সমগ্র বিশ্ব একাকিত্ববোধে পীড়িত হচ্ছে
jugantor
শুক্রবারের সাক্ষাৎকার
সমগ্র বিশ্ব একাকিত্ববোধে পীড়িত হচ্ছে

  জুননু রাইন  

২৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আতাউর রহমানের জন্ম ১৮ জুন, ১৯৪১ সালে। ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকা বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর। বাংলাদেশের থিয়েটারজগত তার নাট্যকৃতির জন্য তাকে মঞ্চসারথি উপাধিতে ভূষিত করেন।

৫৫ বছর ধরে মঞ্চনাটক, টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে জড়িত। তার নির্দেশিত নাটকের সংখ্যা ৩০টিরও অধিক। বিভিন্ন চরিত্রে আজ অবধি ১৮০০ বারের মতো মঞ্চে অবতীর্ণ হয়েছেন। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

আইটিআই বাংলাদেশ কেন্দ্রের সভাপতি ছিলেন এবং বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের চেয়ারম্যানের পদ অলঙ্কৃত করেছিলেন। দেশের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নাট্যবিষয়ক শিক্ষক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রির পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সর্বশেষ প্রকাশিত বই ‘মঞ্চসারথির কাব্য কথা’। প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ১২টি। ২১শে পদকসহ বহু পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন: জুননু রাইন

যুগান্তর : আপনি অভিনেতা নির্দেশক ও অনুবাদক; সাংস্কৃতিক জগতের সবাই আপনার এ পরিচয় জানে। আপনি যে এখন কবিতাও লিখেন এটি সম্ভবত খুব বেশি মানুষ জানে না

আতাউর রহমান : ২০১৫ সাল থেকে আমি কবিতার কাছে সমর্পিত হই। পৃথিবীর প্রায় সব কবির কবিতাই আমি পড়েছি। আমার কাব্যপ্রীতির উন্মেষ ঘটে আমার নাট্যপ্রীতি থেকে। গ্রিক সুবর্ণ যুগের নাট্যকারেরা কাব্যভাষায় নাটক লিখতেন। শেকসপিয়ারের সব নাটকই কাব্যভাষায় রচিত।

আমাদের সৈয়দ শামসুল হকের সব নাটকও কাব্যভাষায় রচিত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কিছু নাটক গদ্যভাষায় লেখা হলেও সে নাটকগুলোয় কাব্যের সমৃদ্ধ স্ফুরণ রয়েছে। পৃথিবীর আদি মানুষের নিত্যদিনের ভাষা ছিল কাব্যভাষা। কবিতা বা কাব্যে অনেক বড় ভাবনা খুব সংক্ষেপে বলা যায়, যা গদ্যে প্রকাশ করতে হয়তো দীর্ঘ পরিসরের প্রয়োজন হয়।

আমার একটি কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে, যার শিরোনাম ‘মঞ্চসারথির কাব্য কথা’। প্রকাশক ‘স্বপ্নলোক’। প্রথম প্রকাশ– অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৬। আমার আরও দু’টো কবিতার বই প্রস্তুত আছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে প্রকাশিত হবে, এমনটিই আশা করছি। আমার কবি-পরিচিতি আমাকে গর্বিত করে।

যুগান্তর : বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধপরবর্তী মঞ্চনাটক আন্দোলনের অগ্রদূত বলা হয় আপনাকে। আপনাদের সময়ের মঞ্চনাটকের মান আর জনপ্রিয়তার তুলনায় এখনকার মঞ্চনাটককে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন–

আতাউর রহমান : স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশে মঞ্চনাটকের নব জাগরণ হয় পুরনো দিনের মহিলা সমিতি ও গাইড হাউস মিলনায়তনে। তখন নাট্যকার, অভিনেতা-অভিনেত্রীরা এবং মঞ্চের আড়ালে সৃজনশীল কর্মীরা ছিল মঞ্চনাটকের প্রতি নিবেদিত। পাঁচ-ছয়টি নাটকের দল নিয়মিত নাটক করত। মাসে অন্ততপক্ষে চার থেকে পাঁচটি নাট্যপ্রদর্শনী হতো।

নাট্যকারেরা ছিল স্বনামধন্য নির্দেশক ও মঞ্চের ভেতর-বাইরের কর্মীরা ছিল নিবেদিতপ্রাণ। আমি মনে করি, কারিগরি সুযোগ-সুবিধাই বড় কথা নয়। সৃজনের পেছনে মানুষের আন্তরিক প্রয়াসই বিবেচ্য। তা না হলে সত্যজিত রায় মান্ধাতার আমলের ক্যামেরা দিয়ে ‘পথের পাঁচালি’, ‘অপরাজিতা’ ও ‘অপুর সংসার’-এর মতো বিশ্বজয়ী চলচ্চিত্র বানাতে পারতেন না।

বর্তমানে মঞ্চনাটকের মান বিগত দিনের তুলনায় নিুগামী। এখন টেলিভিশনে অভিনয় করলে অর্থ উপার্জন করা যায় কিন্তু মঞ্চনাটকে তা সম্ভব নয়। তাছাড়া একটি নাটকের দল মাসে একটির বেশি প্রদর্শনী করতে পারে না।

শিল্পকলা একাডেমির ৩টি মঞ্চ ও মহিলা সমিতি মঞ্চ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পরবর্তী সময়ে টেলিভিশন চ্যানেল একটিই ছিল, যার নাম ছিল– বিটিভি। তখন এতগুলো টিভি সম্প্রচার কেন্দ্রের হাতছানি ছিল না।

মঞ্চনাটকের কর্মীদের সরকারসহ অন্যান্য সংস্থার আর্থিক সহযোগিতা পেতে হবে বর্তমানের মঞ্চনাটককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আমাদের দেশের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে অত্যন্ত সজাগ এবং সারা দেশে মঞ্চনাটকের উন্নয়নের জন্য প্রাণপণ কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ভূমিকাও প্রশংসনীয়।

যুগান্তর : ষাটের দশকের শেষ দিকে ফজলে লোহানীর বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত হওয়া ‘নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়’-এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। খুব প্রতিকূল অবস্থা ছিল। এক দিকে স্বাধীনতা আন্দোলন; অন্যদিকে বাঙালি সংস্কৃতির ওপর পাকিস্তানিদের অন্যায় হস্তক্ষেপ...
তখনকার সময়টা সাহিত্য-সংস্কৃতির জন্য কেমন ছিল? আপনি তো প্রত্যক্ষদর্শী; আপনার অভিজ্ঞতার আলোকে জানতে চাই–

আতাউর রহমান : আমাদের মধ্যে ভয়ংকর জেদ কাজ করত তখন। রবীন্দ্রচর্চার ওপর পাকিস্তানি স্বৈরশাষক আইয়ুব খানের রোষ দৃষ্টি পড়ে। বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যময় শিল্প-সাহিত্যের ও সংস্কৃতি চর্চার প্রতি পাকিস্তানি শাষকদের ছিল প্রচণ্ড ঘৃণা ও অবজ্ঞা। এ দাসত্ব-শৃঙ্খল থেকে আমাদের মুক্ত করেছেন আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার সহকর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে।

যুগান্তর : অভিনয়ের পাশাপাশি নির্দেশনায়ও আপনার সমান সাফল্য রয়েছে। আপনার নির্দেশিত প্রথম মঞ্চনাটক মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’। যেখানে অভিনয় করেন লাকি ইনাম, আবুল হায়াত, ইনামুল হক, আলী যাকের ও ফখরুল ইসলামের মতো পরবর্তীতে জাঁদরেল অভিনেতারা। প্রথম নির্দেশনায়ই মাইকেলকে নিয়ে কাজ করা নিশ্চয়ই সাহসের বিষয়। নির্দেশনার জন্য এ নাটকটি বেছে নেয়ার বিশেষ কোনো কারণ ছিল কি? কার অনুপ্রেরণায় নির্দেশনায় এলেন? নির্দেশক আতাউর রহমানের শুরুর সময়টি জানতে চাই–

আতাউর রহমান : বাংলাদেশের যশোরের কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রতি আমার দুর্বলতা ছিল অপরিসীম। আঠারো শতকের এ কবি ও নাট্যকারকে আমি বাংলা সাহিত্যের রেনেসাঁ পুরুষ মনে করি। তার নব্য মহাকাব্য ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ আমার প্রিয় বই। ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ (মাইকেল বানানটা এভাবেই লিখেছেন) আমার প্রিয় প্রহসন যেখানে ভণ্ড সমাজপতির চিত্র খুব তীক্ষèভাবে এসেছে। এ জন্যই আমি নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের প্রথম প্রযোজনার নির্দেশক হিসেবে এ প্রহসনটিকে বেছে নিয়েছিলাম।

আমি প্রধানত অভিনেতাই ছিলাম। পরে আবিষ্কার করলাম, নাট্য নির্দেশনার কাজটা অত্যন্ত সৃজনশীল। নাট্যকার রচিত নাটকের অন্তর্গত রূপদান করতে পারে একজন নাট্য নির্দেশক, তার সহকারী ও সহযোগীরা। ‘নষ্টনীড়’ রবীন্দ্রনাথের লেখা গল্প এবং ‘নষ্টনীড়’কে আশ্রয় করে ‘চারুলতা’ সত্যজিত রায়ের সৃজন। নাট্যকার লিখিত নাটক একজন নাট্য নির্দেশকের সুপরিচালনায় মঞ্চকে আলোকিত করতে পারে। মঞ্চনাটক একটি যৌথ শিল্প-সৃজন, যার অগ্রভাগে থাকে নির্দেশক এবং নেপথ্যে মঞ্চকর্মী বা শিল্পীরা। এভাবেই নির্দেশনা আমার প্রাণের খেলা হয়ে উঠল এবং আমি নিজেকে নির্দেশক সত্তার মধ্য দিয়ে অনেক বেশি করে আবিষ্কার করলাম। মঞ্চনাটকের সব অভিনেতা-অভিনেত্রীসহ সব নেপথ্য শিল্পীদের কাণ্ডারি হওয়াটা আমার কাছে অনেক গৌরবমণ্ডিত কাজ মনে হয়।

যুগান্তর : সাহিত্যের অন্যান্য শাখার তুলনায় নাট্য সাহিত্যের ইতিহাস অধিকতর সমাজ ও জীবনঘনিষ্ঠ, অথচ দিন দিন মঞ্চনাটকের ধারাটি সংকুচিত হচ্ছে। এটা কি প্রযুক্তির প্রভাবে? নাকি মানুষের মধ্যে সাড়া ফেলার মতো নাটক নির্দেশক বা অভিনেতার অভাবে?

আতাউর রহমান : আমি মনে করি, প্রযুক্তি কেবল সহায়ক শক্তি। আসল সৃজনশক্তি নিহিত থাকে মানুষের মস্তিষ্কপ্রসূত কল্পনাশক্তিতে। আমাদের দেশে নির্দেশক ও অভিনেতার অভাব নেই। পৃথিবীর সর্বত্র জীবনের ধারাপাত দিন দিন অনেক বেশি জটিল হচ্ছে। আমাদের দেশে নাট্যকর্মীরা এ বিষয়ে সজাগ আছে এবং এ লক্ষ্যে তারা কাজ করে যাচ্ছে পৃথিবীর এ আদিতম প্রয়োগশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে। মঞ্চনাটকের প্রত্যেক কুশীলবেরা এবং দর্শক আসনে বসা পরোক্ষ কুশীলবেরা মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। এ রসায়ন অন্য কোনো শিল্পমাধ্যমে নেই।

যুগান্তর : নব্বই দশক পর্যন্ত দেশের সর্বত্র মঞ্চনাটক হতো। পাড়ায়-মহল্লায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও নাটক মঞ্চায়িত হতো। স্কুল-কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হতো। এখন এসব এতটাই কমে গেছে, নেই বললেই চলে। এ পরিস্থিতি তৈরির হওয়ার কারণ কী?

এখান থেকে উত্তরণের কোনো চেষ্টা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বা দেশের সংস্কৃতিসেবীদের আছে? সংস্কৃতিজগতের অভিভাবক হিসেবে এ বিষয়টি আপনাকে কীভাবে ভাবায়–

