টিকা ক্রয়ে দ্রুত ঋণ মঞ্জুরের আহ্বান
jugantor
বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ’র বার্ষিক ভার্চুয়াল বৈঠকে অর্থমন্ত্রী
টিকা ক্রয়ে দ্রুত ঋণ মঞ্জুরের আহ্বান

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২৫ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার টিকা ক্রয়ে জনসংখ্যার ভিত্তিতে ন্যায্যতার সঙ্গে দ্রুত ঋণ মঞ্জুরে বিশ্বব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ এর বার্ষিক সভায় অর্থমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ এর বার্ষিক ভার্চুয়াল সভায় অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল ও বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মি. হার্টউইগ শ্যেফার নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করেন। শনিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সভায় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে অর্থমন্ত্রী, অর্থসচিব ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব অংশ নেন। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের পক্ষে মি. হার্টউইগ শ্যেফার ও মিজ মার্সি মিয়াং টেম্বন উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতে অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি করোনার টিকা ক্রয়ে ঋণ সহায়তার ক্ষেত্রে আইডিএভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে জনসংখ্যার দিক দিয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশের জন্য ন্যায্যতার সঙ্গে দ্রুত ঋণ মঞ্জুরে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে মি. হার্টউইগ শ্যেফার সহযোগিতা কামনা করেন।

অর্থমন্ত্রী করোনা মহামারী মোকাবেলায় বিশ্বব্যাংকের গৃহীত দ্রুত ও সময়োপযোগী বিভিন্ন উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন। তিনি করোনা মোকাবেলায় দ্রুততার সঙ্গে বাংলাদেশকে ১০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা দেয়ার কথা উল্লেখ করেন। বিশ্বব্যাংকও এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী করোনার টিকা আবিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে দেশের সব মানুষের জন্য টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিতের লক্ষ্যে বর্তমান ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের জন্য বিশ্বব্যাংকের আইডিএ ১৯ এর আওতায় বরাদ্দকৃত অর্থের অতিরিক্ত হিসাবে করোনা টিকা আমদানি/ক্রয়, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিতরণে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তার জন্য বাংলাদেশের পক্ষে অনুরোধ জানানো হয়। করোনায় দেশের বিভিন্নমুখী ক্ষয়-ক্ষতি পূরণের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত প্রকল্পের মোট বরাদ্দ ৫০০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে বর্তমান ২০২০-২১ অর্থবছরে জরুরি ভিত্তিতে অন্তত ২৫০ মিলিয়ন ডলার ছাড়করণে বিশ্বব্যাংকের প্রতি জোর অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ।

চলমান করোনা মহামারীর কারণে দেশের ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমবাজার, আর্থিক ও সামাজিক খাত সচল রাখার লক্ষ্যে বর্তমান ২০২০-২১ অর্থবছরে বিশ্বব্যাংকের (ডিপিসি) প্রকল্পের আওতায় তৃতীয় কিস্তির ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বাজেট সাপোর্ট হিসাবে দ্রুত ছাড়করণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিশ্বব্যাংককে অনুরোধ করা হয়েছে। জবস ডিপিসির জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলীর অধিকাংশই ইতিমধ্যে পূরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট শর্তও দ্রুতই পূরণ সম্ভব হবে মর্মে অর্থবিভাগ সভাকে অবহিত করেন।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন আলোচনাকালে বলেন, আইডিএ-১৮ এর আওতায় বাংলাদেশ কোর আইডিএ থেকে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং এসইউএফ থেকে আরও দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে, যা আইডিএভুক্ত দেশের মধ্যে একক সর্বোচ্চ। তিনি প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সক্ষমতা প্রদর্শন করায়, আইডিএ-১৯ এর আওতায় বাংলাদেশকে বিগত বছরের তুলনায় অধিক পরিমাণে বরাদ্দ প্রদানের অনুরোধ করেন।

বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ’র বার্ষিক ভার্চুয়াল বৈঠকে অর্থমন্ত্রী

টিকা ক্রয়ে দ্রুত ঋণ মঞ্জুরের আহ্বান

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৫ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনার টিকা ক্রয়ে জনসংখ্যার ভিত্তিতে ন্যায্যতার সঙ্গে দ্রুত ঋণ মঞ্জুরে বিশ্বব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ এর বার্ষিক সভায় অর্থমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ এর বার্ষিক ভার্চুয়াল সভায় অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল ও বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মি. হার্টউইগ শ্যেফার নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করেন। শনিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সভায় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে অর্থমন্ত্রী, অর্থসচিব ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব অংশ নেন। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংকের পক্ষে মি. হার্টউইগ শ্যেফার ও মিজ মার্সি মিয়াং টেম্বন উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতে অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি করোনার টিকা ক্রয়ে ঋণ সহায়তার ক্ষেত্রে আইডিএভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে জনসংখ্যার দিক দিয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশের জন্য ন্যায্যতার সঙ্গে দ্রুত ঋণ মঞ্জুরে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে মি. হার্টউইগ শ্যেফার সহযোগিতা কামনা করেন।

অর্থমন্ত্রী করোনা মহামারী মোকাবেলায় বিশ্বব্যাংকের গৃহীত দ্রুত ও সময়োপযোগী বিভিন্ন উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন। তিনি করোনা মোকাবেলায় দ্রুততার সঙ্গে বাংলাদেশকে ১০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা দেয়ার কথা উল্লেখ করেন। বিশ্বব্যাংকও এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী করোনার টিকা আবিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে দেশের সব মানুষের জন্য টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিতের লক্ষ্যে বর্তমান ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের জন্য বিশ্বব্যাংকের আইডিএ ১৯ এর আওতায় বরাদ্দকৃত অর্থের অতিরিক্ত হিসাবে করোনা টিকা আমদানি/ক্রয়, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিতরণে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তার জন্য বাংলাদেশের পক্ষে অনুরোধ জানানো হয়। করোনায় দেশের বিভিন্নমুখী ক্ষয়-ক্ষতি পূরণের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত প্রকল্পের মোট বরাদ্দ ৫০০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে বর্তমান ২০২০-২১ অর্থবছরে জরুরি ভিত্তিতে অন্তত ২৫০ মিলিয়ন ডলার ছাড়করণে বিশ্বব্যাংকের প্রতি জোর অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ।

চলমান করোনা মহামারীর কারণে দেশের ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমবাজার, আর্থিক ও সামাজিক খাত সচল রাখার লক্ষ্যে বর্তমান ২০২০-২১ অর্থবছরে বিশ্বব্যাংকের (ডিপিসি) প্রকল্পের আওতায় তৃতীয় কিস্তির ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বাজেট সাপোর্ট হিসাবে দ্রুত ছাড়করণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিশ্বব্যাংককে অনুরোধ করা হয়েছে। জবস ডিপিসির জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলীর অধিকাংশই ইতিমধ্যে পূরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট শর্তও দ্রুতই পূরণ সম্ভব হবে মর্মে অর্থবিভাগ সভাকে অবহিত করেন।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন আলোচনাকালে বলেন, আইডিএ-১৮ এর আওতায় বাংলাদেশ কোর আইডিএ থেকে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং এসইউএফ থেকে আরও দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে, যা আইডিএভুক্ত দেশের মধ্যে একক সর্বোচ্চ। তিনি প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সক্ষমতা প্রদর্শন করায়, আইডিএ-১৯ এর আওতায় বাংলাদেশকে বিগত বছরের তুলনায় অধিক পরিমাণে বরাদ্দ প্রদানের অনুরোধ করেন।