ফেরি চালাতে এবার চর কেটে চ্যানেল তৈরি
jugantor
পাঁচ দফায় ১৯ দিন বন্ধ
ফেরি চালাতে এবার চর কেটে চ্যানেল তৈরি
তিনদিন পর শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি রুটে ফেরি চালুর আশা * ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চ ও স্পিডবোটে যাত্রী পারাপার

  কাজী জেবেল, শিমুলিয়া (মাওয়া) থেকে ফিরে  

১৯ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রোববার বেলা ১১টা ২০ মিনিট। পদ্মা সেতুর ২২ থেকে ২৪ নম্বর পিলার থেকে আনুমানিক ২০০ মিটার ভাটির দিকে নৌপথে হঠাৎ করে যাত্রীবাহী একটি লঞ্চের সঙ্গে ধাক্কা খেল আরেকটি লঞ্চ। আতঙ্কে চিৎকার করে উঠলেন দুই লঞ্চের অনেক যাত্রী। বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলেও পদ্মা নদী পার হয়ে শিমুলিয়া (মাওয়া) পৌঁছতে বেগ পোহাতে হয়েছে লঞ্চ দুটির চালক ও কর্মচারীদের।

রোববার বেলা ১১টা ২০ মিনিট। পদ্মা সেতুর ২২ থেকে ২৪ নম্বর পিলার থেকে আনুমানিক ২০০ মিটার ভাটির দিকে নৌপথে হঠাৎ করে যাত্রীবাহী একটি লঞ্চের সঙ্গে ধাক্কা খেল আরেকটি লঞ্চ। আতঙ্কে চিৎকার করে উঠলেন দুই লঞ্চের অনেক যাত্রী। বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলেও পদ্মা নদী পার হয়ে শিমুলিয়া (মাওয়া) পৌঁছতে বেগ পোহাতে হয়েছে লঞ্চ দুটির চালক ও কর্মচারীদের।

এ রুটে চলাচলকারী লঞ্চের চালকেরা জানান, সম্প্রতি শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি রুটে এটি অনেকটা পরিচিত দৃশ্য। পদ্মা সেতুর পিলারের কাছে চ্যানেলে তীব্র স্রোত, ডুবোচর ও পানির ঘূর্ণনের কারণে লঞ্চ ঠিকভাবে চালাতে পারছেন না। কাঁঠালবাড়ি থেকে শিমুলিয়া আসা লঞ্চগুলো এই অংশে আসার পর তীব্র স্রোতে উল্টো পথে ঘুরে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একটি লঞ্চের সঙ্গে আরেক লঞ্চের ধাক্কা লাগছে। নৌদুর্ঘটনার শঙ্কাও বাড়ছে। ফেরি বন্ধ থাকায় যাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চ ও স্পিডবোটে পার হচ্ছেন।

এমন পরিস্থিতিতে বন্ধ থাকা ফেরি চালু এবং লঞ্চ ও স্পিডবোট নিরাপদ পারাপারে এবার বিশাল চর কেটে নতুন চ্যানেল তৈরি করছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। পদ্মা সেতুর ২২ থেকে ২৪ নম্বর পিলার সংলগ্ন এলাকায় সংস্থাটির বড় আকৃতির (২৬ ইঞ্জি ডায়াগ্রামের কাটার যুক্ত) দুটি ড্রেজার দিয়ে এ চরটি কাটতে দেখা গেছে। তিন দিনের মধ্যে এ চ্যানেলে সীমিত পরিসরে ফেরি চলতে পারবে বলে আশা করছে সংস্থাটি।

পাশাপাশি বিকল্প পথ হিসেবে পদ্মা সেতুর উজানে হাজরা এলাকায় আরেকটি বিশাল আকৃতির চর কাটার কাজ চলছে। কয়েকটি ড্রেজার ও এক্সকেভটর দিয়ে মাটির স্তূপ সরানো হচ্ছে। এ রুটে ফেরি চলাচল শুরু করতে অন্তত ২০ দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটটির বিভিন্ন স্থানে মোট ১৫টি ড্রেজার দিয়ে নাব্য সংকট দূর করার চেষ্টা করছে সংস্থাটি।

বিআইডব্লিউটিএ ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) জানিয়েছে, ২৪ জুন থেকে এ পর্যন্ত লৌহজং, চায়না, পালেরচরসহ ৬টি চ্যানেল চালু করার কিছু দিন পর সেগুলো বন্ধ হয়ে যায়। চলতি বছর দীর্ঘমেয়াদি বন্যার প্রকোপে পদ্মা সেতুর উজানে ১৬ কিলোমিটার এলাকায় প্রায় ১ হাজার ১০০ হেক্টর এবং ফেরি রুটের ৯০ হেক্টরের একটি চর পুরোপুরি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

বন্যার তোড়ে ডুবোচর ভাটির দিকে নেমে আসা ও অতিমাত্রায় পলি জমার কারণে চ্যানেলগুলো টেকসই হচ্ছে না।

এ বিষয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ট্রাস্টি ‘সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস)’ সিনিয়র স্পেশালিস্ট এটিএম কামাল বলেন, ১২ কিলোমিটার প্রশস্ততার যমুনা নদী ও ৪ কিলোমিটার প্রশস্ততার পদ্মা নদীর পানি একসঙ্গে মাওয়া এলাকায় ৩ কিলোমিটার প্রশস্ততায় প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারণে নদী ভাঙন বেশি হচ্ছে। ভাঙনের পলি চ্যানেলে পড়ায় সেটি ভরাট হয়ে যাচ্ছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, নদীর গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী আগামী বছর এ চ্যানেলটি আরও খারাপ পরিস্থিতির দিকে যেতে পারে।

বিআইডব্লিউটিসি সূত্র জানিয়েছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে রোববার পর্যন্ত পাঁচ দফায় ১৯ দিন ফেরি চলাচল বন্ধ শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি রুটে। সর্বশেষ ১৬ অক্টোবর থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাধ্য হয়ে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ বিকল্প পথ পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া দিয়ে যাতায়াত করছেন। এতে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় এবং ১২০ কিলোমিটার পথ বেশি ঘুরতে হচ্ছে। যারা শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি রুটে চলতে বাধ্য হচ্ছেন তারা লঞ্চ বা স্পিডবোটে ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন।

স্থানীয় লঞ্চ মালিকেরা জানান, দুপুরের পর ভাটার সময়ে ডুবোচরে লঞ্চ আটকে যায়। যাত্রীরা হৈ-চৈ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে। এ রুটে চলাচলকারী এমভি নাফিখান লঞ্চের চালক মো. শহীদ মিয়া বলেন, সেতুর পিলারের কাছে পানির তীব্র ঘূর্ণন রয়েছে। কাঁঠালবাড়ি থেকে শিমুলিয়া আসার পথে সেতুর কাছে স্রোতের তোড়ে লঞ্চ ঠিক রাখা যায় না। স্রোতের কারণে এক লঞ্চের সঙ্গে আরেক লঞ্চ ধাক্কা খায়। এ কারণে যাত্রীদের আগেই সতর্ক করে দেই। এছাড়া এ রুটের বিভিন্ন স্থানে ডুবোচর রয়েছে। দুপুর ২টার দিকে ভাটা আসে।

এ সময়ে পানিস্বল্পতায় অনেক লঞ্চ আটকে যায়। তখন ট্রলার দিয়ে যাত্রী পার করতে হয়। বিআইডব্লিউটিএ’র শিমুলিয়া ঘাটের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. সোলাইমান বলেন, ওই ঘাট দিয়ে ৮৭টি লঞ্চ চলাচল করে। ব্রিজের কাছে তীব্র স্রোতের কারণে লঞ্চ সোজা চলতে পারে না, একদিকে ঘুরে যায়। কখনও কখনও স্রোতের তোড়ে চর, ড্রেজার বা অন্য লঞ্চে ধাক্কা লাগে। যাত্রীরা চিল্লাচিল্লি করে। তখন খালি লঞ্চ পাঠিয়ে সেটিকে টেনে আনা হয়।

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটের সংকট দেখতে রোববার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান খাজা মিয়া, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক, সদস্য (প্রকৌশল) ড. একেএম মতিউর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) মো. আবদুল মতিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাদের সামনেই পদ্মা সেতুর ২২ থেকে ২৪ নম্বর পিলার থেকে আনুমানিক ২০০ মিটার দূরে লঞ্চ পারাপারে বিঘ্ন ঘটে। এক পর্যায়ে লঞ্চে যাত্রী কমিয়ে শিমুলিয়া বা কাঁঠালবাড়ি থেকে ছাড়তে বন্দর কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান।

এ রুটের সংকট প্রসঙ্গে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান খাজা মিয়া যুগান্তরকে বলেন, প্রকৃতি বিরূপ আচরণ করছে। অক্টোবর মাসেও বৃষ্টি হচ্ছে। নদীতে স্রোত আছে। অথচ এ সময়ে পানি স্থির থাকার কথা। তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর পিলার স্থাপনের কারণে কিছুটা স্পর্শকাতর অবস্থায় আছি। পিলারের কাছে পানির ঘূর্ণন রয়েছে। এতে লঞ্চ চলাচলে সমস্যা হচ্ছে, ড্রেজিং কাজও বিঘ্নিত হচ্ছে। তিনি জানান, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি ফেরি চলাচল বিঘ্ন ঘটায় বিকল্প হিসেবে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে ফেরি বাড়ানো হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক বলেন, একটির পর একটি রুট চালুর কয়েকদিন পর সেটি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে নতুন চ্যানেল তৈরি করতে হচ্ছে। পদ্মা সেতুতে গাড়ি চলাচল শুরুর আগ পর্যন্ত এ অবস্থা চলতে থাকবে। তিনি বলেন, বর্তমানে পদ্মা সেতু সংলগ্ন চর এলাকা কেটে নতুন চ্যানেল তৈরি করার কাজ চলছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে এ চ্যানেলে ফেরি চলতে পারবে। এর বাইরে হাজরায় একটি চ্যানেল তৈরির কাজ চলছে।

পাঁচ দফায় ১৯ দিন বন্ধ

ফেরি চালাতে এবার চর কেটে চ্যানেল তৈরি

তিনদিন পর শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি রুটে ফেরি চালুর আশা * ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চ ও স্পিডবোটে যাত্রী পারাপার
 কাজী জেবেল, শিমুলিয়া (মাওয়া) থেকে ফিরে 
১৯ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
রোববার বেলা ১১টা ২০ মিনিট। পদ্মা সেতুর ২২ থেকে ২৪ নম্বর পিলার থেকে আনুমানিক ২০০ মিটার ভাটির দিকে নৌপথে হঠাৎ করে যাত্রীবাহী একটি লঞ্চের সঙ্গে ধাক্কা খেল আরেকটি লঞ্চ। আতঙ্কে চিৎকার করে উঠলেন দুই লঞ্চের অনেক যাত্রী। বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলেও পদ্মা নদী পার হয়ে শিমুলিয়া (মাওয়া) পৌঁছতে বেগ পোহাতে হয়েছে লঞ্চ দুটির চালক ও কর্মচারীদের।
ফাইল ছবি

রোববার বেলা ১১টা ২০ মিনিট। পদ্মা সেতুর ২২ থেকে ২৪ নম্বর পিলার থেকে আনুমানিক ২০০ মিটার ভাটির দিকে নৌপথে হঠাৎ করে যাত্রীবাহী একটি লঞ্চের সঙ্গে ধাক্কা খেল আরেকটি লঞ্চ। আতঙ্কে চিৎকার করে উঠলেন দুই লঞ্চের অনেক যাত্রী। বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলেও পদ্মা নদী পার হয়ে শিমুলিয়া (মাওয়া) পৌঁছতে বেগ পোহাতে হয়েছে লঞ্চ দুটির চালক ও কর্মচারীদের।

এ রুটে চলাচলকারী লঞ্চের চালকেরা জানান, সম্প্রতি শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি রুটে এটি অনেকটা পরিচিত দৃশ্য। পদ্মা সেতুর পিলারের কাছে চ্যানেলে তীব্র স্রোত, ডুবোচর ও পানির ঘূর্ণনের কারণে লঞ্চ ঠিকভাবে চালাতে পারছেন না। কাঁঠালবাড়ি থেকে শিমুলিয়া আসা লঞ্চগুলো এই অংশে আসার পর তীব্র স্রোতে উল্টো পথে ঘুরে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একটি লঞ্চের সঙ্গে আরেক লঞ্চের ধাক্কা লাগছে। নৌদুর্ঘটনার শঙ্কাও বাড়ছে। ফেরি বন্ধ থাকায় যাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চ ও স্পিডবোটে পার হচ্ছেন।

এমন পরিস্থিতিতে বন্ধ থাকা ফেরি চালু এবং লঞ্চ ও স্পিডবোট নিরাপদ পারাপারে এবার বিশাল চর কেটে নতুন চ্যানেল তৈরি করছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। পদ্মা সেতুর ২২ থেকে ২৪ নম্বর পিলার সংলগ্ন এলাকায় সংস্থাটির বড় আকৃতির (২৬ ইঞ্জি ডায়াগ্রামের কাটার যুক্ত) দুটি ড্রেজার দিয়ে এ চরটি কাটতে দেখা গেছে। তিন দিনের মধ্যে এ চ্যানেলে সীমিত পরিসরে ফেরি চলতে পারবে বলে আশা করছে সংস্থাটি।

পাশাপাশি বিকল্প পথ হিসেবে পদ্মা সেতুর উজানে হাজরা এলাকায় আরেকটি বিশাল আকৃতির চর কাটার কাজ চলছে। কয়েকটি ড্রেজার ও এক্সকেভটর দিয়ে মাটির স্তূপ সরানো হচ্ছে। এ রুটে ফেরি চলাচল শুরু করতে অন্তত ২০ দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটটির বিভিন্ন স্থানে মোট ১৫টি ড্রেজার দিয়ে নাব্য সংকট দূর করার চেষ্টা করছে সংস্থাটি।

বিআইডব্লিউটিএ ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) জানিয়েছে, ২৪ জুন থেকে এ পর্যন্ত লৌহজং, চায়না, পালেরচরসহ ৬টি চ্যানেল চালু করার কিছু দিন পর সেগুলো বন্ধ হয়ে যায়। চলতি বছর দীর্ঘমেয়াদি বন্যার প্রকোপে পদ্মা সেতুর উজানে ১৬ কিলোমিটার এলাকায় প্রায় ১ হাজার ১০০ হেক্টর এবং ফেরি রুটের ৯০ হেক্টরের একটি চর পুরোপুরি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

বন্যার তোড়ে ডুবোচর ভাটির দিকে নেমে আসা ও অতিমাত্রায় পলি জমার কারণে চ্যানেলগুলো টেকসই হচ্ছে না।

এ বিষয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ট্রাস্টি ‘সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস)’ সিনিয়র স্পেশালিস্ট এটিএম কামাল বলেন, ১২ কিলোমিটার প্রশস্ততার যমুনা নদী ও ৪ কিলোমিটার প্রশস্ততার পদ্মা নদীর পানি একসঙ্গে মাওয়া এলাকায় ৩ কিলোমিটার প্রশস্ততায় প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারণে নদী ভাঙন বেশি হচ্ছে। ভাঙনের পলি চ্যানেলে পড়ায় সেটি ভরাট হয়ে যাচ্ছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, নদীর গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী আগামী বছর এ চ্যানেলটি আরও খারাপ পরিস্থিতির দিকে যেতে পারে।

বিআইডব্লিউটিসি সূত্র জানিয়েছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে রোববার পর্যন্ত পাঁচ দফায় ১৯ দিন ফেরি চলাচল বন্ধ শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি রুটে। সর্বশেষ ১৬ অক্টোবর থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাধ্য হয়ে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ বিকল্প পথ পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া দিয়ে যাতায়াত করছেন। এতে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় এবং ১২০ কিলোমিটার পথ বেশি ঘুরতে হচ্ছে। যারা শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি রুটে চলতে বাধ্য হচ্ছেন তারা লঞ্চ বা স্পিডবোটে ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন।

স্থানীয় লঞ্চ মালিকেরা জানান, দুপুরের পর ভাটার সময়ে ডুবোচরে লঞ্চ আটকে যায়। যাত্রীরা হৈ-চৈ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে। এ রুটে চলাচলকারী এমভি নাফিখান লঞ্চের চালক মো. শহীদ মিয়া বলেন, সেতুর পিলারের কাছে পানির তীব্র ঘূর্ণন রয়েছে। কাঁঠালবাড়ি থেকে শিমুলিয়া আসার পথে সেতুর কাছে স্রোতের তোড়ে লঞ্চ ঠিক রাখা যায় না। স্রোতের কারণে এক লঞ্চের সঙ্গে আরেক লঞ্চ ধাক্কা খায়। এ কারণে যাত্রীদের আগেই সতর্ক করে দেই। এছাড়া এ রুটের বিভিন্ন স্থানে ডুবোচর রয়েছে। দুপুর ২টার দিকে ভাটা আসে।

এ সময়ে পানিস্বল্পতায় অনেক লঞ্চ আটকে যায়। তখন ট্রলার দিয়ে যাত্রী পার করতে হয়। বিআইডব্লিউটিএ’র শিমুলিয়া ঘাটের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. সোলাইমান বলেন, ওই ঘাট দিয়ে ৮৭টি লঞ্চ চলাচল করে। ব্রিজের কাছে তীব্র স্রোতের কারণে লঞ্চ সোজা চলতে পারে না, একদিকে ঘুরে যায়। কখনও কখনও স্রোতের তোড়ে চর, ড্রেজার বা অন্য লঞ্চে ধাক্কা লাগে। যাত্রীরা চিল্লাচিল্লি করে। তখন খালি লঞ্চ পাঠিয়ে সেটিকে টেনে আনা হয়।

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটের সংকট দেখতে রোববার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান খাজা মিয়া, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক, সদস্য (প্রকৌশল) ড. একেএম মতিউর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) মো. আবদুল মতিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাদের সামনেই পদ্মা সেতুর ২২ থেকে ২৪ নম্বর পিলার থেকে আনুমানিক ২০০ মিটার দূরে লঞ্চ পারাপারে বিঘ্ন ঘটে। এক পর্যায়ে লঞ্চে যাত্রী কমিয়ে শিমুলিয়া বা কাঁঠালবাড়ি থেকে ছাড়তে বন্দর কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান।

এ রুটের সংকট প্রসঙ্গে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান খাজা মিয়া যুগান্তরকে বলেন, প্রকৃতি বিরূপ আচরণ করছে। অক্টোবর মাসেও বৃষ্টি হচ্ছে। নদীতে স্রোত আছে। অথচ এ সময়ে পানি স্থির থাকার কথা। তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর পিলার স্থাপনের কারণে কিছুটা স্পর্শকাতর অবস্থায় আছি। পিলারের কাছে পানির ঘূর্ণন রয়েছে। এতে লঞ্চ চলাচলে সমস্যা হচ্ছে, ড্রেজিং কাজও বিঘ্নিত হচ্ছে। তিনি জানান, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি ফেরি চলাচল বিঘ্ন ঘটায় বিকল্প হিসেবে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে ফেরি বাড়ানো হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক বলেন, একটির পর একটি রুট চালুর কয়েকদিন পর সেটি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে নতুন চ্যানেল তৈরি করতে হচ্ছে। পদ্মা সেতুতে গাড়ি চলাচল শুরুর আগ পর্যন্ত এ অবস্থা চলতে থাকবে। তিনি বলেন, বর্তমানে পদ্মা সেতু সংলগ্ন চর এলাকা কেটে নতুন চ্যানেল তৈরি করার কাজ চলছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে এ চ্যানেলে ফেরি চলতে পারবে। এর বাইরে হাজরায় একটি চ্যানেল তৈরির কাজ চলছে।