চট্টগ্রামে দলবল নিয়ে গ্রাহকের বাড়িতে ব্যাংক কর্মকর্তার হানা
jugantor
চট্টগ্রামে দলবল নিয়ে গ্রাহকের বাড়িতে ব্যাংক কর্মকর্তার হানা
আইজিপির খালাতো ভাই পরিচয় দিয়ে হম্বিতম্বি

  চট্টগ্রাম ব্যুরো  

৩০ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে দলবল নিয়ে এক গ্রাহকের বাড়িতে হানা দিয়ে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন বেসরকারি ‘ব্যাংক এশিয়া’র কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী।

ব্যাংকের দেনা-পাওনা নিয়ে গ্রাহকের সঙ্গে বৈঠকের সময় নির্ধারিত থাকলেও ওই সময়ের আগেই ১৫-২০ জনের দল নিয়ে তারা গ্রাহকের খুলশির বাড়িতে উপস্থিত হন।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপস্থিত হওয়া দলটির নেতৃত্বদানকারী ব্যাংক কর্মকর্তা মাহবুব উল্লাহ নিজেকে পুলিশের আইজির খালাতো ভাই পরিচয় দিয়ে হম্বিতম্বি করেন এবং সানোয়ারা গ্রুপের এমডি মুজিবুর রহমানকে দেখে নেয়া এবং জেল খাটানোরও হুমকি দেন।

পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতি দেখে দলটি ফিরে যায়। এ ঘটনাকে নজিরবিহীন ও শোষক ‘বর্গি’র সঙ্গে তুলনা করেছেন মুজিবুর রহামন।

সূত্র জানায়, বেসরকারি ব্যাংক এশিয়া থেকে সানোয়ারা ডেইরি ফুডস লিঃ একটি নির্দিষ্ট অংকের টাকা ঋণ নেয়। ২০১৮ সালে ওই ঋণ রি-সিডিউলের বিষয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে চুক্তি হয়। ওই বছরের ২৮ আগস্ট স্বাক্ষরিত চুক্তিতে ব্যাংকের পক্ষে সভাপতি ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এরফান আলী ও সানোয়ারা ডেইরি ফুডসের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমানসহ উভয়পক্ষের চারজন স্বাক্ষর করেন।

চুক্তি অনুযায়ী সানোয়ারা ডেইরি অ্যান্ড ফুডস লিমিটেড ১৬ কোটি টাকা ব্যাংককে প্রদান করার কথা। এর মধ্যে প্রথম দফায় ৫০ লাখ টাকা ও পরবর্তী ৬ বছরে বাকি টাকা কিস্তি বা ইন্সটলমেন্টে প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রথম দফায় সানোয়ারা ডেইরি ব্যাংক এশিয়াকে ৫০ লাখ টাকা প্রদান করে। কিন্তু এই টাকা পাওয়ার পরই উল্টে যায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

তারা চুক্তি ভঙ্গ করে পরবর্তীতে সানোয়ারার ডেইরি কাছে ১৯ কোটি টাকা দাবি করে। এতে তৈরি হয় জটিলতা। বোর্ড সভা চুক্তি মানছে না দাবি করে কর্তৃপক্ষ সানোয়ারা ডেইরির কাছ থেকে অন্যায্য টাকা দাবি করতে থাকে।

এতে ঋণ দাতা ও গ্রহীতা- উভয় পক্ষের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। মামলায় যায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

সূত্র জানায়, সর্বশেষ বুধবার ব্যাংক এশিয়ার স্পেশাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের এফভিপি অ্যান্ড ইনচার্জ (ডিসিইউ) মো. মাহবুব উল্লাহ সানোয়ারা গ্রুপের অফিসে এসে ফিন্যান্স ডিভিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। আলোচ্য ঋণের বিষয়টি সমাধানের জন্য একটি বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের প্রস্তাব দেন।

এতে সানোয়ারা ডেইরি কর্তৃপক্ষ সম্মত হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় কালুরঘাটে সানোয়ারা গ্রুপের অফিসে বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হয়। ওই বৈঠকে ব্যাংক এশিয়ার একজন ডিএমডিও উপস্থিত থাকবেন বলে জানান মাহবুব উল্লাহ। বৈঠকের বিষয় নিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকেও কথা হয় মাহবুব উল্লাহর সঙ্গে। কিন্তু সকাল সোয়া ১০টার দিকে মাহবুব উল্লাহ নিজেই কতিপয় লোকজনকে নিয়ে সানোয়ারা গ্রুপের এমডি মুজিবুর রহমানের খুলশির বাড়িতে হাজির হন।

মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কারে করে যাওয়া কালো প্যান্ট আর সাদা শার্ট পরা ১৫-২০ জনের ওই দলের নেতৃত্ব দেন তিনি। বাড়ির সামনে উপস্থিত হয়ে হ্যান্ড মাইকে মুজিবুর রহমানের নাম ধরে তাকে ডাকাডাকি শুরু করেন। ঘর থেকে বের হয়ে আসতে বলেন। এক পর্যায়ে তারা ঘরের ভেতর প্রবেশের চেষ্টা করেন। এসব দেখে পরিবারের সদস্যরা হতভম্ব হয়ে যান।

এ ঘটনায় এলাকায় উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। সানোয়ারা গ্রুপের এমডি মুজিবুর রহমান খবর পেয়ে ছুটে আসেন। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টির বিষয়ে জানতে চাইলে তার সঙ্গে ব্যাংক কর্মকর্তা মাহবুব উল্লাহর তর্ক শুরু করেন। মাহবুব উল্লাহ নিজেকে আইজিপির খালাতো ভাই পরিচয় দিয়ে দেখে নেয়ারও হুমকি দেন। এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজন জড়ো হলে দলটি ফিরে যায়।

এ প্রসঙ্গে মুজিবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘ঋণ রি-সিডিউল করার বিষয়ে যে চুক্তি হয়েছে সেই চুক্তি ভঙ্গ করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। তা ছাড়া ঋণের বিষয়টি নিয়ে ব্যাংক আইনি প্রক্রিয়ায় গেছে। আমরাও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এরপরও সমস্যাটি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে প্রস্তাব দেয়। আমরা প্রস্তাবে সম্মত হই।

এর অংশ আমাদের কালুরঘাটের অফিসে বৈঠকের সময় নির্ধারণ হয়। বৈঠক কনফার্ম থাকার বিষয়টি সকাল সাড়ে ৯টার দিকেও নিশ্চিত করেন ব্যাংক কর্মকর্তা মাহবুব উল্লাহ। কিন্তু সকাল সোয়া ১০টার দিকে মাহবুব উল্লাহর নেতৃত্বেই বিশেষ পোশাক পরিহিত লোকজন আমাদের খুলশির বাসায় এসে নৈরাজ্যকর ও অপমানজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন।

বিশেষ পোশাকে আসাদের সবাই ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী কি না তাও সন্দেহ। তাদের এহেন আচরণ শোষণকারী বর্গিদের আচরণকেও হার মানিয়েছে। এক পর্যায়ে আইজিপির খালাতো ভাই পরিচয় দিয়ে মাহবুব উল্লাহ আমাকে জেলে পাঠানো ও দেখে নেয়ার হুমকি দেন।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ব্যাংক এশিয়ার এফভিপি মো. মাহবুব উল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, ‘সানোয়ারা গ্রুপের এমডি মুজিবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল ঠিকই। কিন্তু ব্যাংকের ডিএমডি সাহেব অনেক কাজ নিয়ে চট্টগ্রাম এসেছেন। তাই তিনি আগ্রাবাদ কর্পোরেট অফিসেই বৈঠক করতে চেয়েছিলেন।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য তিনি আমাকে গ্রাহকের বাড়িতে যেতে বলেছেন। এ কারণে আমি কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে মুজিব সাহেবের খুলশির বাড়িতে গিয়েছি। তার আম্মার সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু মুজিবুর রহমান সাহেব আমাদের অপমান করেছেন।

নিজেকে আইজিপির খালাতো ভাই পরিচয় দিয়ে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হুমকি দেইনি। আইজিপি সাহেব আমার সম্পর্কে ভালো জানেন সেটা বলেছি। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করতে চেয়েছি।’

বাড়িতে গিয়ে হ্যান্ডমাইকে গ্রাহককে ডাকাডাকি করা, দলবল নিয়ে নৈরাজ্য ও অপমানজনক পরিস্থিতি তৈরি করার অধিকার তার আছে কি না- এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি এই ব্যাংক কর্মকর্তা।

