কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দ্রুত অর্থছাড় করতে হবে
jugantor
এসএমই খাতে প্রণোদনা
কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দ্রুত অর্থছাড় করতে হবে

  যুগান্তর রিপোর্ট  

০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঝুঁকি মনে করে অনেক ব্যাংক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই) খাতে প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থ ছাড় করছে না। ব্যাংক সম্পৃক্ত না হওয়ায় প্যাকেজের বড় অংশ বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। প্যাকেজটি থেকে অধিকাংশ উদ্যোক্তা কোনো উপকার পাচ্ছে না। এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হলে এসএমই খাতের প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থ দ্রুত ছাড় করতে হবে। বৃহস্পতিবার ‘কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবন’ শীর্ষক মতবিনিয়ম সভায় বক্তারা এমন সুপারিশ করেন।

রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত সিরিজ মতবিনিময় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থ সচিব (সিনিয়র) আবদুর রউফ তালুকদার। এতে প্রধান অতিথি পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, প্যাকেজ বাস্তবায়নে ত্রুটি থাকতে পারে। তবে এর অর্জন অনেক বেশি। ব্যাংক ঠিকমতো প্যাকেজের অর্থ বিতরণ করছে না বলে অভিযোগ উঠছে। আমি মনে করি, আইনগতভাবে ব্যাংকগুলো প্যাকেজের ঋণ বিতরণে বাধ্য। যে মানছে না তার সঙ্গে অর্থ বিভাগের আলাদা করে বসা দরকার। কেন মানছে না, সেটি জানতে হবে। অর্থব্যয়ের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হতে হবে। এমন অনেক খাত আছে যেখানে ব্যয় করা হলেও রিটার্ন খুব বেশি আসছে না। ভুল লক্ষ্য বেশি নির্ধারণ করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে- এসএমই খাতে প্যাকেজের অর্থ যাচ্ছে না। এটি খতিয়ে দেখা দরকার।

পরিকল্পনামন্ত্রী মান্নান বলেন, এসএমই খাতে ঋণখেলাপি নেই। এ খাতে আরও বেশি অর্থায়ন প্রয়োজন। ভর্তুকি অন্যসব স্থান থেকে কেটে এসএমই খাতে অর্থায়ন করতে হবে। ভর্তুকি দেয়ার মতো অভ্যাস থেকে বের হতে হবে।

সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, দেশের অর্থনীতি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে বেশি আঘাত হানছে। এ পরিস্থিতিতে আর্থিক খাতকে ঠিক রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। বলা হচ্ছে- মধ্যমেয়াদি ঋণে প্যাকেজের অর্থ বেশি যাচ্ছে। কিন্তু এটি মোটেও সঠিক নয়। প্যাকেজের অর্থ ডিসেম্বরের মধ্যে আরও বাড়বে।

এক প্রশ্নের জবাবে অর্থ সচিব (সিনিয়র) আবদুর রউফ তালুকদার বলেন, করোনাভাইরাসে দুই ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। প্রথম স্বাস্থ্য খাতের ক্ষতি এবং দ্বিতীয় অর্থনৈতিক ক্ষতি। স্বাস্থ্য খাতের ক্ষতি প্রতিদিন প্রকাশ করা হচ্ছে। তবে অর্থনৈতিক ক্ষতির হিসাব বের করতে আরও সময় লাগবে। তিনি বলেন, বিসিকের মাধ্যমে আলাদা একটি প্যাকেজ ঘোষণার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এটি খুব শিগগিরই করা হবে। পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হলে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত রফতানি খাতকে আরও সহায়তা দিতে হবে। পাশাপাশি নীতিগত (পলিসি) সহায়তা দিতে হবে।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ বলেন, করোনা পরিস্থিতি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক রাখতে হবে। দুর্বল অবকাঠামো চিহ্নিত করে সংস্কার করতে হবে। পাশাপাশি অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থ সরবরাহ আরও বাড়াতে হবে। অর্থ সরবরাহ বাড়লে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হয়। অর্থ বরাদ্দ দেয়া হলে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হবে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সিনিয়র ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থ দ্রুত ছাড় করতে হবে। ভবিষ্যৎ অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ঠিক রাখতে ভালো কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। ডিজিটাল ফরমে এসএমই ব্যবসাকে গ্লোবাল প্ল্যাটফরমে যুক্ত করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।

পাশাপাশি এসএমই খাতে ঋণ সহায়তা এবং গবেষণা বাড়াতে হবে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারী উদ্যোক্তা (এসএমই) ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. মো. মাসুদুর রহমান বলেন, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত এসএমই খাতের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা প্যাকেজের আট মাস পেরিয়ে গেছে। কিন্তু প্রণোদনার বড় অংশ এখনও বিতরণ করা হয়নি। এসএমই খাতের ৮০ শতাংশ ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন নেই। এ কারণে উদ্যোক্তারা প্রণোদনা ঋণ পাচ্ছে না। পাশাপাশি এসএমই খাতে ঋণ দিতে ঝুঁকি মনে করছে ব্যাংকগুলো। অথচ কর্মসংস্থানের ৮০ শতাংশই গ্রামে রয়েছে।

এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, করোনায় অনেক মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য চারটি ব্যাংক ঋণ দিচ্ছে। তবে এসএমই খাতে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক ব্যাংক সহায়তা করছে না। ক্ষতিগ্রস্ত অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা টাকার অভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য নতুন করে চালু করতে পারছে না।

