২ ঘণ্টায় পুড়ল অর্ধশতাধিক পরিবারের স্বপ্ন
jugantor
কল্যাণপুরে বস্তিতে আগুন
২ ঘণ্টায় পুড়ল অর্ধশতাধিক পরিবারের স্বপ্ন

  যুগান্তর রিপোর্ট  

০১ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর কল্যাণপুরের নতুনবাজার বস্তির অর্ধশতাধিক পরিবারের স্বপ্ন মাত্র দুই ঘণ্টার আগুনে পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। শুক্রবার রাতে ভাঙারির দোকান থেকে সৃষ্ট আগুনে বস্তির ৪২টি ঘর ও ১৪টি দোকান পুড়ে গেছে। আগুনে দুইজন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। শনিবার ধ্বংসস্তূপের মধ্যে অনেককে শেষ সম্বল খুঁজতে দেখা গেছে। এ দুর্ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মাহফুজ রিবেন জানান, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে নতুনবাজার বস্তিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। রাত ২টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো হয়। ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক সালেহ উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের পর আগুন লাগার আসল কারণ এবং কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে জানা যাবে। ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, ভাঙারি দোকান ‘মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজের’ প্রেসার মেশিন বিস্ফোরণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে দোকানের কর্মচারী আক্তার হোসেনের (১৯) শরীরের ৪০ শতাংশ ও আনোয়ার হোসেনের (২০) শরীরের ৭০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইন্সটিটিউটে তাদের চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসক জানান, তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সরেজমিন দেখা গেছে, কল্যাণপুরের নতুনবাজার বস্তিতে ১০টি সেকশন রয়েছে। ৭ নম্বর সেকশনে রয়েছে ৫০টির মতো ঘর। এর মধ্যে ৪২টি ঘর পুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

ধ্বংসস্তূপে মানুষ খুঁজে বেড়াচ্ছেন তাদের শেষ সম্বল। বাসিন্দারা জানান, বস্তির সামনের দিকের নান্নু মোড়লের ভাঙারি দোকানে বিস্ফোরণে আগুনের সূত্রপাত হয়। ওই দোকানসহ ১৩টি দোকান পুড়ে গেছে। এর মধ্যে পুরনো ফার্নিচারের দোকান ছিল রাসেল ও মিজানের। আর নতুন ফার্নিচার ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী বিক্রি করতেন ফিরোজ। লাকড়ির দোকান ছিল রাশেদ ও কোহিনূরের। ভাঙারির দোকান ছিল লিটন, ইউনুস, ফরিদ ও মোস্তফার (মস্তু)।

বস্তির ১ নম্বর গলির সেলিমের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের বাসিন্দা মাঞ্জু মিয়া ও তার স্ত্রী শাহানা বেগম। দুই মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন মাত্র ১৫ দিন আগে। ধ্বংসস্তূপের কাছে বসে বিড়বিড় করছিলেন বিমর্ষ স্বামী-স্ত্রী। মাঞ্জু দিনমজুর আর শাহানা ঝিয়ের কাজ করেন। মেয়ে সুরজাহানকে গহনা কিনে দেয়ার জন্য তিলে তিলে জমিয়েছিলেন ৩৫ হাজার টাকা। এ টাকাসহ সব সম্বল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মাঞ্জু যুগান্তরকে বলেন, পরনের কাপড় ছাড়া কিছু নিয়ে বের হতে পারিনি। ৬-৭ বছর আগে তাদের ঘর আরেকবার পুড়েছিল।

মায়ের দোয়া দোকানের পেছনেই ছিল ভোলার চরফ্যাশনের রানু বেগমের ঘর। চার ছেলে ও পরিবার-পরিজন নিয়ে ১৬ বছর ধরে এ বস্তিতে বসবাস তার। রানু যুগান্তরকে বলেন, শুক্রবার রাতে বিকট একটা শব্দ হল আর সঙ্গে সঙ্গে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ল। কোনো মতে জানটা নিয়ে বের হতে পেরেছি। টিভি-ফ্রিজসহ বাসার সব আসবাবপত্র আগুনে পুড়ে গেছে। তিনি বলেন, তিলে তিলে জমানো কয়েক লাখ টাকার সম্পদ আগুনে ভস্ম হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, এ নিয়ে তিনবার তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হলেন। বস্তির জাকির হোসেনের স্ত্রী বিবি আয়েশা বলেন, পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এ করোনাকালে কীভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে বাঁচব, তা নিয়ে চিন্তিত তিনি।

বস্তির ফিরোজ মিয়ার ইলেকট্রনিক্স ও ফার্নিচারের দোকানের ৮-৯ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। দোকানে কিছু স্টিলের ফার্নিচার আগুনে পুড়ে কঙ্কালসার হয়ে গেছে। বাকি সব পুড়ে ছাই। ফিরোজ যুগান্তরকে বলেন, হঠাৎ একটা বিকট শব্দ হল আর মুহূর্তেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল। তিনি বলেন, কিছুই বের করতে পারলাম না। বাকির খাতাটাও পুড়ে গেছে। পাশেই ছিল রাসেল মিয়ার পুরনো ফার্নিচারের দোকান। বস্তিরই একটি ঘরে পরিবার নিয়ে তিনি বসবাস করেন। সব হারিয়ে ধ্বংসস্তূপের উপর তাকে বসে থাকতে দেখা যায়। রাসেল জানান, অনেক কষ্টের সংসার। আগুন সব তছনছ করে দিল। হঠাৎ বিকট আওয়াজের সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায়। ঘরের মালামাল বের করতে গেলে পোলাপান বাঁচাইতে পারতাম না। আমার বাচ্চার পা একটু পুড়ে গেছে। রাসেল জানান, একটি সমিতি থেকে ব্যবসার কাজের জন্য দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। সেই টাকা ছিল ঘরের আলমারিতে। আগুনে ছাই হয়ে গেছে সেই টাকা। পুড়েছে দামি মালামাল।

আড়াই যুগ ধরে বস্তিতে ভাঙারির ব্যবসা করে আসছিলেন লিটন। দোকান থেকে তিনি কিছুই বের করতে পারেননি তিনি। মালামাল চোখের সামনে পুড়ে গেছে। এখন শুধু ছাই আর কয়লা পড়ে আছে। লিটন বলেন, আগেও এ বস্তিতে আগুন লেগেছে। কিন্তু এত বড় আগুন লাগেনি। এবার আগুন লেগেছে নান্নুর দোকান থেকে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ১১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেওয়ান আবদুল মান্নান যুগান্তরকে বলেন, ভাঙারি দোকানে অবৈধভাবে প্রেসার মেশিন চালানো হচ্ছিল। রাস্তার অপর পাশের আরেকটি দোকান থেকে অবৈধভাবে ৪৪০ কেভির সংযোগ এনে মেশিনটি চালানো হচ্ছিল বলে জানতে পেরেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার বিষয়ে তিনি বলেন, মেয়রের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরিভাবে ৫ হাজার টাকা করে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া ডিএনসিসির পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ টয়লেট এবং সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি জানান, আগুন থেকে রক্ষা পেতে বস্তির পাশের কয়েকটি ঘর ভেঙে ফেলা হয়েছে। এগুলো মেরামত করে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে জানান তিনি। ব্র্যাকের একটি দল ঘটনাস্থলে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে হাঁড়িপাতিলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র দিয়েছে।

কল্যাণপুরে বস্তিতে আগুন

২ ঘণ্টায় পুড়ল অর্ধশতাধিক পরিবারের স্বপ্ন

 যুগান্তর রিপোর্ট 
০১ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর কল্যাণপুরের নতুনবাজার বস্তির অর্ধশতাধিক পরিবারের স্বপ্ন মাত্র দুই ঘণ্টার আগুনে পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। শুক্রবার রাতে ভাঙারির দোকান থেকে সৃষ্ট আগুনে বস্তির ৪২টি ঘর ও ১৪টি দোকান পুড়ে গেছে। আগুনে দুইজন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। শনিবার ধ্বংসস্তূপের মধ্যে অনেককে শেষ সম্বল খুঁজতে দেখা গেছে। এ দুর্ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মাহফুজ রিবেন জানান, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে নতুনবাজার বস্তিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। রাত ২টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো হয়। ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক সালেহ উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের পর আগুন লাগার আসল কারণ এবং কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে জানা যাবে। ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, ভাঙারি দোকান ‘মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজের’ প্রেসার মেশিন বিস্ফোরণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে দোকানের কর্মচারী আক্তার হোসেনের (১৯) শরীরের ৪০ শতাংশ ও আনোয়ার হোসেনের (২০) শরীরের ৭০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইন্সটিটিউটে তাদের চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসক জানান, তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সরেজমিন দেখা গেছে, কল্যাণপুরের নতুনবাজার বস্তিতে ১০টি সেকশন রয়েছে। ৭ নম্বর সেকশনে রয়েছে ৫০টির মতো ঘর। এর মধ্যে ৪২টি ঘর পুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

ধ্বংসস্তূপে মানুষ খুঁজে বেড়াচ্ছেন তাদের শেষ সম্বল। বাসিন্দারা জানান, বস্তির সামনের দিকের নান্নু মোড়লের ভাঙারি দোকানে বিস্ফোরণে আগুনের সূত্রপাত হয়। ওই দোকানসহ ১৩টি দোকান পুড়ে গেছে। এর মধ্যে পুরনো ফার্নিচারের দোকান ছিল রাসেল ও মিজানের। আর নতুন ফার্নিচার ও ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী বিক্রি করতেন ফিরোজ। লাকড়ির দোকান ছিল রাশেদ ও কোহিনূরের। ভাঙারির দোকান ছিল লিটন, ইউনুস, ফরিদ ও মোস্তফার (মস্তু)।

বস্তির ১ নম্বর গলির সেলিমের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের বাসিন্দা মাঞ্জু মিয়া ও তার স্ত্রী শাহানা বেগম। দুই মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন মাত্র ১৫ দিন আগে। ধ্বংসস্তূপের কাছে বসে বিড়বিড় করছিলেন বিমর্ষ স্বামী-স্ত্রী। মাঞ্জু দিনমজুর আর শাহানা ঝিয়ের কাজ করেন। মেয়ে সুরজাহানকে গহনা কিনে দেয়ার জন্য তিলে তিলে জমিয়েছিলেন ৩৫ হাজার টাকা। এ টাকাসহ সব সম্বল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মাঞ্জু যুগান্তরকে বলেন, পরনের কাপড় ছাড়া কিছু নিয়ে বের হতে পারিনি। ৬-৭ বছর আগে তাদের ঘর আরেকবার পুড়েছিল।

মায়ের দোয়া দোকানের পেছনেই ছিল ভোলার চরফ্যাশনের রানু বেগমের ঘর। চার ছেলে ও পরিবার-পরিজন নিয়ে ১৬ বছর ধরে এ বস্তিতে বসবাস তার। রানু যুগান্তরকে বলেন, শুক্রবার রাতে বিকট একটা শব্দ হল আর সঙ্গে সঙ্গে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ল। কোনো মতে জানটা নিয়ে বের হতে পেরেছি। টিভি-ফ্রিজসহ বাসার সব আসবাবপত্র আগুনে পুড়ে গেছে। তিনি বলেন, তিলে তিলে জমানো কয়েক লাখ টাকার সম্পদ আগুনে ভস্ম হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, এ নিয়ে তিনবার তারা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হলেন। বস্তির জাকির হোসেনের স্ত্রী বিবি আয়েশা বলেন, পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এ করোনাকালে কীভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে বাঁচব, তা নিয়ে চিন্তিত তিনি।

বস্তির ফিরোজ মিয়ার ইলেকট্রনিক্স ও ফার্নিচারের দোকানের ৮-৯ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। দোকানে কিছু স্টিলের ফার্নিচার আগুনে পুড়ে কঙ্কালসার হয়ে গেছে। বাকি সব পুড়ে ছাই। ফিরোজ যুগান্তরকে বলেন, হঠাৎ একটা বিকট শব্দ হল আর মুহূর্তেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল। তিনি বলেন, কিছুই বের করতে পারলাম না। বাকির খাতাটাও পুড়ে গেছে। পাশেই ছিল রাসেল মিয়ার পুরনো ফার্নিচারের দোকান। বস্তিরই একটি ঘরে পরিবার নিয়ে তিনি বসবাস করেন। সব হারিয়ে ধ্বংসস্তূপের উপর তাকে বসে থাকতে দেখা যায়। রাসেল জানান, অনেক কষ্টের সংসার। আগুন সব তছনছ করে দিল। হঠাৎ বিকট আওয়াজের সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায়। ঘরের মালামাল বের করতে গেলে পোলাপান বাঁচাইতে পারতাম না। আমার বাচ্চার পা একটু পুড়ে গেছে। রাসেল জানান, একটি সমিতি থেকে ব্যবসার কাজের জন্য দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। সেই টাকা ছিল ঘরের আলমারিতে। আগুনে ছাই হয়ে গেছে সেই টাকা। পুড়েছে দামি মালামাল।

আড়াই যুগ ধরে বস্তিতে ভাঙারির ব্যবসা করে আসছিলেন লিটন। দোকান থেকে তিনি কিছুই বের করতে পারেননি তিনি। মালামাল চোখের সামনে পুড়ে গেছে। এখন শুধু ছাই আর কয়লা পড়ে আছে। লিটন বলেন, আগেও এ বস্তিতে আগুন লেগেছে। কিন্তু এত বড় আগুন লাগেনি। এবার আগুন লেগেছে নান্নুর দোকান থেকে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ১১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেওয়ান আবদুল মান্নান যুগান্তরকে বলেন, ভাঙারি দোকানে অবৈধভাবে প্রেসার মেশিন চালানো হচ্ছিল। রাস্তার অপর পাশের আরেকটি দোকান থেকে অবৈধভাবে ৪৪০ কেভির সংযোগ এনে মেশিনটি চালানো হচ্ছিল বলে জানতে পেরেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার বিষয়ে তিনি বলেন, মেয়রের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরিভাবে ৫ হাজার টাকা করে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া ডিএনসিসির পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ টয়লেট এবং সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি জানান, আগুন থেকে রক্ষা পেতে বস্তির পাশের কয়েকটি ঘর ভেঙে ফেলা হয়েছে। এগুলো মেরামত করে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে জানান তিনি। ব্র্যাকের একটি দল ঘটনাস্থলে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে হাঁড়িপাতিলসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র দিয়েছে।