বিদ্রোহীদের বাগে আনার চেষ্টায় আ.লীগ
jugantor
চসিক নির্বাচনে উত্তাপ
বিদ্রোহীদের বাগে আনার চেষ্টায় আ.লীগ
৫৫টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ৮৯ জন * বহিষ্কারের সুপারিশ করে চিঠি কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে -আ জ ম নাছির

  নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম  

১৫ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগে চলে আসা দীর্ঘ দিনের বিরোধ আসন্ন সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচন ঘিরে সহিংসরূপ ধারণ করেছে।

নগরীর ৪১টি সাধারণ ওয়ার্ডের ৩৪টিতে বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা ৬২ জন এবং ১৪টি সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের ১৩টিতেই বিদ্রোহী প্রার্থী আছে এবং এই সংখ্যা ২৭টি। শাসক দলের এই ৮৯ জন বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে অনেকেই সক্রিয়। এর মধ্যে মনোনয়নবঞ্চিত ১৪ জন সাবেক কাউন্সিলর মাঠ দখলে রাখার চেষ্টা করছেন।

আর এসব করতে গিয়েই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছেন তাদের কর্মী-সমর্থকরা। সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। এসব কারণে চট্টগ্রামে নির্বাচনী উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। নির্বাচনী সহিংসতায় ইতোমধ্যেই আওয়ামী লীগের একজন নেতা প্রাণ হারিয়েছেন। বিদ্রোহীদের বাগে আনা কঠিন হয়ে পড়ছে আওয়ামী লীগের জন্য।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বুধবার রাতে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির বৈঠক দলীয় কার্যালয় দারুল ফজল মার্কেটে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিদ্রোহীদের দলীয় পদ-পদবি থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়। দলের পদধারী বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের বহিষ্কারের সুপারিশের চিঠি বৃহস্পতিবার সকালে কেন্দ্রে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ। এর আগে বিদ্রোহীরা অটোবহিষ্কার হবেন বলে জানিয়েছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, ‘৪১টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ১৪টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে একজন করে কাউন্সিলর প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে আওয়ামী লীগের কারও নির্বাচন করার সুযোগ নেই। যারা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচন করছেন তাদের বহিষ্কারের সুপারিশ কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রই তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।’

বুধবার রাতে বৈঠক শেষে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘আমাদের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যারা আওয়ামী লীগের দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন তাদের বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রে সুপারিশ পাঠানো হবে। এছাড়া যারা যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ ও মহিলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন তাদেরকেও স্ব স্ব সংগঠন থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ পাঠানো হবে। ভবিষ্যতে তাদের দলীয় কোনো পদে না রাখার পাশাপাশি দলীয় ব্যানারে নির্বাচনেও সুযোগ দেওয়া হবে না।’

মঙ্গলবার রাতে নির্বাচনী সহিংসতার বলি হয় নগরীর ডবলমুরিং থানায় যুবলীগ কর্মী আজগর আলী বাবুল (৫৫)। তিনি আওয়ামী লীগ কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুরের সমর্থক ছিলেন। এ ঘটনায় করা মামলায় ‘বিদ্রোহী’ কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুল কাদেরসহ ১১ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়।

৩৩ নম্বর ফিরিঙ্গীবাজার ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মুরাদ বিপ্লব যুগান্তরকে বলেন, ‘প্রার্থী নির্ধারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি দলে। খেয়ালখুশিমতো প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। যার কারণে এমন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। স্বতন্ত্রভাবে প্রচার-প্রচারণাও চালিয়ে যাচ্ছি। কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়া সবার জন্য উন্মুক্ত। কেননা এ পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে না।’

২ নম্বর জালালাবাদ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের প্রার্থী হচ্ছেন মহানগর যুবলীগের সদস্য মোহাম্মদ ইব্রাহিম। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়েছেন সাবেক কাউন্সিলর সাহেদ ইকবাল। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎ সংগঠন, এটি পাড়া মহল্লার সংগঠন নয়। কাউন্সিলর প্রার্থী ঘোষণার ক্ষেত্রে দলীয় গঠনতন্ত্র মানা হয়নি। নিয়ম হচ্ছে, ওয়ার্ড কমিটি থেকে তিনজনের নাম মহানগরে যাবে। মহানগর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক তিনজনের নাম সুপারিশ করে কেন্দ্রে পাঠাবে। কেন্দ্র একজনকে প্রার্থী ঘোষণা করবে। অথচ এ ধরনের কোনো নিয়ম মানা হয়নি। এ কারণেই আমি প্রার্থী।’

