জিসানকে হত্যার পর লাশ পদ্মায় ফেলে ৫ বন্ধু
jugantor
পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি
জিসানকে হত্যার পর লাশ পদ্মায় ফেলে ৫ বন্ধু

  মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি  

২৮ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকার কলেজছাত্র জিসানকে হত্যার পর পাটুরিয়া ফেরিঘাটের কাছে পদ্মায় ভাসিয়ে দেয় পাঁচ বন্ধু। প্রেমঘটিত বিষয়ের জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়। পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় জড়িত পাঁচ বন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তারা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। তারা জিসানের শরীরে চাকু দিয়ে ৩২টি আঘাত করে। পরে মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে নদীতে লাশ ফেলে দেয়।

নিহত জিসান ঢাকার মোহাম্মদপুরের কাদেরাবাদ এলাকার শাহিন আলমের ছেলে এবং মোহাম্মদপুর হাজী মুকবুল হোসেন ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। ১৮ নভেম্বর মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটের কাছ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে পুলিশ জিসানের লাশ উদ্ধার করে। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে শনাক্ত করেন।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ১৫ নভেম্বর জিসান ঢাকা থেকে নানার বাড়ি যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। জিসানের পরিবার অনেক খোঁজাখুঁজির পর মোহাম্মদপুর থানায় একটি জিডি করেন। পরে জিসানের লাশ উদ্ধার ও শনাক্তের পর হত্যাকারীদের খোঁজে মাঠে নামে মানিকগঞ্জের শিবালয় থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে বৃহস্পতিবার রাতভর অভিযানে পাঁচজনকে আটক করে তারা।

শিবালয় থানার ওসি ফিরোজ কবির বলেন, আমরা জিসানের কললিস্টে প্রান্তিক নামের একজনের নম্বর পাই। পরে অনেক তদন্ত করে জানতে পারি তার আরেক নাম রাব্বি হোসেন (১৮)। তাকে আটক করার পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন হতে থাকে। রাব্বি শিবালয় উপজেলার পাচুরিয়া এলাকার জুলহাসের ছেলে। এরপর একে একে তার চার বন্ধুকে আটক করা হয়। তারা হলেন : ছোট শাকরাইল এলাকার ঝাড়ু মোল্লার ছেলে নাজমুল (১৮), সমেজ মোল্লার ছেলে শরিফ হোসেন (১৮), জামাল মোল্লার ছেলে আজিজুল (১৮), ঢাকাইজোড়া এলাকার শামীম হাসানের ছেলে হাসিবুন হাসান (১৮)। শুক্রবার তাদের ১০ দিন রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) আশীষ কুমার সান্যাল জানান, এ ঘটনায় জিসানের বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিবালয় সার্কেল) তানিয়া সুলতানা জানান, আসামিদের ভাষ্যমতে প্রধান আসামি রাব্বির সঙ্গে এক মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তার সঙ্গে দেখা করতে ঢাকায় গেলে জিসানের কয়েকজন বন্ধু রাব্বির মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং অপমান করে। কারণ, ওই মেয়ের সঙ্গে জিসানেরও সম্পর্ক ছিল। এরপর থেকে রাব্বি প্রতিশোধ নেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। জিসান ছিল তার পূর্বপরিচিত। মেয়েটির নানির বাড়ি শিবালয়ের ছোট শাকরাইল এলাকায়। জিসানকে সেখানে দেখা করতে খবর দেয় রাব্বি। ১৫ নভেম্বর রাতে জিসান পাটুরিয়া ঘাটে এসে নামে। এ সময় রাব্বিসহ পাঁচ বন্ধু মিলে তাকে পাটুরিয়া ট্রাক টার্মিনালের কাছে নদীর চরে নিয়ে রশি দিয়ে হাত বেঁধে চাকু দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। পরে লাশ পদ্মায় ফেলে দেয়।

মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম জানান, মামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিবালয় সার্কেল ও শিবালয় থানার যৌথ প্রচেষ্টায় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে।

পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি

জিসানকে হত্যার পর লাশ পদ্মায় ফেলে ৫ বন্ধু

 মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি 
২৮ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকার কলেজছাত্র জিসানকে হত্যার পর পাটুরিয়া ফেরিঘাটের কাছে পদ্মায় ভাসিয়ে দেয় পাঁচ বন্ধু। প্রেমঘটিত বিষয়ের জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়। পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় জড়িত পাঁচ বন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তারা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। তারা জিসানের শরীরে চাকু দিয়ে ৩২টি আঘাত করে। পরে মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে নদীতে লাশ ফেলে দেয়।

নিহত জিসান ঢাকার মোহাম্মদপুরের কাদেরাবাদ এলাকার শাহিন আলমের ছেলে এবং মোহাম্মদপুর হাজী মুকবুল হোসেন ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। ১৮ নভেম্বর মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটের কাছ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে পুলিশ জিসানের লাশ উদ্ধার করে। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে শনাক্ত করেন।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ১৫ নভেম্বর জিসান ঢাকা থেকে নানার বাড়ি যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। জিসানের পরিবার অনেক খোঁজাখুঁজির পর মোহাম্মদপুর থানায় একটি জিডি করেন। পরে জিসানের লাশ উদ্ধার ও শনাক্তের পর হত্যাকারীদের খোঁজে মাঠে নামে মানিকগঞ্জের শিবালয় থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে বৃহস্পতিবার রাতভর অভিযানে পাঁচজনকে আটক করে তারা।

শিবালয় থানার ওসি ফিরোজ কবির বলেন, আমরা জিসানের কললিস্টে প্রান্তিক নামের একজনের নম্বর পাই। পরে অনেক তদন্ত করে জানতে পারি তার আরেক নাম রাব্বি হোসেন (১৮)। তাকে আটক করার পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন হতে থাকে। রাব্বি শিবালয় উপজেলার পাচুরিয়া এলাকার জুলহাসের ছেলে। এরপর একে একে তার চার বন্ধুকে আটক করা হয়। তারা হলেন : ছোট শাকরাইল এলাকার ঝাড়ু মোল্লার ছেলে নাজমুল (১৮), সমেজ মোল্লার ছেলে শরিফ হোসেন (১৮), জামাল মোল্লার ছেলে আজিজুল (১৮), ঢাকাইজোড়া এলাকার শামীম হাসানের ছেলে হাসিবুন হাসান (১৮)। শুক্রবার তাদের ১০ দিন রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) আশীষ কুমার সান্যাল জানান, এ ঘটনায় জিসানের বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিবালয় সার্কেল) তানিয়া সুলতানা জানান, আসামিদের ভাষ্যমতে প্রধান আসামি রাব্বির সঙ্গে এক মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তার সঙ্গে দেখা করতে ঢাকায় গেলে জিসানের কয়েকজন বন্ধু রাব্বির মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং অপমান করে। কারণ, ওই মেয়ের সঙ্গে জিসানেরও সম্পর্ক ছিল। এরপর থেকে রাব্বি প্রতিশোধ নেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। জিসান ছিল তার পূর্বপরিচিত। মেয়েটির নানির বাড়ি শিবালয়ের ছোট শাকরাইল এলাকায়। জিসানকে সেখানে দেখা করতে খবর দেয় রাব্বি। ১৫ নভেম্বর রাতে জিসান পাটুরিয়া ঘাটে এসে নামে। এ সময় রাব্বিসহ পাঁচ বন্ধু মিলে তাকে পাটুরিয়া ট্রাক টার্মিনালের কাছে নদীর চরে নিয়ে রশি দিয়ে হাত বেঁধে চাকু দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। পরে লাশ পদ্মায় ফেলে দেয়।

মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম জানান, মামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিবালয় সার্কেল ও শিবালয় থানার যৌথ প্রচেষ্টায় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে।