রংপুরে ছাত্রী ধর্ষণে আরও দু’জন গ্রেফতার
jugantor
রংপুরে ছাত্রী ধর্ষণে আরও দু’জন গ্রেফতার

  রংপুর ব্যুরো  

২৮ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রংপুরে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত সদ্য চাকরি থেকে বরখাস্ত এএসআই রায়হানকে এখনও গ্রেফতার দেখানো হয়নি। গণধর্ষণের ঘটনায় করা মামলায় আরও দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এ নিয়ে গ্রেফতারের সংখ্যা চারে দাঁড়াল। মামলাটির তদন্ত রংপুর পিআইবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অভিযুক্ত রায়হানকে পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পিআইবির তদন্ত কর্মকর্তা।

স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় আরও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে মঙ্গলবার ভোরে লালমনিরহাট থেকে। এরা হল : লালমনিরহাট সদরের পূর্ব মাজাপাড়ার করি মাহমুদের ছেলে বাবুল হোসেন ও পূর্ব থানা পাড়ার কাচু মিয়ার ছেলে আবুল কালাম আজাদ।

তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই ছাত্রীর মুখোমুখি করা হলে ওই ছাত্রী দুই ধর্ষককে শনাক্ত করেছে বলে পুলিশ সূত্র জানায়। পিবিআই জানায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দু’জন ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে।

এর আগে ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগে সুমাইয়া আক্তার মেঘলা, সুরভি আক্তার সমাপ্তি নামে দুই নারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা এখন পিআইবির হেফাজতে রয়েছে।

পিবিআই ও মামলা সূত্রে জানা যায়, রংপুরের ময়নাকুঠি কচুটারি এলাকার ওই ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে মেট্রোপলিটন ডিবি পুলিশের এএসআই রায়হানুল ইসলাম রাজু। শুক্রবার সকালে ওই ছাত্রীকে বেড়াতে নিয়ে যায় রায়হান।

নগরীর বাহারকাছনা ক্যাদারের পুল এলাকার সুমাইয়া পারভীন মেঘলার বাড়িতে নিয়ে ছাত্রীকে ধর্ষণ করে রায়হান। ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরলে তার মা তাকে দেরি করে বাড়িতে ফেরার জন্য গালাগাল করেন।

এ নিয়ে অভিমান করে ওই ছাত্রী রাত ৯টায় বাড়ি থেকে ফের মেঘলার বাসায় এসে আশ্রয় নেয়। পরদিন শনিবার রাতে ওই বাসায় মেঘলা তার বান্ধবী সুরভি আখতার সমাপ্তির সহযোগিতায় দু’জন যুবককে ডেকে এনে টাকার বিনিময়ে ওই ছাত্রীকে তাদের হাতে তুলে দেয়।

সেখানে ওই ছাত্রী ফের গণধর্ষণের শিকার হয়। ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে রোববার ওই ছাত্রী রায়হানকে খুঁজতে শহরে আসে। তাকে দেখে পুলিশের সন্দেহ হলে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে তার ওপর নির্যাতনের ঘটনা পুলিশকে জানায়।

পুলিশ তাকে রোববার রাত ১২টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। পরে থানায় মামলা রেকর্ড করে। পুলিশ রোববার রাতে মেঘলাকে গ্রেফতার করে।

এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গণধর্ষণে সহযোগিতা করার অভিযোগে সমাপ্তিকে সোমবার গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার ভোরে লালমনিরহাট থেকে অপর দুই আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে পুলিশ সদস্য রায়হানুল ইসলাম ওরফে রাজুসহ দু’জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে হারাগাছ থানায় ধর্ষণ মামলা করেন।

সোমবার মামলাটি হারাগাছ থানা থেকে রংপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) হস্তান্তর করা হয়।

রংপুর পিবিআই পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন জানান, অধিকতর তদন্তের স্বার্থে রায়হান এখনও পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। তাই তাকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার দেখানো হয়নি।

তিনি আরও জানান, ধর্ষণের ঘটনায় এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি না দিলে তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি চলছে।