চট্টগ্রামে দলবল নিয়ে গ্রাহকের বাড়িতে ব্যাংক কর্মকর্তার হানা

আইজিপির খালাতো ভাই পরিচয় দিয়ে হম্বিতম্বি
 চট্টগ্রাম ব্যুরো 
৩০ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে দলবল নিয়ে এক গ্রাহকের বাড়িতে হানা দিয়ে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন বেসরকারি ‘ব্যাংক এশিয়া’র কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী।

ব্যাংকের দেনা-পাওনা নিয়ে গ্রাহকের সঙ্গে বৈঠকের সময় নির্ধারিত থাকলেও ওই সময়ের আগেই ১৫-২০ জনের দল নিয়ে তারা গ্রাহকের খুলশির বাড়িতে উপস্থিত হন।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপস্থিত হওয়া দলটির নেতৃত্বদানকারী ব্যাংক কর্মকর্তা মাহবুব উল্লাহ নিজেকে পুলিশের আইজির খালাতো ভাই পরিচয় দিয়ে হম্বিতম্বি করেন এবং সানোয়ারা গ্রুপের এমডি মুজিবুর রহমানকে দেখে নেয়া এবং জেল খাটানোরও হুমকি দেন।

পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতি দেখে দলটি ফিরে যায়। এ ঘটনাকে নজিরবিহীন ও শোষক ‘বর্গি’র সঙ্গে তুলনা করেছেন মুজিবুর রহামন।

সূত্র জানায়, বেসরকারি ব্যাংক এশিয়া থেকে সানোয়ারা ডেইরি ফুডস লিঃ একটি নির্দিষ্ট অংকের টাকা ঋণ নেয়। ২০১৮ সালে ওই ঋণ রি-সিডিউলের বিষয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে চুক্তি হয়। ওই বছরের ২৮ আগস্ট স্বাক্ষরিত চুক্তিতে ব্যাংকের পক্ষে সভাপতি ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এরফান আলী ও সানোয়ারা ডেইরি ফুডসের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমানসহ উভয়পক্ষের চারজন স্বাক্ষর করেন।

চুক্তি অনুযায়ী সানোয়ারা ডেইরি অ্যান্ড ফুডস লিমিটেড ১৬ কোটি টাকা ব্যাংককে প্রদান করার কথা। এর মধ্যে প্রথম দফায় ৫০ লাখ টাকা ও পরবর্তী ৬ বছরে বাকি টাকা কিস্তি বা ইন্সটলমেন্টে প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রথম দফায় সানোয়ারা ডেইরি ব্যাংক এশিয়াকে ৫০ লাখ টাকা প্রদান করে। কিন্তু এই টাকা পাওয়ার পরই উল্টে যায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

তারা চুক্তি ভঙ্গ করে পরবর্তীতে সানোয়ারার ডেইরি কাছে ১৯ কোটি টাকা দাবি করে। এতে তৈরি হয় জটিলতা। বোর্ড সভা চুক্তি মানছে না দাবি করে কর্তৃপক্ষ সানোয়ারা ডেইরির কাছ থেকে অন্যায্য টাকা দাবি করতে থাকে।

এতে ঋণ দাতা ও গ্রহীতা- উভয় পক্ষের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। মামলায় যায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

সূত্র জানায়, সর্বশেষ বুধবার ব্যাংক এশিয়ার স্পেশাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশনের এফভিপি অ্যান্ড ইনচার্জ (ডিসিইউ) মো. মাহবুব উল্লাহ সানোয়ারা গ্রুপের অফিসে এসে ফিন্যান্স ডিভিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। আলোচ্য ঋণের বিষয়টি সমাধানের জন্য একটি বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের প্রস্তাব দেন।

এতে সানোয়ারা ডেইরি কর্তৃপক্ষ সম্মত হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় কালুরঘাটে সানোয়ারা গ্রুপের অফিসে বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হয়। ওই বৈঠকে ব্যাংক এশিয়ার একজন ডিএমডিও উপস্থিত থাকবেন বলে জানান মাহবুব উল্লাহ। বৈঠকের বিষয় নিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকেও কথা হয় মাহবুব উল্লাহর সঙ্গে। কিন্তু সকাল সোয়া ১০টার দিকে মাহবুব উল্লাহ নিজেই কতিপয় লোকজনকে নিয়ে সানোয়ারা গ্রুপের এমডি মুজিবুর রহমানের খুলশির বাড়িতে হাজির হন।

মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কারে করে যাওয়া কালো প্যান্ট আর সাদা শার্ট পরা ১৫-২০ জনের ওই দলের নেতৃত্ব দেন তিনি। বাড়ির সামনে উপস্থিত হয়ে হ্যান্ড মাইকে মুজিবুর রহমানের নাম ধরে তাকে ডাকাডাকি শুরু করেন। ঘর থেকে বের হয়ে আসতে বলেন। এক পর্যায়ে তারা ঘরের ভেতর প্রবেশের চেষ্টা করেন। এসব দেখে পরিবারের সদস্যরা হতভম্ব হয়ে যান।

এ ঘটনায় এলাকায় উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। সানোয়ারা গ্রুপের এমডি মুজিবুর রহমান খবর পেয়ে ছুটে আসেন। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টির বিষয়ে জানতে চাইলে তার সঙ্গে ব্যাংক কর্মকর্তা মাহবুব উল্লাহর তর্ক শুরু করেন। মাহবুব উল্লাহ নিজেকে আইজিপির খালাতো ভাই পরিচয় দিয়ে দেখে নেয়ারও হুমকি দেন। এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজন জড়ো হলে দলটি ফিরে যায়।

এ প্রসঙ্গে মুজিবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘ঋণ রি-সিডিউল করার বিষয়ে যে চুক্তি হয়েছে সেই চুক্তি ভঙ্গ করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। তা ছাড়া ঋণের বিষয়টি নিয়ে ব্যাংক আইনি প্রক্রিয়ায় গেছে। আমরাও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এরপরও সমস্যাটি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে প্রস্তাব দেয়। আমরা প্রস্তাবে সম্মত হই।

এর অংশ আমাদের কালুরঘাটের অফিসে বৈঠকের সময় নির্ধারণ হয়। বৈঠক কনফার্ম থাকার বিষয়টি সকাল সাড়ে ৯টার দিকেও নিশ্চিত করেন ব্যাংক কর্মকর্তা মাহবুব উল্লাহ। কিন্তু সকাল সোয়া ১০টার দিকে মাহবুব উল্লাহর নেতৃত্বেই বিশেষ পোশাক পরিহিত লোকজন আমাদের খুলশির বাসায় এসে নৈরাজ্যকর ও অপমানজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন।

বিশেষ পোশাকে আসাদের সবাই ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী কি না তাও সন্দেহ। তাদের এহেন আচরণ শোষণকারী বর্গিদের আচরণকেও হার মানিয়েছে। এক পর্যায়ে আইজিপির খালাতো ভাই পরিচয় দিয়ে মাহবুব উল্লাহ আমাকে জেলে পাঠানো ও দেখে নেয়ার হুমকি দেন।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ব্যাংক এশিয়ার এফভিপি মো. মাহবুব উল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, ‘সানোয়ারা গ্রুপের এমডি মুজিবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল ঠিকই। কিন্তু ব্যাংকের ডিএমডি সাহেব অনেক কাজ নিয়ে চট্টগ্রাম এসেছেন। তাই তিনি আগ্রাবাদ কর্পোরেট অফিসেই বৈঠক করতে চেয়েছিলেন।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য তিনি আমাকে গ্রাহকের বাড়িতে যেতে বলেছেন। এ কারণে আমি কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে মুজিব সাহেবের খুলশির বাড়িতে গিয়েছি। তার আম্মার সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু মুজিবুর রহমান সাহেব আমাদের অপমান করেছেন।

নিজেকে আইজিপির খালাতো ভাই পরিচয় দিয়ে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হুমকি দেইনি। আইজিপি সাহেব আমার সম্পর্কে ভালো জানেন সেটা বলেছি। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করতে চেয়েছি।’

বাড়িতে গিয়ে হ্যান্ডমাইকে গ্রাহককে ডাকাডাকি করা, দলবল নিয়ে নৈরাজ্য ও অপমানজনক পরিস্থিতি তৈরি করার অধিকার তার আছে কি না- এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি এই ব্যাংক কর্মকর্তা।