ভারতের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকবে
jugantor
পম্পেও-রাজনাথ বৈঠক
ভারতের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকবে

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৮ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, ভারতের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষায় আমেরিকা সব সময় দিল্লির পাশে থাকবে। সম্ভাব্য চীনা হুমকির বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন ও দিল্লি একজোট হয়ে লড়াই করবে।

ভারত সফররত পম্পেও মঙ্গলবার এমন মন্তব্য করেন। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও এপি।

ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পম্পেও বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের পারস্পরিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রসারিত করতে আমরা একসঙ্গে কাজ করব।

তিনি বলেন, দুই মহান গণতান্ত্রিক দেশের জন্য আজ পরস্পরের আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার নতুন সুযোগ এসেছে। নিশ্চিতভাবে আরও অনেক কাজ করার আছে।

উহান থেকে উদ্ভূত ভাইরাস মোকাবেলা কিংবা পুরো অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার সুরক্ষা এবং স্বাধীনতার জন্য চীনা কমিউনিস্ট পার্টির হুমকির মোকাবেলা করার মতো আমাদের আজ আলোচনা করার মতো অনেক কিছুই রয়েছে।

ভারতের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে পম্পেও ঘোষণা করেন, ভারতের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব সময়ই নয়াদিল্লির পাশে থাকবে ওয়াশিংটন। করোনাভাইরাস নিয়েও চীনকে দোষারোপ করেছেন তিনি।

ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে চীনের বিরুদ্ধে পম্পেওর এ বার্তা কূটনৈতিক দিক থেকে দিল্লির জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

প্রতিরক্ষা ও সামরিক ক্ষেত্রে দু’দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে ভারত-আমেরিকা ‘টু প্লাস টু’ বৈঠকের আয়োজন করে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপারকে সঙ্গে নিয়ে পম্পেও ভারতে পৌঁছান।

বাৎসরিক কৌশলগত সংলাপের অংশ হিসেবেই তাদের পাঁচ দিনের এশিয়া সফর। এ সফরের মূল উদ্দেশ্য চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবেলায় কৌশলগত সম্পর্ক জোরালো করা।

এমন সময় এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন লাদাখ সীমান্তে চীন-ভারত উত্তেজনা চলমান। দিল্লিতে ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালে গিয়ে গালওয়ানে নিহত ২০ ভারতীয় সেনা জওয়ানকে শ্রদ্ধা জানান পম্পেও-এসপার।

জয়শঙ্কর-রাজনাথের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন পম্পেও। প্রায় ৪০ মিনিটের বৈঠকেও মূল আলোচ্য বিষয় ছিল পূর্ব লাদাখে চীনের আগ্রাসন।

পম্পেও বলেন, আমাদের নেতা ও জনসাধারণ জানে যে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, স্বাধীনতা, উন্নয়ন-এসবের বন্ধু নয় চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (সিসিপি)। আমি আনন্দিত, সিসিপি থেকে সব রকম বিপদের বিরুদ্ধে আমরা একযোগে কাজ করছি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের প্রভাব মোকাবেলায় এশিয়াজুড়ে রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক জোরদার করাই এ সফরের লক্ষ্য। এর আগে গত সপ্তাহে মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন বেইগান দিল্লি সফর করেন।

তিনি চীনকে ঘরে থাকা হাতি বলে উল্লেখ করেন। ভারত সফর শেষে পম্পেও শ্রীলংকা ও মালদ্বীপ যাবেন। ভারত মহাসাগরীয় দেশ দুটিতে চীন অবকাঠামো খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে।

যা ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পম্পেওর এশিয়া সফর শেষ হবে ইন্দোনেশিয়া যাওয়ার মধ্য দিয়ে।

পম্পেও-রাজনাথ বৈঠক

ভারতের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকবে

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৮ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, ভারতের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষায় আমেরিকা সব সময় দিল্লির পাশে থাকবে। সম্ভাব্য চীনা হুমকির বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন ও দিল্লি একজোট হয়ে লড়াই করবে।

ভারত সফররত পম্পেও মঙ্গলবার এমন মন্তব্য করেন। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও এপি।

ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পম্পেও বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের পারস্পরিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রসারিত করতে আমরা একসঙ্গে কাজ করব।

তিনি বলেন, দুই মহান গণতান্ত্রিক দেশের জন্য আজ পরস্পরের আরও ঘনিষ্ঠ হওয়ার নতুন সুযোগ এসেছে। নিশ্চিতভাবে আরও অনেক কাজ করার আছে।

উহান থেকে উদ্ভূত ভাইরাস মোকাবেলা কিংবা পুরো অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার সুরক্ষা এবং স্বাধীনতার জন্য চীনা কমিউনিস্ট পার্টির হুমকির মোকাবেলা করার মতো আমাদের আজ আলোচনা করার মতো অনেক কিছুই রয়েছে।

ভারতের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে পম্পেও ঘোষণা করেন, ভারতের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব সময়ই নয়াদিল্লির পাশে থাকবে ওয়াশিংটন। করোনাভাইরাস নিয়েও চীনকে দোষারোপ করেছেন তিনি।

ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে চীনের বিরুদ্ধে পম্পেওর এ বার্তা কূটনৈতিক দিক থেকে দিল্লির জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

প্রতিরক্ষা ও সামরিক ক্ষেত্রে দু’দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে ভারত-আমেরিকা ‘টু প্লাস টু’ বৈঠকের আয়োজন করে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপারকে সঙ্গে নিয়ে পম্পেও ভারতে পৌঁছান।

বাৎসরিক কৌশলগত সংলাপের অংশ হিসেবেই তাদের পাঁচ দিনের এশিয়া সফর। এ সফরের মূল উদ্দেশ্য চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবেলায় কৌশলগত সম্পর্ক জোরালো করা।

এমন সময় এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন লাদাখ সীমান্তে চীন-ভারত উত্তেজনা চলমান। দিল্লিতে ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালে গিয়ে গালওয়ানে নিহত ২০ ভারতীয় সেনা জওয়ানকে শ্রদ্ধা জানান পম্পেও-এসপার।

জয়শঙ্কর-রাজনাথের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন পম্পেও। প্রায় ৪০ মিনিটের বৈঠকেও মূল আলোচ্য বিষয় ছিল পূর্ব লাদাখে চীনের আগ্রাসন।

পম্পেও বলেন, আমাদের নেতা ও জনসাধারণ জানে যে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, স্বাধীনতা, উন্নয়ন-এসবের বন্ধু নয় চীনের কমিউনিস্ট পার্টি (সিসিপি)। আমি আনন্দিত, সিসিপি থেকে সব রকম বিপদের বিরুদ্ধে আমরা একযোগে কাজ করছি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের প্রভাব মোকাবেলায় এশিয়াজুড়ে রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক জোরদার করাই এ সফরের লক্ষ্য। এর আগে গত সপ্তাহে মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন বেইগান দিল্লি সফর করেন।

তিনি চীনকে ঘরে থাকা হাতি বলে উল্লেখ করেন। ভারত সফর শেষে পম্পেও শ্রীলংকা ও মালদ্বীপ যাবেন। ভারত মহাসাগরীয় দেশ দুটিতে চীন অবকাঠামো খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে।

যা ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পম্পেওর এশিয়া সফর শেষ হবে ইন্দোনেশিয়া যাওয়ার মধ্য দিয়ে।