পুরুষদের কাপড় টাকনুর উপর ও নারীদের হিজাব পরার বিজ্ঞপ্তি
jugantor
জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট
পুরুষদের কাপড় টাকনুর উপর ও নারীদের হিজাব পরার বিজ্ঞপ্তি

  যুগান্তর রিপোর্ট  

৩০ অক্টোবর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অফিস চলার সময় পুরুষদের টাকনুর উপর এবং নারীদের টাকনুর নিচে কাপড় পরা ও পর্দাপ্রথা মেনে চলতে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট। বুধবার ইন্সটিটিউটের পরিচালক মো. আবদুর রহিম এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। সরকারের নজরে আসার পর তিনি বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করে নেন। একই সঙ্গে ক্ষমাপ্রার্থনা করেন। এর আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে তাকে এ ধরনের বিজ্ঞপ্তির জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। বুধবার জারি করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে আবদুর রহিম বলেন, ‘অত্র ইন্সটিটিউটের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, অফিস চলার সময় মোবাইল সাইলেন্ট/বন্ধ রাখা এবং মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য পুরুষ টাকনুর উপরে এবং মহিলা হিজাবসহ টাকনুর নিচে কাপড় পরিধান করা আবশ্যক এবং পর্দা মানিয়া চলার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হল।’

এদিকে বৃহস্পতিবার বিজ্ঞপ্তির ব্যাখ্যা চেয়েছে মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শারমিন আক্তার জাহান স্বাক্ষরিত এক আদেশে ৩ কর্মদিবসের মধ্যে এই বিজ্ঞপ্তির ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কোন বিধিবলে জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের পরিচালক এই আদেশ জারি করেছেন, আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তা কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

সরকারি চাকরিবিধিতে এমন নির্দেশনা দেয়ার এখতিয়ার আছে কি না অথবা সরকারি কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে কি না- এমন প্রশ্ন করলে ডা. মুহাম্মদ আবদুর রহিম বলেন, ‘ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। টাকনুর উপরে যদি পুরুষ কাপড় পরে তাহলে তার কোনো গোনাহ নেই, টাকনুর নিচে পরলে সে কবিরা গোনাহ করল। একইভাবে নারীদের জন্যও সেটা প্রযোজ্য, নারীরা পর্দার ভেতরেই সুন্দর। টাকনুর নিচে কাপড় পরলে তার কবিরা গোনাহ হবে না। এই জিনিসটা আমাদের দেশে উঠে গেছে।’

প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে এ বিজ্ঞপ্তি দিতে পারেন কি না অথবা এটা কোনো সরকারি নির্দেশ কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি আমার অফিসের জন্য নির্দেশ দিয়েছি। আমাদের দেশ মুসলিম কান্ট্রি, আমাদের দেশে, আমার অফিসে যদি এভাবে সজ্জিত হয়, আমার কাছে ভালো লাগবে।’

সরকারি চাকরিবিধি অনুসারে পরিচালক হিসেবে সেটা তিনি দিতে পারেন না বলেও স্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমি আমার কলিগদের এ চিঠি দিয়েছি নিয়মকানুন পালন করার জন্য। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আমি আমার স্টাফদের সুশৃঙ্খলভাবে চালানোর জন্য এবং রহমতের সঙ্গে চালানোর জন্য এটা দিয়েছি। ড্রেস কোড নিয়ে কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাকে সরকার থেকে কোনো দায়িত্ব দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, ‘সবাইকে ঠিকমতো পরিচালনা করতে পারছি না, এটা আমার দায়িত্বে অবহেলার নজির বলে মনে করছি। আমি একজন বিসিএস কর্মকর্তা। আমি আমার অফিস চালাব আমার স্টাইলে।’

জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট

পুরুষদের কাপড় টাকনুর উপর ও নারীদের হিজাব পরার বিজ্ঞপ্তি

 যুগান্তর রিপোর্ট 
৩০ অক্টোবর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

অফিস চলার সময় পুরুষদের টাকনুর উপর এবং নারীদের টাকনুর নিচে কাপড় পরা ও পর্দাপ্রথা মেনে চলতে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট। বুধবার ইন্সটিটিউটের পরিচালক মো. আবদুর রহিম এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। সরকারের নজরে আসার পর তিনি বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করে নেন। একই সঙ্গে ক্ষমাপ্রার্থনা করেন। এর আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে তাকে এ ধরনের বিজ্ঞপ্তির জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। বুধবার জারি করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে আবদুর রহিম বলেন, ‘অত্র ইন্সটিটিউটের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, অফিস চলার সময় মোবাইল সাইলেন্ট/বন্ধ রাখা এবং মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য পুরুষ টাকনুর উপরে এবং মহিলা হিজাবসহ টাকনুর নিচে কাপড় পরিধান করা আবশ্যক এবং পর্দা মানিয়া চলার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হল।’

এদিকে বৃহস্পতিবার বিজ্ঞপ্তির ব্যাখ্যা চেয়েছে মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শারমিন আক্তার জাহান স্বাক্ষরিত এক আদেশে ৩ কর্মদিবসের মধ্যে এই বিজ্ঞপ্তির ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কোন বিধিবলে জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের পরিচালক এই আদেশ জারি করেছেন, আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তা কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

সরকারি চাকরিবিধিতে এমন নির্দেশনা দেয়ার এখতিয়ার আছে কি না অথবা সরকারি কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে কি না- এমন প্রশ্ন করলে ডা. মুহাম্মদ আবদুর রহিম বলেন, ‘ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। টাকনুর উপরে যদি পুরুষ কাপড় পরে তাহলে তার কোনো গোনাহ নেই, টাকনুর নিচে পরলে সে কবিরা গোনাহ করল। একইভাবে নারীদের জন্যও সেটা প্রযোজ্য, নারীরা পর্দার ভেতরেই সুন্দর। টাকনুর নিচে কাপড় পরলে তার কবিরা গোনাহ হবে না। এই জিনিসটা আমাদের দেশে উঠে গেছে।’

প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে এ বিজ্ঞপ্তি দিতে পারেন কি না অথবা এটা কোনো সরকারি নির্দেশ কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি আমার অফিসের জন্য নির্দেশ দিয়েছি। আমাদের দেশ মুসলিম কান্ট্রি, আমাদের দেশে, আমার অফিসে যদি এভাবে সজ্জিত হয়, আমার কাছে ভালো লাগবে।’

সরকারি চাকরিবিধি অনুসারে পরিচালক হিসেবে সেটা তিনি দিতে পারেন না বলেও স্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমি আমার কলিগদের এ চিঠি দিয়েছি নিয়মকানুন পালন করার জন্য। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আমি আমার স্টাফদের সুশৃঙ্খলভাবে চালানোর জন্য এবং রহমতের সঙ্গে চালানোর জন্য এটা দিয়েছি। ড্রেস কোড নিয়ে কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাকে সরকার থেকে কোনো দায়িত্ব দেয়া হয়নি। তিনি বলেন, ‘সবাইকে ঠিকমতো পরিচালনা করতে পারছি না, এটা আমার দায়িত্বে অবহেলার নজির বলে মনে করছি। আমি একজন বিসিএস কর্মকর্তা। আমি আমার অফিস চালাব আমার স্টাইলে।’