাজ করতেন হাসিনা বেগম। তবে করোনা ও বর্তমানে মাঠে কাজ না থাকায় তারা বেকার হয়ে পড়েন। তাই বড় ছেলে হাসানকে পাঠান হোটেলে। তাতেও সংসার না চলায় ১০ হাজার টাকা ধার করে সংসার চালিয়েছেন। এ অবস্থায় মঙ্গলবার চতুর্থ সন্তান জন্ম দেন হাসিনা বেগম। ফলে এই সন্তানকে লালন-পালন নিয়ে চিন্তায় পড়ে যান তিনি। এর সঙ্গে রয়েছে পাওনাদারের চাপ। এ সময় তার স্বামী ও এক প্রতিবেশী এসে নবজাতকটিকে ওইদিনই বিক্রি করে দেয়ার পরামর্শ দেন। এতে হাসিনার বড় ছেলে হাসান বাধা দিলেও কোনো কাজ হয়নি। জোর করেই শিশুটিকে প্রতিবেশী অধীর চন্দ্রের মাধ্যমে কুড়িগ্রামের রাজারহাট এলাকার এক নিঃসন্তান দম্পত্তির কাছে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়া হয়।

হাসান যুগান্তরকে বলেন, আমার ভাইকে মায়ের কাছেই রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বাবা আমাকে মারধর করে তাড়িয়ে দিয়ে তাকে বিক্রি করে দিয়েছেন।

হাসিনা বেগম বলেন, ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও প্রতিবেশী অধীরের আত্মীয়র কাছে শিশুটিকে দিয়েছি। এর বিনিময়ে তারা আমাকে যে ২০ হাজার টাকা দিয়েছে, সেখান থেকে ১০ হাজার টাকা পাওনাদারদের দিয়েছি। এদিকে স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, শিশুটি হাসিনা বেগমের গর্ভে আসার পর থেকেই প্রতিবেশী অধীর চন্দ্র অসহায় ওই পরিবারটির খোঁজখবর রাখছিলেন। পরে যখন শিশুটির জন্ম হয়, ঠিক তখনই অভাবের সুযোগ নিয়ে শিশুটিকে তার শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়র কাছে বিক্রি করতে সাহায্য করেন তিনি। আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহম্মদ মনসুর উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, ওই শিশুটি এক নিঃসন্তান দম্পতি নিয়ে গেছেন। তাদেরকে শিশু ফেরত দিতে বলা হয়েছে। না দিলে পুলিশ পাঠানো হবে। পাশাপাশি শিশুটির মাকে প্রতিবন্ধী ভাতা ও ঘর তৈরি করে দেয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন