সরকার নির্বাচনকে ‘তামাশায়’ পরিণত করেছে
jugantor
সরকার নির্বাচনকে ‘তামাশায়’ পরিণত করেছে
মির্জা ফখরুল

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২০ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন এখন একটি তামাশায় পরিণত হয়েছে। বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকারের সঙ্গে জনগণের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা এখন জনবিচ্ছিন্ন। তাদের অধীনে কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। আমরা সরকারকে স্পষ্ট করে বলছি, আর টালবাহানা করবেন না। পদত্যাগ করুন। অতীতের সব নির্বাচনকে বাতিল করে দিয়ে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় নির্বাচন অনুষ্ঠান করুন। এটাই একমাত্র সমাধান।

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে ঢাকা-৫ ও নওগাঁ-৬ আসনের উপনির্বাচন বাতিল ও পুনর্নির্বাচনের দাবিতে এ সমাবেশ হয়। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, সারা দেশের মহানগর ও জেলায়ও একযোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। আজ মঙ্গলবার হবে উপজেলা-থানায়। নির্বাচন কমিশনের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দুর্ভাগ্য আমাদের দেশে যে নির্বাচন কমিশন আছে, এটা একটা ঠুঁটো জগন্নাথ। ঢাকায় তারা ১০% ভোট বলছে। আমরা মনে করি, ৫% ও ভোট পড়ে নাই। অবলীলায় বলে যায়, ভোট সুষ্ঠু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে দুর্নীতি হচ্ছে। দুর্নীতি কোথায় নাই, সারা দেশে দুর্নীতি।

‘নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিএনপি নির্বাচনে যাচ্ছে’- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, কথাটা উনি মিথ্যা বলেননি। এ নির্বাচন তো প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেছে ২০১৪ সাল থেকে যখন আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন। এ দেশের জনগণ যাতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারে, তাদের পছন্দমতো মানুষকে ভোট দিতে পারে সেজন্য আপনারা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে সব ব্যবস্থা তৈরি করেছেন। তিনি বলেন, কিছু কিছু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এমন ক্ষমতা দিয়েছেন তারা যাকে তাকে গুলি করে হত্যা করে। কিছুদিন আগে কক্সবাজারে মেজর (অব.) সিনহাকে গাড়ির মধ্যে জিজ্ঞাসার সঙ্গে সঙ্গে গুলি করে মেরে ফেলে। সেখানকার ওসির দায়িত্বে ছিল প্রদীপ। ওই হত্যা ছাড়া ২১৪টি হত্যাকাণ্ড হয়েছে পুলিশের দ্বারা। কোথায় যাবে মানুষ? যাদের দায়িত্ব হচ্ছে মানুষকে রক্ষা করা, যাদের দায়িত্ব হচ্ছে সাধারণ মানুষের জানের নিরাপত্তা দেয়া, তাদেরকে এরা ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে না হলে হত্যা করে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে রক্ষায় নেতাকর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবশ্যই ‘মাস্ক’ মুখে দেয়ার অনুরোধ জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, যেহেতু এখনও ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয় নাই। একমাত্র এ মাস্ক রক্ষা করতে পারবে। মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, মহানগর উত্তরের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিম নকি, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, মৎস্যজীবী দলের রফিকুল ইসলাম মাহতাব, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন প্রমুখ।

সরকার নির্বাচনকে ‘তামাশায়’ পরিণত করেছে

মির্জা ফখরুল
 যুগান্তর রিপোর্ট 
২০ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচন এখন একটি তামাশায় পরিণত হয়েছে। বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকারের সঙ্গে জনগণের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা এখন জনবিচ্ছিন্ন। তাদের অধীনে কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। আমরা সরকারকে স্পষ্ট করে বলছি, আর টালবাহানা করবেন না। পদত্যাগ করুন। অতীতের সব নির্বাচনকে বাতিল করে দিয়ে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় নির্বাচন অনুষ্ঠান করুন। এটাই একমাত্র সমাধান।

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে ঢাকা-৫ ও নওগাঁ-৬ আসনের উপনির্বাচন বাতিল ও পুনর্নির্বাচনের দাবিতে এ সমাবেশ হয়। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, সারা দেশের মহানগর ও জেলায়ও একযোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। আজ মঙ্গলবার হবে উপজেলা-থানায়। নির্বাচন কমিশনের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দুর্ভাগ্য আমাদের দেশে যে নির্বাচন কমিশন আছে, এটা একটা ঠুঁটো জগন্নাথ। ঢাকায় তারা ১০% ভোট বলছে। আমরা মনে করি, ৫% ও ভোট পড়ে নাই। অবলীলায় বলে যায়, ভোট সুষ্ঠু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে দুর্নীতি হচ্ছে। দুর্নীতি কোথায় নাই, সারা দেশে দুর্নীতি।

‘নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিএনপি নির্বাচনে যাচ্ছে’- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, কথাটা উনি মিথ্যা বলেননি। এ নির্বাচন তো প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেছে ২০১৪ সাল থেকে যখন আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন। এ দেশের জনগণ যাতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারে, তাদের পছন্দমতো মানুষকে ভোট দিতে পারে সেজন্য আপনারা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে সব ব্যবস্থা তৈরি করেছেন। তিনি বলেন, কিছু কিছু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এমন ক্ষমতা দিয়েছেন তারা যাকে তাকে গুলি করে হত্যা করে। কিছুদিন আগে কক্সবাজারে মেজর (অব.) সিনহাকে গাড়ির মধ্যে জিজ্ঞাসার সঙ্গে সঙ্গে গুলি করে মেরে ফেলে। সেখানকার ওসির দায়িত্বে ছিল প্রদীপ। ওই হত্যা ছাড়া ২১৪টি হত্যাকাণ্ড হয়েছে পুলিশের দ্বারা। কোথায় যাবে মানুষ? যাদের দায়িত্ব হচ্ছে মানুষকে রক্ষা করা, যাদের দায়িত্ব হচ্ছে সাধারণ মানুষের জানের নিরাপত্তা দেয়া, তাদেরকে এরা ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে না হলে হত্যা করে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে রক্ষায় নেতাকর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবশ্যই ‘মাস্ক’ মুখে দেয়ার অনুরোধ জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, যেহেতু এখনও ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয় নাই। একমাত্র এ মাস্ক রক্ষা করতে পারবে। মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, মহানগর উত্তরের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিম নকি, স্বেচ্ছাসেবক দলের আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, মৎস্যজীবী দলের রফিকুল ইসলাম মাহতাব, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন প্রমুখ।