পুরনো সমীক্ষার ভিত্তিতে নতুন প্রকল্প!
jugantor
ঝিনাইদহ-যশোর হাইওয়ে ৬ লেনে উন্নয়ন
পুরনো সমীক্ষার ভিত্তিতে নতুন প্রকল্প!
৫ বছর আগে সম্ভাব্যতা যাচাই করেছিল এডিবি, অর্থায়ন করছে বিশ্বব্যাংক * কাল একনেকে উঠছে প্রকল্প প্রস্তাব

  হামিদ-উজ-জামান  

২৩ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

৫ বছর আগের করা সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ওপর ভিত্তি করে ঝিনাইদহ-যশোর হাইওয়েকে ৬ লেনে উন্নীত করার প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। এক্ষত্রে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় কোনো প্রশ্নও তোলেনি পরিকল্পনা কমিশন। পুরনো সমীক্ষায় প্রকল্প গ্রহণ করায় শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ব্যয় ও মেয়াদে বাস্তবায়নে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

উইকেয়ার ফেজ-১ : ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক (এন-৭) শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এক হাজার ৪৮২ কোটি টাকা এবং বিশ্বব্যাংকের ঋণ থেকে ২ হাজার ৭০৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। আগামীকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উঠতে পারে প্রকল্পটি। অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর।

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম যুগান্তরকে বলেন, বর্তমানে ৫০ কোটি টাকার ওপরে প্রকল্প নিতে গেলেই সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে হিসেবে প্রস্তাবিত প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা করা হয়েছে ঠিকই; কিন্তু সেটি কিছুটা পুরনো।

৫ বছর বা তা বেশি দিনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হয়ে থাকলে সেটি পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত। কেননা ৫ বছর সময় কম নয়। এর মধ্যে অনেক কিছুরই পরিবর্তন হয়েছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য পরিবর্তিত হয়েছে। তাছাড়া জলবায়ু ও পরিবেশগত পরিবর্তনও হয়ে থাকতে পারে। এমনকি চাহিদার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসতে পারে। তাই নতুন সমীক্ষা; না হয় পুনর্মূল্যায়ন করা জরুরি।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পন) জাকির হোসেন বলেন, ওই সমীক্ষার ওপরই প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছে। তবে বিভাগের প্রকৌশলীরা বর্তমান সময়ের সঙ্গে কিছুটা মেলানোর চেষ্টা করেছেন। এছাড়া কোনো পরামর্শক নিয়োগ দিয়ে আপডেট করা হয়নি।

প্রকল্পটির প্রস্তাবনায় সড়ক ও জনপথ অধিদফতরে (সওজ) থেকে বলা বলা হয়েছে, এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ফর সাব রিজিওনাল রোড ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট প্রিপারেটরি ফ্যাসিলিটি (এসআরটিপিপিএফ-১) প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৫ সালে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে।

সেসময় সড়কটির অ্যানুয়াল এভারেজ ডেইলি ট্রাফিক ছিল ১২ হাজার ৪৪৫টি (ভারি যানবাহন ৪ হাজার ৩৮০ এবং হালকা যানবাহন হচ্ছে ৭ হাজার ৬১৫টি)। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শেষে ২০২৫ সালে মহাসড়কটির ডেইলি ট্রাফিক হবে প্রয় ৩২ হাজার ।

অর্থাৎ ভবিষ্যতে অধিক যানবাহন ধারণে মহাসড়কটির সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। ভবিষ্যতে বাংলাবান্ধা দিয়ে ভারত ও নেপাল এবং বুড়িমারি দিয়ে ভারত ও ভুটানের সঙ্গে উপআঞ্চলিক সড়ক সংযোগ সহজতর হবে। এছাড়া এটি অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হিসেবে দেখানো হয়েছে। এসব বিবেচনায় বিশ্বব্যাংক প্রকল্পটিতে অর্থায়নে সম্মত হয়েছে এবং এটি বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে।

জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সাবেক প্রধান এনায়েত হোসেন বলেন, ৫ বছরের পুরনো সমীক্ষায় অবশ্যই নতুন প্রকল্প নেয়া ঠিক নয়। কেননা এ সময়ে কস্টিং অনেক বেড়ে যেতে পারে। তখন জমির যে অবস্থা ছিল এখন সেই অবস্থায় নাও থাকতে পারে। অনেক কিছুরই পরির্তন ঘটতে পারে।

সাধারণত ২ বছরের পুরনা সমীক্ষাতেই প্রকল্প নেয়া উচিত নয়। সমীক্ষা শেষ হওয়ার পরই ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) তৈরি করতে হবে। অনুমোদনের পরই দেখবেন এটি ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সংশোধন করার প্রয়োজন হতে পারে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এখানে যেহেতু উন্নয়ন সহযোগীরা রয়েছে সেক্ষেত্রে আপডেট হওয়ার কথা।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, যেহেতু বিশ্বব্যাংক এ প্রকল্পের সঙ্গে আছে সেহেতু ধরেই নেয়া যায়, এটির সমীক্ষা আপডেট করা হয়েছে। তা না হলে ৫ বছর আগের সমীক্ষার ওপর নির্ভর করে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের কথা নয়। এটি নিয়মের মধ্যেও পড়ে না।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্র জানায়, ওয়েস্টার্ন ইকনমিক করিডোর অ্যান্ড রিজিওনাল এনহ্যান্সমেন্ট (উইকেয়ার) প্রোগ্রামের আওতায় ২০২০ সালের ২৭ মে বিশ্বব্যাংক ও সরকারের সঙ্গে ৫০ কোটি ডলার ঋণ দেয়ার নেগোসিয়েশন সম্পন্ন হয়েছে। এ ঋণের মধ্যে ৩১ কোটি ৮৫ লাখ ডলার সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের এ প্রকল্পে এবং ১৮ কোটি ১৫ লাখ ডলার এলজিইডির সড়ক উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।

প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডোরের ঝিনাইদহ-যশোর অংশের ৪৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার সড়ক উভয় পাশে সার্ভিস লেনসহ ৬ লেনে উন্নীত করে এ করিডোরটির সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বি^ত করা হবে।

দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে বেনাপোল, ভোমরনা স্থলবন্দর ও মংলা সমুদ্রবন্দরসহ এশিয়ান হাইওয়ে, সার্ক হাইওয়ে করিডোর, বিমসটেক রোড করিডোর ও সাউথ এশিয়ান সাব-রিজিওনাল ইকনমিক কো-অপারেশন (সাসেক) রোড করিডোরের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। ধীরগতিসম্পন্ন যানবাহনের জন্য পৃথক লেন এবং ব্যস্ততম স্থানে ফ্লাইওভার নির্মাণ এবং স্মার্ট হাইওয়ে নির্মাণের জন্য অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল (ওএফসি) এবং সড়ক ব্যবস্থাপনার জন্য ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম স্থাপন করা হবে।

প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ভোমরা-সাতক্ষীরা-নাভারন-যশোর-ঝিনাইদহ-বনপাড়া-হাটিকুমরুল এলাইনমেন্টটি ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডোরের গুরুত্বপূর্ণ রুট, যার দৈর্ঘ্য ২৬০ কিলোমিটার। ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডোর অ্যান্ড রিজিওনাল এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় বিশ্বব্যাংক ও এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (এআইআইবি) ঋণ সহায়তায় ২৬০ কিলোমিটার সম্পূর্ণ করিডোর উন্নয়ন করা হবে।

করিডোরটিকে ৪টি অংশে আলাদা করা হয়েছে, যার মধ্যে ভোমরা-সাতক্ষীরা-নাভারন ৫৮ কিলোমিটার, যশোর-ঝিনাইদহ ৪৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া ৬৬ কিলোমিটার ও কুষ্টিয়া-বনপাড়া-হাটিকুমরুল ৮৭ দশমিক ৫০ কিলোমিটার। এ ৪টি অংশের মধ্যে ভোমরা-সাতক্ষীরা-নাভারন ও যশোর-ঝিনাইদহ অংশ উন্নয়নে বিশ্বব্যাংক এবং ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া ও কুষ্টিয়া-বনপাড়া-হাটিকুমরুল অংশ উন্নয়নে এআইআইবি ঋণ সহায়তা দেবে।

ঝিনাইদহ-যশোর হাইওয়ে ৬ লেনে উন্নয়ন

পুরনো সমীক্ষার ভিত্তিতে নতুন প্রকল্প!

