ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা
jugantor
ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা

  যুগান্তর রিপোর্ট  

২৮ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ফ্রান্সে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ব্যঙ্গ কার্টুন প্রকাশের প্রতিবাদে মঙ্গলবার ঢাকায় ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাওয়ে ইসলামী আন্দোলনের কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দিয়েছে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের পর বিশাল মিছিল নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা ফ্রান্স দূতাবাসের উদ্দেশে রওনা দেয়। দুপুর ১২টা নাগাদ মিছিলটি পল্টন মোড়, বিজয়নগর হয়ে শান্তিনগর মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ কাঁটাতারের ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয়। এ সময় নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দিলে চরমোনাই পীর সবাইকে শান্ত করেন। ফ্রান্সকে বয়কট এবং ফ্রান্সের পণ্য বর্জন কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন তিনি। এ সময় কয়েক হাজার নেতাকর্মী নানা স্লোগান দেন।

একই ইস্যুতে বৃহস্পতি ও শুক্রবার সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল এবং ১৩ নভেম্বর দোলাইরপাড়ে মূর্তিবিরোধী সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে ইসলামী আন্দোলনের আমির ও চরমোনাই পীর এ ঘোষণা দেন।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, ফ্রান্স সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে পুলিশ পাহারায় মুহাম্মদের (সা.) ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন করে মুসলিম উম্মাহর কলিজায় আঘাত করেছে। ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করে ফ্রান্স মুসলিমবিদ্বেষী হিসেবে পরিচয় দিয়েছে। অবিলম্বে ব্যঙ্গচিত্র প্রত্যাহার করে মুসলমানদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। ফ্রান্সের পণ্য বর্জন কর্মসূচির সঙ্গে তিনি একাত্মতা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘ বিশ্বব্যাপী অশান্তি দূর করে শান্তি প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব নিয়ে তা প্রতিষ্ঠা লাভ করলেও মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষায় জাতিসংঘ ব্যর্থ হয়েছে। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ ও ওআইসিকে কঠোর প্রতিবাদ করার জন্য তিনি আহ্বান জানান। সংসদে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব জ্ঞাপনের জন্যও তিনি দাবি জানান। তিনি বলেন, মুসলমানদের পক্ষে অবস্থান নিতে ব্যর্থ হলে দেশবাসী সরকার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।

কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা আহমাদ আবদুল কাইয়ূম ও সহ-প্রচার সম্পাদক মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন সাকীর পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য আল্লামা নূরুল হুদা ফয়েজী, অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান ও মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ, কেএম আতিকুর রহমান, মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী, মাওলানা মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন, মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ প্রমুখ।

ন্যাপ : মহানবী হযরত মুহাম্মদের (সা.) ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন এবং মুসলমান ও ইসলাম নিয়ে কটূক্তিতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাত্রেঁদ্ধার ভূমিকার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ। দলটি বলেছে, মহানবী (সা.)-কে অবমাননা করে বিশ্ব মুসলিমকে অপমান ও ক্ষুব্ধ করেছে ফ্রান্স। দেশটির প্রেসিডেন্ট মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন। মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে পার্টির চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া এসব কথা বলেন।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি এবং নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল এক যুক্ত বিবৃতিতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোর মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। বিবৃতিতে তারা জানান, রাষ্ট্রীয়ভাবে সরকারি ভবনে নবীজির ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন এবং প্রেসিডেন্টের ভাষণে যে ভাষায় কথা বলা হয়েছে- তা সারা দুনিয়ার মুসলমান তো বটেই, ফ্রান্সে বসবাসকারী সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী বিশেষত মুসলমানদের জন্য অপমানজনক এবং উস্কানিমূলক।

সিলেট ব্যুরো জানায়, মহানবী হযরত মুহাম্মদের (সা.) ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদে সিলেটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ সিলেট মহানগর শাখা। মঙ্গলবার বাদ আসর নগরীর বন্দরবাজারস্থ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌহাট্টা পয়েন্টে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে নেতারা বলেন, অবিলম্বে ব্যঙ্গচিত্রটি মুছে ফেলে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কাছে ফ্রান্সকে ক্ষমা চাইতে হবে। ফ্রিডম অব স্পিচের কথা বলে ম্যাক্রোঁ যে ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছেন তার পরিণাম শুভ হবে না। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ফ্রান্সের পণ্য বয়কট করার অনুরোধ জানান তারা। সরকারিভাবেও বয়কটের ঘোষণা এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে বয়কটের ঘোষণার দেয়ার জন্য তারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি জোর দাবি জানান।

ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা

 যুগান্তর রিপোর্ট 
২৮ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ফ্রান্সে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ব্যঙ্গ কার্টুন প্রকাশের প্রতিবাদে মঙ্গলবার ঢাকায় ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাওয়ে ইসলামী আন্দোলনের কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দিয়েছে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের পর বিশাল মিছিল নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা ফ্রান্স দূতাবাসের উদ্দেশে রওনা দেয়। দুপুর ১২টা নাগাদ মিছিলটি পল্টন মোড়, বিজয়নগর হয়ে শান্তিনগর মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ কাঁটাতারের ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয়। এ সময় নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দিলে চরমোনাই পীর সবাইকে শান্ত করেন। ফ্রান্সকে বয়কট এবং ফ্রান্সের পণ্য বর্জন কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন তিনি। এ সময় কয়েক হাজার নেতাকর্মী নানা স্লোগান দেন।

একই ইস্যুতে বৃহস্পতি ও শুক্রবার সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল এবং ১৩ নভেম্বর দোলাইরপাড়ে মূর্তিবিরোধী সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে ইসলামী আন্দোলনের আমির ও চরমোনাই পীর এ ঘোষণা দেন।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, ফ্রান্স সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে পুলিশ পাহারায় মুহাম্মদের (সা.) ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন করে মুসলিম উম্মাহর কলিজায় আঘাত করেছে। ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করে ফ্রান্স মুসলিমবিদ্বেষী হিসেবে পরিচয় দিয়েছে। অবিলম্বে ব্যঙ্গচিত্র প্রত্যাহার করে মুসলমানদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। ফ্রান্সের পণ্য বর্জন কর্মসূচির সঙ্গে তিনি একাত্মতা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘ বিশ্বব্যাপী অশান্তি দূর করে শান্তি প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব নিয়ে তা প্রতিষ্ঠা লাভ করলেও মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষায় জাতিসংঘ ব্যর্থ হয়েছে। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ ও ওআইসিকে কঠোর প্রতিবাদ করার জন্য তিনি আহ্বান জানান। সংসদে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব জ্ঞাপনের জন্যও তিনি দাবি জানান। তিনি বলেন, মুসলমানদের পক্ষে অবস্থান নিতে ব্যর্থ হলে দেশবাসী সরকার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।

কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা আহমাদ আবদুল কাইয়ূম ও সহ-প্রচার সম্পাদক মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন সাকীর পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য আল্লামা নূরুল হুদা ফয়েজী, অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান ও মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ, কেএম আতিকুর রহমান, মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী, মাওলানা মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন, মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ প্রমুখ।

ন্যাপ : মহানবী হযরত মুহাম্মদের (সা.) ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন এবং মুসলমান ও ইসলাম নিয়ে কটূক্তিতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাত্রেঁদ্ধার ভূমিকার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ। দলটি বলেছে, মহানবী (সা.)-কে অবমাননা করে বিশ্ব মুসলিমকে অপমান ও ক্ষুব্ধ করেছে ফ্রান্স। দেশটির প্রেসিডেন্ট মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন। মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে পার্টির চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া এসব কথা বলেন।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি এবং নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল এক যুক্ত বিবৃতিতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোর মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। বিবৃতিতে তারা জানান, রাষ্ট্রীয়ভাবে সরকারি ভবনে নবীজির ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন এবং প্রেসিডেন্টের ভাষণে যে ভাষায় কথা বলা হয়েছে- তা সারা দুনিয়ার মুসলমান তো বটেই, ফ্রান্সে বসবাসকারী সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী বিশেষত মুসলমানদের জন্য অপমানজনক এবং উস্কানিমূলক।

সিলেট ব্যুরো জানায়, মহানবী হযরত মুহাম্মদের (সা.) ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনের প্রতিবাদে সিলেটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ সিলেট মহানগর শাখা। মঙ্গলবার বাদ আসর নগরীর বন্দরবাজারস্থ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌহাট্টা পয়েন্টে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে নেতারা বলেন, অবিলম্বে ব্যঙ্গচিত্রটি মুছে ফেলে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কাছে ফ্রান্সকে ক্ষমা চাইতে হবে। ফ্রিডম অব স্পিচের কথা বলে ম্যাক্রোঁ যে ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছেন তার পরিণাম শুভ হবে না। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ফ্রান্সের পণ্য বয়কট করার অনুরোধ জানান তারা। সরকারিভাবেও বয়কটের ঘোষণা এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে বয়কটের ঘোষণার দেয়ার জন্য তারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি জোর দাবি জানান।