আতাউর রহমান : স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় এখনও মঞ্চনাটকের প্রদর্শনী হয়। সেটি হয়তো বছরে একবার বার্ষিক নাটক হিসেবে। আজকের সমগ্র বিশ্ব একটা বিচ্ছিন্নতা ও একাকিত্ববোধে পীড়িত হচ্ছে। মানুষের মাঝে বিগত দিনের আÍীয়তা ও বন্ধুত্ব বোধের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। আজকের মানুষেরা সমাজজীবন থেকে অনেকটাই গ্রন্থিচ্যুত হয়েছে। মানুষ একা হয়ে যাচ্ছে ক্রমাগত। আমার মনে হয়, দিন বদলাবে। সুতরাং বর্তমানের অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। হয়তো আমরা আবার নিজেদের খুঁজে পাব গোষ্ঠীবদ্ধ সমাজজীবনের মধ্যে। আজকের নিঃসঙ্গতা বোধ দূরীভূত হবে। আমাদের বর্তমানের সংস্কৃতিবান্ধব সরকারও এগিয়ে আসবে।

যুগান্তর : ১৯৭৩ সালে বাদল সরকার রচিত এবং আলী যাকের পরিচালিত ‘বাকি ইতিহাস’ মঞ্চনাটকে আপনি অভিনয় করেন। এটি ছিল নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের হয়ে আপনার প্রথম অভিনয় এবং যা ছিল বাংলাদেশে প্রথম দর্শনীর বিনিময়ে নাট্যপ্রদর্শনী। দর্শনীর বিনিময়ে হওয়া সেই নাটকে কেমন সাড়া পড়েছিল? দর্শক বেশি না আগের তুলনায় কম হয়েছিল? সাংস্কৃতিক কর্মীদের এবং দর্শনার্থীদের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?

আতাউর রহমান : আবুল হায়াত আর আমি প্রধান দু’টি পুরুষ চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। নাটকটির বিষয়বস্তুর দিক থেকে কিছুটা দুরূহ হলেও দর্শকের দিক থেকে সাড়ার অভাব ছিল না। এ প্রযোজনার ৩৫টি প্রদর্শনী হয়েছিল। ৮টি প্রদর্শনী হয়েছিল ‘ফুলার রোড’-এ অবস্থিত ব্রিটিশ কাউন্সিলের মঞ্চে এবং বাকি প্রদর্শনীগুলো হয়েছিল বেইলি রোডের মহিলা সমিতির মঞ্চে (বর্তমানে নাটক সরণি)। হ্যাঁ, আমি নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের নাটকে প্রথম অভিনয় করি ‘বাকি ইতিহাস’ নাটকে। প্রায় প্রতি প্রদর্শনীই দর্শনীর বিনিময়ে হাউসফুল হতো। টিকিটের মূল্য খুব সম্ভবত ছিল ৫-১০ টাকা। দর্শনীর বিনিময়ে নাট্যাভিনয়ের প্রস্তাব করেছিলেন সদ্যপ্রয়াত কীর্তিমান অভিনেতা ও নাট্য নির্দেশক আলী যাকের এবং আমরা সর্বান্তকরণে তাকে সমর্থন করেছিলাম।

যুগান্তর : মঞ্চনাটকের তিনটি অন্তরায় চিহ্নিত করুন। সেই সমস্যার সমাধান বলুন এবং সমাধানের দায়িত্ব কারা নেবে, সেই সম্পর্কেও বলুন–
আতাউর রহমান :
ক) বিশ্বজুড়ে বর্তমানের সামাজিক অবস্থা।
খ) মানুষের সঙ্গে মানুষের আত্মিক সম্পর্কের বর্ধিত দূরত্ব।
গ) অভিনয় উপযোগী সারা দেশে মিলনায়তনের অভাব।
তরুণ প্রজন্মকে বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি শিল্প ও সাহিত্যের প্রতি আগ্রহী হতে হবে। সর্বোপরি দেশকে ভালোবাসতে হবে এবং আত্মীয়, সংসার ও সমাজ ঘনিষ্ঠ হতে হবে।

যুগান্তর : দুটো নাটকের নাম, যা পড়ার জন্য পাঠককে পরামর্শ দেবেন–

আতাউর রহমান : শেকসপিয়ারের ‘হ্যামলেট’ এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রক্তকরবী’।

যুগান্তর : আপনার প্রিয় জীবিত একজন নাট্যকার এবং একজন নির্দেশকের নাম, যাদের কাজ মঞ্চনাটককে সমৃদ্ধ করছে বা করবে–

আতাউর রহমান : নাট্যকার মামুনুর রশীদ এবং নির্দেশক আমিনুর রহমান মুকুল।

শুক্রবারের সাক্ষাৎকার

সমগ্র বিশ্ব একাকিত্ববোধে পীড়িত হচ্ছে

 জুননু রাইন 
২৫ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আতাউর রহমানের জন্ম ১৮ জুন, ১৯৪১ সালে। ১৯৬৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকা বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর। বাংলাদেশের থিয়েটারজগত তার নাট্যকৃতির জন্য তাকে মঞ্চসারথি উপাধিতে ভূষিত করেন। 

৫৫ বছর ধরে মঞ্চনাটক, টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে জড়িত। তার নির্দেশিত নাটকের সংখ্যা ৩০টিরও অধিক। বিভিন্ন চরিত্রে আজ অবধি ১৮০০ বারের মতো মঞ্চে অবতীর্ণ হয়েছেন। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। 

আইটিআই বাংলাদেশ কেন্দ্রের সভাপতি ছিলেন এবং বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের চেয়ারম্যানের পদ অলঙ্কৃত করেছিলেন। দেশের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নাট্যবিষয়ক শিক্ষক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রির পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সর্বশেষ প্রকাশিত বই ‘মঞ্চসারথির কাব্য কথা’। প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ১২টি। ২১শে পদকসহ বহু পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। 

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন: জুননু রাইন

যুগান্তর : আপনি অভিনেতা নির্দেশক ও অনুবাদক; সাংস্কৃতিক জগতের সবাই আপনার এ পরিচয় জানে। আপনি যে এখন কবিতাও লিখেন এটি সম্ভবত খুব বেশি মানুষ জানে না

আতাউর রহমান : ২০১৫ সাল থেকে আমি কবিতার কাছে সমর্পিত হই। পৃথিবীর প্রায় সব কবির কবিতাই আমি পড়েছি। আমার কাব্যপ্রীতির উন্মেষ ঘটে আমার নাট্যপ্রীতি থেকে। গ্রিক সুবর্ণ যুগের নাট্যকারেরা কাব্যভাষায় নাটক লিখতেন। শেকসপিয়ারের সব নাটকই কাব্যভাষায় রচিত। 

আমাদের সৈয়দ শামসুল হকের সব নাটকও কাব্যভাষায় রচিত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কিছু নাটক গদ্যভাষায় লেখা হলেও সে নাটকগুলোয় কাব্যের সমৃদ্ধ স্ফুরণ রয়েছে। পৃথিবীর আদি মানুষের নিত্যদিনের ভাষা ছিল কাব্যভাষা। কবিতা বা কাব্যে অনেক বড় ভাবনা খুব সংক্ষেপে বলা যায়, যা গদ্যে প্রকাশ করতে হয়তো দীর্ঘ পরিসরের প্রয়োজন হয়।

আমার একটি কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে, যার শিরোনাম ‘মঞ্চসারথির কাব্য কথা’। প্রকাশক ‘স্বপ্নলোক’। প্রথম প্রকাশ– অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৬। আমার আরও দু’টো কবিতার বই প্রস্তুত আছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে প্রকাশিত হবে, এমনটিই আশা করছি। আমার কবি-পরিচিতি আমাকে গর্বিত করে।

যুগান্তর : বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধপরবর্তী মঞ্চনাটক আন্দোলনের অগ্রদূত বলা হয় আপনাকে। আপনাদের সময়ের মঞ্চনাটকের মান আর জনপ্রিয়তার তুলনায় এখনকার মঞ্চনাটককে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন–

আতাউর রহমান : স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশে মঞ্চনাটকের নব জাগরণ হয় পুরনো দিনের মহিলা সমিতি ও গাইড হাউস মিলনায়তনে। তখন নাট্যকার, অভিনেতা-অভিনেত্রীরা এবং মঞ্চের আড়ালে সৃজনশীল কর্মীরা ছিল মঞ্চনাটকের প্রতি নিবেদিত। পাঁচ-ছয়টি নাটকের দল নিয়মিত নাটক করত। মাসে অন্ততপক্ষে চার থেকে পাঁচটি নাট্যপ্রদর্শনী হতো। 