৫ বছর আগে সম্ভাব্যতা যাচাই করেছিল এডিবি, অর্থায়ন করছে বিশ্বব্যাংক * কাল একনেকে উঠছে প্রকল্প প্রস্তাব
 হামিদ-উজ-জামান 
২৩ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

৫ বছর আগের করা সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ওপর ভিত্তি করে ঝিনাইদহ-যশোর হাইওয়েকে ৬ লেনে উন্নীত করার প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। এক্ষত্রে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় কোনো প্রশ্নও তোলেনি পরিকল্পনা কমিশন। পুরনো সমীক্ষায় প্রকল্প গ্রহণ করায় শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ব্যয় ও মেয়াদে বাস্তবায়নে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

উইকেয়ার ফেজ-১ : ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক (এন-৭) শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এক হাজার ৪৮২ কোটি টাকা এবং বিশ্বব্যাংকের ঋণ থেকে ২ হাজার ৭০৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। আগামীকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উঠতে পারে প্রকল্পটি। অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর।

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম যুগান্তরকে বলেন, বর্তমানে ৫০ কোটি টাকার ওপরে প্রকল্প নিতে গেলেই সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে হিসেবে প্রস্তাবিত প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা করা হয়েছে ঠিকই; কিন্তু সেটি কিছুটা পুরনো।

৫ বছর বা তা বেশি দিনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হয়ে থাকলে সেটি পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত। কেননা ৫ বছর সময় কম নয়। এর মধ্যে অনেক কিছুরই পরিবর্তন হয়েছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য পরিবর্তিত হয়েছে। তাছাড়া জলবায়ু ও পরিবেশগত পরিবর্তনও হয়ে থাকতে পারে। এমনকি চাহিদার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসতে পারে। তাই নতুন সমীক্ষা; না হয় পুনর্মূল্যায়ন করা জরুরি।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পন) জাকির হোসেন বলেন, ওই সমীক্ষার ওপরই প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছে। তবে বিভাগের প্রকৌশলীরা বর্তমান সময়ের সঙ্গে কিছুটা মেলানোর চেষ্টা করেছেন। এছাড়া কোনো পরামর্শক নিয়োগ দিয়ে আপডেট করা হয়নি।

প্রকল্পটির প্রস্তাবনায় সড়ক ও জনপথ অধিদফতরে (সওজ) থেকে বলা বলা হয়েছে, এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ফর সাব রিজিওনাল রোড ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট প্রিপারেটরি ফ্যাসিলিটি (এসআরটিপিপিএফ-১) প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৫ সালে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে।

সেসময় সড়কটির অ্যানুয়াল এভারেজ ডেইলি ট্রাফিক ছিল ১২ হাজার ৪৪৫টি (ভারি যানবাহন ৪ হাজার ৩৮০ এবং হালকা যানবাহন হচ্ছে ৭ হাজার ৬১৫টি)। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শেষে ২০২৫ সালে মহাসড়কটির ডেইলি ট্রাফিক হবে প্রয় ৩২ হাজার ।

অর্থাৎ ভবিষ্যতে অধিক যানবাহন ধারণে মহাসড়কটির সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। ভবিষ্যতে বাংলাবান্ধা দিয়ে ভারত ও নেপাল এবং বুড়িমারি দিয়ে ভারত ও ভুটানের সঙ্গে উপআঞ্চলিক সড়ক সংযোগ সহজতর হবে। এছাড়া এটি অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হিসেবে দেখানো হয়েছে। এসব বিবেচনায় বিশ্বব্যাংক প্রকল্পটিতে অর্থায়নে সম্মত হয়েছে এবং এটি বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে।

জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সাবেক প্রধান এনায়েত হোসেন বলেন, ৫ বছরের পুরনো সমীক্ষায় অবশ্যই নতুন প্রকল্প নেয়া ঠিক নয়। কেননা এ সময়ে কস্টিং অনেক বেড়ে যেতে পারে। তখন জমির যে অবস্থা ছিল এখন সেই অবস্থায় নাও থাকতে পারে। অনেক কিছুরই পরির্তন ঘটতে পারে।

