বৈদেশিক অর্থ কাটছাঁটের প্রক্রিয়া শুরু
jugantor
করোনা মহামারী পরিস্থিতি
বৈদেশিক অর্থ কাটছাঁটের প্রক্রিয়া শুরু

  হামিদ-উজ-জামান  

২২ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা মহামারীর ধাক্কা সামলিয়ে উন্নয়নকে গতিশীল করতে বৈদেশিক সহায়তার বরাদ্দ কাটছাঁটের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় চলতি (২০২০-২১) অর্থবছরে যে বরাদ্দ রয়েছে তার অবস্থা পর্যালোচনা করবে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।

জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ৪ মাসের অর্থ ব্যয়ের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সংশোধিত এডিপির জন্য পুনঃবরাদ্দ নির্ধারণ করা হবে। এ লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সঙ্গে ৮ দিনব্যাপী বৈঠক শুরু হচ্ছে আজ (রোববার) থেকে। এসব বৈঠকে আলাপ-আলোচনার মধ্যদিয়ে ১৭টি খাতে বরাদ্দ প্রস্তাব তৈরি করবে সংস্থাটি। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এসইসি-২ সম্মেলনে কক্ষে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন ইআরডির সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন। সভায় কর্মকর্তাদের উপস্থিত হতে বিশেষ নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে ইআরডির ফাবা (বৈদেশিক সাহায্যের বাজেট ও হিসাব শাখা) উইংয়ের প্রধান ও ইআরডির অতিরিক্ত সচিব ড. পিয়ার মোহাম্মদ শনিবার যুগান্তরকে বলেন, আমরা বিচার-বিবেচনা করে দেখব বৈদেশিক সহায়তা অংশে যে বরাদ্দ আছে সেটি ব্যবহারের কি অবস্থা। তার ওপর ভিত্তি করেই সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ প্রস্তাব করা হবে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অবশ্যই কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মাথায় থাকবে। এজন্য বরাদ্দ কিছুটা কমেও যেতে পারে। তবে আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকবে যে বরাদ্দ আছে সেটি যাতে ব্যয় করা যায়।

সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১১ কোটি টাকা এডিপি বাস্তবায়ন করছে সরকার। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা বা ৬২ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং ৭০ হাজার ৫০২ কোটি টাকা বা ৩২ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এছাড়া সংস্থাগুলোর নিজস্ব অর্থায়ন রয়েছে ৯ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা বা ৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের ৪ মাসে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো বৈদেশিক সহায়তা থেকে ব্যয় করতে পেরেছে ৮ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা। যা মোট বরাদ্দের ১১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এ প্রেক্ষাপটে এডিপি থেকে বৈদেশিক সহায়তা অংশ কাটছাঁটের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, যদি গতানুগতিকভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন চলে তাহলে এ অর্থবছরের বড় অংকের বৈদেশিক সহায়তা কাটছাঁটের আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু কোভিড-১৯ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে অবশ্যই গতানুগতিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এ অর্থবছর প্রকল্প বাস্তবায়ন বাড়িয়ে বৈদেশিক অর্থ ব্যয় বাড়ানো উচিত। মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে এ বিষয়ে তাগাদা দিতে হবে। এখন করোনা থাকলেও কিভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে সে বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত অনেক আছে। এরই ভিত্তিতে কৌশল নির্ধারণ করে প্রকল্পের গতি বাড়ানো দরকার।

ইআরডি সূত্র জানায়, ৮ নভেম্বর মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোতে সিরিজ বৈঠকের চিঠি পাঠিয়েছে ইআরডি। সেখানে দেয়া সময় ও তারিখ অনুযায়ী আজ (২২ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে কৃষি এবং পল্লী উন্নয়নও পল্লী প্রতিষ্ঠান সেক্টরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর বৈঠক। এছাড়া ২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে পানিসম্পদ এবং শিল্প সেক্টর। ২৫ নভেম্বর হবে বিদ্যুৎ এবং যোগাযোগ সেক্টর। ২৬ নভেম্বর হবে তেল-গ্যাস ও প্রাকৃতিক সম্পদ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান সেক্টরের বৈঠক। ২৯ নভেম্বর ভৌত-পরিকল্পনা-পানি সরবরাহ ও গৃহায়ন এবং পরিবহন সেক্টরের বৈঠক। ৩০ নভেম্বর হবে শিক্ষা ও ধর্ম এবং বিজ্ঞান-তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সেক্টরের বৈঠক। এর পর ২ ডিসেম্বর হবে স্বাস্থ্য-পুষ্টি-জনসংখ্যা ও পরিবারকল্যাণ এবং জনপ্রশাসন সেক্টরের। শেষ দিন ৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে সমাজকল্যাণ-মহিলা বিষয়ক ও যুব উন্নয়ন সেক্টর, গণসংযোগ এবং ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সেক্টর সংশিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সঙ্গে বৈঠক। ইআরডির পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের এডিপি বরাদ্দের জুলাই-অক্টোবর পর্যন্ত ব্যায়ন বা বাস্তবায়ন অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে সংশোধিত এডিপির জন্য প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দ নির্ধারণ করা হবে। কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যবিধি পালন করে সভা অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সভায় উপস্থিতি সীমিত করা হয়েছে। এজন্য একজন প্রকল্প পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকতে হবে। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সভায় পূর্ণাঙ্গ তথ্যসহ নির্ধারিত সময়ে কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের কর্মকর্তা বা প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকলে পরে কোনো আপত্তি গ্রহণ করা সম্ভব হবে না।

বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) সূত্র জানায়, গত অর্থবছরের এডিপিতে বৈদেশিক সহায়তার বরাদ্দ ছিল ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বা মোট এডিপির ৩২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। পরে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর অর্থ ব্যয়ে ব্যর্থতায় ৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ দেয়া হয় ৬২ হাজার কোটি টাকা বা মোট সংশোধিত এডিপির ৩০ দশমিক ৮২ শতাংশ। অর্থবছর শেষে ব্যয় হয়েছে আরও কম ৪৭ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৭৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের ৪ মাস পেরিয়ে গেলেও ভূমি মন্ত্রণালয় এক টাকাও খরচ করতে পারেনি। এছাড়া একই অবস্থা ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, সুরক্ষা ও সেবা বিভাগ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের। এছাড়া জননিরাপত্তা বিভাগের অগ্রগতি শূন্য দশমিক ০৩ শতাংশ। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ শূন্য দশমিক ৪০ শতাংশ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (থোক বরাদ্দসহ) শূন্য দশমিক ৭৪ শতাংশ। আইন ও বিচার বিভাগ ১ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক অর্থ ব্যয়ের অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ২৭ শতাংশ। তবে বেশ কিছু মন্ত্রণালয় ও বিভাগ বৈদেশিক অর্থব্যয়ে এগিয়ে রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে- জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। এটির অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৬৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ৬২ দশমিক ৮৬ শতাংশ। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের (থোকসহ) ৪৩ দশমিক ২৭ শতাংশ। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ৪২ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং আইএমইডি অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৩৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

করোনা মহামারী পরিস্থিতি

বৈদেশিক অর্থ কাটছাঁটের প্রক্রিয়া শুরু

 হামিদ-উজ-জামান 
২২ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনা মহামারীর ধাক্কা সামলিয়ে উন্নয়নকে গতিশীল করতে বৈদেশিক সহায়তার বরাদ্দ কাটছাঁটের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় চলতি (২০২০-২১) অর্থবছরে যে বরাদ্দ রয়েছে তার অবস্থা পর্যালোচনা করবে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।

জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ৪ মাসের অর্থ ব্যয়ের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সংশোধিত এডিপির জন্য পুনঃবরাদ্দ নির্ধারণ করা হবে। এ লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সঙ্গে ৮ দিনব্যাপী বৈঠক শুরু হচ্ছে আজ (রোববার) থেকে। এসব বৈঠকে আলাপ-আলোচনার মধ্যদিয়ে ১৭টি খাতে বরাদ্দ প্রস্তাব তৈরি করবে সংস্থাটি। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এসইসি-২ সম্মেলনে কক্ষে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন ইআরডির সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন। সভায় কর্মকর্তাদের উপস্থিত হতে বিশেষ নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে ইআরডির ফাবা (বৈদেশিক সাহায্যের বাজেট ও হিসাব শাখা) উইংয়ের প্রধান ও ইআরডির অতিরিক্ত সচিব ড. পিয়ার মোহাম্মদ শনিবার যুগান্তরকে বলেন, আমরা বিচার-বিবেচনা করে দেখব বৈদেশিক সহায়তা অংশে যে বরাদ্দ আছে সেটি ব্যবহারের কি অবস্থা। তার ওপর ভিত্তি করেই সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ প্রস্তাব করা হবে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অবশ্যই কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মাথায় থাকবে। এজন্য বরাদ্দ কিছুটা কমেও যেতে পারে। তবে আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকবে যে বরাদ্দ আছে সেটি যাতে ব্যয় করা যায়।

সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১১ কোটি টাকা এডিপি বাস্তবায়ন করছে সরকার। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা বা ৬২ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং ৭০ হাজার ৫০২ কোটি টাকা বা ৩২ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এছাড়া সংস্থাগুলোর নিজস্ব অর্থায়ন রয়েছে ৯ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা বা ৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের ৪ মাসে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো বৈদেশিক সহায়তা থেকে ব্যয় করতে পেরেছে ৮ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা। যা মোট বরাদ্দের ১১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এ প্রেক্ষাপটে এডিপি থেকে বৈদেশিক সহায়তা অংশ কাটছাঁটের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, যদি গতানুগতিকভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন চলে তাহলে এ অর্থবছরের বড় অংকের বৈদেশিক সহায়তা কাটছাঁটের আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু কোভিড-১৯ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটাতে হলে অবশ্যই গতানুগতিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এ অর্থবছর প্রকল্প বাস্তবায়ন বাড়িয়ে বৈদেশিক অর্থ ব্যয় বাড়ানো উচিত। মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে এ বিষয়ে তাগাদা দিতে হবে। এখন করোনা থাকলেও কিভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে সে বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত অনেক আছে। এরই ভিত্তিতে কৌশল নির্ধারণ করে প্রকল্পের গতি বাড়ানো দরকার।

ইআরডি সূত্র জানায়, ৮ নভেম্বর মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোতে সিরিজ বৈঠকের চিঠি পাঠিয়েছে ইআরডি। সেখানে দেয়া সময় ও তারিখ অনুযায়ী আজ (২২ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে কৃষি এবং পল্লী উন্নয়নও পল্লী প্রতিষ্ঠান সেক্টরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর বৈঠক। এছাড়া ২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে পানিসম্পদ এবং শিল্প সেক্টর। ২৫ নভেম্বর হবে বিদ্যুৎ এবং যোগাযোগ সেক্টর। ২৬ নভেম্বর হবে তেল-গ্যাস ও প্রাকৃতিক সম্পদ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান সেক্টরের বৈঠক। ২৯ নভেম্বর ভৌত-পরিকল্পনা-পানি সরবরাহ ও গৃহায়ন এবং পরিবহন সেক্টরের বৈঠক। ৩০ নভেম্বর হবে শিক্ষা ও ধর্ম এবং বিজ্ঞান-তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সেক্টরের বৈঠক। এর পর ২ ডিসেম্বর হবে স্বাস্থ্য-পুষ্টি-জনসংখ্যা ও পরিবারকল্যাণ এবং জনপ্রশাসন সেক্টরের। শেষ দিন ৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে সমাজকল্যাণ-মহিলা বিষয়ক ও যুব উন্নয়ন সেক্টর, গণসংযোগ এবং ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সেক্টর সংশিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সঙ্গে বৈঠক। ইআরডির পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের এডিপি বরাদ্দের জুলাই-অক্টোবর পর্যন্ত ব্যায়ন বা বাস্তবায়ন অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে সংশোধিত এডিপির জন্য প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দ নির্ধারণ করা হবে। কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যবিধি পালন করে সভা অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সভায় উপস্থিতি সীমিত করা হয়েছে। এজন্য একজন প্রকল্প পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকতে হবে। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সভায় পূর্ণাঙ্গ তথ্যসহ নির্ধারিত সময়ে কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের কর্মকর্তা বা প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকলে পরে কোনো আপত্তি গ্রহণ করা সম্ভব হবে না।

বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) সূত্র জানায়, গত অর্থবছরের এডিপিতে বৈদেশিক সহায়তার বরাদ্দ ছিল ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বা মোট এডিপির ৩২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। পরে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর অর্থ ব্যয়ে ব্যর্থতায় ৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ দেয়া হয় ৬২ হাজার কোটি টাকা বা মোট সংশোধিত এডিপির ৩০ দশমিক ৮২ শতাংশ। অর্থবছর শেষে ব্যয় হয়েছে আরও কম ৪৭ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৭৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের ৪ মাস পেরিয়ে গেলেও ভূমি মন্ত্রণালয় এক টাকাও খরচ করতে পারেনি। এছাড়া একই অবস্থা ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, সুরক্ষা ও সেবা বিভাগ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের। এছাড়া জননিরাপত্তা বিভাগের অগ্রগতি শূন্য দশমিক ০৩ শতাংশ। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ শূন্য দশমিক ৪০ শতাংশ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (থোক বরাদ্দসহ) শূন্য দশমিক ৭৪ শতাংশ। আইন ও বিচার বিভাগ ১ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক অর্থ ব্যয়ের অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ২৭ শতাংশ। তবে বেশ কিছু মন্ত্রণালয় ও বিভাগ বৈদেশিক অর্থব্যয়ে এগিয়ে রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে- জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। এটির অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৬৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ৬২ দশমিক ৮৬ শতাংশ। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের (থোকসহ) ৪৩ দশমিক ২৭ শতাংশ। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ৪২ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং আইএমইডি অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৩৮ দশমিক ৯৬ শতাংশ।