নাট্যকারেরা ছিল স্বনামধন্য নির্দেশক ও মঞ্চের ভেতর-বাইরের কর্মীরা ছিল নিবেদিতপ্রাণ। আমি মনে করি, কারিগরি সুযোগ-সুবিধাই বড় কথা নয়। সৃজনের পেছনে মানুষের আন্তরিক প্রয়াসই বিবেচ্য। তা না হলে সত্যজিত রায় মান্ধাতার আমলের ক্যামেরা দিয়ে ‘পথের পাঁচালি’, ‘অপরাজিতা’ ও ‘অপুর সংসার’-এর মতো বিশ্বজয়ী চলচ্চিত্র বানাতে পারতেন না।

বর্তমানে মঞ্চনাটকের মান বিগত দিনের তুলনায় নিুগামী। এখন টেলিভিশনে অভিনয় করলে অর্থ উপার্জন করা যায় কিন্তু মঞ্চনাটকে তা সম্ভব নয়। তাছাড়া একটি নাটকের দল মাসে একটির বেশি প্রদর্শনী করতে পারে না।

শিল্পকলা একাডেমির ৩টি মঞ্চ ও মহিলা সমিতি মঞ্চ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পরবর্তী সময়ে টেলিভিশন চ্যানেল একটিই ছিল, যার নাম ছিল– বিটিভি। তখন এতগুলো টিভি সম্প্রচার কেন্দ্রের হাতছানি ছিল না। 

মঞ্চনাটকের কর্মীদের সরকারসহ অন্যান্য সংস্থার আর্থিক সহযোগিতা পেতে হবে বর্তমানের মঞ্চনাটককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আমাদের দেশের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে অত্যন্ত সজাগ এবং সারা দেশে মঞ্চনাটকের উন্নয়নের জন্য প্রাণপণ কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ভূমিকাও প্রশংসনীয়।

যুগান্তর : ষাটের দশকের শেষ দিকে ফজলে লোহানীর বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত হওয়া ‘নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়’-এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। খুব প্রতিকূল অবস্থা ছিল। এক দিকে স্বাধীনতা আন্দোলন; অন্যদিকে বাঙালি সংস্কৃতির ওপর পাকিস্তানিদের অন্যায় হস্তক্ষেপ...
তখনকার সময়টা সাহিত্য-সংস্কৃতির জন্য কেমন ছিল? আপনি তো প্রত্যক্ষদর্শী; আপনার অভিজ্ঞতার আলোকে জানতে চাই–

আতাউর রহমান : আমাদের মধ্যে ভয়ংকর জেদ কাজ করত তখন। রবীন্দ্রচর্চার ওপর পাকিস্তানি স্বৈরশাষক আইয়ুব খানের রোষ দৃষ্টি পড়ে। বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যময় শিল্প-সাহিত্যের ও সংস্কৃতি চর্চার প্রতি পাকিস্তানি শাষকদের ছিল প্রচণ্ড ঘৃণা ও অবজ্ঞা। এ দাসত্ব-শৃঙ্খল থেকে আমাদের মুক্ত করেছেন আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার সহকর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে।

যুগান্তর : অভিনয়ের পাশাপাশি নির্দেশনায়ও আপনার সমান সাফল্য রয়েছে। আপনার নির্দেশিত প্রথম মঞ্চনাটক মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’। যেখানে অভিনয় করেন লাকি ইনাম, আবুল হায়াত, ইনামুল হক, আলী যাকের ও ফখরুল ইসলামের মতো পরবর্তীতে জাঁদরেল অভিনেতারা। প্রথম নির্দেশনায়ই মাইকেলকে নিয়ে কাজ করা নিশ্চয়ই সাহসের বিষয়। নির্দেশনার জন্য এ নাটকটি বেছে নেয়ার বিশেষ কোনো কারণ ছিল কি? কার অনুপ্রেরণায় নির্দেশনায় এলেন? নির্দেশক আতাউর রহমানের শুরুর সময়টি জানতে চাই–

আতাউর রহমান : বাংলাদেশের যশোরের কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রতি আমার দুর্বলতা ছিল অপরিসীম। আঠারো শতকের এ কবি ও নাট্যকারকে আমি বাংলা সাহিত্যের রেনেসাঁ পুরুষ মনে করি। তার নব্য মহাকাব্য ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ আমার প্রিয় বই। ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ (মাইকেল বানানটা এভাবেই লিখেছেন) আমার প্রিয় প্রহসন যেখানে ভণ্ড সমাজপতির চিত্র খুব তীক্ষèভাবে এসেছে। এ জন্যই আমি নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের প্রথম প্রযোজনার নির্দেশক হিসেবে এ প্রহসনটিকে বেছে নিয়েছিলাম।

আমি প্রধানত অভিনেতাই ছিলাম। পরে আবিষ্কার করলাম, নাট্য নির্দেশনার কাজটা অত্যন্ত সৃজনশীল। নাট্যকার রচিত নাটকের অন্তর্গত রূপদান করতে পারে একজন নাট্য নির্দেশক, তার সহকারী ও সহযোগীরা। ‘নষ্টনীড়’ রবীন্দ্রনাথের লেখা গল্প এবং ‘নষ্টনীড়’কে আশ্রয় করে ‘চারুলতা’ সত্যজিত রায়ের সৃজন। নাট্যকার লিখিত নাটক একজন নাট্য নির্দেশকের সুপরিচালনায় মঞ্চকে আলোকিত করতে পারে। মঞ্চনাটক একটি যৌথ শিল্প-সৃজন, যার অগ্রভাগে থাকে নির্দেশক এবং নেপথ্যে মঞ্চকর্মী বা শিল্পীরা। এভাবেই নির্দেশনা আমার প্রাণের খেলা হয়ে উঠল এবং আমি নিজেকে নির্দেশক সত্তার মধ্য দিয়ে অনেক বেশি করে আবিষ্কার করলাম। মঞ্চনাটকের সব অভিনেতা-অভিনেত্রীসহ সব নেপথ্য শিল্পীদের কাণ্ডারি হওয়াটা আমার কাছে অনেক গৌরবমণ্ডিত কাজ মনে হয়।

যুগান্তর : সাহিত্যের অন্যান্য শাখার তুলনায় নাট্য সাহিত্যের ইতিহাস অধিকতর সমাজ ও জীবনঘনিষ্ঠ, অথচ দিন দিন মঞ্চনাটকের ধারাটি সংকুচিত হচ্ছে। এটা কি প্রযুক্তির প্রভাবে? নাকি মানুষের মধ্যে সাড়া ফেলার মতো নাটক নির্দেশক বা অভিনেতার অভাবে?

আতাউর রহমান : আমি মনে করি, প্রযুক্তি কেবল সহায়ক শক্তি। আসল সৃজনশক্তি নিহিত থাকে মানুষের মস্তিষ্কপ্রসূত কল্পনাশক্তিতে। আমাদের দেশে নির্দেশক ও অভিনেতার অভাব নেই। পৃথিবীর সর্বত্র জীবনের ধারাপাত দিন দিন অনেক বেশি জটিল হচ্ছে। আমাদের দেশে নাট্যকর্মীরা এ বিষয়ে সজাগ আছে এবং এ লক্ষ্যে তারা কাজ করে যাচ্ছে পৃথিবীর এ আদিতম প্রয়োগশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে। মঞ্চনাটকের প্রত্যেক কুশীলবেরা এবং দর্শক আসনে বসা পরোক্ষ কুশীলবেরা মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। এ রসায়ন অন্য কোনো শিল্পমাধ্যমে নেই।

যুগান্তর : নব্বই দশক পর্যন্ত দেশের সর্বত্র মঞ্চনাটক হতো। পাড়ায়-মহল্লায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও নাটক মঞ্চায়িত হতো। স্কুল-কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হতো। এখন এসব এতটাই কমে গেছে, নেই বললেই চলে। এ পরিস্থিতি তৈরির হওয়ার কারণ কী?

এখান থেকে উত্তরণের কোনো চেষ্টা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বা দেশের সংস্কৃতিসেবীদের আছে? সংস্কৃতিজগতের অভিভাবক হিসেবে এ বিষয়টি আপনাকে কীভাবে ভাবায়–

আতাউর রহমান : স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় এখনও মঞ্চনাটকের প্রদর্শনী হয়। সেটি হয়তো বছরে একবার বার্ষিক নাটক হিসেবে। আজকের সমগ্র বিশ্ব একটা বিচ্ছিন্নতা ও একাকিত্ববোধে পীড়িত হচ্ছে। মানুষের মাঝে বিগত দিনের আÍীয়তা ও বন্ধুত্ব বোধের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। আজকের মানুষেরা সমাজজীবন থেকে অনেকটাই গ্রন্থিচ্যুত হয়েছে। মানুষ একা হয়ে যাচ্ছে ক্রমাগত। আমার মনে হয়, দিন বদলাবে। সুতরাং বর্তমানের অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। হয়তো আমরা আবার নিজেদের খুঁজে পাব গোষ্ঠীবদ্ধ সমাজজীবনের মধ্যে। আজকের নিঃসঙ্গতা বোধ দূরীভূত হবে। আমাদের বর্তমানের সংস্কৃতিবান্ধব সরকারও এগিয়ে আসবে।

যুগান্তর : ১৯৭৩ সালে বাদল সরকার রচিত এবং আলী যাকের পরিচালিত ‘বাকি ইতিহাস’ মঞ্চনাটকে আপনি অভিনয় করেন। এটি ছিল নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের হয়ে আপনার প্রথম অভিনয় এবং যা ছিল বাংলাদেশে প্রথম দর্শনীর বিনিময়ে নাট্যপ্রদর্শনী। দর্শনীর বিনিময়ে হওয়া সেই নাটকে কেমন সাড়া পড়েছিল? দর্শক বেশি না আগের তুলনায় কম হয়েছিল? সাংস্কৃতিক কর্মীদের এবং দর্শনার্থীদের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?

আতাউর রহমান : আবুল হায়াত আর আমি প্রধান দু’টি পুরুষ চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। নাটকটির বিষয়বস্তুর দিক থেকে কিছুটা দুরূহ হলেও দর্শকের দিক থেকে সাড়ার অভাব ছিল না। এ প্রযোজনার ৩৫টি প্রদর্শনী হয়েছিল। ৮টি প্রদর্শনী হয়েছিল ‘ফুলার রোড’-এ অবস্থিত ব্রিটিশ কাউন্সিলের মঞ্চে এবং বাকি প্রদর্শনীগুলো হয়েছিল বেইলি রোডের মহিলা সমিতির মঞ্চে (বর্তমানে নাটক সরণি)। হ্যাঁ, আমি নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের নাটকে প্রথম অভিনয় করি ‘বাকি ইতিহাস’ নাটকে। প্রায় প্রতি প্রদর্শনীই দর্শনীর বিনিময়ে হাউসফুল হতো। টিকিটের মূল্য খুব সম্ভবত ছিল ৫-১০ টাকা। দর্শনীর বিনিময়ে নাট্যাভিনয়ের প্রস্তাব করেছিলেন সদ্যপ্রয়াত কীর্তিমান অভিনেতা ও নাট্য নির্দেশক আলী যাকের এবং আমরা সর্বান্তকরণে তাকে সমর্থন করেছিলাম।

যুগান্তর : মঞ্চনাটকের তিনটি অন্তরায় চিহ্নিত করুন। সেই সমস্যার সমাধান বলুন এবং সমাধানের দায়িত্ব কারা নেবে, সেই সম্পর্কেও বলুন–
আতাউর রহমান :
 ক) বিশ্বজুড়ে বর্তমানের সামাজিক অবস্থা।
 খ) মানুষের সঙ্গে মানুষের আত্মিক সম্পর্কের বর্ধিত দূরত্ব।
 গ) অভিনয় উপযোগী সারা দেশে মিলনায়তনের অভাব।
তরুণ প্রজন্মকে বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি শিল্প ও সাহিত্যের প্রতি আগ্রহী হতে হবে। সর্বোপরি দেশকে ভালোবাসতে হবে এবং আত্মীয়, সংসার ও সমাজ ঘনিষ্ঠ হতে হবে।

যুগান্তর : দুটো নাটকের নাম, যা পড়ার জন্য পাঠককে পরামর্শ দেবেন–

আতাউর রহমান : শেকসপিয়ারের ‘হ্যামলেট’ এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রক্তকরবী’।

যুগান্তর : আপনার প্রিয় জীবিত একজন নাট্যকার এবং একজন নির্দেশকের নাম, যাদের কাজ মঞ্চনাটককে সমৃদ্ধ করছে বা করবে–

আতাউর রহমান : নাট্যকার মামুনুর রশীদ এবং নির্দেশক আমিনুর রহমান মুকুল।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন