বকাঝকার বদলা নিতে একাই খুন করে রায়হানুল
jugantor
কলারোয়ায় ৪ জনকে গলা কেটে হত্যা
বকাঝকার বদলা নিতে একাই খুন করে রায়হানুল
প্রেস ব্রিফিংয়ে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি

  সাতক্ষীরা ও কলারোয়া প্রতিনিধি  

২২ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ভাই-ভাবি ও তাদের দুই শিশু সন্তানকে গলা কেটে হত্যার কথা স্বীকার করেছে নিহত শাহিনুরের ছোট ভাই রায়হানুল। রিমান্ডে রায়হানুলের বরাত দিয়ে সিআইডি কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক হোসেন এই নৃশংসতার কথা জানান।

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ওমর ফারুক জানান, পারিবারিক কলহ ও মাদক সংক্রান্ত বিধিনিষেধের জের ধরে দীর্ঘদিন ধরে ছোট ভাই রায়হানুল তার বড় ভাই-ভাবিকে হত্যার পরিকল্পনা করে আসছিল। শেষ পর্যন্ত গত ১৫ অক্টোবর রাতে রায়হানুল পরিবারের সবাইকে কোমল পানীয়ের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে প্রথমে বড় ভাই শাহিনুর রহমান, পরে তার ভাবি সাবিনা ও ২ ভাইপো ও ভাতিজাকে ঠাণ্ডা মাথায় গলা কেটে হত্যা করে।

হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে খুনের সকল আলামত ও তার পোশাক পরিবর্তন করে পাড়া-প্রতিবেশীদের একত্রিত করে নাটকীয়ভাবে হত্যার ঘটনা ভিন্নদিকে ঘুরিয়ে দিতে জমিজমা ও ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধ সামনে আনার চেষ্টা করেন। তবে কিছু আলামত সংগ্রহের পরে নিহতের ছোট ভাই রায়হানুল ইসলামের হাতের ফিঙ্গার প্রিন্ট মিলে যাওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে পুলিশ হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত ১৬ অক্টোবর তাকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। রোববার শুনানি শেষে আদালত রায়হানুরকে ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠায়। রিমান্ডে রায়হানুল হত্যার কারণসহ সবই খুলে বলেন।

রায়হানুল সিআইডিকে বলেছেন, ‘আমি বেকার, ভাই ও ভাবি প্রায়ই আমার সঙ্গে বকাবকি করত। এ কারণেই তাদের সবাইকে খুন করেছি। তাদেরকে এনার্জি ড্রিঙ্কসের সাথে ঘুমের ওষুধ খাইয়েছিলাম।’ পরে তাদেরকে চাপাতি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করি। অতিরিক্ত ডিআইজি ওমর ফারুক বলেন, রায়হানুলকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়ার জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। এজন্য তাকে হাজির করা গেল না। ১৪ অক্টোবর রাত ৮টার দিকেই তিনি তার দুই শিশু ভাতিজা, ভাতিজি এবং ভাবিকে ওষুধ মেশানো এই ড্রিংক খাওয়ায়। পরে রাত দেড়টার দিকে তার ভাই শাহিনুর মাছের ঘের থেকে বাড়ি এলে তাকেও কৌশলে ঘুমের ওষুধ মেশানো এনার্জি ড্রিঙ্কস খাওয়ানো হয়।

রায়হানুলের বরাত দিয়ে তিনি জানান ‘সে নিজে ঘরের ছাদের কার্নিশ বেয়ে উপরে উঠে খোলা দরজা দিয়ে ঢুকে প্রথমে তার ভাই শাহিনুরকে ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করে হাতের রগ কেটে পায়ে রশি বেঁধে দেয়। এরপরই সে পাশের কক্ষে ভাবি সাবিনাকে জবাই করে হত্যা করে। তার চিৎকারে শিশুরা জেগে গেলে সে তাদেরকেও এইভাবে জবাই করে। সে সিআইডিকে জানিয়েছে ‘তার ওপর শয়তান ভর করেছিল। তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও শিশু দুটিকে হত্যা করে।’

খালি গায়ে হত্যার পর সে রক্তমাখা তোয়ালে ও চাপাতি মাছের ঘেরে ফেলে দেয়। পরে ঘের থেকে তার দেখানো মতে তা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। সিআইডি অফিসার জানান রায়হানুল একজন বেকার মানুষ, ৯-১০ মাস আগে তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গেছে। সেই থেকে সে ভাইয়ের সংসারে খাওয়াদাওয়া করত। নিজে কোনো কাজ করে না খরচও দেয় না। এসব কারণে প্রায়ই ভাই ভাবির সাথে তার ঝগড়া হতো। তারা তাকে গালাগাল দিত। ‘ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ভাবির সঙ্গে তার একই বিষয়ে বাদানুবাদ হয়। ভাবি তাকে বকাবকি করেন।’

রায়হানুল আরও জানিয়েছে, ‘রাত দেড়টার দিকে সে ঘরে বসে টিভি দেখছিল। এ সময় তার ভাই শাহিনুর ঘের থেকে এসে তাকে বকাবকি করে বলেন এত টিভি দেখিস, বিদ্যুতের বিল দেবে কে।’ রায়হানুল তাকে জানায়, ‘তুমি মাথা ঠাণ্ডা করো, এবারের বিদ্যুৎ বিল আমি দিয়ে দেব। এই বলে সে তাকেও ঘুমের ওষুধ মেশানো এনার্জি ড্রিঙ্কস খাওয়ায়। পরে শাহিনুরও ঘুমিয়ে পড়েন। এ সময় সে এক এক করে তাদের খুন করে।

সিআইডি কর্মকর্তা ১০ মিনিটেরও বেশি সময়ের এই প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, হত্যার সময় রায়নুলের সাথে আর কেউ ছিল না। প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমানসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কলারোয়ায় ৪ জনকে গলা কেটে হত্যা

