সেই সিনিয়র কর্মকর্তাকে চিহ্নিত করবে এসএমপি
jugantor
আকবরকে পালাতে সাহায্য
সেই সিনিয়র কর্মকর্তাকে চিহ্নিত করবে এসএমপি
ভারতীয় খাসিয়াদের কাছে দেয়া আকবরের বক্তব্যকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে -পুলিশ কমিশনার

  মাহবুবুর রহমান রিপন, সিলেট ব্যুরো  

১২ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেটে পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি এসআই (বরখাস্ত) আকবর ভারতীয় খাসিয়াদের কাছে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা নিয়ে তোলপাড় চলছে। এক সিনিয়র কর্মকর্তার প্ররোচনায় সে দেশ থেকে পালিয়েছিল- এমন বক্তব্যের পর এসএমপির সাবেক কমিশনারসহ উত্তর বিভাগের কর্মকর্তাদের দিকে এখন সন্দেহের তীর। কিন্তু কে এই সিনিয়র কর্মকর্তা? এ নিয়ে গুঞ্জন খোদ এসএমপির সব ফোর্স ও কর্মকর্তাদের মধ্যে।

এ বিষয়ে এসএমপির নবনিযুক্ত কমিশনার মো. নিশারুল আরিফ যুগান্তরকে বলেন, আকবর যে বক্তব্য দিয়েছেন তা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে আমলে নিয়েছে এসএমপি। এখন সে তথ্যের সঙ্গে যেসব প্রমাণ থাকা দরকার তা খোঁজা হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ সাক্ষ্য-প্রমাণ পেলে সেই কর্মকর্তা যিনিই হোন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

১০ অক্টোবর রাতে নগরীর কাস্টঘর থেকে রায়হানকে ধরে বন্দর বাজার ফাঁড়িতে নিয়ে রাতভর নির্যাতনের পর ১১ অক্টোবর সকালে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। আর সেখানেই মারা যায় সে। প্রথমে বিষয়টিকে গণপিটুনিতে মারা গেছে বলে প্রচার করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ। বিকালেই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। গণমাধ্যমে প্রকাশ হতে থাকে মূল ঘটনা।

এরপর ভোল পাল্টে তদন্ত কমিটি করে এসএমপি। তদন্ত কমিটি ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর ১২ অক্টোবর আকবরসহ ৪ জনকে সাময়িক বরখাস্ত ও ৩ জনকে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর ৬ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হলেও অদৃশ্য কারণে আকবরকে নেয়া হয়নি হেফাজতে।

এই সুযোগেই পালিয়ে যায় আকবর। এরপর এসএমপির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, তারা আকবরকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছেন। এই অভিযোগ তদন্তে কমিটি করে পুলিশ সদর দফতর। তদন্তে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়াসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়। যদিও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এরই মধ্যে গোলাম কিবরিয়াকে কমিশনারের পদ থেকে সরিয়ে এসপিবিএন এ পাঠানো হয়েছে।

জানা যায়, আকবর ১৪ অক্টোবর ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর আসামের শিলচরের গোপাল দাশের কাছে আশ্রয় নেন। সেই গোপালের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে আকবরকে ৯ নভেম্বর কানাইঘাট এলাকার ডোনা সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনে সিলেট জেলা পুলিশ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি ভিডিওতে দেখা যায় সীমান্ত এলাকায় আসার পর ভারতীয় খাসিয়াদের জিজ্ঞাসাবাদে আকবর বলেন, ঘটনার পর তার এক সিনিয়র কর্মকর্তা তাকে বলেছিল, তুমি পালিয়ে যাও। ২ মাস পরে পরিস্থিতি ঠাণ্ডা হলে আবার এসো, তখন দেখা যাবে। তারপরই সে পালিয়ে ভারতে যায়।

এমন বক্তব্যের পর আবারও সেই এসএমপি পুলিশের বিরুদ্ধে আকবরকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতার অভিযোগ দৃঢ় হয়েছে মানুষের মনে। সবারই জিজ্ঞাসা কে সেই সিনিয়র কর্মকর্তা? এ নিয়ে এসএমপিতেও কানাঘুষা চলছে।

বুধবার এ নিয়ে কথা হয় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার মো. নিশারুল আরিফের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। আকবরের ওই বক্তব্যকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। আমি চাই সেই কর্মকর্তা চিহ্নিত হোক। সে কারণেই আকবরের বক্তব্যের সঙ্গে যেসব তথ্য প্রমাণ প্রয়োজন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যেহেতু মামলাটি এখন পিবিআই তদন্ত করছে, তাই আকবরকে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ রয়েছে পিবিআইয়ের। সেখান থেকেও তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। সব তথ্য-প্রমাণ মিলিয়ে যদি কোনো কর্মকর্তা চিহ্নিত হন। অবশ্যই তাকে শাস্তি পেতে হবে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।’

আকবরকে ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পিবিআই। গত মঙ্গলবার তাকে রিমান্ডে নেয়া হয়। পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খালেদ-উজ-জামান জানান, সব বিষয়েই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব উদঘাটন করবেন তারা। তাদের কাছে এই ৭ দিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন হলে এর আগে রিমান্ডে নেয়া আসামিদেরও পুনরায় রিমান্ডের আবেদন জানানো হতে পারে। তিনি বলেন, আকবরের পালিয়ে যাওয়ার সঙ্গে যারাই জড়িত থাক সবকিছুই উদঘাটন হবে। অনেক তথ্যই পাওয়া গেছে। তবে তদন্তে স্বার্থে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়।

আকবরকে পালাতে সাহায্য

সেই সিনিয়র কর্মকর্তাকে চিহ্নিত করবে এসএমপি

ভারতীয় খাসিয়াদের কাছে দেয়া আকবরের বক্তব্যকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে -পুলিশ কমিশনার
 মাহবুবুর রহমান রিপন, সিলেট ব্যুরো 
১২ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেটে পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি এসআই (বরখাস্ত) আকবর ভারতীয় খাসিয়াদের কাছে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা নিয়ে তোলপাড় চলছে। এক সিনিয়র কর্মকর্তার প্ররোচনায় সে দেশ থেকে পালিয়েছিল- এমন বক্তব্যের পর এসএমপির সাবেক কমিশনারসহ উত্তর বিভাগের কর্মকর্তাদের দিকে এখন সন্দেহের তীর। কিন্তু কে এই সিনিয়র কর্মকর্তা? এ নিয়ে গুঞ্জন খোদ এসএমপির সব ফোর্স ও কর্মকর্তাদের মধ্যে।

এ বিষয়ে এসএমপির নবনিযুক্ত কমিশনার মো. নিশারুল আরিফ যুগান্তরকে বলেন, আকবর যে বক্তব্য দিয়েছেন তা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে আমলে নিয়েছে এসএমপি। এখন সে তথ্যের সঙ্গে যেসব প্রমাণ থাকা দরকার তা খোঁজা হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ সাক্ষ্য-প্রমাণ পেলে সেই কর্মকর্তা যিনিই হোন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

১০ অক্টোবর রাতে নগরীর কাস্টঘর থেকে রায়হানকে ধরে বন্দর বাজার ফাঁড়িতে নিয়ে রাতভর নির্যাতনের পর ১১ অক্টোবর সকালে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। আর সেখানেই মারা যায় সে। প্রথমে বিষয়টিকে গণপিটুনিতে মারা গেছে বলে প্রচার করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ। বিকালেই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। গণমাধ্যমে প্রকাশ হতে থাকে মূল ঘটনা।

এরপর ভোল পাল্টে তদন্ত কমিটি করে এসএমপি। তদন্ত কমিটি ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর ১২ অক্টোবর আকবরসহ ৪ জনকে সাময়িক বরখাস্ত ও ৩ জনকে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর ৬ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হলেও অদৃশ্য কারণে আকবরকে নেয়া হয়নি হেফাজতে।

এই সুযোগেই পালিয়ে যায় আকবর। এরপর এসএমপির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, তারা আকবরকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছেন। এই অভিযোগ তদন্তে কমিটি করে পুলিশ সদর দফতর। তদন্তে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়াসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়। যদিও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এরই মধ্যে গোলাম কিবরিয়াকে কমিশনারের পদ থেকে সরিয়ে এসপিবিএন এ পাঠানো হয়েছে।

জানা যায়, আকবর ১৪ অক্টোবর ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর আসামের শিলচরের গোপাল দাশের কাছে আশ্রয় নেন। সেই গোপালের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে আকবরকে ৯ নভেম্বর কানাইঘাট এলাকার ডোনা সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনে সিলেট জেলা পুলিশ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি ভিডিওতে দেখা যায় সীমান্ত এলাকায় আসার পর ভারতীয় খাসিয়াদের জিজ্ঞাসাবাদে আকবর বলেন, ঘটনার পর তার এক সিনিয়র কর্মকর্তা তাকে বলেছিল, তুমি পালিয়ে যাও। ২ মাস পরে পরিস্থিতি ঠাণ্ডা হলে আবার এসো, তখন দেখা যাবে। তারপরই সে পালিয়ে ভারতে যায়।

এমন বক্তব্যের পর আবারও সেই এসএমপি পুলিশের বিরুদ্ধে আকবরকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতার অভিযোগ দৃঢ় হয়েছে মানুষের মনে। সবারই জিজ্ঞাসা কে সেই সিনিয়র কর্মকর্তা? এ নিয়ে এসএমপিতেও কানাঘুষা চলছে।

বুধবার এ নিয়ে কথা হয় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার মো. নিশারুল আরিফের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। আকবরের ওই বক্তব্যকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। আমি চাই সেই কর্মকর্তা চিহ্নিত হোক। সে কারণেই আকবরের বক্তব্যের সঙ্গে যেসব তথ্য প্রমাণ প্রয়োজন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যেহেতু মামলাটি এখন পিবিআই তদন্ত করছে, তাই আকবরকে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ রয়েছে পিবিআইয়ের। সেখান থেকেও তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। সব তথ্য-প্রমাণ মিলিয়ে যদি কোনো কর্মকর্তা চিহ্নিত হন। অবশ্যই তাকে শাস্তি পেতে হবে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।’

আকবরকে ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পিবিআই। গত মঙ্গলবার তাকে রিমান্ডে নেয়া হয়। পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খালেদ-উজ-জামান জানান, সব বিষয়েই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব উদঘাটন করবেন তারা। তাদের কাছে এই ৭ দিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন হলে এর আগে রিমান্ডে নেয়া আসামিদেরও পুনরায় রিমান্ডের আবেদন জানানো হতে পারে। তিনি বলেন, আকবরের পালিয়ে যাওয়ার সঙ্গে যারাই জড়িত থাক সবকিছুই উদঘাটন হবে। অনেক তথ্যই পাওয়া গেছে। তবে তদন্তে স্বার্থে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : পুলিশ হেফাজতে রায়হানের মৃত্যু