পল্লবীর কিশোর গ্যাং লিডার আরজু পুলিশের কবজায়
jugantor
পল্লবীর কিশোর গ্যাং লিডার আরজু পুলিশের কবজায়
আরজু বাহিনীর তাণ্ডবে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

  আফজাল হোসেন, মিরপুর  

১৩ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পল্লবীর কিশোর গ্যাং গান্ধা আরজু ওরফে বিহারি আরজু

রাজধানীর পল্লবীর কিশোর গ্যাং গান্ধা আরজু ওরফে বিহারি আরজুকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার মিরপুর-১১ নম্বর সি ব্লক ফুটবল গ্রাউন্ড ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

আরজুর বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় তিনটি হত্যাচেষ্টাসহ চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। বিএনপির হরতাল অবরোধে গ্যাং সদস্যদের নিয়ে গাড়ি ভাঙচুর ও টায়ার পোড়ানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, আরজু পল্লবীর ১১ নম্বর ফুটবল গ্রাউন্ড ক্যাম্পের বাসিন্দা। কানে দুল লাগিয়ে দলবেঁধে দাপিয়ে বেড়ান মহল্লার অলিগলি। আরজুর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এমসিসি ক্যাম্প, ফুটবল গ্রাউন্ড ক্যাম্প, শাহীন স্কুল ক্যাম্প, কাইল্লা বস্তিসহ আশপাশের এলাকা। মাদক, চুরি, ছিনতাই, অন্যের হয়ে মারামারি, জবরদখল, বিএনপির মিছিল-মিটিং ও হরতাল-অবরোধে লোক সরবরাহসহ সবকিছুতেই তিনি সিদ্ধহস্ত। ১৬ ডিসেম্বরের মিষ্টি খাওয়ার খরচ না দেওয়ায় বেনারসি পল্লীর এক ব্যবসায়ীসহ ৩ জনকে কুপিয়েছে আরজু ও তার সহযোগীরা।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, মাস ছয়েক আগে পল্লবীতে স্বামীর সামনে স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করে আরজু। ওই নারীর স্বামী আরজুকে বকাঝকা দেওয়ার কিছুক্ষণ পর তার বাহিনী নিয়ে ওই বাড়িতে হামলা চালান। বাসা থেকে ডেকে নিয়ে ওই ব্যক্তিকে কুপিয়ে জখম করেন। ফুটবল গ্রাউন্ড ক্যাম্প সংলগ্ন ১০ নম্বর ও ১১ নম্বর রোডের কয়েকজন বাড়ির মালিক জানান, প্রতি মাসে আরজুর লোকজনকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিতে হয়। কেউ প্রতিবাদ করলে আরজু ও তার গ্যাং সদস্যরা বাসাবাড়িতে তাণ্ডব চালায়। কলেজপড়ুয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, কারও হাতে দামি মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র দেখলে বিভিন্ন ফাঁদে ফেলে তা হাতিয়ে নেয় আরজু বাহিনী। সূত্র জানায়, ঠুনকো কথা কাটাকাটির জেরে গত বছর জুন মাসের ২ তারিখ বিহারি নেতা ফাক্কু ও শাহিদ আলী বাবুল ও তার পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় আরজু বাহিনী। এ হামলায় ৫ জনকে কুপিয়ে জখম করা হয়।

এ ঘটনায় আরজুসহ কয়েকজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় ২টি মামলা হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, সন্ধ্যার পর প্যারিস রোডের কাইল্ল্যা বস্তির সামনে চুরি ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটে।

আরজু বাহিনী এসব অপকর্মে জড়িত। তারা মানুষকে ফাঁদে ফেলে সব ছিনিয়ে নেয়। জানতে চাইলে ডিএনসিসির ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী জহিরুল ইসলাম মানিক বলেন, আমার ওয়ার্ডে ৭ জন কিশোরকে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে সংশোধন করা হয়েছে। এখন সবাই পড়াশোনায় মনোযোগ দিয়েছেন।

পল্লবী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, আরজুকে আটক করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই চলছে। তার সঙ্গে কে কে জড়িত ও তার নেতা কারা এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পল্লবীর কিশোর গ্যাং লিডার আরজু পুলিশের কবজায়

আরজু বাহিনীর তাণ্ডবে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী
 আফজাল হোসেন, মিরপুর 
১৩ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
পল্লবীর কিশোর গ্যাং গান্ধা আরজু ওরফে বিহারি আরজু
পল্লবীর কিশোর গ্যাং গান্ধা আরজু ওরফে বিহারি আরজু

রাজধানীর পল্লবীর কিশোর গ্যাং গান্ধা আরজু ওরফে বিহারি আরজুকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার মিরপুর-১১ নম্বর সি ব্লক ফুটবল গ্রাউন্ড ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

আরজুর বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় তিনটি হত্যাচেষ্টাসহ চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। বিএনপির হরতাল অবরোধে গ্যাং সদস্যদের নিয়ে গাড়ি ভাঙচুর ও টায়ার পোড়ানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, আরজু পল্লবীর ১১ নম্বর ফুটবল গ্রাউন্ড ক্যাম্পের বাসিন্দা। কানে দুল লাগিয়ে দলবেঁধে দাপিয়ে বেড়ান মহল্লার অলিগলি। আরজুর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এমসিসি ক্যাম্প, ফুটবল গ্রাউন্ড ক্যাম্প, শাহীন স্কুল ক্যাম্প, কাইল্লা বস্তিসহ আশপাশের এলাকা। মাদক, চুরি, ছিনতাই, অন্যের হয়ে মারামারি, জবরদখল, বিএনপির মিছিল-মিটিং ও হরতাল-অবরোধে লোক সরবরাহসহ সবকিছুতেই তিনি সিদ্ধহস্ত। ১৬ ডিসেম্বরের মিষ্টি খাওয়ার খরচ না দেওয়ায় বেনারসি পল্লীর এক ব্যবসায়ীসহ ৩ জনকে কুপিয়েছে আরজু ও তার সহযোগীরা।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, মাস ছয়েক আগে পল্লবীতে স্বামীর সামনে স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করে আরজু। ওই নারীর স্বামী আরজুকে বকাঝকা দেওয়ার কিছুক্ষণ পর তার বাহিনী নিয়ে ওই বাড়িতে হামলা চালান। বাসা থেকে ডেকে নিয়ে ওই ব্যক্তিকে কুপিয়ে জখম করেন। ফুটবল গ্রাউন্ড ক্যাম্প সংলগ্ন ১০ নম্বর ও ১১ নম্বর রোডের কয়েকজন বাড়ির মালিক জানান, প্রতি মাসে আরজুর লোকজনকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিতে হয়। কেউ প্রতিবাদ করলে আরজু ও তার গ্যাং সদস্যরা বাসাবাড়িতে তাণ্ডব চালায়। কলেজপড়ুয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, কারও হাতে দামি মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র দেখলে বিভিন্ন ফাঁদে ফেলে তা হাতিয়ে নেয় আরজু বাহিনী। সূত্র জানায়, ঠুনকো কথা কাটাকাটির জেরে গত বছর জুন মাসের ২ তারিখ বিহারি নেতা ফাক্কু ও শাহিদ আলী বাবুল ও তার পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় আরজু বাহিনী। এ হামলায় ৫ জনকে কুপিয়ে জখম করা হয়।

এ ঘটনায় আরজুসহ কয়েকজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় ২টি মামলা হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, সন্ধ্যার পর প্যারিস রোডের কাইল্ল্যা বস্তির সামনে চুরি ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটে।

আরজু বাহিনী এসব অপকর্মে জড়িত। তারা মানুষকে ফাঁদে ফেলে সব ছিনিয়ে নেয়। জানতে চাইলে ডিএনসিসির ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী জহিরুল ইসলাম মানিক বলেন, আমার ওয়ার্ডে ৭ জন কিশোরকে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে সংশোধন করা হয়েছে। এখন সবাই পড়াশোনায় মনোযোগ দিয়েছেন।

পল্লবী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, আরজুকে আটক করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই চলছে। তার সঙ্গে কে কে জড়িত ও তার নেতা কারা এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।