বকাঝকার বদলা নিতে একাই খুন করে রায়হানুল

প্রেস ব্রিফিংয়ে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি
 সাতক্ষীরা ও কলারোয়া প্রতিনিধি 
২২ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ভাই-ভাবি ও তাদের দুই শিশু সন্তানকে গলা কেটে হত্যার কথা স্বীকার করেছে নিহত শাহিনুরের ছোট ভাই রায়হানুল। রিমান্ডে রায়হানুলের বরাত দিয়ে সিআইডি কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক হোসেন এই নৃশংসতার কথা জানান।

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ওমর ফারুক জানান, পারিবারিক কলহ ও মাদক সংক্রান্ত বিধিনিষেধের জের ধরে দীর্ঘদিন ধরে ছোট ভাই রায়হানুল তার বড় ভাই-ভাবিকে হত্যার পরিকল্পনা করে আসছিল। শেষ পর্যন্ত গত ১৫ অক্টোবর রাতে রায়হানুল পরিবারের সবাইকে কোমল পানীয়ের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে প্রথমে বড় ভাই শাহিনুর রহমান, পরে তার ভাবি সাবিনা ও ২ ভাইপো ও ভাতিজাকে ঠাণ্ডা মাথায় গলা কেটে হত্যা করে।

হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে খুনের সকল আলামত ও তার পোশাক পরিবর্তন করে পাড়া-প্রতিবেশীদের একত্রিত করে নাটকীয়ভাবে হত্যার ঘটনা ভিন্নদিকে ঘুরিয়ে দিতে জমিজমা ও ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধ সামনে আনার চেষ্টা করেন। তবে কিছু আলামত সংগ্রহের পরে নিহতের ছোট ভাই রায়হানুল ইসলামের হাতের ফিঙ্গার প্রিন্ট মিলে যাওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে পুলিশ হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত ১৬ অক্টোবর তাকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। রোববার শুনানি শেষে আদালত রায়হানুরকে ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠায়। রিমান্ডে রায়হানুল হত্যার কারণসহ সবই খুলে বলেন।

রায়হানুল সিআইডিকে বলেছেন, ‘আমি বেকার, ভাই ও ভাবি প্রায়ই আমার সঙ্গে বকাবকি করত। এ কারণেই তাদের সবাইকে খুন করেছি। তাদেরকে এনার্জি ড্রিঙ্কসের সাথে ঘুমের ওষুধ খাইয়েছিলাম।’ পরে তাদেরকে চাপাতি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করি। অতিরিক্ত ডিআইজি ওমর ফারুক বলেন, রায়হানুলকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়ার জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। এজন্য তাকে হাজির করা গেল না। ১৪ অক্টোবর রাত ৮টার দিকেই তিনি তার দুই শিশু ভাতিজা, ভাতিজি এবং ভাবিকে ওষুধ মেশানো এই ড্রিংক খাওয়ায়। পরে রাত দেড়টার দিকে তার ভাই শাহিনুর মাছের ঘের থেকে বাড়ি এলে তাকেও কৌশলে ঘুমের ওষুধ মেশানো এনার্জি ড্রিঙ্কস খাওয়ানো হয়।

রায়হানুলের বরাত দিয়ে তিনি জানান ‘সে নিজে ঘরের ছাদের কার্নিশ বেয়ে উপরে উঠে খোলা দরজা দিয়ে ঢুকে প্রথমে তার ভাই শাহিনুরকে ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করে হাতের রগ কেটে পায়ে রশি বেঁধে দেয়। এরপরই সে পাশের কক্ষে ভাবি সাবিনাকে জবাই করে হত্যা করে। তার চিৎকারে শিশুরা জেগে গেলে সে তাদেরকেও এইভাবে জবাই করে। সে সিআইডিকে জানিয়েছে ‘তার ওপর শয়তান ভর করেছিল। তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও শিশু দুটিকে হত্যা করে।’

খালি গায়ে হত্যার পর সে রক্তমাখা তোয়ালে ও চাপাতি মাছের ঘেরে ফেলে দেয়। পরে ঘের থেকে তার দেখানো মতে তা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। সিআইডি অফিসার জানান রায়হানুল একজন বেকার মানুষ, ৯-১০ মাস আগে তার স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গেছে। সেই থেকে সে ভাইয়ের সংসারে খাওয়াদাওয়া করত। নিজে কোনো কাজ করে না খরচও দেয় না। এসব কারণে প্রায়ই ভাই ভাবির সাথে তার ঝগড়া হতো। তারা তাকে গালাগাল দিত। ‘ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ভাবির সঙ্গে তার একই বিষয়ে বাদানুবাদ হয়। ভাবি তাকে বকাবকি করেন।’

রায়হানুল আরও জানিয়েছে, ‘রাত দেড়টার দিকে সে ঘরে বসে টিভি দেখছিল। এ সময় তার ভাই শাহিনুর ঘের থেকে এসে তাকে বকাবকি করে বলেন এত টিভি দেখিস, বিদ্যুতের বিল দেবে কে।’ রায়হানুল তাকে জানায়, ‘তুমি মাথা ঠাণ্ডা করো, এবারের বিদ্যুৎ বিল আমি দিয়ে দেব। এই বলে সে তাকেও ঘুমের ওষুধ মেশানো এনার্জি ড্রিঙ্কস খাওয়ায়। পরে শাহিনুরও ঘুমিয়ে পড়েন। এ সময় সে এক এক করে তাদের খুন করে।

সিআইডি কর্মকর্তা ১০ মিনিটেরও বেশি সময়ের এই প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, হত্যার সময় রায়নুলের সাথে আর কেউ ছিল না। প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমানসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন