হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আসছে না ভারতীয় পেঁয়াজ
jugantor
হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আসছে না ভারতীয় পেঁয়াজ
আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি ও দেশি পেঁয়াজের দাম কম

  একরাম তালুকদার, দিনাজপুর  

১৬ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে দেওয়ায় এবং আমদানি করা পেঁয়াজের দামের তুলনায় বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম কম থাকায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করে দিয়েছেন আমদানিকারকরা। ১৩ জানুয়ারি থেকে এ বন্দর দিয়ে ভারত থেকে প্রবেশ করেনি কোনো পেঁয়াজবাহী ট্রাক।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন-উর রশীদ হারুন জানান, ২ জানুয়ারি থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়। ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত এ বন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ এসেছে প্রায় ৬০০ টন। কিন্তু দেশের বাজারেই পেঁয়াজের দাম কম থাকায় ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে লোকসান গুনছেন আমদানিকারকরা। এ কারণেই ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রেখেছেন এ বন্দরের আমদানিকারকরা।

বন্দরের আমদানিকারক শাহিনুর রেজা বলেন, ৭ জানুয়ারি থেকে সরকার পেঁয়াজের আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করেছে। এ অবস্থায় বর্তমানে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে আমাদের প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ৩৫ টাকা থেকে ৩৭ টাকার মতো পড়ছে। কিন্তু দেশের বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি দরে। এতে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে প্রতি কেজিতে পাঁচ থেকে সাত টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ ছাড়াও বর্তমানে দেশের বাজারে দেশীয় পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় ভারতীয় পেঁয়াজের তেমন চাহিদা নেই। এতে করে পেঁয়াজ আমদানিতে পড়তা না থাকায় ও লোকসানের কারণে আমদানি বন্ধ করে দিয়েছেন তারা।

হিলি বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা মুকুল হোসেন বলেন, বর্তমানে বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের ও দেশীয় পেঁয়াজের দাম একই। এ ছাড়া ভারতীয় পেঁয়াজের চেয়ে দেশীয় পেঁয়াজের স্বাদ ও মান ভালো হওয়ায় ক্রেতারা ভারতীয় পেঁয়াজ না কিনে দেশীয় পেঁয়াজের দিকে ঝুঁকেছেন। এতে করে বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের চাহিদা নেই বললেই চলে। যার কারণে ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি করি না।

দিনাজপুর শহরের সর্ববৃহৎ কাঁচাবাজার বাহাদুর বাজারের পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মাজেদুর রহমান জানান, সবসময়ই বাজারে দেশীয় পেঁয়াজের চাহিদা বেশি। এর পরও ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কম থাকায় সাধারণত বাধ্য হয়েই ভারতীয় পেঁয়াজ কেনেন ক্রেতারা। কিন্তু বর্তমানে ভারতীয় পেঁয়াজের চেয়ে দেশীয় পেঁয়াজের দাম কম থাকায় ভারতীয় পেঁয়াজ কিনছেন না ক্রেতারা। এ জন্য হিলি থেকে তারাও আর পেঁয়াজ আনছেন না।

তিনি বলেন, ২ জানুয়ারি থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হওয়ার পর সেখান থেকে তিনি ১৫০ বস্তা ভারতীয় পেঁয়াজ এনেছেন। কিন্তু চাহিদা না থাকায় তা বিক্রি করতে তাকে হিমশিম খেতে হয়েছে এবং লোকসানও গুনতে হয়েছে। এরপর হিলি থেকে পেঁয়াজ আনা বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি।

হিলি স্থলবন্দর শুল্ক স্টেশনের ডেপুটি কমিশনার সাইদুল আলম জানান, বর্তমানে পেঁয়াজ আমদানিতে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজের কোনো আমদানি নেই। প্রথম কয়েক দিন হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি হলেও বর্তমানে পেঁয়াজ আনছেন না আমদানিকারকরা।

হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আসছে না ভারতীয় পেঁয়াজ

আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি ও দেশি পেঁয়াজের দাম কম
 একরাম তালুকদার, দিনাজপুর 
১৬ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে দেওয়ায় এবং আমদানি করা পেঁয়াজের দামের তুলনায় বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম কম থাকায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করে দিয়েছেন আমদানিকারকরা। ১৩ জানুয়ারি থেকে এ বন্দর দিয়ে ভারত থেকে প্রবেশ করেনি কোনো পেঁয়াজবাহী ট্রাক।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন-উর রশীদ হারুন জানান, ২ জানুয়ারি থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়। ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত এ বন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ এসেছে প্রায় ৬০০ টন। কিন্তু দেশের বাজারেই পেঁয়াজের দাম কম থাকায় ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে লোকসান গুনছেন আমদানিকারকরা। এ কারণেই ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রেখেছেন এ বন্দরের আমদানিকারকরা।

বন্দরের আমদানিকারক শাহিনুর রেজা বলেন, ৭ জানুয়ারি থেকে সরকার পেঁয়াজের আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করেছে। এ অবস্থায় বর্তমানে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে আমাদের প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ৩৫ টাকা থেকে ৩৭ টাকার মতো পড়ছে। কিন্তু দেশের বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি দরে। এতে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে প্রতি কেজিতে পাঁচ থেকে সাত টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ ছাড়াও বর্তমানে দেশের বাজারে দেশীয় পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় ভারতীয় পেঁয়াজের তেমন চাহিদা নেই। এতে করে পেঁয়াজ আমদানিতে পড়তা না থাকায় ও লোকসানের কারণে আমদানি বন্ধ করে দিয়েছেন তারা।

হিলি বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা মুকুল হোসেন বলেন, বর্তমানে বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের ও দেশীয় পেঁয়াজের দাম একই। এ ছাড়া ভারতীয় পেঁয়াজের চেয়ে দেশীয় পেঁয়াজের স্বাদ ও মান ভালো হওয়ায় ক্রেতারা ভারতীয় পেঁয়াজ না কিনে দেশীয় পেঁয়াজের দিকে ঝুঁকেছেন। এতে করে বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের চাহিদা নেই বললেই চলে। যার কারণে ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি করি না।

দিনাজপুর শহরের সর্ববৃহৎ কাঁচাবাজার বাহাদুর বাজারের পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মাজেদুর রহমান জানান, সবসময়ই বাজারে দেশীয় পেঁয়াজের চাহিদা বেশি। এর পরও ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কম থাকায় সাধারণত বাধ্য হয়েই ভারতীয় পেঁয়াজ কেনেন ক্রেতারা। কিন্তু বর্তমানে ভারতীয় পেঁয়াজের চেয়ে দেশীয় পেঁয়াজের দাম কম থাকায় ভারতীয় পেঁয়াজ কিনছেন না ক্রেতারা। এ জন্য হিলি থেকে তারাও আর পেঁয়াজ আনছেন না।

তিনি বলেন, ২ জানুয়ারি থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হওয়ার পর সেখান থেকে তিনি ১৫০ বস্তা ভারতীয় পেঁয়াজ এনেছেন। কিন্তু চাহিদা না থাকায় তা বিক্রি করতে তাকে হিমশিম খেতে হয়েছে এবং লোকসানও গুনতে হয়েছে। এরপর হিলি থেকে পেঁয়াজ আনা বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি।

হিলি স্থলবন্দর শুল্ক স্টেশনের ডেপুটি কমিশনার সাইদুল আলম জানান, বর্তমানে পেঁয়াজ আমদানিতে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজের কোনো আমদানি নেই। প্রথম কয়েক দিন হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি হলেও বর্তমানে পেঁয়াজ আনছেন না আমদানিকারকরা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন