বানারীপাড়ায় বিরোধপূর্ণ জমিতে মসজিদ করতে এমপির চিঠি
jugantor
পাশেই মন্দির ও শহীদ মিনার
বানারীপাড়ায় বিরোধপূর্ণ জমিতে মসজিদ করতে এমপির চিঠি

  আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল ব্যুরো  

০৯ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশালের বানারীপাড়ায় নির্ধারিত স্থান পাল্টে মন্দির ও শহীদ মিনার সংলগ্ন বিরোধপূর্ণ জমিতে সরকারি মডেল মসজিদ করতে চিঠি দিয়েছেন সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মো. শাহে আলম। ফলে সেখানে প্রকল্পটি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

জেলা প্রশাসন বলছে, সংসদ সদস্যের দেয়া চিঠিতে যেখানে মসজিদ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, সেটি এই প্রকল্পের জন্য উপযুক্ত নয়। তবে সংসদ সদস্য শাহে আলম বলছেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের চোখের সামনে রাখতেই সংশোধনী প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পৌর শহরে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে এর চেয়ে ভালো জায়গা আর নেই।

জানা যায়, ২০১৭ সালে দেশের ৫৬০টি উপজেলায় মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয় সরকার। এ লক্ষ্যে স্থান নির্বাচন করে প্রস্তাবনা পাঠাতে বলা হয় সব জেলা প্রশাসনকে।

স্থান নির্বাচনে ১০টি গাইডলাইন দেয়া হয়। এক্ষেত্রে পরামর্শ নিতে বলা হয় স্থানীয় মন্ত্রী এমপি ও জনপ্রতিনিধিদের। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ৪০ শতাংশ জমির প্রয়োজন এবং তা প্রশস্ত রাস্তার পাশে হতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

সে অনুযায়ী বানারীপাড়া উপজেলা প্রশাসন তৎকালীন এমপি বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুসের সঙ্গে আলাপ করে উপজেলা কমপ্লেক্সের ভেতরে এই মডেল মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র করার সিদ্ধান্ত নেয়।

পরে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে চিঠিও পাঠানো হয়। সবকিছু যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক তখন বাদ সাধেন বর্তমান এমপি। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে এমপি হওয়া শাহে আলম মডেল মসজিদের স্থান পরিবর্তনের জন্য চিঠি দেন জেলা প্রশাসনকে।

আধা সরকারি পত্র নং-সস/বরি-০২/ক/২০১৯/০১ নং স্মারকে দেয়া ওই চিঠিতে নির্ধারিত স্থান উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স বাদ দিয়ে পৌর শহরের ব্যস্ততম এলাকা পাবলিক লাইব্রেরির পাশে নতুন করে স্থান নির্বাচন করতে বলেন। তার ওই চিঠির বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানায় জেলা প্রশাসন। এ খবর জানাজানি হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় জটিলতা।

এমপি শাহে আলম যে জায়গায় মডেল মসজিদ করার প্রস্তাব করেছেন, তার মালিক দাবিদাররা নামেন এর বিরুদ্ধে। ওই জমির মালিকানা নিয়ে বহু বছর ধরে মামলা চলছে। এর একপক্ষ মুসলিম, অপর পক্ষ সনাতন ধর্মাবলম্বী। মুসলিম পক্ষের দাবি, পূর্বপুরুষের নিলাম ক্রয় সূত্রে তারা ওই জমির মালিক। আর হিন্দু পরিবারের বক্তব্য, এটি তাদের পূর্বপুরুষের সম্পত্তি।

এমপির প্রস্তাবিত জমি সরেজমিন দেখতে গিয়ে মেলে মালিক দাবিদার আরও ৩ জনকে। এই ৫ পরিবারের মধ্যে নিলাম ক্রয় সূত্রে মালিক দাবিদার দিলির মোল্লার পরিবারের দখলেই রয়েছে সেখানকার অধিকাংশ জমি। আরও একটি পরিবারের বসত রয়েছে সেখানে। এছাড়া মালিক দাবিদার অন্যদেরও রয়েছে কিছু কিছু দখলি স্বত্ব। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বহু বছর ধরেই এই জমি নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা চলছে। এরকম একটি বিরোধপূর্ণ জমিতে কী করে মডেল মসজিদ স্থাপনের প্রস্তাব গেল, সেটাই বুঝতে পারছি না।

এমপি’র প্রস্তাবিত জমির ঠিক সামনেই ১৮৮২ সালে স্থাপিত বানারীপাড়া পাবলিক লাইব্রেরি ভবন। সামনের সড়কটিও অত্যন্ত সরু। জমির উত্তর-পশ্চিম কোণে বানারীপাড়া সর্বজনীন দুর্গামন্দির। স্থানীয়দের মতে, এটির বয়স অর্ধশত বছরেরও বেশি।

সেখানকার একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা ও স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, এখানে মডেল মসজিদ আর ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হলে একদিকে যেমন বেশ কয়েকটি পরিবার বাস্তুচ্যুত হবে, তেমনই মন্দিরের সামনে হওয়ায় দুই ধর্মের মানুষের স্বাভাবিক ধর্ম পালনেও সৃষ্টি হতে পারে জটিলতা। পাশেই থাকা শহীদ মিনারের কারণে এ জটিলতা আরও বাড়তে পারে। তাছাড়া এলাকাটি অত্যন্ত ঘিঞ্জি।

মসজিদ নির্মাণের লক্ষ্যে জমি ছেড়ে দেবেন কি না জানতে চাইলে বিরোধপূর্ণ জমিটির মালিক দাবিদার মমতাজ বেগম বলেন, জমি ছেড়ে দিলে থাকব কোথায়? তাছাড়া এখানেই কেন মসজিদ করতে হবে? শুনেছি এই জমি নেয়ার ক্ষেত্রে সরকারের কোনোরকম ক্ষতিপূরণ দেয়ার পরিকল্পনাও নেই। সেক্ষেত্রে আমরা কেন জমি ছাড়ব?

মালিক দাবিদার আরেকজন পার্থ সরকার বলেন, আমরা এই জমির মালিক। এখন যদি সরকার জমি চায় তাহলে দেব। তবে আমাদেরকে অবশ্যই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আমি ৯৯ শতাংশ জমির মালিক। সরকার যদি ৪০ শতাংশ জমি নেয়, বিধান অনুযায়ী তার দাম হবে প্রায় ৬ কোটি টাকা। এই টাকা পেলে জমি ছেড়ে দিতে আমার আপত্তি নেই।

দিলির মোল্লা’র ছেলে মিঠু মোল্লা বলেন, পার্থ সরকারের এখানে কোনো দখলি স্বত্ব নেই। অধিগ্রহণ বাবদ টাকা পেলে সবদিক দিয়েই তার লাভ। সেজন্যই জমি ছাড়ার কথা বলছেন তিনি। তাছাড়া তার দাবির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলছে। পৈতৃক ভিটা ছেড়ে আমাদের চলে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

বানারীপাড়া উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, জমিটি অধিগ্রহণ হলে এর মূল্য বাবদ ৫-৬ কোটি টাকা সরকারকে দিতে হবে। এই টাকার জন্যই ভেতরে ভেতরে একটা ষড়যন্ত্র চলছে। মালিক হিসেবে যাদের নাম বলা হচ্ছে, কেবল তারাই নন, আরও বেশ কয়েকজন রাঘববোয়াল আছে এসবের নেপথ্যে।

মডেল মসজিদের স্থান নির্বাচন বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট তালুকদার ইউনুস বলেন, বিষয়টি তো মীমাংসিতই ছিল। হঠাৎ করে কেন স্থান পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে হল, সেটা আমার কাছে পরিষ্কার নয়। তাছাড়া বর্তমানে যে জায়গার কথা বলা হচ্ছে, সেটি কোনোক্রমেই এই নান্দনিক প্রকল্পের জন্য উপযুক্ত হতে পারে না। যেখানে সরকার বিনামূল্যে জমি পাচ্ছিল, সেখানে এসব করতে গিয়ে পুরো প্রকল্পটাকেই ঝুঁকির মুখে ফেলা হল।

এমপি মো. শাহে আলম বলেন, উপজেলা কমপ্লেক্সের অবস্থান মূল শহর থেকে বেশ খানিকটা দূরে। এ কারণেই নতুন জায়গার প্রস্তাব দিয়েছি। বিরোধপূর্ণ এবং মন্দিরের পাশে জমিটি থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, মন্দির ওখান থেকে দূরে। তাছাড়া জমি নিয়ে তেমন কোনো বিরোধ নেই। একটি বিএনপি পরিবার ওই জমিটি জোর করে দখল করে রেখেছে। অন্যরা অধিগ্রহণ মূল্য পেলে জমি ছেড়ে দিতে রাজি।

বরিশালের জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, এমপি সাহেবের প্রস্তাবনা পাওয়ার পর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিদের নিয়ে জায়গাটি পরিদর্শন করেছি। এত বড় একটি প্রকল্পের জন্য জায়গাটিকে উপযুক্ত মনে হয়নি।

মন্দির ছাড়াও সেখানে একটি মসজিদ এবং শহীদ মিনার রয়েছে। প্রকল্পটি সেখানে হলে জনচলাচলের রাস্তাটিও বন্ধ হয়ে যাবে। সবকিছু বিবেচনায় আমরা বিকল্প প্রস্তাব পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছি। ৫-৬ কোটি টাকা খরচ না করে মহাসড়কের পাশে কম দামে জমি নিয়ে সেখানে এটি করার প্রস্তাব পাঠাচ্ছি আমরা। পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

পাশেই মন্দির ও শহীদ মিনার

বানারীপাড়ায় বিরোধপূর্ণ জমিতে মসজিদ করতে এমপির চিঠি

 আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল ব্যুরো 
০৯ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশালের বানারীপাড়ায় নির্ধারিত স্থান পাল্টে মন্দির ও শহীদ মিনার সংলগ্ন বিরোধপূর্ণ জমিতে সরকারি মডেল মসজিদ করতে চিঠি দিয়েছেন সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মো. শাহে আলম। ফলে সেখানে প্রকল্পটি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

জেলা প্রশাসন বলছে, সংসদ সদস্যের দেয়া চিঠিতে যেখানে মসজিদ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, সেটি এই প্রকল্পের জন্য উপযুক্ত নয়। তবে সংসদ সদস্য শাহে আলম বলছেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের চোখের সামনে রাখতেই সংশোধনী প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পৌর শহরে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে এর চেয়ে ভালো জায়গা আর নেই।

জানা যায়, ২০১৭ সালে দেশের ৫৬০টি উপজেলায় মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেয় সরকার। এ লক্ষ্যে স্থান নির্বাচন করে প্রস্তাবনা পাঠাতে বলা হয় সব জেলা প্রশাসনকে।

স্থান নির্বাচনে ১০টি গাইডলাইন দেয়া হয়। এক্ষেত্রে পরামর্শ নিতে বলা হয় স্থানীয় মন্ত্রী এমপি ও জনপ্রতিনিধিদের। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ৪০ শতাংশ জমির প্রয়োজন এবং তা প্রশস্ত রাস্তার পাশে হতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

সে অনুযায়ী বানারীপাড়া উপজেলা প্রশাসন তৎকালীন এমপি বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুসের সঙ্গে আলাপ করে উপজেলা কমপ্লেক্সের ভেতরে এই মডেল মসজিদ ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র করার সিদ্ধান্ত নেয়।

পরে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে চিঠিও পাঠানো হয়। সবকিছু যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক তখন বাদ সাধেন বর্তমান এমপি। সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে এমপি হওয়া শাহে আলম মডেল মসজিদের স্থান পরিবর্তনের জন্য চিঠি দেন জেলা প্রশাসনকে।

আধা সরকারি পত্র নং-সস/বরি-০২/ক/২০১৯/০১ নং স্মারকে দেয়া ওই চিঠিতে নির্ধারিত স্থান উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স বাদ দিয়ে পৌর শহরের ব্যস্ততম এলাকা পাবলিক লাইব্রেরির পাশে নতুন করে স্থান নির্বাচন করতে বলেন। তার ওই চিঠির বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানায় জেলা প্রশাসন। এ খবর জানাজানি হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় জটিলতা।

এমপি শাহে আলম যে জায়গায় মডেল মসজিদ করার প্রস্তাব করেছেন, তার মালিক দাবিদাররা নামেন এর বিরুদ্ধে। ওই জমির মালিকানা নিয়ে বহু বছর ধরে মামলা চলছে। এর একপক্ষ মুসলিম, অপর পক্ষ সনাতন ধর্মাবলম্বী। মুসলিম পক্ষের দাবি, পূর্বপুরুষের নিলাম ক্রয় সূত্রে তারা ওই জমির মালিক। আর হিন্দু পরিবারের বক্তব্য, এটি তাদের পূর্বপুরুষের সম্পত্তি।

এমপির প্রস্তাবিত জমি সরেজমিন দেখতে গিয়ে মেলে মালিক দাবিদার আরও ৩ জনকে। এই ৫ পরিবারের মধ্যে নিলাম ক্রয় সূত্রে মালিক দাবিদার দিলির মোল্লার পরিবারের দখলেই রয়েছে সেখানকার অধিকাংশ জমি। আরও একটি পরিবারের বসত রয়েছে সেখানে। এছাড়া মালিক দাবিদার অন্যদেরও রয়েছে কিছু কিছু দখলি স্বত্ব। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বহু বছর ধরেই এই জমি নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা চলছে। এরকম একটি বিরোধপূর্ণ জমিতে কী করে মডেল মসজিদ স্থাপনের প্রস্তাব গেল, সেটাই বুঝতে পারছি না।

এমপি’র প্রস্তাবিত জমির ঠিক সামনেই ১৮৮২ সালে স্থাপিত বানারীপাড়া পাবলিক লাইব্রেরি ভবন। সামনের সড়কটিও অত্যন্ত সরু। জমির উত্তর-পশ্চিম কোণে বানারীপাড়া সর্বজনীন দুর্গামন্দির। স্থানীয়দের মতে, এটির বয়স অর্ধশত বছরেরও বেশি।

সেখানকার একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা ও স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, এখানে মডেল মসজিদ আর ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হলে একদিকে যেমন বেশ কয়েকটি পরিবার বাস্তুচ্যুত হবে, তেমনই মন্দিরের সামনে হওয়ায় দুই ধর্মের মানুষের স্বাভাবিক ধর্ম পালনেও সৃষ্টি হতে পারে জটিলতা। পাশেই থাকা শহীদ মিনারের কারণে এ জটিলতা আরও বাড়তে পারে। তাছাড়া এলাকাটি অত্যন্ত ঘিঞ্জি।

মসজিদ নির্মাণের লক্ষ্যে জমি ছেড়ে দেবেন কি না জানতে চাইলে বিরোধপূর্ণ জমিটির মালিক দাবিদার মমতাজ বেগম বলেন, জমি ছেড়ে দিলে থাকব কোথায়? তাছাড়া এখানেই কেন মসজিদ করতে হবে? শুনেছি এই জমি নেয়ার ক্ষেত্রে সরকারের কোনোরকম ক্ষতিপূরণ দেয়ার পরিকল্পনাও নেই। সেক্ষেত্রে আমরা কেন জমি ছাড়ব?

মালিক দাবিদার আরেকজন পার্থ সরকার বলেন, আমরা এই জমির মালিক। এখন যদি সরকার জমি চায় তাহলে দেব। তবে আমাদেরকে অবশ্যই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আমি ৯৯ শতাংশ জমির মালিক। সরকার যদি ৪০ শতাংশ জমি নেয়, বিধান অনুযায়ী তার দাম হবে প্রায় ৬ কোটি টাকা। এই টাকা পেলে জমি ছেড়ে দিতে আমার আপত্তি নেই।

দিলির মোল্লা’র ছেলে মিঠু মোল্লা বলেন, পার্থ সরকারের এখানে কোনো দখলি স্বত্ব নেই। অধিগ্রহণ বাবদ টাকা পেলে সবদিক দিয়েই তার লাভ। সেজন্যই জমি ছাড়ার কথা বলছেন তিনি। তাছাড়া তার দাবির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলছে। পৈতৃক ভিটা ছেড়ে আমাদের চলে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

বানারীপাড়া উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, জমিটি অধিগ্রহণ হলে এর মূল্য বাবদ ৫-৬ কোটি টাকা সরকারকে দিতে হবে। এই টাকার জন্যই ভেতরে ভেতরে একটা ষড়যন্ত্র চলছে। মালিক হিসেবে যাদের নাম বলা হচ্ছে, কেবল তারাই নন, আরও বেশ কয়েকজন রাঘববোয়াল আছে এসবের নেপথ্যে।

মডেল মসজিদের স্থান নির্বাচন বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট তালুকদার ইউনুস বলেন, বিষয়টি তো মীমাংসিতই ছিল। হঠাৎ করে কেন স্থান পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে হল, সেটা আমার কাছে পরিষ্কার নয়। তাছাড়া বর্তমানে যে জায়গার কথা বলা হচ্ছে, সেটি কোনোক্রমেই এই নান্দনিক প্রকল্পের জন্য উপযুক্ত হতে পারে না। যেখানে সরকার বিনামূল্যে জমি পাচ্ছিল, সেখানে এসব করতে গিয়ে পুরো প্রকল্পটাকেই ঝুঁকির মুখে ফেলা হল।

এমপি মো. শাহে আলম বলেন, উপজেলা কমপ্লেক্সের অবস্থান মূল শহর থেকে বেশ খানিকটা দূরে। এ কারণেই নতুন জায়গার প্রস্তাব দিয়েছি। বিরোধপূর্ণ এবং মন্দিরের পাশে জমিটি থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, মন্দির ওখান থেকে দূরে। তাছাড়া জমি নিয়ে তেমন কোনো বিরোধ নেই। একটি বিএনপি পরিবার ওই জমিটি জোর করে দখল করে রেখেছে। অন্যরা অধিগ্রহণ মূল্য পেলে জমি ছেড়ে দিতে রাজি।

বরিশালের জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, এমপি সাহেবের প্রস্তাবনা পাওয়ার পর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিদের নিয়ে জায়গাটি পরিদর্শন করেছি। এত বড় একটি প্রকল্পের জন্য জায়গাটিকে উপযুক্ত মনে হয়নি।

মন্দির ছাড়াও সেখানে একটি মসজিদ এবং শহীদ মিনার রয়েছে। প্রকল্পটি সেখানে হলে জনচলাচলের রাস্তাটিও বন্ধ হয়ে যাবে। সবকিছু বিবেচনায় আমরা বিকল্প প্রস্তাব পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছি। ৫-৬ কোটি টাকা খরচ না করে মহাসড়কের পাশে কম দামে জমি নিয়ে সেখানে এটি করার প্রস্তাব পাঠাচ্ছি আমরা। পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে ধর্ম মন্ত্রণালয়।