বিশেষ করে ১৪টি ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলররা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় ওইসব ওয়ার্ডে নির্বাচনী উত্তাপ তুলনামূলক বেশি। বিভিন্ন সাধারণ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের (সাবেক কাউন্সিলর) মধ্যে মাঠে রয়েছেন ২ নম্বর জালালাবাদের সাহেদ ইকবাল বাবু, ১১ নম্বর দক্ষিণ কাট্টলীতে মোরশেদ আকতার চৌধুরী, ১২ নম্বর সরাইপাড়ায় সাবের আহমদ ও আসলাম, ১৪ নম্বর লালখান বাজারে এএফএম কবির মানিক, ২৪ নম্বর উত্তর আগ্রাবাদে জাবেদ নজরুল ইসলাম, ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলীতে জহিরুল আলম জসিম, ৩৩ নম্বর ফিরিঙ্গীবাজার ওয়ার্ডে হাসান মুরাদ বিপ্লব।

এবার মনোনয়নবঞ্চিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জেসমিন পারভীন। তবে তিনি তাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেন। এছাড়া ৯, ১০ ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে আবিদা আজাদ, ১৬, ২০ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে আনজুমানা আরা বেগম, ১২, ১৩ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে ফারহানা জাবেদ এবং ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে নারী কাউন্সিলর পদে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে ফেরদৌস বেগম মুন্নী মাঠে সক্রি রয়েছেন। নির্বাচনী মাঠে প্রতিদিনই হামলা, পোস্টার ছেঁড়া, প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠছে।

গত ১০ থেকে ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে জমা পড়েছে অনেক অভিযোগ। প্রতিনিয়তই অভিযোগ পাল্টা-অভিযোগের সংখ্যা বাড়ছে। এর মধ্যে ৬ নম্বর পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী হাসান লিটন তার প্রতিদ্বন্দ্বী কাউন্সিলর প্রার্থী আশরাফুল আলম, তার সমর্থক জুয়েল, সোহেলদের বিরুদ্ধে তার নির্বাচনী প্রচারের সময় হ্যান্ডমাইক কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ করেন। অভিযোগ করা হয় কর্মী-সমর্থকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানোরও।’ একই দিন ১১ নম্বর দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোরশেদ আকতার চৌধুরী তার প্রতিদ্বন্দ্বী কাউন্সিলর প্রার্থী ইসমাইল ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে ব্যানার, ফেস্টুন, লিফলেট নষ্টের অভিযোগ করেন। এ রকম নানা অভিযোগ জমা পড়ছে নির্বাচন অফিসগুলোতে।

চসিক নির্বাচনে উত্তাপ

বিদ্রোহীদের বাগে আনার চেষ্টায় আ.লীগ

৫৫টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ৮৯ জন * বহিষ্কারের সুপারিশ করে চিঠি কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে -আ জ ম নাছির
 নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম 
১৫ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগে চলে আসা দীর্ঘ দিনের বিরোধ আসন্ন সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচন ঘিরে সহিংসরূপ ধারণ করেছে।

নগরীর ৪১টি সাধারণ ওয়ার্ডের ৩৪টিতে বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা ৬২ জন এবং ১৪টি সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের ১৩টিতেই বিদ্রোহী প্রার্থী আছে এবং এই সংখ্যা ২৭টি। শাসক দলের এই ৮৯ জন বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে অনেকেই সক্রিয়। এর মধ্যে মনোনয়নবঞ্চিত ১৪ জন সাবেক কাউন্সিলর মাঠ দখলে রাখার চেষ্টা করছেন।

আর এসব করতে গিয়েই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছেন তাদের কর্মী-সমর্থকরা। সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। এসব কারণে চট্টগ্রামে নির্বাচনী উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। নির্বাচনী সহিংসতায় ইতোমধ্যেই আওয়ামী লীগের একজন নেতা প্রাণ হারিয়েছেন। বিদ্রোহীদের বাগে আনা কঠিন হয়ে পড়ছে আওয়ামী লীগের জন্য।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বুধবার রাতে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির বৈঠক দলীয় কার্যালয় দারুল ফজল মার্কেটে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিদ্রোহীদের দলীয় পদ-পদবি থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়। দলের পদধারী বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের বহিষ্কারের সুপারিশের চিঠি বৃহস্পতিবার সকালে কেন্দ্রে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ। এর আগে বিদ্রোহীরা অটোবহিষ্কার হবেন বলে জানিয়েছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, ‘৪১টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ১৪টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে একজন করে কাউন্সিলর প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে আওয়ামী লীগের কারও নির্বাচন করার সুযোগ নেই। যারা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচন করছেন তাদের বহিষ্কারের সুপারিশ কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রই তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।’

বুধবার রাতে বৈঠক শেষে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘আমাদের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যারা আওয়ামী লীগের দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন তাদের বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রে সুপারিশ পাঠানো হবে। এছাড়া যারা যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ ও মহিলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন তাদেরকেও স্ব স্ব সংগঠন থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ পাঠানো হবে। ভবিষ্যতে তাদের দলীয় কোনো পদে না রাখার পাশাপাশি দলীয় ব্যানারে নির্বাচনেও সুযোগ দেওয়া হবে না।’

মঙ্গলবার রাতে নির্বাচনী সহিংসতার বলি হয় নগরীর ডবলমুরিং থানায় যুবলীগ কর্মী আজগর আলী বাবুল (৫৫)। তিনি আওয়ামী লীগ কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুরের সমর্থক ছিলেন। এ ঘটনায় করা মামলায় ‘বিদ্রোহী’ কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুল কাদেরসহ ১১ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়।

৩৩ নম্বর ফিরিঙ্গীবাজার ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মুরাদ বিপ্লব যুগান্তরকে বলেন, ‘প্রার্থী নির্ধারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি দলে। খেয়ালখুশিমতো প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। যার কারণে এমন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। স্বতন্ত্রভাবে প্রচার-প্রচারণাও চালিয়ে যাচ্ছি। কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়া সবার জন্য উন্মুক্ত। কেননা এ পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে না।’

২ নম্বর জালালাবাদ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের প্রার্থী হচ্ছেন মহানগর যুবলীগের সদস্য মোহাম্মদ ইব্রাহিম। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হয়েছেন সাবেক কাউন্সিলর সাহেদ ইকবাল। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎ সংগঠন, এটি পাড়া মহল্লার সংগঠন নয়। কাউন্সিলর প্রার্থী ঘোষণার ক্ষেত্রে দলীয় গঠনতন্ত্র মানা হয়নি। নিয়ম হচ্ছে, ওয়ার্ড কমিটি থেকে তিনজনের নাম মহানগরে যাবে। মহানগর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক তিনজনের নাম সুপারিশ করে কেন্দ্রে পাঠাবে। কেন্দ্র একজনকে প্রার্থী ঘোষণা করবে। অথচ এ ধরনের কোনো নিয়ম মানা হয়নি। এ কারণেই আমি প্রার্থী।’

বিশেষ করে ১৪টি ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলররা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় ওইসব ওয়ার্ডে নির্বাচনী উত্তাপ তুলনামূলক বেশি। বিভিন্ন সাধারণ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের (সাবেক কাউন্সিলর) মধ্যে মাঠে রয়েছেন ২ নম্বর জালালাবাদের সাহেদ ইকবাল বাবু, ১১ নম্বর দক্ষিণ কাট্টলীতে মোরশেদ আকতার চৌধুরী, ১২ নম্বর সরাইপাড়ায় সাবের আহমদ ও আসলাম, ১৪ নম্বর লালখান বাজারে এএফএম কবির মানিক, ২৪ নম্বর উত্তর আগ্রাবাদে জাবেদ নজরুল ইসলাম, ৯ নম্বর উত্তর পাহাড়তলীতে জহিরুল আলম জসিম, ৩৩ নম্বর ফিরিঙ্গীবাজার ওয়ার্ডে হাসান মুরাদ বিপ্লব।

এবার মনোনয়নবঞ্চিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জেসমিন পারভীন। তবে তিনি তাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয় বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেন। এছাড়া ৯, ১০ ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে আবিদা আজাদ, ১৬, ২০ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে আনজুমানা আরা বেগম, ১২, ১৩ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে ফারহানা জাবেদ এবং ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে নারী কাউন্সিলর পদে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে ফেরদৌস বেগম মুন্নী মাঠে সক্রি রয়েছেন। নির্বাচনী মাঠে প্রতিদিনই হামলা, পোস্টার ছেঁড়া, প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠছে।

গত ১০ থেকে ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে জমা পড়েছে অনেক অভিযোগ। প্রতিনিয়তই অভিযোগ পাল্টা-অভিযোগের সংখ্যা বাড়ছে। এর মধ্যে ৬ নম্বর পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী হাসান লিটন তার প্রতিদ্বন্দ্বী কাউন্সিলর প্রার্থী আশরাফুল আলম, তার সমর্থক জুয়েল, সোহেলদের বিরুদ্ধে তার নির্বাচনী প্রচারের সময় হ্যান্ডমাইক কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ করেন। অভিযোগ করা হয় কর্মী-সমর্থকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানোরও।’ একই দিন ১১ নম্বর দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোরশেদ আকতার চৌধুরী তার প্রতিদ্বন্দ্বী কাউন্সিলর প্রার্থী ইসমাইল ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে ব্যানার, ফেস্টুন, লিফলেট নষ্টের অভিযোগ করেন। এ রকম নানা অভিযোগ জমা পড়ছে নির্বাচন অফিসগুলোতে।