সুবিধা নিচ্ছেন ইচ্ছাকৃত খেলাপিরাও
jugantor
সাক্ষাৎকারে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এমডি
সুবিধা নিচ্ছেন ইচ্ছাকৃত খেলাপিরাও

  হামিদ বিশ্বাস  

২৩ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ছবি

ব্যাংকিং খাতে খেলাপিঋণ একটি বড় ক্ষত। দীর্ঘদিন ধরে এ ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে খাতটি। ব্যাংক খাতে ইচ্ছাকৃত খেলাপির সমস্যা সব সময় ছিল। করোনায় তা আরও বেড়েছে। যারা আগে টাকা দিতে চাইতেন না, তারা করোনার অজুহাতে এখন টাকা দিচ্ছেন না। উল্টো ভোগ করছেন নানা সুবিধা।

এ মুহূর্তে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিতে হবে। নতুন ব্যবসা সংযোজন ও বিদ্যমান ব্যবসা বহুমুখীকরণের পাশাপাশি খেলাপিঋণ আদায় প্রধান লক্ষ্য হতে হবে। করোনাভাইরাসের কারণে ব্যাংকিং খাতের স্তিমিত আর্থিক পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে ২০২১ মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত লাগতে পারে।

সম্প্রতি যুগান্তরকে দেয়া সাক্ষাৎকারে একথা বলেন সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের (এসআইবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কাজী ওসমান আলী। তিনি বলেন, ‘ঋণ অবলোপন একটি বৈশ্বিক পদ্ধতি; কিন্তু এখানে এর অপব্যবহার হয়। সেজন্য অবলোপনের চেয়ে খেলাপি ঋণ আদায়ে জোর দিতে হবে বেশি।’

নতুন ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রবিশেষ অসফল হওয়ার পেছনের কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বোর্ড এবং ম্যানেজমেন্টের প্রত্যেকের জায়গা আলাদা। কেউ কারও প্রতি প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। যেখানে এর ব্যত্যয় ঘটবে সেখানে সমস্যা হবে। আরেকটি বিষয় হল- যিনি যে ব্যবসা বোঝেন তাকে সে ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া উচিত। তা না হলে ভুল পথে হাঁটবেন তিনি। যা অন্যের পথ চলাকেও কঠিন করে দেবে।’

কাজী ওসমান আলী বলেন, দ্বিতীয় প্রজন্মের ব্যাংক হিসেবে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৯৫ সালের ২২ নভেম্বর। প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর শেষে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা সম্পদের ব্যাংকে পরিণত হয়েছে। আমানত আছে প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকার।

বিনিয়োগ করেছে প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা। দেশব্যাপী ১৬১টি শাখা, ৫৪টি উপশাখা, ১৩৯টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট, ১৪০টি এটিএম বুথ (অন্যান্য প্রায় ২৫০০ এটিএম শেয়ারিং) এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও মোবাইল অ্যাপের সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাহক সেবা দিয়ে যাচ্ছে ব্যাংকটি।

বর্তমানে গ্রাহক সংখ্যা ১৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। দীর্ঘ যাত্রায় দেশীয় শিল্প বিকাশ, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসার, এসএমই উদ্যোক্তা তৈরি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আমদানি-রফতানি, রেমিটেন্স ইত্যাদি ক্ষেত্রে সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করেছে।

তিনি বলেন, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের রয়েছে অত্যন্ত বিজ্ঞ ও মানবিক পরিচালনা পর্ষদ। তাদের বিচক্ষণ দিকনির্দেশনায় বর্তমান সংকটকালে বাহুল্য খরচ কমিয়ে ব্যাংকের প্রফিটাবিলিটি ঠিক রেখেছি।

পরিচালনা পর্ষদ অত্যন্ত কর্মীবান্ধব। বৈশ্বিক মহামারীর কারণে সৃষ্ট সংকটেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা হ্রাস করেননি, উপরন্তু বোনাস, উৎসব ভাতা, প্রণোদনা ভাতা, ইনক্রিমেন্ট প্রদান করে তাদের উজ্জীবিত করেছে।

কাজী ওসমান আলী বলেন, করোনাভাইরাসের এ সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মেনে গ্রাহকদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এক দিনের জন্যও কোনো সেবা বন্ধ ছিল না। যদিও অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন, একজন মারাও গেছেন। তারপরেও থেমে নেই।

কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী উদ্যোক্তাদের স্বল্প মুনাফায় বিনিয়োগ সুবিধা প্রদান করেছি। প্রবাস ফেরতদের জন্য প্রবাসী অগ্রযাত্রা ও প্রবাসী উদ্যোগ নামে চালু করেছি বিশেষ দুটি পুনর্বাসন বিনিয়োগ প্রকল্প।

তিনি বলেন, এসআইবিএলকে ক্রমেই ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের দিকে এগিয়ে নিচ্ছি। পেপারলেস ব্যাংকিংকে উৎসাহিত করতে শাখা পর্যায় থেকে সব প্রস্তাবনা অনলাইনে প্রেরণ এবং অনলাইনেই অনুমোদন করা হয়। এলক্ষ্যে বিদ্যমান ডকুমেন্টারি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমকে (ডিএমএস) আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

২৪ ঘণ্টা ব্যাংকিং সেবা প্রদানের জন্য চালু করেছি একটি পূর্ণাঙ্গ কল সেন্টার। ইন্টারনেট ব্যাংকিং, অনলাইন ব্যাংকিং ও মোবাইল অ্যাপের সুবিধা যুগোপযোগী করেছি এবং সেবার আওতা বাড়িয়েছি। চালু করেছি ই-অ্যাকাউন্ট সেবা। যে কোনো ব্যক্তি এখন ঘরে বসেই মোবাইলে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারছেন।

এর জন্য গ্রাহককে ব্যাংকের শাখায় আসার প্রয়োজন নেই। এছাড়াও মোবাইল অ্যাপ ‘এসআইবিএল নাউ’ এর মাধ্যমে যে কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ফান্ড ট্রান্সফার, বিকাশ অ্যাকাউন্টে ফান্ড ট্রান্সফার, ইউটিলিটি বিল পেমেন্ট, ক্রেডিট কার্ডের বিল পেমেন্ট, মোবাইল রিচার্জসহ নানা ব্যাংকিং কাজ খুব সহজেই করা যায়। ই-অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে গ্রাহক ডিপিএস হিসাবও খুলতে পারবেন এবং টাকা জমা দিতে পারবেন।

এ অ্যাপের সাহায্যে নগদেও টাকা লেনদেন করা যাবে খুব শিগগিরই। এছাড়া চালু করা হচ্ছে ‘কিউআর কোড’ দিয়ে শাখা থেকে টাকা উত্তোলনের ব্যবস্থা, যা আগামী মাসেই শুরু হতে যাচ্ছে। এর ফলে কাউকে চেকবই বা ডেবিট কার্ড সঙ্গে বহন করতে হবে না।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকের ফরেন ট্রেডকে সেন্ট্রালাইজেশনের অধীনে আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। রেমিটেন্স সেবাকে ডিজিটালাইজেশন করা হচ্ছে। ঢাকায় একটি ও চট্টগ্রামে একটি সেন্ট্রালাইজড ট্রেড প্রসেসিং ইউনিট রয়েছে, যেখানে অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা ব্যাংকের সব নন এডি শাখার ফরেন ট্রেড দ্রুত সময়ে প্রসেস করে থাকেন।

প্রধান কার্যালয়ে একটি সেন্ট্রালাইজড রেমিটেন্স প্রসেসিং ইউনিট রয়েছে। বৈধ পথে রেমিটেন্স পাঠালে সরকারি ২ শতাংশ নগদ সহায়তার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ প্রদান করছি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রবাসী আয় দিয়ে খোলা সঞ্চয়ী হিসাবে ১ শতাংশ এবং টার্ম ডিপোজিটে ০.৫০ শতাংশের অধিক মুনাফা প্রদান এবং প্রবাসী আয় স্বত্বভোগীদের বিনিয়োগ গ্রহণে ১ শতাংশ কম মুনাফা চার্জ করা হয়।