এসএমই খাতে প্রণোদনা

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দ্রুত অর্থছাড় করতে হবে

 যুগান্তর রিপোর্ট 
০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঝুঁকি মনে করে অনেক ব্যাংক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই) খাতে প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থ ছাড় করছে না। ব্যাংক সম্পৃক্ত না হওয়ায় প্যাকেজের বড় অংশ বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। প্যাকেজটি থেকে অধিকাংশ উদ্যোক্তা কোনো উপকার পাচ্ছে না। এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হলে এসএমই খাতের প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থ দ্রুত ছাড় করতে হবে। বৃহস্পতিবার ‘কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবন’ শীর্ষক মতবিনিয়ম সভায় বক্তারা এমন সুপারিশ করেন।

রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত সিরিজ মতবিনিময় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থ সচিব (সিনিয়র) আবদুর রউফ তালুকদার। এতে প্রধান অতিথি পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, প্যাকেজ বাস্তবায়নে ত্রুটি থাকতে পারে। তবে এর অর্জন অনেক বেশি। ব্যাংক ঠিকমতো প্যাকেজের অর্থ বিতরণ করছে না বলে অভিযোগ উঠছে। আমি মনে করি, আইনগতভাবে ব্যাংকগুলো প্যাকেজের ঋণ বিতরণে বাধ্য। যে মানছে না তার সঙ্গে অর্থ বিভাগের আলাদা করে বসা দরকার। কেন মানছে না, সেটি জানতে হবে। অর্থব্যয়ের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হতে হবে। এমন অনেক খাত আছে যেখানে ব্যয় করা হলেও রিটার্ন খুব বেশি আসছে না। ভুল লক্ষ্য বেশি নির্ধারণ করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে- এসএমই খাতে প্যাকেজের অর্থ যাচ্ছে না। এটি খতিয়ে দেখা দরকার।

পরিকল্পনামন্ত্রী মান্নান বলেন, এসএমই খাতে ঋণখেলাপি নেই। এ খাতে আরও বেশি অর্থায়ন প্রয়োজন। ভর্তুকি অন্যসব স্থান থেকে কেটে এসএমই খাতে অর্থায়ন করতে হবে। ভর্তুকি দেয়ার মতো অভ্যাস থেকে বের হতে হবে।

সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, দেশের অর্থনীতি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে বেশি আঘাত হানছে। এ পরিস্থিতিতে আর্থিক খাতকে ঠিক রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। বলা হচ্ছে- মধ্যমেয়াদি ঋণে প্যাকেজের অর্থ বেশি যাচ্ছে। কিন্তু এটি মোটেও সঠিক নয়। প্যাকেজের অর্থ ডিসেম্বরের মধ্যে আরও বাড়বে।

এক প্রশ্নের জবাবে অর্থ সচিব (সিনিয়র) আবদুর রউফ তালুকদার বলেন, করোনাভাইরাসে দুই ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। প্রথম স্বাস্থ্য খাতের ক্ষতি এবং দ্বিতীয় অর্থনৈতিক ক্ষতি। স্বাস্থ্য খাতের ক্ষতি প্রতিদিন প্রকাশ করা হচ্ছে। তবে অর্থনৈতিক ক্ষতির হিসাব বের করতে আরও সময় লাগবে। তিনি বলেন, বিসিকের মাধ্যমে আলাদা একটি প্যাকেজ ঘোষণার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এটি খুব শিগগিরই করা হবে। পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হলে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত রফতানি খাতকে আরও সহায়তা দিতে হবে। পাশাপাশি নীতিগত (পলিসি) সহায়তা দিতে হবে।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ বলেন, করোনা পরিস্থিতি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক রাখতে হবে। দুর্বল অবকাঠামো চিহ্নিত করে সংস্কার করতে হবে। পাশাপাশি অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থ সরবরাহ আরও বাড়াতে হবে। অর্থ সরবরাহ বাড়লে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হয়। অর্থ বরাদ্দ দেয়া হলে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হবে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সিনিয়র ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থ দ্রুত ছাড় করতে হবে। ভবিষ্যৎ অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ঠিক রাখতে ভালো কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। ডিজিটাল ফরমে এসএমই ব্যবসাকে গ্লোবাল প্ল্যাটফরমে যুক্ত করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।

পাশাপাশি এসএমই খাতে ঋণ সহায়তা এবং গবেষণা বাড়াতে হবে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারী উদ্যোক্তা (এসএমই) ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. মো. মাসুদুর রহমান বলেন, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত এসএমই খাতের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা প্যাকেজের আট মাস পেরিয়ে গেছে। কিন্তু প্রণোদনার বড় অংশ এখনও বিতরণ করা হয়নি। এসএমই খাতের ৮০ শতাংশ ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন নেই। এ কারণে উদ্যোক্তারা প্রণোদনা ঋণ পাচ্ছে না। পাশাপাশি এসএমই খাতে ঋণ দিতে ঝুঁকি মনে করছে ব্যাংকগুলো। অথচ কর্মসংস্থানের ৮০ শতাংশই গ্রামে রয়েছে।

এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, করোনায় অনেক মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য চারটি ব্যাংক ঋণ দিচ্ছে। তবে এসএমই খাতে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক ব্যাংক সহায়তা করছে না। ক্ষতিগ্রস্ত অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা টাকার অভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য নতুন করে চালু করতে পারছে না।