রাজশাহীর দুই পৌরসভায় আ’লীগে পাঁচ বিদ্রোহী
jugantor
রাজশাহীর দুই পৌরসভায় আ’লীগে পাঁচ বিদ্রোহী

  রাজশাহী ব্যুরো  

০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীর কাটাখালী ও পুঠিয়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বিদ্রোহীরা বলছেন, দলীয় প্রার্থী মনোনয়নে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতামত নেয়া হয়নি। উপরন্তু যাদের মেয়র পদে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা গুরুতর অভিযোগ। এসব কারণে দলীয় প্রার্থীদের ভরাডুবির আশঙ্কা রয়েছে। এই দুই পৌরসভায় আগামী ২৮ ডিসেম্বর ভোট হবে। কাটাখালীতে মেয়র পদে বর্তমান মেয়র আব্বাস আলীকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এখানে তার বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সামা, আওয়ামী লীগ নেতা খালেকুজ্জামান মাসুদ ও আবদুল মোতালেব।

আওয়ামী লীগের এই তিন বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা ইতোমধ্যে মাঠে নেমে পড়েছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, মেয়র আব্বাস আলীকে দল মনোনয়ন দিলেও ভোটাররা তার কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। নানা রকম অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ দল ও সরকারের উচ্চ পর্যায়েও পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার আগের দিন মেয়র আব্বাস বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে বসে একক প্রার্থী হিসেবে তার মনোনয়ন জমা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও পরে ওই তিনজন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। বিদ্রোহী প্রার্থী আবু সামা বলেন, দলের প্রকৃত নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে আছেন। চারজনের মধ্যে কে প্রার্থী থাকবেন সেটা নেতাকর্মীদের ওপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত। যিনি বেশি জনপ্রিয় তাকেই রাখা দরকার। দলের সিদ্ধান্ত তারা মানবেন তবে যিনি জয়ী হতে পারবেন না তাকে প্রার্থী রেখে দিলে দলেরই ক্ষতি হবে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্বাস আলী বলেন, গত পাঁচ বছরে কাটাখালী পৌরসভায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। সেই উন্নয়ন দেখে দলীয় নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসী আমার সঙ্গে রয়েছে। আওয়ামী লীগের কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে সে জামানত হারাবে। এদিকে কাটাখালীতে সিরাজুল হককে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। একক হিসেবে বিএনপির মেয়র প্রার্থী অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। দুই জামায়াত নেতাও এখানে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন- সাবেক মেয়র অধ্যাপক মাজেদুর রহমান ও আবদুল হাই। তবে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আব্বাস আলীকে ঠেকাতে শেষ পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াত এক হয়ে যেতে পারে। এতে বর্তমান মেয়র আব্বাস আলীর জয় কঠিন হয়ে যাবে। বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক সিরাজুল হক বলেন, বর্তমান মেয়রের মামলা, হামলা, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও হয়রানিতে পৌরবাসী অতিষ্ঠ। কাটাখালীতে বিএনপির ভোট বেশি। ভোটাররা কেন্দ্রে যেতে পারলে এবং সুষ্ঠু ভোট হলে ধানের শীষ বিপুল ভোটে জিতবে। কাটাখালি পৌরসভায় মেয়র পদে সাতজন ছাড়াও সংরক্ষিত নারী আসনে ১০ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৯ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

এদিকে রাজশাহীর আরেক পৌরসভা পুঠিয়ায়ও বর্তমান মেয়র রবিউল ইসলাম রবিকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এখানে যুবলীগ নেতা গোলাম আজম নয়ন ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সেক্রেটারি শরিফুল ইসলাম টিপু বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। তাদের কারণে রবির জয় কঠিন হবে বলে জানিয়েছেন দলের নেতাকর্মীরা। এ পৌরসভায় উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল মামুন খান একক প্রার্থী হয়েছেন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী রবি বলছেন, তিনি এবারও মেয়র নির্বাচিত হবেন। তবে বিএনপির প্রার্থী আল মামুন খান বলেন, ভোট সুষ্ঠু হলে তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হবেন। কারণ বর্তমান মেয়রের আমলে পুঠিয়া পৌরসভায় ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। এ পৌরসভায় মেয়র কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে মোট ৩০ জন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।

রাজশাহীর দুই পৌরসভায় আ’লীগে পাঁচ বিদ্রোহী

 রাজশাহী ব্যুরো 
০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহীর কাটাখালী ও পুঠিয়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বিদ্রোহীরা বলছেন, দলীয় প্রার্থী মনোনয়নে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতামত নেয়া হয়নি। উপরন্তু যাদের মেয়র পদে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা গুরুতর অভিযোগ। এসব কারণে দলীয় প্রার্থীদের ভরাডুবির আশঙ্কা রয়েছে। এই দুই পৌরসভায় আগামী ২৮ ডিসেম্বর ভোট হবে। কাটাখালীতে মেয়র পদে বর্তমান মেয়র আব্বাস আলীকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এখানে তার বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সামা, আওয়ামী লীগ নেতা খালেকুজ্জামান মাসুদ ও আবদুল মোতালেব।

আওয়ামী লীগের এই তিন বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা ইতোমধ্যে মাঠে নেমে পড়েছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, মেয়র আব্বাস আলীকে দল মনোনয়ন দিলেও ভোটাররা তার কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। নানা রকম অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ দল ও সরকারের উচ্চ পর্যায়েও পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার আগের দিন মেয়র আব্বাস বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে বসে একক প্রার্থী হিসেবে তার মনোনয়ন জমা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও পরে ওই তিনজন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। বিদ্রোহী প্রার্থী আবু সামা বলেন, দলের প্রকৃত নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে আছেন। চারজনের মধ্যে কে প্রার্থী থাকবেন সেটা নেতাকর্মীদের ওপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত। যিনি বেশি জনপ্রিয় তাকেই রাখা দরকার। দলের সিদ্ধান্ত তারা মানবেন তবে যিনি জয়ী হতে পারবেন না তাকে প্রার্থী রেখে দিলে দলেরই ক্ষতি হবে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্বাস আলী বলেন, গত পাঁচ বছরে কাটাখালী পৌরসভায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। সেই উন্নয়ন দেখে দলীয় নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসী আমার সঙ্গে রয়েছে। আওয়ামী লীগের কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে সে জামানত হারাবে। এদিকে কাটাখালীতে সিরাজুল হককে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। একক হিসেবে বিএনপির মেয়র প্রার্থী অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। দুই জামায়াত নেতাও এখানে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন- সাবেক মেয়র অধ্যাপক মাজেদুর রহমান ও আবদুল হাই। তবে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আব্বাস আলীকে ঠেকাতে শেষ পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াত এক হয়ে যেতে পারে। এতে বর্তমান মেয়র আব্বাস আলীর জয় কঠিন হয়ে যাবে। বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক সিরাজুল হক বলেন, বর্তমান মেয়রের মামলা, হামলা, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও হয়রানিতে পৌরবাসী অতিষ্ঠ। কাটাখালীতে বিএনপির ভোট বেশি। ভোটাররা কেন্দ্রে যেতে পারলে এবং সুষ্ঠু ভোট হলে ধানের শীষ বিপুল ভোটে জিতবে। কাটাখালি পৌরসভায় মেয়র পদে সাতজন ছাড়াও সংরক্ষিত নারী আসনে ১০ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৯ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

এদিকে রাজশাহীর আরেক পৌরসভা পুঠিয়ায়ও বর্তমান মেয়র রবিউল ইসলাম রবিকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এখানে যুবলীগ নেতা গোলাম আজম নয়ন ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সেক্রেটারি শরিফুল ইসলাম টিপু বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। তাদের কারণে রবির জয় কঠিন হবে বলে জানিয়েছেন দলের নেতাকর্মীরা। এ পৌরসভায় উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল মামুন খান একক প্রার্থী হয়েছেন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী রবি বলছেন, তিনি এবারও মেয়র নির্বাচিত হবেন। তবে বিএনপির প্রার্থী আল মামুন খান বলেন, ভোট সুষ্ঠু হলে তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হবেন। কারণ বর্তমান মেয়রের আমলে পুঠিয়া পৌরসভায় ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। এ পৌরসভায় মেয়র কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে মোট ৩০ জন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।