বেশি দামে টিকা কিনে লুটপাটের উৎসবের প্রস্তুতি
jugantor
বেশি দামে টিকা কিনে লুটপাটের উৎসবের প্রস্তুতি
-মির্জা ফখরুল

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৪ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, দেশে ডাকাতির রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যার সবশেষ নজির অতিরিক্ত দাম দিয়ে করোনার টিকা আমদানি।

এই আমদানির মধ্য দিয়ে লুটপাটের আরেক উৎসব চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দুই ডলারের করোনার টিকা পাঁচ ডলারে ক্রয় করা হচ্ছে শুধু দুর্নীতির জন্য।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে তিনি এ অভিযোগ করেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করে ঢাকা মহানগর বিএনপি। দেশে আইনের শাসন নেই মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার চুরি এবং লুটপাট করে দেশে একটি ডাকাতের শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছে।

কোভিড-১৯ এত বড় একটি ভয়াবহ মহামারি-এ সময়েও লুটপাট বন্ধ করেননি। টিকা আমদানির মাধ্যমে লুটপাটের নতুন ব্যবস্থা করছেন। যেখানে ভারতে বিক্রি করছে দুই ডলারে, সেখানে কিনছেন পাঁচ ডলার করে। বিএনপির মহাসচিব বলেন, তারেক রহমান একা নন, এ দেশের ১৬ কোটি গণতন্ত্রকামী মানুষ তার সঙ্গে আছেন। সুতরাং কোনো মিথ্যা মামলা ও হুলিয়া দিয়ে কোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।

তিনি বলেন, বিচার বিভাগ ধ্বংস করে দিয়েছেন। বিচার বিভাগের কোনো মর্যাদা রাখেননি। এই তারেক রহমান সাহেবকে একটি মামলায় পুরোপুরি নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেই মামলাকে হাইকোর্ট দিয়ে আবার সাজার ব্যবস্থা করেছেন। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে সাজা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে ও পরোয়ানা জারি করা হয়েছে তা নতুন কোনো ঘটনা নয়। গত ১২ বছর ধরে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ সব গণতন্ত্রকামী মানুষকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার জন্য গভীর ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। আজ সে চক্রান্তের ধারাবাহিকতায় দেশনেত্রী কারাবন্দি হয়ে আছেন।

তিনি বলেন, দেশের ৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে সরকার সুপরিকল্পিতভাবে প্রায় ১২ বছর ধরে এখানে অত্যাচার নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়ে যাচ্ছে। তারা মনে করছে এই অত্যাচার নির্যাতন মামলার হুলিয়া দিয়ে এ দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমন করে রাখা যাবে।

কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ সংগ্রামী মানুষ, বাংলাদেশের মানুষ যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশের মানুষ সংগ্রাম করে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে গণতন্ত্রকে অর্জন করেছে। বাংলাদেশের মানুষ এবারও তাদের বুকের রক্ত দিয়ে এই গণতন্ত্রকে রক্ষা করবে। স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এই কর্তৃত্ববাদী সরকার ভিন দেশিদের দাসত্ব গ্রহণ করে আজ ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করা এবং দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে দেশটাকে আগের মতো তলাবিহীন ঝুড়ি বানানোর একটি পাঁয়তারা চলছে।

তাই আমাদের একটি-দুইটি মামলার প্রতিবাদ করে ক্ষান্ত হলে চলবে না। একটি সমাবেশের মধ্য দিয়ে আÍতৃপ্তি প্রকাশ করলে চলবে না। জনগন প্রস্তুত আছে। আমাদের কথার চেয়ে কাজ দরকার বেশি। জনগণ চায় আমরা রাস্তায় নামি জনগণ আমাদের সঙ্গে নামবে। ঐক্যের ডাক দিয়ে বলুন: ‘এক দফা এক দাবি, হাসিনা তুই করে যাবি।’

দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, বিএনপি আপনাকে উৎখাত করতে চায় না। দেশের মানুষ আপনাকে চায় না। সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর এত প্রতিহিংসা কেন? জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে, স্বাধীনতার বিরুদ্ধে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারকারী বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ওনার প্রতিহিংসা থামবে না।

যুগ্মমহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, মামলা হচ্ছে আমাদের গলার মালা। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে দেশনায়ক তারেক রহমানের নামে এই মামলা আমরা ফুলের মালা হিসাবে বরণ করে নিয়েছি।

বিএনপির যুগ্মমহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা নাজিম উদ্দিন আলম, মীর সরফত আলী সপু, আজিজুল বারী হেলাল, শিরিন সুলতানা, আবদুস সালাম আজাদ, শহিদুল ইসলাম, শামীমুর রহমান শামীম, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কাজী আবুল বাশার, উত্তরের আবদুল আলীম নকি, যুবদলের সাইফুল আলম নীরব, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মোর্তাজুল করিম বাদরু, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, মহিলা দলের সুলতানা আহমেদ, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, জাসাসের হেলাল খান, ছাত্রদলের ফজলুল রহমান খোকন, কাজী রওনুকুল ইসলাম শ্রাবণ, ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমুখ।

বেশি দামে টিকা কিনে লুটপাটের উৎসবের প্রস্তুতি

-মির্জা ফখরুল
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৪ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, দেশে ডাকাতির রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যার সবশেষ নজির অতিরিক্ত দাম দিয়ে করোনার টিকা আমদানি।

এই আমদানির মধ্য দিয়ে লুটপাটের আরেক উৎসব চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দুই ডলারের করোনার টিকা পাঁচ ডলারে ক্রয় করা হচ্ছে শুধু দুর্নীতির জন্য।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে তিনি এ অভিযোগ করেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করে ঢাকা মহানগর বিএনপি। দেশে আইনের শাসন নেই মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার চুরি এবং লুটপাট করে দেশে একটি ডাকাতের শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছে।

কোভিড-১৯ এত বড় একটি ভয়াবহ মহামারি-এ সময়েও লুটপাট বন্ধ করেননি। টিকা আমদানির মাধ্যমে লুটপাটের নতুন ব্যবস্থা করছেন। যেখানে ভারতে বিক্রি করছে দুই ডলারে, সেখানে কিনছেন পাঁচ ডলার করে। বিএনপির মহাসচিব বলেন, তারেক রহমান একা নন, এ দেশের ১৬ কোটি গণতন্ত্রকামী মানুষ তার সঙ্গে আছেন। সুতরাং কোনো মিথ্যা মামলা ও হুলিয়া দিয়ে কোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।

তিনি বলেন, বিচার বিভাগ ধ্বংস করে দিয়েছেন। বিচার বিভাগের কোনো মর্যাদা রাখেননি। এই তারেক রহমান সাহেবকে একটি মামলায় পুরোপুরি নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেই মামলাকে হাইকোর্ট দিয়ে আবার সাজার ব্যবস্থা করেছেন। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে সাজা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে ও পরোয়ানা জারি করা হয়েছে তা নতুন কোনো ঘটনা নয়। গত ১২ বছর ধরে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ সব গণতন্ত্রকামী মানুষকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার জন্য গভীর ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। আজ সে চক্রান্তের ধারাবাহিকতায় দেশনেত্রী কারাবন্দি হয়ে আছেন।

তিনি বলেন, দেশের ৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে সরকার সুপরিকল্পিতভাবে প্রায় ১২ বছর ধরে এখানে অত্যাচার নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়ে যাচ্ছে। তারা মনে করছে এই অত্যাচার নির্যাতন মামলার হুলিয়া দিয়ে এ দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে দমন করে রাখা যাবে।

কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ সংগ্রামী মানুষ, বাংলাদেশের মানুষ যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশের মানুষ সংগ্রাম করে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে গণতন্ত্রকে অর্জন করেছে। বাংলাদেশের মানুষ এবারও তাদের বুকের রক্ত দিয়ে এই গণতন্ত্রকে রক্ষা করবে। স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এই কর্তৃত্ববাদী সরকার ভিন দেশিদের দাসত্ব গ্রহণ করে আজ ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করা এবং দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে দেশটাকে আগের মতো তলাবিহীন ঝুড়ি বানানোর একটি পাঁয়তারা চলছে।

তাই আমাদের একটি-দুইটি মামলার প্রতিবাদ করে ক্ষান্ত হলে চলবে না। একটি সমাবেশের মধ্য দিয়ে আÍতৃপ্তি প্রকাশ করলে চলবে না। জনগন প্রস্তুত আছে। আমাদের কথার চেয়ে কাজ দরকার বেশি। জনগণ চায় আমরা রাস্তায় নামি জনগণ আমাদের সঙ্গে নামবে। ঐক্যের ডাক দিয়ে বলুন: ‘এক দফা এক দাবি, হাসিনা তুই করে যাবি।’

দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, বিএনপি আপনাকে উৎখাত করতে চায় না। দেশের মানুষ আপনাকে চায় না। সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর এত প্রতিহিংসা কেন? জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে, স্বাধীনতার বিরুদ্ধে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারকারী বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ওনার প্রতিহিংসা থামবে না।

যুগ্মমহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, মামলা হচ্ছে আমাদের গলার মালা। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে দেশনায়ক তারেক রহমানের নামে এই মামলা আমরা ফুলের মালা হিসাবে বরণ করে নিয়েছি।

বিএনপির যুগ্মমহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা নাজিম উদ্দিন আলম, মীর সরফত আলী সপু, আজিজুল বারী হেলাল, শিরিন সুলতানা, আবদুস সালাম আজাদ, শহিদুল ইসলাম, শামীমুর রহমান শামীম, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কাজী আবুল বাশার, উত্তরের আবদুল আলীম নকি, যুবদলের সাইফুল আলম নীরব, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মোর্তাজুল করিম বাদরু, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, মহিলা দলের সুলতানা আহমেদ, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, জাসাসের হেলাল খান, ছাত্রদলের ফজলুল রহমান খোকন, কাজী রওনুকুল ইসলাম শ্রাবণ, ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমুখ।