ককটেল বিস্ফোরণ অফিস ভাঙচুর
jugantor
ভেদরগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন
ককটেল বিস্ফোরণ অফিস ভাঙচুর
আহত ১০

  শরীয়তপুর ও ভেদরগঞ্জ প্রতিনিধি  

১৯ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নৌকার প্রার্থীর বাড়ির সামনে ককটেল হামলা হয়েছে। রোববার রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার জেরে ওই রাতেই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের অফিসে ভাঙচুর চালিয়েছেন নৌকা মার্কার সমর্থকরা। শুক্রবার সংঘটিত সংঘর্ষের রেশ না কাটতেই রোববার আবারও দুপক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষ হলো। সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকেই নৌকা মার্কার প্রার্থী আব্দুল মান্নান হাওলাদার ও বিদ্রোহী প্রার্থী আবুল বাশার চোকদার পরস্পরকে দোষারোপ করছেন। ঘটনার পর অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে ভেদরগঞ্জ থানায় মামলা করেছে পুলিশ। আটক করা হয়েছে ছয়জনকে।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, ভেদরগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা কাজ করলেও বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে আওয়ামী লীগের একটি শক্তিশালী গ্রুপ কাজ করছে। ফলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও বিদ্রোহীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

রোববার রাতে নির্বাচনি প্রচারণাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় নৌকা মার্কার প্রার্থী আব্দুল মান্নান হাওলাদারের বাড়ি ও অফিসের সামনে কে বা কারা পাঁচটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। হামলায় নৌকা মার্কার ১০ সমর্থক আহত হন বলে অভিযোগ নৌকার প্রার্থীর। পরে ওই রাতেই উত্তেজিত নৌকার সমর্থকরা বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের অফিসে হামলা করে ভাঙচুর চালান। নৌকা মার্কার প্রার্থী মান্নান হাওলাদার বলেন, আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এবং আমার কর্মীদের আতঙ্কিত করতে বিদ্রোহী প্রার্থীর লোকজন আমার বাড়িতে ককটেল হামলা চালিয়েছে। আমার তিন সমর্থক গুরুতর আহত হয়েছে। আমি খুব আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছি। আমি থানায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছি। থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কিছু নেতাকর্মীর উসকানিতে বিদ্রোহী প্রার্থীর লোকজন একের পর এক ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে।

বিদ্রোহী প্রার্থী আবুল বাশার চোকদার বলেন, রোববার রাতে আমাদের নির্বাচনি প্রচারণাকালে মান্নান হাওলাদারের লোকজন আমাদের ওপর ককটেল নিক্ষেপ করে। আবার তারাই আমাদের অফিস ও বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায়। মারধর করে আমার অনেক সমর্থককে আহত করেছে। আমি এর বিচার চাই। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে তারা আমাকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে।

এ সংঘর্ষের ঘটনায় নৌকা মার্কার সমর্থক মহিষার ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি উজ্জ্বল উকিল গুরুতর আহত হওয়ায় শরীয়তপুর-চাঁদপুর মহাসড়কে মানববন্ধন করেছেন ভেদরগঞ্জ উপজেলা শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরা। সোমবার দুপুরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে নেতাকর্মীরা হামলাকারীদের শাস্তি দাবি করেন।

ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবিএম রশিদুল বারী বলেন, কে বা কারা নৌকা মার্কার প্রার্থীর অফিসের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এ ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে মামলা করা হয়েছে। সন্দেহভাজন ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।

প্রচারণায় বাধার অভিযোগ বিএনপির : শরীয়তপুরের তিন পৌরসভা-জাজিরা, নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জে নির্বাচনে সব কটিতেই সরব আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা। তবে মাঠে নেই বিএনপিসহ অন্য রাজনৈতিক দল। বিএনপির অভিযোগ, প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে ক্ষমতাসীন দলসহ প্রশাসন। নড়িয়া পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী থাকলেও নির্বাচনি বহু এলাকা খুঁজেও চোখ পড়েনি ধানের শীষের পোস্টার।

ধানের শীষের পোস্টার না পাওয়া প্রসঙ্গে নড়িয়া পৌরসভার মেয়র প্রার্থী সৈয়দ রিন্টু সাংবাদিকদের কাছে কোনো উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান এবং বলেন, আমার কিছুই বলার নেই। নির্বাচনি পরিবেশ সম্পর্কে জাজিরা পৌরসভার আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও সাবেক মেয়র আবুল খায়ের ফকির বলেন, নৌকার প্রার্থী সভা-সমাবেশে আমাকে ও আমার লোকজনকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছেন। রাতের আঁধারে ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে আমাদের পোস্টার। জাজিরা পৌরসভায় আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল হক কবিরাজ বলেন, অভিযোগ সঠিক নয়। আমরা আমাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। তারা তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বলেন, বিএনপিসহ কারও কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। সবাই সুন্দরভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনের দিন প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেটসহ পর্যাপ্ত পুলিশ, আনসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা থাকবেন।

ভেদরগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন

ককটেল বিস্ফোরণ অফিস ভাঙচুর

আহত ১০
 শরীয়তপুর ও ভেদরগঞ্জ প্রতিনিধি 
১৯ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নৌকার প্রার্থীর বাড়ির সামনে ককটেল হামলা হয়েছে। রোববার রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার জেরে ওই রাতেই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের অফিসে ভাঙচুর চালিয়েছেন নৌকা মার্কার সমর্থকরা। শুক্রবার সংঘটিত সংঘর্ষের রেশ না কাটতেই রোববার আবারও দুপক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষ হলো। সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকেই নৌকা মার্কার প্রার্থী আব্দুল মান্নান হাওলাদার ও বিদ্রোহী প্রার্থী আবুল বাশার চোকদার পরস্পরকে দোষারোপ করছেন। ঘটনার পর অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে ভেদরগঞ্জ থানায় মামলা করেছে পুলিশ। আটক করা হয়েছে ছয়জনকে।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, ভেদরগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা কাজ করলেও বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে আওয়ামী লীগের একটি শক্তিশালী গ্রুপ কাজ করছে। ফলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও বিদ্রোহীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

রোববার রাতে নির্বাচনি প্রচারণাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় নৌকা মার্কার প্রার্থী আব্দুল মান্নান হাওলাদারের বাড়ি ও অফিসের সামনে কে বা কারা পাঁচটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। হামলায় নৌকা মার্কার ১০ সমর্থক আহত হন বলে অভিযোগ নৌকার প্রার্থীর। পরে ওই রাতেই উত্তেজিত নৌকার সমর্থকরা বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের অফিসে হামলা করে ভাঙচুর চালান। নৌকা মার্কার প্রার্থী মান্নান হাওলাদার বলেন, আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এবং আমার কর্মীদের আতঙ্কিত করতে বিদ্রোহী প্রার্থীর লোকজন আমার বাড়িতে ককটেল হামলা চালিয়েছে। আমার তিন সমর্থক গুরুতর আহত হয়েছে। আমি খুব আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছি। আমি থানায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছি। থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কিছু নেতাকর্মীর উসকানিতে বিদ্রোহী প্রার্থীর লোকজন একের পর এক ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে।

বিদ্রোহী প্রার্থী আবুল বাশার চোকদার বলেন, রোববার রাতে আমাদের নির্বাচনি প্রচারণাকালে মান্নান হাওলাদারের লোকজন আমাদের ওপর ককটেল নিক্ষেপ করে। আবার তারাই আমাদের অফিস ও বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায়। মারধর করে আমার অনেক সমর্থককে আহত করেছে। আমি এর বিচার চাই। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে তারা আমাকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে।

এ সংঘর্ষের ঘটনায় নৌকা মার্কার সমর্থক মহিষার ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি উজ্জ্বল উকিল গুরুতর আহত হওয়ায় শরীয়তপুর-চাঁদপুর মহাসড়কে মানববন্ধন করেছেন ভেদরগঞ্জ উপজেলা শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরা। সোমবার দুপুরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে নেতাকর্মীরা হামলাকারীদের শাস্তি দাবি করেন।

ভেদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবিএম রশিদুল বারী বলেন, কে বা কারা নৌকা মার্কার প্রার্থীর অফিসের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এ ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে মামলা করা হয়েছে। সন্দেহভাজন ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।

প্রচারণায় বাধার অভিযোগ বিএনপির : শরীয়তপুরের তিন পৌরসভা-জাজিরা, নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জে নির্বাচনে সব কটিতেই সরব আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা। তবে মাঠে নেই বিএনপিসহ অন্য রাজনৈতিক দল। বিএনপির অভিযোগ, প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে ক্ষমতাসীন দলসহ প্রশাসন। নড়িয়া পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী থাকলেও নির্বাচনি বহু এলাকা খুঁজেও চোখ পড়েনি ধানের শীষের পোস্টার।

ধানের শীষের পোস্টার না পাওয়া প্রসঙ্গে নড়িয়া পৌরসভার মেয়র প্রার্থী সৈয়দ রিন্টু সাংবাদিকদের কাছে কোনো উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান এবং বলেন, আমার কিছুই বলার নেই। নির্বাচনি পরিবেশ সম্পর্কে জাজিরা পৌরসভার আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও সাবেক মেয়র আবুল খায়ের ফকির বলেন, নৌকার প্রার্থী সভা-সমাবেশে আমাকে ও আমার লোকজনকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছেন। রাতের আঁধারে ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে আমাদের পোস্টার। জাজিরা পৌরসভায় আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল হক কবিরাজ বলেন, অভিযোগ সঠিক নয়। আমরা আমাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। তারা তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন বলেন, বিএনপিসহ কারও কোনো অভিযোগ আমাদের কাছে আসেনি। সবাই সুন্দরভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনের দিন প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেটসহ পর্যাপ্ত পুলিশ, আনসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা থাকবেন।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন