নোয়াখালীতে এবার গৃহবধূর নগ্ন ছবি পাঠিয়ে কুপ্রস্তাব
jugantor
নোয়াখালীতে এবার গৃহবধূর নগ্ন ছবি পাঠিয়ে কুপ্রস্তাব

  নোয়াখালী ও সোনাইমুড়ি প্রতিনিধি  

২০ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় এখনও সারা দেশে তোলপাড় চলছে। এরইমধ্যে এবার সোনাইমুড়িতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নগ্ন ছবি পাঠিয়ে কুপ্রস্তাব দেয়ার অভিযোগ তুলে মামলা করেছেন এক গৃহবধূ। এর ভিত্তিতে নজরুল ইসলাম এরশাদ (৩৭) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এরশাদ ঘোষকামতা গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে।

এজাহারে ওই গৃহবধূ লিখেছেন, ২০১৫ সালের জুলাই মাসে বজরা ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। এর দুই মাস পর আমার স্বামী বিদেশে চলে যান। ২০১৮ সাল থেকে আমি ঘোষকামতা গ্রামে বাবার বাড়িতে থাকছি। বাবার বাড়িতে আসার পর থেকেই এরশাদ বিভিন্ন সময়ে আমাকে কুপ্রস্তাব দিত। কিন্তু আমি এসব প্রস্তাবে রাজি হইনি।

গৃহবধূ আরও লিখেছেন, কিছুদিন পর সে হোয়াটসআপ, ইমো ও মেসেঞ্জারেও একই প্রস্তাব দিতে শুরু করে। এর মধ্যে একদিন হোয়াটসআপ, ইমো ও মেসেঞ্জারে আমার কিছু নগ্ন ছবি পাঠায়। বলে, ‘আমার প্রস্তাবে রাজি না হলে এসব ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেব।’ আমি এসব ছবি আমার স্বামীকে পাঠিয়েছিলাম। সে কোথায় পেল জানতে চাইলে এরশাদ জানায়, ‘আমি তোমার মোবাইল (হোয়াটসআপ, ইমো বা মেসেঞ্জার) হ্যাক করে বের করে নিয়েছি। এখন আমার কথা না শুনলে আমি তোমার সংসার ভাঙব।’

এজাহারে গৃহবধূ আরও লেখেন, বাধ্য হয়ে আমি অভিভাবকদের বিষয়টি খুলে বলি এবং আমার সংসার রক্ষার স্বার্থে বাবা-চাচাসহ কয়েকজন মুরব্বিকে নিয়ে র‌্যাব-১১ কে জানাই। পরে ডিএডি মো. জাফর উল্যার নেতৃত্বে র‌্যাবের একটি দল রোববার বজরা এলাকা থেকে এরশাদকে আটক করে। তার মোবাইল ফোন চেক করে র‌্যাব আমার ১৯টি বিবস্ত্র ছবি দেখতে পায়। তারপর তাকে সোনাইমুড়ি থানায় সোপর্দ করে। পরে সোনাইমুড়ি থানায় মামলা করেন জানিয়ে ওই গৃহবধূ যুগান্তরকে বলেন, এরশাদ চরিত্রহীন ও নির্লজ্জ লোক। বিয়ের আগেও বিভিন্ন সময়ে সে আমাকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিল। ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিলে আমি তাকে মিনতি করি তা না করার জন্য। তখন সে আমাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয়।

গৃহবধূর বাবা যুগান্তরকে বলেন, আমি জাঁকজমকপূর্ণভাবে মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলাম। মেয়েটি সংসারে সুখেই ছিল। কিন্তু সুখের সংসারে আগুন লাগাতে চেষ্টা করে এরশাদ। আমি তার হাতে-পায়ে ধরে অনেক মিনতি করেছি, কিন্তু কোনো কথা না শুনে সে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। গৃহবধূর চাচা জানান, এরশাদের ঘরে সুন্দরী স্ত্রী থাকার পরও সে এমন করেছে। জানি না এ কথাগুলো জাতিজির স্বামীর কাছে গেলে সংসার টিকবে কি না।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের এক নারী সদস্য জানান, ঘটনার শোনার পর আমি নিজে এরশাদের বাড়ি গিয়ে তার স্ত্রীর সামনে তাকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু তার একই কথা, ভিকটিম তাকে বিয়ে না করলে তাকেও সংসার করতে দেবে না।

সোনাইমুড়ি থানার ওসি গিয়াস উদ্দিন বলেন, নজরুল ইসলাম এরশাদকে র‌্যাব আটক করে আমাদের কাছে দিয়েছে। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের ৮(১)৮(২) ২০১৮ ধারায় মামলা করেছেন ওই গৃহবধূ। সাব-ইন্সপেক্টর বিমল দাস মামলাটি তদন্ত করছেন। বিমল দাস বলেন, এরইমধ্যে বাদী ও আসামির বাড়ি ঘুরে এসেছি। এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথাও বলেছি। এরশাদের স্ত্রী বর্তমানে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তিনি আরও জানান, সোমবার নোয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামিকে তোলা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, সোমবার রাত ৮টায় বেগমগঞ্জের একলাসপুরের নারী নির্যাতন ও বিবস্ত্র করে মোবাইলে ছবি ভাইরাল ঘটনার মূল নায়ক দেলোয়ার হোসেন দেলোয়ারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কারাগার থেকে বেগমগঞ্জ থানায় আনা হয়েছে। বেগমগঞ্জ থানার ওসি কামরুজ্জামান শিকদার জানান, ধর্ষণ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হাবিবুর রহমানের আবেদনে রোববার নোয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত দেলোয়ারকে ৫ দিনের এবং এসআই মির হোসেনের আবেদনে অস্ত্র ও বিস্ফোরক মামলায় ১ দিন করে ২ দিনের মোট ৭ দিন রিমান্ড মঞ্জুুর করেছিলেন।

নোয়াখালীতে এবার গৃহবধূর নগ্ন ছবি পাঠিয়ে কুপ্রস্তাব

 নোয়াখালী ও সোনাইমুড়ি প্রতিনিধি 
২০ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় এখনও সারা দেশে তোলপাড় চলছে। এরইমধ্যে এবার সোনাইমুড়িতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নগ্ন ছবি পাঠিয়ে কুপ্রস্তাব দেয়ার অভিযোগ তুলে মামলা করেছেন এক গৃহবধূ। এর ভিত্তিতে নজরুল ইসলাম এরশাদ (৩৭) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এরশাদ ঘোষকামতা গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে।

এজাহারে ওই গৃহবধূ লিখেছেন, ২০১৫ সালের জুলাই মাসে বজরা ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। এর দুই মাস পর আমার স্বামী বিদেশে চলে যান। ২০১৮ সাল থেকে আমি ঘোষকামতা গ্রামে বাবার বাড়িতে থাকছি। বাবার বাড়িতে আসার পর থেকেই এরশাদ বিভিন্ন সময়ে আমাকে কুপ্রস্তাব দিত। কিন্তু আমি এসব প্রস্তাবে রাজি হইনি।

গৃহবধূ আরও লিখেছেন, কিছুদিন পর সে হোয়াটসআপ, ইমো ও মেসেঞ্জারেও একই প্রস্তাব দিতে শুরু করে। এর মধ্যে একদিন হোয়াটসআপ, ইমো ও মেসেঞ্জারে আমার কিছু নগ্ন ছবি পাঠায়। বলে, ‘আমার প্রস্তাবে রাজি না হলে এসব ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেব।’ আমি এসব ছবি আমার স্বামীকে পাঠিয়েছিলাম। সে কোথায় পেল জানতে চাইলে এরশাদ জানায়, ‘আমি তোমার মোবাইল (হোয়াটসআপ, ইমো বা মেসেঞ্জার) হ্যাক করে বের করে নিয়েছি। এখন আমার কথা না শুনলে আমি তোমার সংসার ভাঙব।’

এজাহারে গৃহবধূ আরও লেখেন, বাধ্য হয়ে আমি অভিভাবকদের বিষয়টি খুলে বলি এবং আমার সংসার রক্ষার স্বার্থে বাবা-চাচাসহ কয়েকজন মুরব্বিকে নিয়ে র‌্যাব-১১ কে জানাই। পরে ডিএডি মো. জাফর উল্যার নেতৃত্বে র‌্যাবের একটি দল রোববার বজরা এলাকা থেকে এরশাদকে আটক করে। তার মোবাইল ফোন চেক করে র‌্যাব আমার ১৯টি বিবস্ত্র ছবি দেখতে পায়। তারপর তাকে সোনাইমুড়ি থানায় সোপর্দ করে। পরে সোনাইমুড়ি থানায় মামলা করেন জানিয়ে ওই গৃহবধূ যুগান্তরকে বলেন, এরশাদ চরিত্রহীন ও নির্লজ্জ লোক। বিয়ের আগেও বিভিন্ন সময়ে সে আমাকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিল। ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিলে আমি তাকে মিনতি করি তা না করার জন্য। তখন সে আমাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয়।

গৃহবধূর বাবা যুগান্তরকে বলেন, আমি জাঁকজমকপূর্ণভাবে মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলাম। মেয়েটি সংসারে সুখেই ছিল। কিন্তু সুখের সংসারে আগুন লাগাতে চেষ্টা করে এরশাদ। আমি তার হাতে-পায়ে ধরে অনেক মিনতি করেছি, কিন্তু কোনো কথা না শুনে সে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। গৃহবধূর চাচা জানান, এরশাদের ঘরে সুন্দরী স্ত্রী থাকার পরও সে এমন করেছে। জানি না এ কথাগুলো জাতিজির স্বামীর কাছে গেলে সংসার টিকবে কি না।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের এক নারী সদস্য জানান, ঘটনার শোনার পর আমি নিজে এরশাদের বাড়ি গিয়ে তার স্ত্রীর সামনে তাকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু তার একই কথা, ভিকটিম তাকে বিয়ে না করলে তাকেও সংসার করতে দেবে না।

সোনাইমুড়ি থানার ওসি গিয়াস উদ্দিন বলেন, নজরুল ইসলাম এরশাদকে র‌্যাব আটক করে আমাদের কাছে দিয়েছে। পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের ৮(১)৮(২) ২০১৮ ধারায় মামলা করেছেন ওই গৃহবধূ। সাব-ইন্সপেক্টর বিমল দাস মামলাটি তদন্ত করছেন। বিমল দাস বলেন, এরইমধ্যে বাদী ও আসামির বাড়ি ঘুরে এসেছি। এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথাও বলেছি। এরশাদের স্ত্রী বর্তমানে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তিনি আরও জানান, সোমবার নোয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামিকে তোলা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, সোমবার রাত ৮টায় বেগমগঞ্জের একলাসপুরের নারী নির্যাতন ও বিবস্ত্র করে মোবাইলে ছবি ভাইরাল ঘটনার মূল নায়ক দেলোয়ার হোসেন দেলোয়ারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কারাগার থেকে বেগমগঞ্জ থানায় আনা হয়েছে। বেগমগঞ্জ থানার ওসি কামরুজ্জামান শিকদার জানান, ধর্ষণ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হাবিবুর রহমানের আবেদনে রোববার নোয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত দেলোয়ারকে ৫ দিনের এবং এসআই মির হোসেনের আবেদনে অস্ত্র ও বিস্ফোরক মামলায় ১ দিন করে ২ দিনের মোট ৭ দিন রিমান্ড মঞ্জুুর করেছিলেন।