এছাড়াও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স দিয়ে সঞ্চয়ী হিসাব খুলে তাতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা রাখলে দেশে আসা-যাওয়ার বিমান টিকিট ও বাড়ি পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

এসব প্রণোদনা প্যাকেজ এবং ব্যাংকের সামগ্রিক সেবার মান বৃদ্ধির ফলে এ বছর রেমিটেন্স ব্যবসা ৪০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এছাড়া মহামারীর মধ্যেও ব্যাংকের বৈদেশিক বাণিজ্যের ঘাটতি কমে বাজার সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি অফশোর ইউনিটের (ওবিইউ) বাণিজ্যেও প্রায় ৩০ শতাংশ আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যাংকের ইমেজ বৃদ্ধির জন্য ইতোমধ্যে মুডিসের আন্তর্জাতিক রেটিং গ্রহণ করেছি।

এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাংকের সঙ্গে করেসপন্ডেন্ট রিলেশন স্থাপনসহ বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত হয়েছে। দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল সেন্টারভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওবিইউর জন্য ১০০ মিলিয়ন ফান্ডের চুক্তি হয়েছে। মূলধন বৃদ্ধির জন্য ব্যাংকের অথরাইজড ক্যাপিটাল ১০০০ কোটি টাকা থেকে ৩০০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।

এসআইবিএল এমডি বলেন, ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বছরব্যাপী নানা ধরনের কর্মসূচি ছিল। এজন্য দীর্ঘ প্রস্তুতিও নিয়েছিলাম। কিন্তু গৌরবের বছরটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন মানুষের জীবন ও জীবিকা উভয়টিই ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে। এ অবস্থায় কর্মসূচিতে কিছুটা কাটছাঁট করতে হয়েছে। সর্বোপরি ব্যাংকের সব গ্রাহক, উদ্যোক্তা, শুভাকাক্সক্ষীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই।

সাক্ষাৎকারে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এমডি

সুবিধা নিচ্ছেন ইচ্ছাকৃত খেলাপিরাও

 হামিদ বিশ্বাস 
২৩ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি
ছবি: সংগৃহীত

ব্যাংকিং খাতে খেলাপিঋণ একটি বড় ক্ষত। দীর্ঘদিন ধরে এ ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে খাতটি। ব্যাংক খাতে ইচ্ছাকৃত খেলাপির সমস্যা সব সময় ছিল। করোনায় তা আরও বেড়েছে। যারা আগে টাকা দিতে চাইতেন না, তারা করোনার অজুহাতে এখন টাকা দিচ্ছেন না। উল্টো ভোগ করছেন নানা সুবিধা।

এ মুহূর্তে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিতে হবে। নতুন ব্যবসা সংযোজন ও বিদ্যমান ব্যবসা বহুমুখীকরণের পাশাপাশি খেলাপিঋণ আদায় প্রধান লক্ষ্য হতে হবে। করোনাভাইরাসের কারণে ব্যাংকিং খাতের স্তিমিত আর্থিক পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে ২০২১ মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত লাগতে পারে।

সম্প্রতি যুগান্তরকে দেয়া সাক্ষাৎকারে একথা বলেন সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের (এসআইবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কাজী ওসমান আলী। তিনি বলেন, ‘ঋণ অবলোপন একটি বৈশ্বিক পদ্ধতি; কিন্তু এখানে এর অপব্যবহার হয়। সেজন্য অবলোপনের চেয়ে খেলাপি ঋণ আদায়ে জোর দিতে হবে বেশি।’

নতুন ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রবিশেষ অসফল হওয়ার পেছনের কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বোর্ড এবং ম্যানেজমেন্টের প্রত্যেকের জায়গা আলাদা। কেউ কারও প্রতি প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। যেখানে এর ব্যত্যয় ঘটবে সেখানে সমস্যা হবে। আরেকটি বিষয় হল- যিনি যে ব্যবসা বোঝেন তাকে সে ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া উচিত। তা না হলে ভুল পথে হাঁটবেন তিনি। যা অন্যের পথ চলাকেও কঠিন করে দেবে।’

কাজী ওসমান আলী বলেন, দ্বিতীয় প্রজন্মের ব্যাংক হিসেবে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৯৫ সালের ২২ নভেম্বর। প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর শেষে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা সম্পদের ব্যাংকে পরিণত হয়েছে। আমানত আছে প্রায় ৩১ হাজার কোটি টাকার।

বিনিয়োগ করেছে প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা। দেশব্যাপী ১৬১টি শাখা, ৫৪টি উপশাখা, ১৩৯টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট, ১৪০টি এটিএম বুথ (অন্যান্য প্রায় ২৫০০ এটিএম শেয়ারিং) এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও মোবাইল অ্যাপের সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাহক সেবা দিয়ে যাচ্ছে ব্যাংকটি।

বর্তমানে গ্রাহক সংখ্যা ১৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। দীর্ঘ যাত্রায় দেশীয় শিল্প বিকাশ, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসার, এসএমই উদ্যোক্তা তৈরি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আমদানি-রফতানি, রেমিটেন্স ইত্যাদি ক্ষেত্রে সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করেছে।

তিনি বলেন, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের রয়েছে অত্যন্ত বিজ্ঞ ও মানবিক পরিচালনা পর্ষদ। তাদের বিচক্ষণ দিকনির্দেশনায় বর্তমান সংকটকালে বাহুল্য খরচ কমিয়ে ব্যাংকের প্রফিটাবিলিটি ঠিক রেখেছি।

পরিচালনা পর্ষদ অত্যন্ত কর্মীবান্ধব। বৈশ্বিক মহামারীর কারণে সৃষ্ট সংকটেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা হ্রাস করেননি, উপরন্তু বোনাস, উৎসব ভাতা, প্রণোদনা ভাতা, ইনক্রিমেন্ট প্রদান করে তাদের উজ্জীবিত করেছে।

কাজী ওসমান আলী বলেন, করোনাভাইরাসের এ সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মেনে গ্রাহকদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এক দিনের জন্যও কোনো সেবা বন্ধ ছিল না। যদিও অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন, একজন মারাও গেছেন। তারপরেও থেমে নেই।

কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী উদ্যোক্তাদের স্বল্প মুনাফায় বিনিয়োগ সুবিধা প্রদান করেছি। প্রবাস ফেরতদের জন্য প্রবাসী অগ্রযাত্রা ও প্রবাসী উদ্যোগ নামে চালু করেছি বিশেষ দুটি পুনর্বাসন বিনিয়োগ প্রকল্প।

তিনি বলেন, এসআইবিএলকে ক্রমেই ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের দিকে এগিয়ে নিচ্ছি। পেপারলেস ব্যাংকিংকে উৎসাহিত করতে শাখা পর্যায় থেকে সব প্রস্তাবনা অনলাইনে প্রেরণ এবং অনলাইনেই অনুমোদন করা হয়। এলক্ষ্যে বিদ্যমান ডকুমেন্টারি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমকে (ডিএমএস) আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

২৪ ঘণ্টা ব্যাংকিং সেবা প্রদানের জন্য চালু করেছি একটি পূর্ণাঙ্গ কল সেন্টার। ইন্টারনেট ব্যাংকিং, অনলাইন ব্যাংকিং ও মোবাইল অ্যাপের সুবিধা যুগোপযোগী করেছি এবং সেবার আওতা বাড়িয়েছি। চালু করেছি ই-অ্যাকাউন্ট সেবা। যে কোনো ব্যক্তি এখন ঘরে বসেই মোবাইলে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারছেন।

এর জন্য গ্রাহককে ব্যাংকের শাখায় আসার প্রয়োজন নেই। এছাড়াও মোবাইল অ্যাপ ‘এসআইবিএল নাউ’ এর মাধ্যমে যে কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ফান্ড ট্রান্সফার, বিকাশ অ্যাকাউন্টে ফান্ড ট্রান্সফার, ইউটিলিটি বিল পেমেন্ট, ক্রেডিট কার্ডের বিল পেমেন্ট, মোবাইল রিচার্জসহ নানা ব্যাংকিং কাজ খুব সহজেই করা যায়। ই-অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে গ্রাহক ডিপিএস হিসাবও খুলতে পারবেন এবং টাকা জমা দিতে পারবেন।

এ অ্যাপের সাহায্যে নগদেও টাকা লেনদেন করা যাবে খুব শিগগিরই। এছাড়া চালু করা হচ্ছে ‘কিউআর কোড’ দিয়ে শাখা থেকে টাকা উত্তোলনের ব্যবস্থা, যা আগামী মাসেই শুরু হতে যাচ্ছে। এর ফলে কাউকে চেকবই বা ডেবিট কার্ড সঙ্গে বহন করতে হবে না।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকের ফরেন ট্রেডকে সেন্ট্রালাইজেশনের অধীনে আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। রেমিটেন্স সেবাকে ডিজিটালাইজেশন করা হচ্ছে। ঢাকায় একটি ও চট্টগ্রামে একটি সেন্ট্রালাইজড ট্রেড প্রসেসিং ইউনিট রয়েছে, যেখানে অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা ব্যাংকের সব নন এডি শাখার ফরেন ট্রেড দ্রুত সময়ে প্রসেস করে থাকেন।

প্রধান কার্যালয়ে একটি সেন্ট্রালাইজড রেমিটেন্স প্রসেসিং ইউনিট রয়েছে। বৈধ পথে রেমিটেন্স পাঠালে সরকারি ২ শতাংশ নগদ সহায়তার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ প্রদান করছি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রবাসী আয় দিয়ে খোলা সঞ্চয়ী হিসাবে ১ শতাংশ এবং টার্ম ডিপোজিটে ০.৫০ শতাংশের অধিক মুনাফা প্রদান এবং প্রবাসী আয় স্বত্বভোগীদের বিনিয়োগ গ্রহণে ১ শতাংশ কম মুনাফা চার্জ করা হয়।

এছাড়াও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স দিয়ে সঞ্চয়ী হিসাব খুলে তাতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা রাখলে দেশে আসা-যাওয়ার বিমান টিকিট ও বাড়ি পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

এসব প্রণোদনা প্যাকেজ এবং ব্যাংকের সামগ্রিক সেবার মান বৃদ্ধির ফলে এ বছর রেমিটেন্স ব্যবসা ৪০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এছাড়া মহামারীর মধ্যেও ব্যাংকের বৈদেশিক বাণিজ্যের ঘাটতি কমে বাজার সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি অফশোর ইউনিটের (ওবিইউ) বাণিজ্যেও প্রায় ৩০ শতাংশ আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যাংকের ইমেজ বৃদ্ধির জন্য ইতোমধ্যে মুডিসের আন্তর্জাতিক রেটিং গ্রহণ করেছি।

এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাংকের সঙ্গে করেসপন্ডেন্ট রিলেশন স্থাপনসহ বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত হয়েছে। দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল সেন্টারভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওবিইউর জন্য ১০০ মিলিয়ন ফান্ডের চুক্তি হয়েছে। মূলধন বৃদ্ধির জন্য ব্যাংকের অথরাইজড ক্যাপিটাল ১০০০ কোটি টাকা থেকে ৩০০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।

এসআইবিএল এমডি বলেন, ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বছরব্যাপী নানা ধরনের কর্মসূচি ছিল। এজন্য দীর্ঘ প্রস্তুতিও নিয়েছিলাম। কিন্তু গৌরবের বছরটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন মানুষের জীবন ও জীবিকা উভয়টিই ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে। এ অবস্থায় কর্মসূচিতে কিছুটা কাটছাঁট করতে হয়েছে। সর্বোপরি ব্যাংকের সব গ্রাহক, উদ্যোক্তা, শুভাকাক্সক্ষীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই।