স্ক্র্যাপ ঘোষণায় এলো কংক্রিট ব্লক, ২০ কনটেইনার জব্দ
jugantor
স্ক্র্যাপ ঘোষণায় এলো কংক্রিট ব্লক, ২০ কনটেইনার জব্দ
দেড় কোটি টাকা পাচার হয়েছে-সন্দেহ কাস্টম কর্তৃপক্ষের

  চট্টগ্রাম ব্যুরো  

২৫ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঘোষণা দেয়া হয়েছিল ৫৩৬ টন স্ক্র্যাপ আমদানির। কিন্তু এসেছে বাণিজ্যিকভাবে অনেকটা মূল্যহীন কিংবা কম মূল্যের ১১৫ টন কংক্রিট ব্লক।

মিথ্যা ঘোষণায় আনা এ ধরনের কংক্রিট ব্লকবোঝাই ২০টি কনটেইনার জব্দ করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

সোমবার রাতে আমদানিকৃত পণ্যের চালানটি আটক করা হলেও মঙ্গলবার বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানানো হয়। বেশি মূল্যের পণ্য আমদানির ঘোষণা দিয়ে মূল্যহীন কিংবা নামমাত্র মূল্যের পণ্য এনে আমদানিকারক বিদেশে অর্থ পাচার করে থাকতে পারেন বলে সন্দেহ কাস্টমস কর্তৃপক্ষের। এক্ষেত্রে প্রায় দেড় কোটি টাকা পাচার হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ তাদের।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এআইআর শাখার সহকারী কমিশনার রেজাউল করিম জানান, এই চালানে ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা পাচারের চেষ্টা হয়েছিল কি না অথবা রফতানিকারক এ দেশীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতারণা করেছে কি না, তা অনুসন্ধান করবে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এন্টি মানি লন্ডারিং ইউনিট।

তিনি বলেন, সাধারণত বিদেশে অর্থ পাচারের উদ্দেশ্যে বেশি মূল্যের পণ্য আমদানির ঘোষণা দিয়ে মূল্যহীন কিংবা নামমাত্র মূল্যের পণ্য আনা হয়ে থাকে। আটক চালানের ক্ষেত্রেও বেশি মূল্যের স্ক্র্যাপ আমদানির ঘোষণা দিয়ে আনা হয়েছে বাণিজ্যিকভাবে মূল্যহীন কংক্রিট ব্লক। তাই এক্ষেত্রে বিদেশে অর্থ পাচারের কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

কাস্টম হাউস সূত্র জানায়, কুমিল্লার বুড়িচংয়ের ময়নামতী বাজারের সিন্দুরিয়াপাড়ার ঠিকানায় সাকুরা স্টিল লিমিটেডের নামে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৫৩৬ টন স্ক্র্যাপ আমদানির জন্য রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের দিলকুশা শাখায় একটি আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়। এলসিতে পণ্যের মূল্য ধরা হয় ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৪ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

এলসির আওতায় ২১ এপ্রিল দুবাইয়ের জাবেল আলি বন্দর থেকে এমভি স্মাইলি লেডি জাহাজযোগে ইস্পাত শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে স্ক্র্যাপ ঘোষণায় ২০টি কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দরে আসে।

শিল্পের কাঁচামাল হওয়ায় দ্রুত খালাসের লক্ষ্যে কনটেইনারগুলো সিসিটিসিএল ডিপোতে (বেসরকারি অফডক) পাঠানো হয়। দীর্ঘদিন কনটেইনারগুলো পড়ে থাকলেও আমদানিকারক পণ্য খালাসের আগ্রহ না দেখানোয় সন্দেহ দেখা দেয়।

কাস্টম হাউস সূত্র আরও জানায়, পণ্য খালাসের লক্ষ্যে আমদানিকারক দীর্ঘদিন কোনো ব্যবস্থা নেননি। কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষের কাছেও কোনো ডকুমেন্ট দাখিল করেনি।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টম হাউসের অডিট, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ (এআইআর) টিম কনটেইনারগুলো পরীক্ষার উদ্যোগ নেয়। সোমবার রাতে কনটেইনারগুলো খুলে ৫৩৬ টন স্ক্র্যাপের পরিবর্তে বাণিজ্যিকভাবে মূল্যহীন কিংবা স্বল্পমূল্যের ১১৫ টন কংক্রিট ব্লক পাওয়া যায়।

স্ক্র্যাপ ঘোষণায় এলো কংক্রিট ব্লক, ২০ কনটেইনার জব্দ

দেড় কোটি টাকা পাচার হয়েছে-সন্দেহ কাস্টম কর্তৃপক্ষের
 চট্টগ্রাম ব্যুরো 
২৫ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঘোষণা দেয়া হয়েছিল ৫৩৬ টন স্ক্র্যাপ আমদানির। কিন্তু এসেছে বাণিজ্যিকভাবে অনেকটা মূল্যহীন কিংবা কম মূল্যের ১১৫ টন কংক্রিট ব্লক।

মিথ্যা ঘোষণায় আনা এ ধরনের কংক্রিট ব্লকবোঝাই ২০টি কনটেইনার জব্দ করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

সোমবার রাতে আমদানিকৃত পণ্যের চালানটি আটক করা হলেও মঙ্গলবার বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানানো হয়। বেশি মূল্যের পণ্য আমদানির ঘোষণা দিয়ে মূল্যহীন কিংবা নামমাত্র মূল্যের পণ্য এনে আমদানিকারক বিদেশে অর্থ পাচার করে থাকতে পারেন বলে সন্দেহ কাস্টমস কর্তৃপক্ষের। এক্ষেত্রে প্রায় দেড় কোটি টাকা পাচার হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ তাদের।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এআইআর শাখার সহকারী কমিশনার রেজাউল করিম জানান, এই চালানে ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা পাচারের চেষ্টা হয়েছিল কি না অথবা রফতানিকারক এ দেশীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতারণা করেছে কি না, তা অনুসন্ধান করবে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এন্টি মানি লন্ডারিং ইউনিট।

তিনি বলেন, সাধারণত বিদেশে অর্থ পাচারের উদ্দেশ্যে বেশি মূল্যের পণ্য আমদানির ঘোষণা দিয়ে মূল্যহীন কিংবা নামমাত্র মূল্যের পণ্য আনা হয়ে থাকে। আটক চালানের ক্ষেত্রেও বেশি মূল্যের স্ক্র্যাপ আমদানির ঘোষণা দিয়ে আনা হয়েছে বাণিজ্যিকভাবে মূল্যহীন কংক্রিট ব্লক। তাই এক্ষেত্রে বিদেশে অর্থ পাচারের কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

কাস্টম হাউস সূত্র জানায়, কুমিল্লার বুড়িচংয়ের ময়নামতী বাজারের সিন্দুরিয়াপাড়ার ঠিকানায় সাকুরা স্টিল লিমিটেডের নামে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৫৩৬ টন স্ক্র্যাপ আমদানির জন্য রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের দিলকুশা শাখায় একটি আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়। এলসিতে পণ্যের মূল্য ধরা হয় ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৪ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

এলসির আওতায় ২১ এপ্রিল দুবাইয়ের জাবেল আলি বন্দর থেকে এমভি স্মাইলি লেডি জাহাজযোগে ইস্পাত শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে স্ক্র্যাপ ঘোষণায় ২০টি কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দরে আসে।

শিল্পের কাঁচামাল হওয়ায় দ্রুত খালাসের লক্ষ্যে কনটেইনারগুলো সিসিটিসিএল ডিপোতে (বেসরকারি অফডক) পাঠানো হয়। দীর্ঘদিন কনটেইনারগুলো পড়ে থাকলেও আমদানিকারক পণ্য খালাসের আগ্রহ না দেখানোয় সন্দেহ দেখা দেয়।

কাস্টম হাউস সূত্র আরও জানায়, পণ্য খালাসের লক্ষ্যে আমদানিকারক দীর্ঘদিন কোনো ব্যবস্থা নেননি। কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষের কাছেও কোনো ডকুমেন্ট দাখিল করেনি।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টম হাউসের অডিট, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ (এআইআর) টিম কনটেইনারগুলো পরীক্ষার উদ্যোগ নেয়। সোমবার রাতে কনটেইনারগুলো খুলে ৫৩৬ টন স্ক্র্যাপের পরিবর্তে বাণিজ্যিকভাবে মূল্যহীন কিংবা স্বল্পমূল্যের ১১৫ টন কংক্রিট ব্লক পাওয়া যায়।