সোনাইমুড়ীতে ডেকে নিয়ে স্কুলছাত্রকে হত্যার অভিযোগ
jugantor
সোনাইমুড়ীতে ডেকে নিয়ে স্কুলছাত্রকে হত্যার অভিযোগ
২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

  সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী) প্রতিনিধি  

২৮ নভেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে এক স্কুলছাত্রকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশ নাওতলা গ্রামের মাহবুবুর রহমানের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন (২৪) ও পৌর এলাকার পূর্ব পাড়ার কামাল হোসেনের ছেলে ইকবাল হোসেন যুবরাজকে (২৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোনাইমুড়ী পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ আবু বকর ছিদ্দিক দুলালকে থানায় নেয়া হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে নিহতের মা রোকসানা বেগম বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনকে আসামি করে সোনাইমুড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। নিহত শাহাদাত হোসেন (১৬) কাঁঠালি এলাকার মীর হোসেনের ছেলে। সে সোনাইমুড়ী সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী।

পরিবার ও স্থানীরা জানান, মঙ্গলবার রাতে পৌর এলাকার কাঁঠালি গ্রামের কাদের মাস্টারবাড়ির জামাল হোসেনের ছেলে সুমন (৩৫) নিজ ঘরে চিহ্নিত কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীকে নিয়ে হাঁসপার্টি করে। এ সময় সুমন একই বাড়ির মীর হোসেনের ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী শাহাদাতকে কাজের জন্য ডেকে নেয়। ওই পার্টিতে সুমন ও তার বন্ধুরা মাদক সেবনকালে শাহাদাত এর ভিডিও ধারণ করে। ভিডিও ধারণের বিষয়টি টের পেয়ে বুধবার সকাল ৯টার দিকে সুমন ও তার সহযোগীরা শাহাদাতকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায়। সারা দিন বাড়িতে না ফেরায় তার পরিবারের লোকজন বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করে কোথাও শাহাদাতের সন্ধান পাননি। পরে নিহতের মা রোকসানা আক্তার স্থানীয় কাউন্সিলর হাফেজ আবু বকর ছিদ্দিক দুলালের কাছে গেলে সে বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো বকঝকা দিয়ে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। ওইদিন সন্ধ্যায় সুমন বাড়িতে গেলে স্থানীয়রা তাকে আটক করেন। পরে কাউন্সিলরের নির্দেশে নাওতলা গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে তানভির হোসেনসহ একদল সন্ত্রাসী সুমনকে জোরপূর্বক ছাড়িয়ে নেয়। বৃহস্পতিবার ৩টার দিকে বাড়ির পুকুরে ভাসমান অবস্থায় একটি লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি সোনাইমুড়ী থানাকে অবগত করলে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

নিহতের মা রোকসানা বেগম অভিযোগ করে বলেন, বুধবার সকালে সুমন ও তার বন্ধু পার্শ্ববর্তী নাওতলা গ্রামের রিয়াজ আমার ছেলে শাহাদাতকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে শাহাদাতের কোনো খবর না পেয়ে বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিলর দুলালকে অবগত করি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সুমন প্রায়ই বহিরাগত ছেলেদের নিয়ে তাদের বাড়িতে এসে মাদক সেবন করত। মঙ্গলবার রাতেও সে কয়েকজনকে নিয়ে মাদক সেবন করে। সুমনের এসব কর্মকাণ্ড শাহাদাত জেনে ফেলায় তাকে হত্যা করেছে সুমন ও তার সহযোগীরা।

নিহতের মামা দিল মোহাম্মদ জানান, স্থানীয় কাউন্সিলরের অবহেলার কারণে তার ভাগিনা খুন হয়েছে। কাউন্সিলর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিলে তার ভাগিনা অকালে ঝরে যেত না।

সোনাইমুড়ী থানার ওসি গিয়াস উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে তাদের বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সোনাইমুড়ীতে ডেকে নিয়ে স্কুলছাত্রকে হত্যার অভিযোগ

২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
 সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী) প্রতিনিধি 
২৮ নভেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে এক স্কুলছাত্রকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশ নাওতলা গ্রামের মাহবুবুর রহমানের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন (২৪) ও পৌর এলাকার পূর্ব পাড়ার কামাল হোসেনের ছেলে ইকবাল হোসেন যুবরাজকে (২৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোনাইমুড়ী পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ আবু বকর ছিদ্দিক দুলালকে থানায় নেয়া হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে নিহতের মা রোকসানা বেগম বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনকে আসামি করে সোনাইমুড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। নিহত শাহাদাত হোসেন (১৬) কাঁঠালি এলাকার মীর হোসেনের ছেলে। সে সোনাইমুড়ী সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী।

পরিবার ও স্থানীরা জানান, মঙ্গলবার রাতে পৌর এলাকার কাঁঠালি গ্রামের কাদের মাস্টারবাড়ির জামাল হোসেনের ছেলে সুমন (৩৫) নিজ ঘরে চিহ্নিত কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীকে নিয়ে হাঁসপার্টি করে। এ সময় সুমন একই বাড়ির মীর হোসেনের ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী শাহাদাতকে কাজের জন্য ডেকে নেয়। ওই পার্টিতে সুমন ও তার বন্ধুরা মাদক সেবনকালে শাহাদাত এর ভিডিও ধারণ করে। ভিডিও ধারণের বিষয়টি টের পেয়ে বুধবার সকাল ৯টার দিকে সুমন ও তার সহযোগীরা শাহাদাতকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায়। সারা দিন বাড়িতে না ফেরায় তার পরিবারের লোকজন বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করে কোথাও শাহাদাতের সন্ধান পাননি। পরে নিহতের মা রোকসানা আক্তার স্থানীয় কাউন্সিলর হাফেজ আবু বকর ছিদ্দিক দুলালের কাছে গেলে সে বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো বকঝকা দিয়ে তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। ওইদিন সন্ধ্যায় সুমন বাড়িতে গেলে স্থানীয়রা তাকে আটক করেন। পরে কাউন্সিলরের নির্দেশে নাওতলা গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে তানভির হোসেনসহ একদল সন্ত্রাসী সুমনকে জোরপূর্বক ছাড়িয়ে নেয়। বৃহস্পতিবার ৩টার দিকে বাড়ির পুকুরে ভাসমান অবস্থায় একটি লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি সোনাইমুড়ী থানাকে অবগত করলে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

নিহতের মা রোকসানা বেগম অভিযোগ করে বলেন, বুধবার সকালে সুমন ও তার বন্ধু পার্শ্ববর্তী নাওতলা গ্রামের রিয়াজ আমার ছেলে শাহাদাতকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে শাহাদাতের কোনো খবর না পেয়ে বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিলর দুলালকে অবগত করি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সুমন প্রায়ই বহিরাগত ছেলেদের নিয়ে তাদের বাড়িতে এসে মাদক সেবন করত। মঙ্গলবার রাতেও সে কয়েকজনকে নিয়ে মাদক সেবন করে। সুমনের এসব কর্মকাণ্ড শাহাদাত জেনে ফেলায় তাকে হত্যা করেছে সুমন ও তার সহযোগীরা।

নিহতের মামা দিল মোহাম্মদ জানান, স্থানীয় কাউন্সিলরের অবহেলার কারণে তার ভাগিনা খুন হয়েছে। কাউন্সিলর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিলে তার ভাগিনা অকালে ঝরে যেত না।

সোনাইমুড়ী থানার ওসি গিয়াস উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে তাদের বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।