শীর্ষ দুই পদে পরিবর্তন উজ্জীবিত নেতাকর্মীরা
jugantor
সিরাজগঞ্জ আওয়ামী লীগ
শীর্ষ দুই পদে পরিবর্তন উজ্জীবিত নেতাকর্মীরা

  জেহাদুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ  

২৪ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কোন্দল ও গ্রুপিংয়ে বিভক্ত হয়ে সাংগঠনিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ। তা থেকে দলকে রক্ষায় এগিয়ে এসেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল লতিফ বিশ্বাস ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) আসনের এমপি অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবে মিল্লাত মুন্নাকে রোববার দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। কাউন্সিল না হওয়া পর্যন্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট কেএম হোসেন আলী হাসান ও যুগ্ম সম্পাদক আবদুস সামাদ তালুকদারকে। এতে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন দীর্ঘদিনের ঝিমিয়ে পড়া দলের জন্য নিবেদিত, নির্যাতিত ও বঞ্চিত নেতাকর্মীরা।

দুপুরে দুই শীর্ষ নেতার অব্যাহতির খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দেয়। অনেককে বাঁধভাঙা আনন্দে মেতে উঠতে দেখা যায়। সাংগঠনিক কার্যালয়গুলোয় এবং বিভিন্ন নেতার প্রতিষ্ঠানে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। রাতে কয়েক স্থানে আতশবাজি ও এসএস রোডে চেম্বার অব কমার্স কার্যালয়ের অদূরে ভুরিভোজের আয়োজন করা হয়। সব মিলিয়ে সিরাজগঞ্জ শহরের দৃশ্যই পাল্টে যায়। নতুন নেতৃত্বকে বরণ করে নিতে হাজারো নেতাকর্মী জড়ো হন জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে। কার্যালয়ে দীর্ঘদিন পা দেননি এমন অনেক নেতাকর্মীকেও দেখা যায় এদিন।

সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম আহমেদ শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, পরীক্ষিত, ত্যাগী ও কর্মীবান্ধব নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে জেলা আওয়ামী লীগ প্রাণ ফিরে পেয়েছে। তবে আমাদের সজাগ থাকতে হবে, যাতে মাস্ক পরা কোনো হাইব্রিড আমাদের ডানে-বামে, সামনে-পেছনে অবস্থান নিতে না পারে। আশা করি, নতুন নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে দলে গণতন্ত্র চর্চা ফিরে আসবে এবং দল সুসংগঠিত হবে।

জেলা বাসদের আহ্বায়ক নব কুমার কর্মকার বলেন, অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের হাতে নেতৃত্ব থাকলে গণতান্ত্রিক চর্চা বা শিষ্ঠাচার থাকে না। রাজনৈতিক নেতৃত্ব রাজনৈতিক নেতাদের হাতেই থাকা উচিত। এতে গণতান্ত্রিক চর্চা গড়ে ওঠে। আশা করি, এ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সেই গণতান্ত্রিক চর্চা শুরু হবে।

জেলা জাসদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই তালুকদার বলেন, এটি নিতান্তই আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে তৃণমূল থেকে উঠে আসা নেতারা নেতৃত্ব ফিরে পাওয়ায় ১৪ দল গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করি। জেলা সিপিবির সভাপতি ইসমাইল হোসেন বলেন, আমরা আশা করব, নতুন নেতৃত্ব বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দলকে গড়ে তুলতে অবদান রাখবে।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না। তবে যেকোনো দলেরই হোক না কেন, যারা রাজপথে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে উঠে রাজনীতি করেন এবং যারা দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা, তাদের হাতেই নেতৃত্ব থাকা উঠিত।

জেলা আওয়ামী লীগের নতুন দায়িত্ব পাওয়া (ভারপ্রাপ্ত) সাধারণ সম্পাদক আবদুস সামাদ তালুকদার বলেন, দলের ভেতর চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে। আমাদের সাংগঠনিক অবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। যে অভীষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন, সেখানে পৌঁছাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।

ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট কেএম হোসেন আলী হাসান বলেন, এখন থেকে পার্টি অফিসমুক্ত। নতুন, পুরনো সবাইকে নিয়ে দলকে সুসংগঠিত করা হবে। কোনো ঝগড়া-বিবাদ, প্রতিহিংসা চাই না। তবে অনুপ্রবেশকারীদের দল থেকে বের করে দেয়া হবে।

সিরাজগঞ্জ আওয়ামী লীগ

শীর্ষ দুই পদে পরিবর্তন উজ্জীবিত নেতাকর্মীরা

 জেহাদুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ 
২৪ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কোন্দল ও গ্রুপিংয়ে বিভক্ত হয়ে সাংগঠনিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ। তা থেকে দলকে রক্ষায় এগিয়ে এসেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল লতিফ বিশ্বাস ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) আসনের এমপি অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবে মিল্লাত মুন্নাকে রোববার দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। কাউন্সিল না হওয়া পর্যন্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট কেএম হোসেন আলী হাসান ও যুগ্ম সম্পাদক আবদুস সামাদ তালুকদারকে। এতে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন দীর্ঘদিনের ঝিমিয়ে পড়া দলের জন্য নিবেদিত, নির্যাতিত ও বঞ্চিত নেতাকর্মীরা।

দুপুরে দুই শীর্ষ নেতার অব্যাহতির খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দেয়। অনেককে বাঁধভাঙা আনন্দে মেতে উঠতে দেখা যায়। সাংগঠনিক কার্যালয়গুলোয় এবং বিভিন্ন নেতার প্রতিষ্ঠানে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। রাতে কয়েক স্থানে আতশবাজি ও এসএস রোডে চেম্বার অব কমার্স কার্যালয়ের অদূরে ভুরিভোজের আয়োজন করা হয়। সব মিলিয়ে সিরাজগঞ্জ শহরের দৃশ্যই পাল্টে যায়। নতুন নেতৃত্বকে বরণ করে নিতে হাজারো নেতাকর্মী জড়ো হন জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে। কার্যালয়ে দীর্ঘদিন পা দেননি এমন অনেক নেতাকর্মীকেও দেখা যায় এদিন।

সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম আহমেদ শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, পরীক্ষিত, ত্যাগী ও কর্মীবান্ধব নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে জেলা আওয়ামী লীগ প্রাণ ফিরে পেয়েছে। তবে আমাদের সজাগ থাকতে হবে, যাতে মাস্ক পরা কোনো হাইব্রিড আমাদের ডানে-বামে, সামনে-পেছনে অবস্থান নিতে না পারে। আশা করি, নতুন নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে দলে গণতন্ত্র চর্চা ফিরে আসবে এবং দল সুসংগঠিত হবে।

জেলা বাসদের আহ্বায়ক নব কুমার কর্মকার বলেন, অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের হাতে নেতৃত্ব থাকলে গণতান্ত্রিক চর্চা বা শিষ্ঠাচার থাকে না। রাজনৈতিক নেতৃত্ব রাজনৈতিক নেতাদের হাতেই থাকা উচিত। এতে গণতান্ত্রিক চর্চা গড়ে ওঠে। আশা করি, এ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সেই গণতান্ত্রিক চর্চা শুরু হবে।

জেলা জাসদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই তালুকদার বলেন, এটি নিতান্তই আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে তৃণমূল থেকে উঠে আসা নেতারা নেতৃত্ব ফিরে পাওয়ায় ১৪ দল গতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করি। জেলা সিপিবির সভাপতি ইসমাইল হোসেন বলেন, আমরা আশা করব, নতুন নেতৃত্ব বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দলকে গড়ে তুলতে অবদান রাখবে।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না। তবে যেকোনো দলেরই হোক না কেন, যারা রাজপথে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে উঠে রাজনীতি করেন এবং যারা দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা, তাদের হাতেই নেতৃত্ব থাকা উঠিত।

জেলা আওয়ামী লীগের নতুন দায়িত্ব পাওয়া (ভারপ্রাপ্ত) সাধারণ সম্পাদক আবদুস সামাদ তালুকদার বলেন, দলের ভেতর চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে। আমাদের সাংগঠনিক অবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। যে অভীষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন, সেখানে পৌঁছাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।

ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট কেএম হোসেন আলী হাসান বলেন, এখন থেকে পার্টি অফিসমুক্ত। নতুন, পুরনো সবাইকে নিয়ে দলকে সুসংগঠিত করা হবে। কোনো ঝগড়া-বিবাদ, প্রতিহিংসা চাই না। তবে অনুপ্রবেশকারীদের দল থেকে বের করে দেয়া হবে।