সাধারণত ২ বছরের পুরনা সমীক্ষাতেই প্রকল্প নেয়া উচিত নয়। সমীক্ষা শেষ হওয়ার পরই ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) তৈরি করতে হবে। অনুমোদনের পরই দেখবেন এটি ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সংশোধন করার প্রয়োজন হতে পারে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এখানে যেহেতু উন্নয়ন সহযোগীরা রয়েছে সেক্ষেত্রে আপডেট হওয়ার কথা।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, যেহেতু বিশ্বব্যাংক এ প্রকল্পের সঙ্গে আছে সেহেতু ধরেই নেয়া যায়, এটির সমীক্ষা আপডেট করা হয়েছে। তা না হলে ৫ বছর আগের সমীক্ষার ওপর নির্ভর করে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের কথা নয়। এটি নিয়মের মধ্যেও পড়ে না।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্র জানায়, ওয়েস্টার্ন ইকনমিক করিডোর অ্যান্ড রিজিওনাল এনহ্যান্সমেন্ট (উইকেয়ার) প্রোগ্রামের আওতায় ২০২০ সালের ২৭ মে বিশ্বব্যাংক ও সরকারের সঙ্গে ৫০ কোটি ডলার ঋণ দেয়ার নেগোসিয়েশন সম্পন্ন হয়েছে। এ ঋণের মধ্যে ৩১ কোটি ৮৫ লাখ ডলার সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের এ প্রকল্পে এবং ১৮ কোটি ১৫ লাখ ডলার এলজিইডির সড়ক উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।

প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডোরের ঝিনাইদহ-যশোর অংশের ৪৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার সড়ক উভয় পাশে সার্ভিস লেনসহ ৬ লেনে উন্নীত করে এ করিডোরটির সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বি^ত করা হবে।

দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে বেনাপোল, ভোমরনা স্থলবন্দর ও মংলা সমুদ্রবন্দরসহ এশিয়ান হাইওয়ে, সার্ক হাইওয়ে করিডোর, বিমসটেক রোড করিডোর ও সাউথ এশিয়ান সাব-রিজিওনাল ইকনমিক কো-অপারেশন (সাসেক) রোড করিডোরের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। ধীরগতিসম্পন্ন যানবাহনের জন্য পৃথক লেন এবং ব্যস্ততম স্থানে ফ্লাইওভার নির্মাণ এবং স্মার্ট হাইওয়ে নির্মাণের জন্য অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল (ওএফসি) এবং সড়ক ব্যবস্থাপনার জন্য ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম স্থাপন করা হবে।

প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ভোমরা-সাতক্ষীরা-নাভারন-যশোর-ঝিনাইদহ-বনপাড়া-হাটিকুমরুল এলাইনমেন্টটি ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডোরের গুরুত্বপূর্ণ রুট, যার দৈর্ঘ্য ২৬০ কিলোমিটার। ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডোর অ্যান্ড রিজিওনাল এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় বিশ্বব্যাংক ও এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (এআইআইবি) ঋণ সহায়তায় ২৬০ কিলোমিটার সম্পূর্ণ করিডোর উন্নয়ন করা হবে।

করিডোরটিকে ৪টি অংশে আলাদা করা হয়েছে, যার মধ্যে ভোমরা-সাতক্ষীরা-নাভারন ৫৮ কিলোমিটার, যশোর-ঝিনাইদহ ৪৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া ৬৬ কিলোমিটার ও কুষ্টিয়া-বনপাড়া-হাটিকুমরুল ৮৭ দশমিক ৫০ কিলোমিটার। এ ৪টি অংশের মধ্যে ভোমরা-সাতক্ষীরা-নাভারন ও যশোর-ঝিনাইদহ অংশ উন্নয়নে বিশ্বব্যাংক এবং ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া ও কুষ্টিয়া-বনপাড়া-হাটিকুমরুল অংশ উন্নয়নে এআইআইবি ঋণ সহায়তা দেবে।