রংপুরে ছাত্রী ধর্ষণে আরও দু’জন গ্রেফতার

 রংপুর ব্যুরো 
২৮ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রংপুরে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত সদ্য চাকরি থেকে বরখাস্ত এএসআই রায়হানকে এখনও গ্রেফতার দেখানো হয়নি। গণধর্ষণের ঘটনায় করা মামলায় আরও দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এ নিয়ে গ্রেফতারের সংখ্যা চারে দাঁড়াল। মামলাটির তদন্ত রংপুর পিআইবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অভিযুক্ত রায়হানকে পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পিআইবির তদন্ত কর্মকর্তা।

স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় আরও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে মঙ্গলবার ভোরে লালমনিরহাট থেকে। এরা হল : লালমনিরহাট সদরের পূর্ব মাজাপাড়ার করি মাহমুদের ছেলে বাবুল হোসেন ও পূর্ব থানা পাড়ার কাচু মিয়ার ছেলে আবুল কালাম আজাদ।

তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই ছাত্রীর মুখোমুখি করা হলে ওই ছাত্রী দুই ধর্ষককে শনাক্ত করেছে বলে পুলিশ সূত্র জানায়। পিবিআই জানায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দু’জন ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে।

এর আগে ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগে সুমাইয়া আক্তার মেঘলা, সুরভি আক্তার সমাপ্তি নামে দুই নারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা এখন পিআইবির হেফাজতে রয়েছে।

পিবিআই ও মামলা সূত্রে জানা যায়, রংপুরের ময়নাকুঠি কচুটারি এলাকার ওই ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে মেট্রোপলিটন ডিবি পুলিশের এএসআই রায়হানুল ইসলাম রাজু। শুক্রবার সকালে ওই ছাত্রীকে বেড়াতে নিয়ে যায় রায়হান।

নগরীর বাহারকাছনা ক্যাদারের পুল এলাকার সুমাইয়া পারভীন মেঘলার বাড়িতে নিয়ে ছাত্রীকে ধর্ষণ করে রায়হান। ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরলে তার মা তাকে দেরি করে বাড়িতে ফেরার জন্য গালাগাল করেন।

এ নিয়ে অভিমান করে ওই ছাত্রী রাত ৯টায় বাড়ি থেকে ফের মেঘলার বাসায় এসে আশ্রয় নেয়। পরদিন শনিবার রাতে ওই বাসায় মেঘলা তার বান্ধবী সুরভি আখতার সমাপ্তির সহযোগিতায় দু’জন যুবককে ডেকে এনে টাকার বিনিময়ে ওই ছাত্রীকে তাদের হাতে তুলে দেয়।

সেখানে ওই ছাত্রী ফের গণধর্ষণের শিকার হয়। ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে রোববার ওই ছাত্রী রায়হানকে খুঁজতে শহরে আসে। তাকে দেখে পুলিশের সন্দেহ হলে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে তার ওপর নির্যাতনের ঘটনা পুলিশকে জানায়।

পুলিশ তাকে রোববার রাত ১২টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। পরে থানায় মামলা রেকর্ড করে। পুলিশ রোববার রাতে মেঘলাকে গ্রেফতার করে।

এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গণধর্ষণে সহযোগিতা করার অভিযোগে সমাপ্তিকে সোমবার গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার ভোরে লালমনিরহাট থেকে অপর দুই আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে পুলিশ সদস্য রায়হানুল ইসলাম ওরফে রাজুসহ দু’জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে হারাগাছ থানায় ধর্ষণ মামলা করেন।

সোমবার মামলাটি হারাগাছ থানা থেকে রংপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) হস্তান্তর করা হয়।

রংপুর পিবিআই পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন জানান, অধিকতর তদন্তের স্বার্থে রায়হান এখনও পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। তাই তাকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার দেখানো হয়নি।

তিনি আরও জানান, ধর্ষণের ঘটনায় এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি না দিলে তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি চলছে।