নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেন রাবি ভিসি সোবহান
jugantor
ইউজিসির এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন
নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেন রাবি ভিসি সোবহান

  রাজশাহী ব্যুরো  

২৬ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তদন্তে উঠে আসা অনিয়ম দুর্নীতির কথা অস্বীকার করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. প্রফেসর আবদুস সোবহান। তিনি বলেছেন, আমার বিরুদ্ধে তদন্তে ওঠা অভিযোগগুলো পুরোপুরি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি অভিযোগগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি।

রোববার দুপুর ১২টায় রাবির শহীদ তাজউদ্দীন সিনেট হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন। এ সময় নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে ইউজিসির এখতিয়ার ও বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ভিসি সোবহান বলেন, রাবির আগের ভিসি প্রফেসর মিজানের আমলে বড় বড় আর্থিক দুর্নীতি, অনিয়ম ও কেলেঙ্কারি হয়েছে। এগুলো সবাই জানে। রাবির ঢাকার অতিথি ভবন ক্রয়ে ১৩ কোটি টাকা, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের হেকেপ প্রকল্পের সাড়ে তিন কোটি টাকা এবং শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক নির্মাণে ৮০ লাখ টাকা পুরোপুরি তছরুপ হয়েছে। কিন্তু এসব নিয়ে কেউ তদন্ত করছেন না। তদন্তের দাবিও তুলছেন না। এসবের তদন্ত হওয়া জরুরি। তিনি আরও বলেন, ‘সাবেক ভিসি ড. মিজান উদ্দীন দায়িত্ব গ্রহণের পর নীতিমালা বদল করে নিজের মেয়েকে ইংরেজি বিভাগে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন। মেয়েকে নিয়োগ দেয়ার জন্য তিনি বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএকে ভিত্তি করে শুধু ইংরেজি বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের যোগ্যতা পুনর্নির্ধারণ করেন। পরে যোগ্যতাতেই ইংরেজি বিভাগের অর্গানোগ্রামে প্রভাষক পদ না থাকলেও ২টি প্রভাষক পদে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সেখানে তার মেয়ে রিদিতাকে নিয়োগ দেন। প্রভাষক পদ না থাকা সত্ত্বেও প্রভাষক পদে বিজ্ঞপ্তি প্রদানের মাধ্যমে নিয়োগ বৈধ ও আইনসিদ্ধ হয়নি।’

উল্লেখ্য, ইউজিসির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিসি সোবহানের মেয়ে সানাজানা সোবহানকে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে নিয়োগ দেয়া হয়। বিভাগে তার মেয়ের ফলাফলের অবস্থান ছিল ২১তম। অন্যদিকে তার জামাতা এটিএম শাহেদ পারভেজকে ব্যবসায় প্রশাসন ইন্সটিটিউটে (আইবিএ) নিয়োগ দেয়া হয়। পারভেজ তার বিভাগের ফলাফলে ৬৭তম অবস্থানে থেকেও নিয়োগ পান। এতে যোগ্য প্রার্থী বঞ্চিত হয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগ বোর্ড প্রার্থীদের ক্লাস নেয়ার পারদর্শিতা যাছাই করেছে- এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে ভিসি ড. সোবহানের বক্তব্য হল, ‘বাংলাদেশ শিক্ষাব্যবস্থায় গ্রেডিং পদ্ধতি প্রবর্তন হওয়ার পর সনাতন পদ্ধতির সাথে গ্রেডিং পদ্ধতিতে প্রাপ্ত জিপিএ সমন্বয়পূর্বক নতুন নিয়োগ নীতিমালা করা হয়েছে। ২০১৭ সালের নীতিমালা অনুযায়ী প্রায় ২৪টি বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় বিধি মেনে মেয়ে ও জামাই নিয়োগ পেয়েছেন।’

এ বিষয়ে ভিসি বলেন, রাজশাহী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ডেমো বা শ্রেণিকক্ষে পাঠদান প্রদর্শনী আয়োজনের রেওয়াজ নেই। নিয়োগ বোর্ড কেবলমাত্র আবেদনের যোগ্যতাসম্পন্ন উপস্থিত প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে সব যোগ্যতা যাচাই করে থাকেন।

তিনি আরও বলেন, যেকোনো আমলযোগ্য অভিযোগের তদন্ত বাঞ্ছনীয়। আমি তদন্তের বিপক্ষে নই। অভিযোগসমূহ যথাযথ হলে তদন্তে আমার শতভাগ সম্মতি আছে। তবে সেই তদন্ত হতে হবে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আইনসিদ্ধভাবে গঠিত পক্ষপাতহীন তদন্ত কমিটির মাধ্যমে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ড. সোবহান বলেন, যেহেতু রাষ্ট্রপতি ভিসি নিয়োগ দেন। তাই তিনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেটাই চূড়ান্ত। এর বাইরে স্বপ্রণোদিত হয়ে কোনো একক সিদ্ধান্ত আমি নেব না।

জানা যায়, গত ৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের স্বাক্ষর করা ৩০০ পৃষ্ঠার ১৭টি অভিযোগ সংবলিত একটি অভিযোগনামা প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, দুদক ও ইউজিসিতে পাঠানো হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতির পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশে গঠিত তদন্ত কমিটি করে ইউজিসি। তদন্ত কমিটি ২০ অক্টোবর ভিসি এম আবদুস সোবহান, প্রো-ভিসি চৌধুরী মো. জাকারিয়া ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এমএ বারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের প্রমাণ সংবলিত তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়।

রাষ্ট্রপতি ২০১৭ সালে ৭ মে প্রফেসর এম আবদুস সোবহানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেন। এর আগে ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি আরেক দফা ভিসির দায়িত্ব পালন করেন।

ইউজিসির এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন

নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেন রাবি ভিসি সোবহান

 রাজশাহী ব্যুরো 
২৬ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তদন্তে উঠে আসা অনিয়ম দুর্নীতির কথা অস্বীকার করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. প্রফেসর আবদুস সোবহান। তিনি বলেছেন, আমার বিরুদ্ধে তদন্তে ওঠা অভিযোগগুলো পুরোপুরি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি অভিযোগগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করছি।

রোববার দুপুর ১২টায় রাবির শহীদ তাজউদ্দীন সিনেট হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন। এ সময় নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে ইউজিসির এখতিয়ার ও বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ভিসি সোবহান বলেন, রাবির আগের ভিসি প্রফেসর মিজানের আমলে বড় বড় আর্থিক দুর্নীতি, অনিয়ম ও কেলেঙ্কারি হয়েছে। এগুলো সবাই জানে। রাবির ঢাকার অতিথি ভবন ক্রয়ে ১৩ কোটি টাকা, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের হেকেপ প্রকল্পের সাড়ে তিন কোটি টাকা এবং শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক নির্মাণে ৮০ লাখ টাকা পুরোপুরি তছরুপ হয়েছে। কিন্তু এসব নিয়ে কেউ তদন্ত করছেন না। তদন্তের দাবিও তুলছেন না। এসবের তদন্ত হওয়া জরুরি। তিনি আরও বলেন, ‘সাবেক ভিসি ড. মিজান উদ্দীন দায়িত্ব গ্রহণের পর নীতিমালা বদল করে নিজের মেয়েকে ইংরেজি বিভাগে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন। মেয়েকে নিয়োগ দেয়ার জন্য তিনি বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএকে ভিত্তি করে শুধু ইংরেজি বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের যোগ্যতা পুনর্নির্ধারণ করেন। পরে যোগ্যতাতেই ইংরেজি বিভাগের অর্গানোগ্রামে প্রভাষক পদ না থাকলেও ২টি প্রভাষক পদে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সেখানে তার মেয়ে রিদিতাকে নিয়োগ দেন। প্রভাষক পদ না থাকা সত্ত্বেও প্রভাষক পদে বিজ্ঞপ্তি প্রদানের মাধ্যমে নিয়োগ বৈধ ও আইনসিদ্ধ হয়নি।’

উল্লেখ্য, ইউজিসির তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিসি সোবহানের মেয়ে সানাজানা সোবহানকে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে নিয়োগ দেয়া হয়। বিভাগে তার মেয়ের ফলাফলের অবস্থান ছিল ২১তম। অন্যদিকে তার জামাতা এটিএম শাহেদ পারভেজকে ব্যবসায় প্রশাসন ইন্সটিটিউটে (আইবিএ) নিয়োগ দেয়া হয়। পারভেজ তার বিভাগের ফলাফলে ৬৭তম অবস্থানে থেকেও নিয়োগ পান। এতে যোগ্য প্রার্থী বঞ্চিত হয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগ বোর্ড প্রার্থীদের ক্লাস নেয়ার পারদর্শিতা যাছাই করেছে- এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে ভিসি ড. সোবহানের বক্তব্য হল, ‘বাংলাদেশ শিক্ষাব্যবস্থায় গ্রেডিং পদ্ধতি প্রবর্তন হওয়ার পর সনাতন পদ্ধতির সাথে গ্রেডিং পদ্ধতিতে প্রাপ্ত জিপিএ সমন্বয়পূর্বক নতুন নিয়োগ নীতিমালা করা হয়েছে। ২০১৭ সালের নীতিমালা অনুযায়ী প্রায় ২৪টি বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় বিধি মেনে মেয়ে ও জামাই নিয়োগ পেয়েছেন।’

এ বিষয়ে ভিসি বলেন, রাজশাহী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ডেমো বা শ্রেণিকক্ষে পাঠদান প্রদর্শনী আয়োজনের রেওয়াজ নেই। নিয়োগ বোর্ড কেবলমাত্র আবেদনের যোগ্যতাসম্পন্ন উপস্থিত প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে সব যোগ্যতা যাচাই করে থাকেন।

তিনি আরও বলেন, যেকোনো আমলযোগ্য অভিযোগের তদন্ত বাঞ্ছনীয়। আমি তদন্তের বিপক্ষে নই। অভিযোগসমূহ যথাযথ হলে তদন্তে আমার শতভাগ সম্মতি আছে। তবে সেই তদন্ত হতে হবে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আইনসিদ্ধভাবে গঠিত পক্ষপাতহীন তদন্ত কমিটির মাধ্যমে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ড. সোবহান বলেন, যেহেতু রাষ্ট্রপতি ভিসি নিয়োগ দেন। তাই তিনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেটাই চূড়ান্ত। এর বাইরে স্বপ্রণোদিত হয়ে কোনো একক সিদ্ধান্ত আমি নেব না।

জানা যায়, গত ৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের স্বাক্ষর করা ৩০০ পৃষ্ঠার ১৭টি অভিযোগ সংবলিত একটি অভিযোগনামা প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, দুদক ও ইউজিসিতে পাঠানো হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতির পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশে গঠিত তদন্ত কমিটি করে ইউজিসি। তদন্ত কমিটি ২০ অক্টোবর ভিসি এম আবদুস সোবহান, প্রো-ভিসি চৌধুরী মো. জাকারিয়া ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এমএ বারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের প্রমাণ সংবলিত তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়।

রাষ্ট্রপতি ২০১৭ সালে ৭ মে প্রফেসর এম আবদুস সোবহানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেন। এর আগে ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি আরেক দফা ভিসির দায়িত্ব পালন করেন।