পাঁচ বছরে ফুলে ফেঁপে কলাগাছ সাইফু
jugantor
৪ নম্বর চান্দগাঁও ওয়ার্ড
পাঁচ বছরে ফুলে ফেঁপে কলাগাছ সাইফু

  চট্টগ্রাম ব্যুরো  

১৮ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর চান্দগাঁও ওয়ার্ডের সদ্য সাবেক কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন খালেদ সাইফু পাঁচ বছরেই ফুলেফেঁপে কলাগাছ বনে গেছেন। নির্বাচন কমিশনে প্রদত্ত হলফনামা অনুযায়ী পাঁচ বছরে তার দৃশ্যমান সম্পদের পরিমাণ বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এ ছাড়া অদৃশ্য সম্পদ রয়েছে কোটি কোটি টাকার।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কমিশন বাণিজ্য, বিপিএলের টিকিট বাণিজ্য, সিটি করপোরেশনের গোপন ঠিকাদারি, বালুর মহাল, ট্যাক্সিস্ট্যান্ড, মাইক্রোস্ট্যান্ডসহ ভিন্ন ভিন্ন খাত থেকে মাসোহারা আদায়সহ নানা অপকর্মের মাধ্যমে তিনি সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।

চান্দগাঁও ফরিদারপাড়া এলাকায় প্রায় কোটি টাকা দিয়ে সাইফু চার গণ্ডা জমি কিনেছেন বলে জানিয়েছে এলাকার লোকজন। দুবাইয়ে রয়েছে তার ব্যবসা। একটি ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর হয়ে এভাবে ফুলেফেঁপে কলাগাছ বনে যাওয়ার রহস্য কী-এমন প্রশ্নে সামনে চলে এসেছে।

নির্বাচন কমিশনে প্রদত্ত ২০১৫ সাল ও সর্বশেষ ২০২০ সালের হলফনামা পর্যালোচনা করে পাঁচ বছরে তার সম্পদের পরিমাণ দ্বিগুণ হওয়ার চিত্র পাওয়া গেছে। ২০১৫ সালে সাইফুর সব মিলিয়ে সম্পদ ছিল ৩৪ লাখ ২৬ হাজার টাকার মতো। আর ২০২০ সালে এসে তার সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকায়। ২০১৫ সালে কাউন্সিলর নির্বাচনের আগে সাইফু নির্বাচন কমিশনে প্রদত্ত হলফনামায় সম্পদের পরিমাণ, বিনিয়োগ ও সঞ্চয় দেখিয়েছেন ব্যবসায় দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা, শেয়ার সঞ্চয় ও ব্যাংকে নগদ দেখিয়েছেন তিন লাখ ৩২ হাজার ৯৩৭ টাকা, নগদ দেখিয়েছেন ৫০ হাজার টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা দেখিয়েছেন তিন লাখ ৫৮ হাজার ৭৩৯ টাকা, এফডিআর দেখিয়েছেন ২৫ লাখ টাকা।

এবার আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন সাইফু। এবার নির্বাচন কমিশনে প্রদত্ত হলফনামায় যে হিসাব দিয়েছেন তা গতবারের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ।

এবার তিনি ব্যবসায় বিনিয়োগ দেখিয়েছেন দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা, শেয়ার ও সঞ্চয় এবং ব্যাংকে জমা দেখিয়েছেন তিন লাখ ৪৪ হাজার ৭৪০ টাকা, অন্যসব খাতে দেখিয়েছেন চার লাখ ৭৪ হাজার ৪৫০ টাকা, নগদ দেখিয়েছেন ৫০ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা দেখিয়েছেন তিন লাখ ৭৪ হাজার ৭৮০ টাকা, এফডিআর দেখিয়েছেন ৩৭ লাখ ৯৪ হাজার টাকা, স্বর্ণালঙ্কার দুই লাখ টাকা, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ৬০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র এক লাখ ৫০ হাজার ৬০০ টাকা।

দুটি সম্পদ বিবরণী পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এবার তার সম্পদের পরিমাণ বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। অর্থাৎ পাঁচ বছর আগে তার সম্পদ ছিল ৩৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা। আর ২০২০ সালে এসে তার সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকায়।

অভিযোগ, হলফনামায় সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন সাইফু। কাউন্সিলর পদবিকে টাকা কামানোর মেশিন হিসাবে ব্যবহার করে তিনি বাস্তবে হলফনামায় প্রদত্ত সম্পদের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি সম্পদের মালিক বনেছেন। দুবাইতে তার এক বন্ধুর মাধ্যমে দিয়েছেন খুলেছেন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সাবেক প্রবাসীকল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রীর মাধ্যমে বরাদ্দ সব প্রকল্পের ঠিকাদার থেকে ১৫-২০ শতাংশ কমিশন নিয়েছেন সাবেক কাউন্সিলর সাইফু। তার পিএস এমদাদুল হক জুনু ও আয়াসের মাধ্যমে এসব কমিশন সংগ্রহ করতেন। এ ছাড়া কমিশনের বিনিময়ে নিজের পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতেন সাইফু।

সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর হয়ে করপোরেশনের কোনো কোনো ঠিকাদারি কাজে নিজেই নেপথ্যে থাকতেন অংশীদার হিসাবে। কমিশন দিতে রাজি থাকলেই রাস্তাঘাট নির্মাণ করতেন অদক্ষ ঠিকাদাররা। এছাড়া নামসর্বস্ব অনেক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক সাইফু নিজেই।

এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে তৈরি করা হয়েছে রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন সীমানাপ্রাচীর। ফলে নির্মাণের অল্প দিনেই সৃষ্টি হয় বেহাল দশা। এই ওয়ার্ডের বেজু মুন্সির বাড়ির সড়কে ৫ ইঞ্চি ঢালাই বরাদ্দ থাকলেও ঢালাই দেয়া হয় দেড় ইঞ্চি। ঠিকাদার হারুন ও সাইফু খরচের উদ্বৃত্ত টাকা ভাগাভাগি করে নিয়েছে এমন অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, ওয়ার্ডের সরকারি সুবিধাসহ বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা ভোগ করতেন সাইফুর সিন্ডিকেটের সদস্যরা। তাদের মাধ্যমে সাইফু নিজেও তার মাসোহারা আদায়ের সাম্রাজ্য বিস্তার করেন। জনপ্রতিনিধি হিসাবে জনকল্যাণে নিয়োজিত থাকার কথা থাকলেও নানা অপকর্মের মাধ্যমে তিনি জনভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ান।

বিএনপির সন্ত্রাসী হিসাবে পরিচিত সেলিম ওরফে কালা সেলিম্যা, শোয়েব মিথুন, বখতেয়ার ড্রাইভার, নিজাম উদ্দিন নিজু, আয়াস, জুনু, সাহেদুল ইসলাম অপুসহ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাদক আস্তানা, বালুর মহাল, অবৈধ বাস-ট্যাক্সিস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন খাত থেকে আদায় করতেন লাখ লাখ টাকার মাসোহারা। অতিরিক্ত জন্ম নিবন্ধন ফি আদায়, চট্টগ্রামে বিপিএল-এর টিকিট কালোবাজারি করেও আয় করেন লাখ লাখ টাকা।

অবৈধ আয়ের সামান্য অংশ দলের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকে দিয়ে সাইফু আসন্ন নির্বাচনে আবারও কাউন্সিলর পদে দলীয় সমর্থন বাগিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ। যদিও অতীতের নানা অপকর্মের কারণে এবার এলাকায় আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা সাইফুর কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

আর তাই সাতকানিয়া-রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে কেন্দ্রে দখলের পাঁয়তারা করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন ৪ নম্বর চান্দগাঁও ওয়ার্ডের একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী।

পাঁচ বছরে সম্পদের পাহাড় বানানোর অভিযোগ প্রসঙ্গে সাইফুদ্দিন খালেদ সাইফু যুগান্তরকে বলেন, পাঁচ বছরে তিনি এলাকার উন্নয়ন করেছেন। হলফনামায় সম্পদের তথ্য গোপন করেননি। যে সম্পদ অর্জন করেছেন তার সবই বৈধ। কমিশন বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, মাসোহারা আদায়ের অভিযোগও সত্য নয়। বিদ্রোহী প্রার্থীরা তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ছড়াচ্ছেন এবং তাকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন সাইফু।

৪ নম্বর চান্দগাঁও ওয়ার্ড

পাঁচ বছরে ফুলে ফেঁপে কলাগাছ সাইফু

 চট্টগ্রাম ব্যুরো 
১৮ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর চান্দগাঁও ওয়ার্ডের সদ্য সাবেক কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন খালেদ সাইফু পাঁচ বছরেই ফুলেফেঁপে কলাগাছ বনে গেছেন। নির্বাচন কমিশনে প্রদত্ত হলফনামা অনুযায়ী পাঁচ বছরে তার দৃশ্যমান সম্পদের পরিমাণ বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এ ছাড়া অদৃশ্য সম্পদ রয়েছে কোটি কোটি টাকার।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কমিশন বাণিজ্য, বিপিএলের টিকিট বাণিজ্য, সিটি করপোরেশনের গোপন ঠিকাদারি, বালুর মহাল, ট্যাক্সিস্ট্যান্ড, মাইক্রোস্ট্যান্ডসহ ভিন্ন ভিন্ন খাত থেকে মাসোহারা আদায়সহ নানা অপকর্মের মাধ্যমে তিনি সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।

চান্দগাঁও ফরিদারপাড়া এলাকায় প্রায় কোটি টাকা দিয়ে সাইফু চার গণ্ডা জমি কিনেছেন বলে জানিয়েছে এলাকার লোকজন। দুবাইয়ে রয়েছে তার ব্যবসা। একটি ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর হয়ে এভাবে ফুলেফেঁপে কলাগাছ বনে যাওয়ার রহস্য কী-এমন প্রশ্নে সামনে চলে এসেছে।

নির্বাচন কমিশনে প্রদত্ত ২০১৫ সাল ও সর্বশেষ ২০২০ সালের হলফনামা পর্যালোচনা করে পাঁচ বছরে তার সম্পদের পরিমাণ দ্বিগুণ হওয়ার চিত্র পাওয়া গেছে। ২০১৫ সালে সাইফুর সব মিলিয়ে সম্পদ ছিল ৩৪ লাখ ২৬ হাজার টাকার মতো। আর ২০২০ সালে এসে তার সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকায়। ২০১৫ সালে কাউন্সিলর নির্বাচনের আগে সাইফু নির্বাচন কমিশনে প্রদত্ত হলফনামায় সম্পদের পরিমাণ, বিনিয়োগ ও সঞ্চয় দেখিয়েছেন ব্যবসায় দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা, শেয়ার সঞ্চয় ও ব্যাংকে নগদ দেখিয়েছেন তিন লাখ ৩২ হাজার ৯৩৭ টাকা, নগদ দেখিয়েছেন ৫০ হাজার টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা দেখিয়েছেন তিন লাখ ৫৮ হাজার ৭৩৯ টাকা, এফডিআর দেখিয়েছেন ২৫ লাখ টাকা।

এবার আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন সাইফু। এবার নির্বাচন কমিশনে প্রদত্ত হলফনামায় যে হিসাব দিয়েছেন তা গতবারের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ।

এবার তিনি ব্যবসায় বিনিয়োগ দেখিয়েছেন দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা, শেয়ার ও সঞ্চয় এবং ব্যাংকে জমা দেখিয়েছেন তিন লাখ ৪৪ হাজার ৭৪০ টাকা, অন্যসব খাতে দেখিয়েছেন চার লাখ ৭৪ হাজার ৪৫০ টাকা, নগদ দেখিয়েছেন ৫০ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা দেখিয়েছেন তিন লাখ ৭৪ হাজার ৭৮০ টাকা, এফডিআর দেখিয়েছেন ৩৭ লাখ ৯৪ হাজার টাকা, স্বর্ণালঙ্কার দুই লাখ টাকা, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ৬০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র এক লাখ ৫০ হাজার ৬০০ টাকা।

দুটি সম্পদ বিবরণী পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এবার তার সম্পদের পরিমাণ বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। অর্থাৎ পাঁচ বছর আগে তার সম্পদ ছিল ৩৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা। আর ২০২০ সালে এসে তার সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকায়।

অভিযোগ, হলফনামায় সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন সাইফু। কাউন্সিলর পদবিকে টাকা কামানোর মেশিন হিসাবে ব্যবহার করে তিনি বাস্তবে হলফনামায় প্রদত্ত সম্পদের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি সম্পদের মালিক বনেছেন। দুবাইতে তার এক বন্ধুর মাধ্যমে দিয়েছেন খুলেছেন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সাবেক প্রবাসীকল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রীর মাধ্যমে বরাদ্দ সব প্রকল্পের ঠিকাদার থেকে ১৫-২০ শতাংশ কমিশন নিয়েছেন সাবেক কাউন্সিলর সাইফু। তার পিএস এমদাদুল হক জুনু ও আয়াসের মাধ্যমে এসব কমিশন সংগ্রহ করতেন। এ ছাড়া কমিশনের বিনিময়ে নিজের পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতেন সাইফু।

সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর হয়ে করপোরেশনের কোনো কোনো ঠিকাদারি কাজে নিজেই নেপথ্যে থাকতেন অংশীদার হিসাবে। কমিশন দিতে রাজি থাকলেই রাস্তাঘাট নির্মাণ করতেন অদক্ষ ঠিকাদাররা। এছাড়া নামসর্বস্ব অনেক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক সাইফু নিজেই।

এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে তৈরি করা হয়েছে রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন সীমানাপ্রাচীর। ফলে নির্মাণের অল্প দিনেই সৃষ্টি হয় বেহাল দশা। এই ওয়ার্ডের বেজু মুন্সির বাড়ির সড়কে ৫ ইঞ্চি ঢালাই বরাদ্দ থাকলেও ঢালাই দেয়া হয় দেড় ইঞ্চি। ঠিকাদার হারুন ও সাইফু খরচের উদ্বৃত্ত টাকা ভাগাভাগি করে নিয়েছে এমন অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, ওয়ার্ডের সরকারি সুবিধাসহ বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা ভোগ করতেন সাইফুর সিন্ডিকেটের সদস্যরা। তাদের মাধ্যমে সাইফু নিজেও তার মাসোহারা আদায়ের সাম্রাজ্য বিস্তার করেন। জনপ্রতিনিধি হিসাবে জনকল্যাণে নিয়োজিত থাকার কথা থাকলেও নানা অপকর্মের মাধ্যমে তিনি জনভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ান।

বিএনপির সন্ত্রাসী হিসাবে পরিচিত সেলিম ওরফে কালা সেলিম্যা, শোয়েব মিথুন, বখতেয়ার ড্রাইভার, নিজাম উদ্দিন নিজু, আয়াস, জুনু, সাহেদুল ইসলাম অপুসহ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাদক আস্তানা, বালুর মহাল, অবৈধ বাস-ট্যাক্সিস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন খাত থেকে আদায় করতেন লাখ লাখ টাকার মাসোহারা। অতিরিক্ত জন্ম নিবন্ধন ফি আদায়, চট্টগ্রামে বিপিএল-এর টিকিট কালোবাজারি করেও আয় করেন লাখ লাখ টাকা।

অবৈধ আয়ের সামান্য অংশ দলের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকে দিয়ে সাইফু আসন্ন নির্বাচনে আবারও কাউন্সিলর পদে দলীয় সমর্থন বাগিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ। যদিও অতীতের নানা অপকর্মের কারণে এবার এলাকায় আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা সাইফুর কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

আর তাই সাতকানিয়া-রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে কেন্দ্রে দখলের পাঁয়তারা করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন ৪ নম্বর চান্দগাঁও ওয়ার্ডের একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী।

পাঁচ বছরে সম্পদের পাহাড় বানানোর অভিযোগ প্রসঙ্গে সাইফুদ্দিন খালেদ সাইফু যুগান্তরকে বলেন, পাঁচ বছরে তিনি এলাকার উন্নয়ন করেছেন। হলফনামায় সম্পদের তথ্য গোপন করেননি। যে সম্পদ অর্জন করেছেন তার সবই বৈধ। কমিশন বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, মাসোহারা আদায়ের অভিযোগও সত্য নয়। বিদ্রোহী প্রার্থীরা তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ছড়াচ্ছেন এবং তাকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন সাইফু।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন