শরীয়তপুরে গৃহবধূকে ধর্ষণের পর হত্যায় ৩ জনের ফাঁসি
jugantor
শরীয়তপুরে গৃহবধূকে ধর্ষণের পর হত্যায় ৩ জনের ফাঁসি
তিন জেলায় ৯ জনের যাবজ্জীবন

  যুগান্তর ডেস্ক  

২৬ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় এক গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে ৩ জনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবদুস ছালাম খান এ আদেশ দেন। তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া, গাইবান্ধা ও খাগড়াছড়িতে অপর তিনটি মামলায় ৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালত। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

শরীয়তপুর : মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হল- ডামুড্যা উপজেলার চরঘরোয়া গ্রামের মৃত খোরশেদ মুতাইতের ছেলে আবদুল হক মুতাইত (৪২), দাইমী চরভয়রা গ্রামের মৃত মজিত মুতাইতের ছেলে জাকির হোসেন মুতাইত (৩৩) ও গোসাইরহাট উপজেলার মধ্যকোদালপুর গ্রামের মৃত লুৎফর খবিরের ছেলে মোর্শেদ উকিল (৫৬)। ওই মামলায় বাকি ৯ আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার পর তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট ফিরোজ আহমেদ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২০ জানুয়ারি রাত ৯টার দিকে ডামুড্যা উপজেলার চরভয়রা উকিল পাড়া গ্রামের খোকন উকিলের স্ত্রী হাওয়া বেগম পাশের বাড়িতে মোবাইল ফোনে চার্জ দিতে গিয়ে নিখোঁজ হন। একই এলাকার মজিবুর রহমান চৌকিদারের পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে হাওয়া বেগমকে ধর্ষণ করে মোর্শেদ, আবদুল হক ও জাকির। পরে মাথায় আঘাত করে ও শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়। পরদিন সকালে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী খোকন উকিল বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামি করে ডামুড্যা থানায় একটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর ৯ জনসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, এ রায়ে আমরা ন্যায়বিচার পাইনি। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, বাদী পক্ষ ন্যায়বিচার পেয়েছে। এ রায়ে তারা সন্তুষ্ট।

গাইবান্ধা : গাইবান্ধা নারী ও শিশু দমন ট্রাইব্যুনাল বুধবার স্কুলছাত্রী ধর্ষণের মামলায় মারুফুল ইসলাম ওরফে মারুফ নামে এক যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুরাদ এ মওলা সোহেল এ রায় দেন। ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর দুপুরে গাইবান্ধা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী ক্লাস শেষে বাড়ি ফেরার সময় ওই এলাকার মজলুর রহমানের ছেলে মারুফ তাকে অপহরণ করে টাঙ্গাইলে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা গাইবান্ধা সদর থানায় মামলা করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : হত্যা মামলায় ৫ জনকে যাবজ্জীবন ও তিনজনকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ সফিউল আজম এ রায় দেন। আসামিরা হলেন- জেলার সরাইল উপজেলার সৈয়দটুলা ফকিরপাড়া গ্রামের শফিকুর রহমান খন্দকার (শাফি), মোর্শেদ খন্দকার, সাহেদ আলম খন্দকার, আবদুল হাই ও মোবারক। এর মধ্যে মোর্শেদ খন্দকার ও মোবারক পলাতক। রায়ে সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- হেলিম মিয়া, আবুল বাদশা ও মামুন মিয়া। এর মধ্যে আবুল বাদশা পলাতক। ২০১৪ সালের ১৩ আগস্ট রাতে সৈয়দটুলা জাহাঙ্গীরপাড়া গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধে আসামিদের হাতে খুন হন ওই গ্রামের শওকত আলী। পরে তার ভাই আবদুল বাতেন বাদী হয়ে সরাইল থানায় হত্যা মামলা করেন।

খাগড়াছড়ি : দুই নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার বিকালে খাগড়াছড়ি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাং আবু তাহের এ সাজা দেন। জেলার মানিকছড়িতে পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মোস্তাফিজুর রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। একই সঙ্গে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয় তাকে। অনাদায়ে আরও ৬ মাসের জেল দেয়া হয়। তবে আসামি পলাতক রয়েছে। অন্যদিকে রামগড়ে নিজ মেয়েকে ধর্ষণ ও ধর্ষণের সহযোগিতার অভিযোগে আবুল কাসেম ও তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। অনাদায়ে আরও ৬ মাস করে জেল দেয়া হয়।

ফেনী : ফেনী আদালতের এজলাস কক্ষ থেকে ফৌজদারি মামলার নথি ও আপিলের নথি চুরির দায়ে নুরুল হক প্রকাশ জামাল উদ্দিনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন এ রায় দেন। নুরুল হক লাঙ্গলকোট থানার রায়কোট গ্রামের মৃত আতাউর রহমানের ছেলে।

শরীয়তপুরে গৃহবধূকে ধর্ষণের পর হত্যায় ৩ জনের ফাঁসি

তিন জেলায় ৯ জনের যাবজ্জীবন
 যুগান্তর ডেস্ক 
২৬ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় এক গৃহবধূকে দলবেঁধে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে ৩ জনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার শরীয়তপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবদুস ছালাম খান এ আদেশ দেন। তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া, গাইবান্ধা ও খাগড়াছড়িতে অপর তিনটি মামলায় ৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালত। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

শরীয়তপুর : মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হল- ডামুড্যা উপজেলার চরঘরোয়া গ্রামের মৃত খোরশেদ মুতাইতের ছেলে আবদুল হক মুতাইত (৪২), দাইমী চরভয়রা গ্রামের মৃত মজিত মুতাইতের ছেলে জাকির হোসেন মুতাইত (৩৩) ও গোসাইরহাট উপজেলার মধ্যকোদালপুর গ্রামের মৃত লুৎফর খবিরের ছেলে মোর্শেদ উকিল (৫৬)। ওই মামলায় বাকি ৯ আসামিকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার পর তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট ফিরোজ আহমেদ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২০ জানুয়ারি রাত ৯টার দিকে ডামুড্যা উপজেলার চরভয়রা উকিল পাড়া গ্রামের খোকন উকিলের স্ত্রী হাওয়া বেগম পাশের বাড়িতে মোবাইল ফোনে চার্জ দিতে গিয়ে নিখোঁজ হন। একই এলাকার মজিবুর রহমান চৌকিদারের পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে হাওয়া বেগমকে ধর্ষণ করে মোর্শেদ, আবদুল হক ও জাকির। পরে মাথায় আঘাত করে ও শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়। পরদিন সকালে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী খোকন উকিল বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামি করে ডামুড্যা থানায় একটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর ৯ জনসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, এ রায়ে আমরা ন্যায়বিচার পাইনি। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, বাদী পক্ষ ন্যায়বিচার পেয়েছে। এ রায়ে তারা সন্তুষ্ট।

গাইবান্ধা : গাইবান্ধা নারী ও শিশু দমন ট্রাইব্যুনাল বুধবার স্কুলছাত্রী ধর্ষণের মামলায় মারুফুল ইসলাম ওরফে মারুফ নামে এক যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুরাদ এ মওলা সোহেল এ রায় দেন। ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর দুপুরে গাইবান্ধা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী ক্লাস শেষে বাড়ি ফেরার সময় ওই এলাকার মজলুর রহমানের ছেলে মারুফ তাকে অপহরণ করে টাঙ্গাইলে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা গাইবান্ধা সদর থানায় মামলা করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : হত্যা মামলায় ৫ জনকে যাবজ্জীবন ও তিনজনকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ সফিউল আজম এ রায় দেন। আসামিরা হলেন- জেলার সরাইল উপজেলার সৈয়দটুলা ফকিরপাড়া গ্রামের শফিকুর রহমান খন্দকার (শাফি), মোর্শেদ খন্দকার, সাহেদ আলম খন্দকার, আবদুল হাই ও মোবারক। এর মধ্যে মোর্শেদ খন্দকার ও মোবারক পলাতক। রায়ে সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- হেলিম মিয়া, আবুল বাদশা ও মামুন মিয়া। এর মধ্যে আবুল বাদশা পলাতক। ২০১৪ সালের ১৩ আগস্ট রাতে সৈয়দটুলা জাহাঙ্গীরপাড়া গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধে আসামিদের হাতে খুন হন ওই গ্রামের শওকত আলী। পরে তার ভাই আবদুল বাতেন বাদী হয়ে সরাইল থানায় হত্যা মামলা করেন।

খাগড়াছড়ি : দুই নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার বিকালে খাগড়াছড়ি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাং আবু তাহের এ সাজা দেন। জেলার মানিকছড়িতে পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মোস্তাফিজুর রহমানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। একই সঙ্গে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয় তাকে। অনাদায়ে আরও ৬ মাসের জেল দেয়া হয়। তবে আসামি পলাতক রয়েছে। অন্যদিকে রামগড়ে নিজ মেয়েকে ধর্ষণ ও ধর্ষণের সহযোগিতার অভিযোগে আবুল কাসেম ও তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে। অনাদায়ে আরও ৬ মাস করে জেল দেয়া হয়।

ফেনী : ফেনী আদালতের এজলাস কক্ষ থেকে ফৌজদারি মামলার নথি ও আপিলের নথি চুরির দায়ে নুরুল হক প্রকাশ জামাল উদ্দিনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন এ রায় দেন। নুরুল হক লাঙ্গলকোট থানার রায়কোট গ্রামের মৃত আতাউর রহমানের ছেলে।