মুখ থুবড়ে পড়ছে এলপিজি খাত
jugantor
অসুস্থ প্রতিযোগিতা
মুখ থুবড়ে পড়ছে এলপিজি খাত
অরাজক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা সংশোধনসহ ৭ প্রস্তাব

  শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, চট্টগ্রাম ব্যুরো  

০২ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত দেশের বিকাশমান এলপিজি (লিকুফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) খাতটি অসুস্থ প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে।

উৎপাদন পর্যায়ে মূসক আরোপ, ট্যারিফ ভ্যাট প্রত্যাহার, স্টোরেজ ক্যাপাসিটি বৃদ্ধিসহ নতুন নীতিমালায় বেশকিছু কঠিন শর্ত আরোপের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন নীতিমালায় গুটিকয়েক বড় কোম্পানি লাভবান হলেও মাঝারি পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের শত শত কোটি টাকার বিনিয়োগ পড়েছে হুমকির মুখে।

এখন মুদি দোকান, ফার্মেসি থেকে শুরু করে পথে পথে বিক্রি হচ্ছে গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার। আবার একই গ্যাস একেক কোম্পানি ইচ্ছামতো একেক দামে বিক্রি করছে। এতে ঠকছেন ভোক্তারা। এই অরাজক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও এ খাতটিকে চাঙ্গা করতে নীতিমালা সংশোধনসহ ৭ দফা প্রস্তাব করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটির কমিশনের কাছে এসব প্রস্তাব পেশ করে তা কার্যকরের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

’৮০-র দশক থেকে বাংলাদেশে বোতলজাত বা সিলিন্ডার গ্যাসের বাজারজাত শুরু হয়। ’৯০-র দশক থেকে তা বাড়তে থাকে। বর্তমানে শতভাগ আমদানিনির্ভর এই গ্যাসের চাহিদা বছরে ১২ লাখ মেট্রিক টন। আর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

সূত্র জানায়, ব্যবসাবান্ধব নীতির আলোকে বোতলজাত এই গ্যাসের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার জন্য বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় ৫৭টি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স প্রদান করে। এর মধ্যে ২৯টি প্রতিষ্ঠান এ খাতে ১৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে।

পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় লক্ষাধিক লোকের। এছাড়া উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতি থাকার কারণে এলপিজি বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এর ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ বা পশ্চাতসংযোগ শিল্প হিসেবে সিলিন্ডার উৎপাদনের জন্য ২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে অন্তত ১৪টি কারখানা গড়ে তোলে। দেশে সিলিন্ডার উৎপাদন শুরু হওয়ায় আমদানিনির্ভরতা কমে আসে। সাশ্রয় হয় বৈদেশিক মুদ্রা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে এ খাতে সিলিন্ডার উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ হারে মূসক আরোপ করা হয়। আমদানি পর্যায়ে একই হারে কমানো হয়। এ কারণে দেশে উৎপাদনকারী সিলিন্ডারের মূল্য আমদানিকৃত সিলিন্ডারের চেয়ে বেশি পড়ছে। এতে দেশে গড়ে ওঠা নতুন কারখানাগুলো অস্তিত্ব সংকটে পড়তে শুরু করে।

তা ছাড়া এলপি গ্যাসে ইউনিটপ্রতি ৯ টাকা (১২ কেজি) ট্যারিফ ভ্যাট প্রচলিত থাকলেও গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তা উঠিয়ে বিক্রয়মূল্যের ওপর ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ করা হয়। এতে ভ্যাটের পরিমাণ এক লাফে ৯ টাকা থেকে ৪-৫ গুণ বৃদ্ধি পায়।

অর্থাৎ আগে প্রতি সিলিন্ডার গ্যাসের ওপর ৮ থেকে ১২ টাকা পর্যন্ত ট্যারিফ নির্ধারিত ছিল। বিক্রয় মূল্যের ওপর ৫ শতাংশ ট্যারিফ নির্ধারণ করায় প্রতিটি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম ৩৫ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়। আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর সিলিন্ডার গ্যাসের দামও ওঠানামা করে। দেশে এলপি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তা সমন্বয় করতে হিমশিম খাওয়ার পাশাপাশি বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।

এ খাতের ব্যবসায়ীদর অভিযোগ, দুঃখজনক হচ্ছে এ খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা না করেই ২০১৭ সালে এলপি গ্যাস অপারেশনাল ও লাইসেন্সিং নীতিমালা প্রণয়ন করে সরকার।

এতে বাস্তবতাবিবর্জিত কিছু কঠিন শর্ত জুড়ে দেয়া হয়। একেকটি প্ল্যান্টে মজুদ ক্ষমতা ৫ হাজার টনে বৃদ্ধি করা ও পরিবহনের ক্ষেত্রে নিজস্ব জলযান ব্যবহারের শর্ত জুড়ে দেয়া হয়। ৫ হাজার টন স্টোরেজ ক্ষমতা কেবল দেশের ৫-৭টি প্রতিষ্ঠানেরই রয়েছে। নিজস্ব জলযানও রয়েছে তাদের। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেরই তা নেই। বড়জোর ২০০ টন থেকে ২ হাজার টন স্টোরেজ ক্ষমতা রয়েছে।

মূলত সবল প্রতিষ্ঠানের লাভের জন্যই বিপুল পরিমাণ স্টোরেজ ক্ষমতার এমন অদ্ভুত শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। এই দুই শর্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করেন এ খাতের ভুক্তভোগী ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। উচ্চ আদালত স্থগিতাদেশ প্রদান করেন।

তারা অভিযোগ করেন, স্থগিতাদেশ থাকার পরও এলপি গ্যাস মজুদ ক্ষমতা ৫ হাজার টনে বৃদ্ধি করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বারবার চিঠি দিয়ে বাধ্য করা হচ্ছে। এটি করতে গিয়ে চাহিদার তুলনায় একদিকে অতিরিক্ত বিনিয়োগ করতে হচ্ছে; কিন্তু সে অনুযায়ী ব্যবসা হচ্ছে না। এতে করে মুখ থুবড়ে পড়ছে এই খাত। ব্যাংক ঋণ নিয়ে যেসব প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করছে সেসব প্রতিষ্ঠান দেউলিয়ার পথে।

অন্যদিকে এলপিজি বিক্রির জন্য পরিবেশককে বিস্ফোরক অধিদফতরের লাইসেন্স নিতে হতো। নতুন নীতিমালয়া তা শিথিল করা হয়েছে। এ কারণে যত্রতত্র এমনকি মুদি দোকান ও ফার্মেসিতেও এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। যে কারণে এলপিজির বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণ করাও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। বর্তমান বাজারে প্রচলিত ১২ কেজি ওজনের প্রতি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম ৭০০ থেকে ৭৩০ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর এই দাম কমবেশি হয়ে থাকে।

এই অরাজকতা বন্ধে ৭টি প্রস্তাব করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা। এগুলো হল- এলপিজির লাইসেন্স প্রণয়ন, নবায়ন, তদারকিসহ সব বিষয় নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বাংলাদেশ রেগুলেটরি কমিশন ও বিস্ফোরক পরিদফতরের ওপর ন্যস্ত করা; এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রয়, বিপণন ও হস্তান্তরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য বিস্ফোরক অধিদফতরের আঞ্চলিক অফিসগুলোর ক্ষমতা বৃদ্ধি; খুচরা গ্যাস বিক্রির ওপর আরোপিত ৫ শতাংশ মূসক রদ; সিলিন্ডার বিক্রির ওপর নতুন করে আরোপিত ১৫ শতাংশ মূসক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার; সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গ্যাসের মূল্য নির্ধারণে বিশেষ কমিটি গঠন ও বাস্তবসম্মত যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করা; বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটির কমিশন (বিইআরসি) ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) অতি উচ্চমূল্যে লাইসেন্স ফি হ্রাস করা।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক ও বোতলজাত গ্যাস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী মাহফুজুল হক শাহ যুগান্তরকে বলেন, আমরা বিকাশমান ও সম্ভাবনাময় এই শিল্পের জন্য একটি বৈষম্যহীন সুষ্ঠু নীতিমালা চাই।

গুটিকয়েক ব্যবসায়ী যাতে এই ব্যবসার একক নিয়ন্ত্রণ নিতে না পারে, ভোক্তারা যাতে দুর্বল ও বৈষম্যমূলক নীতিমালার বলি না হয়, এ ব্যবসায় শুরু থেকেই যারা বিনিয়োগ করেছেন তাদের বিনিয়োগ যাতে হুমকিতে না পড়ে- সে বিষয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিটি ও এফবিসিসিআইর দৃষ্টি আকর্ষণ করে রোববার চিঠি পাঠিয়েছি। চিঠিতে বেশকিছু প্রস্তাব দিয়েছি। এগুলো বাস্তবায়ন হলে আশা করি বৃহৎ এই খাত নিয়ে অরাজকতার কোনো সুযোগ থাকবে না।

অসুস্থ প্রতিযোগিতা

মুখ থুবড়ে পড়ছে এলপিজি খাত

অরাজক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা সংশোধনসহ ৭ প্রস্তাব
 শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, চট্টগ্রাম ব্যুরো 
০২ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত দেশের বিকাশমান এলপিজি (লিকুফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) খাতটি অসুস্থ প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে।

উৎপাদন পর্যায়ে মূসক আরোপ, ট্যারিফ ভ্যাট প্রত্যাহার, স্টোরেজ ক্যাপাসিটি বৃদ্ধিসহ নতুন নীতিমালায় বেশকিছু কঠিন শর্ত আরোপের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন নীতিমালায় গুটিকয়েক বড় কোম্পানি লাভবান হলেও মাঝারি পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের শত শত কোটি টাকার বিনিয়োগ পড়েছে হুমকির মুখে।

এখন মুদি দোকান, ফার্মেসি থেকে শুরু করে পথে পথে বিক্রি হচ্ছে গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার। আবার একই গ্যাস একেক কোম্পানি ইচ্ছামতো একেক দামে বিক্রি করছে। এতে ঠকছেন ভোক্তারা। এই অরাজক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও এ খাতটিকে চাঙ্গা করতে নীতিমালা সংশোধনসহ ৭ দফা প্রস্তাব করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটির কমিশনের কাছে এসব প্রস্তাব পেশ করে তা কার্যকরের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

’৮০-র দশক থেকে বাংলাদেশে বোতলজাত বা সিলিন্ডার গ্যাসের বাজারজাত শুরু হয়। ’৯০-র দশক থেকে তা বাড়তে থাকে। বর্তমানে শতভাগ আমদানিনির্ভর এই গ্যাসের চাহিদা বছরে ১২ লাখ মেট্রিক টন। আর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

সূত্র জানায়, ব্যবসাবান্ধব নীতির আলোকে বোতলজাত এই গ্যাসের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার জন্য বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় ৫৭টি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স প্রদান করে। এর মধ্যে ২৯টি প্রতিষ্ঠান এ খাতে ১৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে।

পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় লক্ষাধিক লোকের। এছাড়া উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট অব্যাহতি থাকার কারণে এলপিজি বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এর ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ বা পশ্চাতসংযোগ শিল্প হিসেবে সিলিন্ডার উৎপাদনের জন্য ২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে অন্তত ১৪টি কারখানা গড়ে তোলে। দেশে সিলিন্ডার উৎপাদন শুরু হওয়ায় আমদানিনির্ভরতা কমে আসে। সাশ্রয় হয় বৈদেশিক মুদ্রা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে এ খাতে সিলিন্ডার উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ হারে মূসক আরোপ করা হয়। আমদানি পর্যায়ে একই হারে কমানো হয়। এ কারণে দেশে উৎপাদনকারী সিলিন্ডারের মূল্য আমদানিকৃত সিলিন্ডারের চেয়ে বেশি পড়ছে। এতে দেশে গড়ে ওঠা নতুন কারখানাগুলো অস্তিত্ব সংকটে পড়তে শুরু করে।

তা ছাড়া এলপি গ্যাসে ইউনিটপ্রতি ৯ টাকা (১২ কেজি) ট্যারিফ ভ্যাট প্রচলিত থাকলেও গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তা উঠিয়ে বিক্রয়মূল্যের ওপর ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ করা হয়। এতে ভ্যাটের পরিমাণ এক লাফে ৯ টাকা থেকে ৪-৫ গুণ বৃদ্ধি পায়।

অর্থাৎ আগে প্রতি সিলিন্ডার গ্যাসের ওপর ৮ থেকে ১২ টাকা পর্যন্ত ট্যারিফ নির্ধারিত ছিল। বিক্রয় মূল্যের ওপর ৫ শতাংশ ট্যারিফ নির্ধারণ করায় প্রতিটি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম ৩৫ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়। আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর সিলিন্ডার গ্যাসের দামও ওঠানামা করে। দেশে এলপি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তা সমন্বয় করতে হিমশিম খাওয়ার পাশাপাশি বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।

এ খাতের ব্যবসায়ীদর অভিযোগ, দুঃখজনক হচ্ছে এ খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা না করেই ২০১৭ সালে এলপি গ্যাস অপারেশনাল ও লাইসেন্সিং নীতিমালা প্রণয়ন করে সরকার।

এতে বাস্তবতাবিবর্জিত কিছু কঠিন শর্ত জুড়ে দেয়া হয়। একেকটি প্ল্যান্টে মজুদ ক্ষমতা ৫ হাজার টনে বৃদ্ধি করা ও পরিবহনের ক্ষেত্রে নিজস্ব জলযান ব্যবহারের শর্ত জুড়ে দেয়া হয়। ৫ হাজার টন স্টোরেজ ক্ষমতা কেবল দেশের ৫-৭টি প্রতিষ্ঠানেরই রয়েছে। নিজস্ব জলযানও রয়েছে তাদের। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেরই তা নেই। বড়জোর ২০০ টন থেকে ২ হাজার টন স্টোরেজ ক্ষমতা রয়েছে।

মূলত সবল প্রতিষ্ঠানের লাভের জন্যই বিপুল পরিমাণ স্টোরেজ ক্ষমতার এমন অদ্ভুত শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। এই দুই শর্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করেন এ খাতের ভুক্তভোগী ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। উচ্চ আদালত স্থগিতাদেশ প্রদান করেন।

তারা অভিযোগ করেন, স্থগিতাদেশ থাকার পরও এলপি গ্যাস মজুদ ক্ষমতা ৫ হাজার টনে বৃদ্ধি করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বারবার চিঠি দিয়ে বাধ্য করা হচ্ছে। এটি করতে গিয়ে চাহিদার তুলনায় একদিকে অতিরিক্ত বিনিয়োগ করতে হচ্ছে; কিন্তু সে অনুযায়ী ব্যবসা হচ্ছে না। এতে করে মুখ থুবড়ে পড়ছে এই খাত। ব্যাংক ঋণ নিয়ে যেসব প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করছে সেসব প্রতিষ্ঠান দেউলিয়ার পথে।

অন্যদিকে এলপিজি বিক্রির জন্য পরিবেশককে বিস্ফোরক অধিদফতরের লাইসেন্স নিতে হতো। নতুন নীতিমালয়া তা শিথিল করা হয়েছে। এ কারণে যত্রতত্র এমনকি মুদি দোকান ও ফার্মেসিতেও এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। যে কারণে এলপিজির বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণ করাও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। বর্তমান বাজারে প্রচলিত ১২ কেজি ওজনের প্রতি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম ৭০০ থেকে ৭৩০ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর এই দাম কমবেশি হয়ে থাকে।

এই অরাজকতা বন্ধে ৭টি প্রস্তাব করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা। এগুলো হল- এলপিজির লাইসেন্স প্রণয়ন, নবায়ন, তদারকিসহ সব বিষয় নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বাংলাদেশ রেগুলেটরি কমিশন ও বিস্ফোরক পরিদফতরের ওপর ন্যস্ত করা; এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রয়, বিপণন ও হস্তান্তরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য বিস্ফোরক অধিদফতরের আঞ্চলিক অফিসগুলোর ক্ষমতা বৃদ্ধি; খুচরা গ্যাস বিক্রির ওপর আরোপিত ৫ শতাংশ মূসক রদ; সিলিন্ডার বিক্রির ওপর নতুন করে আরোপিত ১৫ শতাংশ মূসক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার; সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গ্যাসের মূল্য নির্ধারণে বিশেষ কমিটি গঠন ও বাস্তবসম্মত যুগোপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করা; বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটির কমিশন (বিইআরসি) ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) অতি উচ্চমূল্যে লাইসেন্স ফি হ্রাস করা।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক ও বোতলজাত গ্যাস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী মাহফুজুল হক শাহ যুগান্তরকে বলেন, আমরা বিকাশমান ও সম্ভাবনাময় এই শিল্পের জন্য একটি বৈষম্যহীন সুষ্ঠু নীতিমালা চাই।

গুটিকয়েক ব্যবসায়ী যাতে এই ব্যবসার একক নিয়ন্ত্রণ নিতে না পারে, ভোক্তারা যাতে দুর্বল ও বৈষম্যমূলক নীতিমালার বলি না হয়, এ ব্যবসায় শুরু থেকেই যারা বিনিয়োগ করেছেন তাদের বিনিয়োগ যাতে হুমকিতে না পড়ে- সে বিষয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিটি ও এফবিসিসিআইর দৃষ্টি আকর্ষণ করে রোববার চিঠি পাঠিয়েছি। চিঠিতে বেশকিছু প্রস্তাব দিয়েছি। এগুলো বাস্তবায়ন হলে আশা করি বৃহৎ এই খাত নিয়ে অরাজকতার কোনো সুযোগ থাকবে না।