ইভিএম বুথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাহারা চান শাহাদাত
jugantor
ইভিএম বুথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাহারা চান শাহাদাত

  চট্টগ্রাম ব্যুরো  

২২ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবরে ৮ দাবি জানিয়েছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মো. হাসানুজ্জামানের মাধ্যমে লিখিতভাবে এসব দাবি পাঠান নির্বাচন কমিশনে।

চিঠিতে ডা. শাহাদাত বলেন, চট্টগ্রামের মানুষ মনে করেছিলেন একটি সুন্দর পরিবেশে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। কিন্তু প্রচার শুরুর পর থেকে বিএনপির পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। প্রচারণায় বাধা, গাড়ি ভাঙচুরসহ নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। সধারণ ভোটাররা যাতে কেন্দ্রে না যায়, সেজন্য ঘরে ঘরে গিয়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হুমকি দিচ্ছেন। এ অবস্থায় নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

শাহাদাতের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য নিরাপদ, অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর করতে হবে। নির্বাচনে সহিংসতা প্রতিরোধে সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিতে হবে। ইভিএম প্যানেলের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি ইভিএম বুথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সশস্ত্র কর্মকর্তা নিয়োগ করতে হবে। এনআইডি ছাড়া ভোটকেন্দ্রে কাউকে প্রবেশাধিকার দেয়া যাবে না। বহিরাগত ও সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

শাহাদাতের অন্য দাবির মধ্যে রয়েছে, ভোটকেন্দ্রে এজেন্টদের সুরক্ষা দিতে হবে। লাইনে দাঁড়ানো ভোটারদের এনআইডি বারবার পরীক্ষা করতে হবে যাতে লাইনে কোনো বহিরাগত প্রবেশ করতে না পারে। নির্বাচনকালে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যেসব মামলা দেয়া হচ্ছে, তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। দাবিগুলো জমা দেয়ার সময় ডা. শাহাদাতের সঙ্গে ছিলেন নগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, দক্ষিণ জেলার আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান।

শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মাঠে থাকব : ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, বিএনপি সবসময় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। দেশ-জাতি এবং গণতন্ত্রের স্বার্থে বিএনপি এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকব। তিনি বৃহস্পতিবার বিকালে চট্টগ্রাম নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা যুবদলের গণমিছিল ও পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

নগরীর জমিয়তুল ফালাহ জামে মসজিদ এলাকা থেকে শুরু হওয়া গণমিছিল শেষ হয় টাইগারপাস মোড়ে। সেখানে নগর যুবদল সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদের সঞ্চলনায় পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী শাহাদাত বলেন, আওয়ামী লীগ ধানের শীষের গণজোয়ার এবং নগরবাসীর মনোভাব বুঝতে পেরে নির্বাচন বানচাল করার জন্য কূটকৌশল অবলম্বন করে প্রশাসনকে ব্যবহার করছে। নির্বাচন ভণ্ডুল করার চেষ্টায় তারা বুধবার রাতে বিনা উসকানিতে নাসিমন ভবনের বিএনপি দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালায় এবং ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুর করে। উল্টো বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রামের উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুল আলম নিরব বলেন, হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং বীর চট্টলার উন্নয়নের স্বার্থে ডা. শাহাদাত হোসেনের মতো যোগ্য প্রার্থীকে বিজয়ী করে আনতে হবে। সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, যুবদলকে মাঠে থেকে সব ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ভোট কেন্দ্রে অবস্থান নিতে হবে। ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহাদাত নগরীর ২ নম্বর জালালাবাদ ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন। এ সময় পথসভায় তিনি বলেন, এর আগে সারা দেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মতো চসিক নির্বাচনকেও প্রহসনে পরিণত করার চেষ্টা হচ্ছে।

বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে। আর ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে আসতে নিষেধ করা হচ্ছে। বুধবার রাতে বিএনপির ২০-৩০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ইভিএম বুথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাহারা চান শাহাদাত

 চট্টগ্রাম ব্যুরো 
২২ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবরে ৮ দাবি জানিয়েছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মো. হাসানুজ্জামানের মাধ্যমে লিখিতভাবে এসব দাবি পাঠান নির্বাচন কমিশনে।

চিঠিতে ডা. শাহাদাত বলেন, চট্টগ্রামের মানুষ মনে করেছিলেন একটি সুন্দর পরিবেশে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। কিন্তু প্রচার শুরুর পর থেকে বিএনপির পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। প্রচারণায় বাধা, গাড়ি ভাঙচুরসহ নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। সধারণ ভোটাররা যাতে কেন্দ্রে না যায়, সেজন্য ঘরে ঘরে গিয়ে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হুমকি দিচ্ছেন। এ অবস্থায় নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

শাহাদাতের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য নিরাপদ, অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর করতে হবে। নির্বাচনে সহিংসতা প্রতিরোধে সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিতে হবে। ইভিএম প্যানেলের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি ইভিএম বুথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সশস্ত্র কর্মকর্তা নিয়োগ করতে হবে। এনআইডি ছাড়া ভোটকেন্দ্রে কাউকে প্রবেশাধিকার দেয়া যাবে না। বহিরাগত ও সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

শাহাদাতের অন্য দাবির মধ্যে রয়েছে, ভোটকেন্দ্রে এজেন্টদের সুরক্ষা দিতে হবে। লাইনে দাঁড়ানো ভোটারদের এনআইডি বারবার পরীক্ষা করতে হবে যাতে লাইনে কোনো বহিরাগত প্রবেশ করতে না পারে। নির্বাচনকালে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যেসব মামলা দেয়া হচ্ছে, তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। দাবিগুলো জমা দেয়ার সময় ডা. শাহাদাতের সঙ্গে ছিলেন নগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, দক্ষিণ জেলার আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান।

শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মাঠে থাকব : ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, বিএনপি সবসময় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। দেশ-জাতি এবং গণতন্ত্রের স্বার্থে বিএনপি এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকব। তিনি বৃহস্পতিবার বিকালে চট্টগ্রাম নগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা যুবদলের গণমিছিল ও পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

নগরীর জমিয়তুল ফালাহ জামে মসজিদ এলাকা থেকে শুরু হওয়া গণমিছিল শেষ হয় টাইগারপাস মোড়ে। সেখানে নগর যুবদল সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদের সঞ্চলনায় পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী শাহাদাত বলেন, আওয়ামী লীগ ধানের শীষের গণজোয়ার এবং নগরবাসীর মনোভাব বুঝতে পেরে নির্বাচন বানচাল করার জন্য কূটকৌশল অবলম্বন করে প্রশাসনকে ব্যবহার করছে। নির্বাচন ভণ্ডুল করার চেষ্টায় তারা বুধবার রাতে বিনা উসকানিতে নাসিমন ভবনের বিএনপি দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালায় এবং ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুর করে। উল্টো বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রামের উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুল আলম নিরব বলেন, হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং বীর চট্টলার উন্নয়নের স্বার্থে ডা. শাহাদাত হোসেনের মতো যোগ্য প্রার্থীকে বিজয়ী করে আনতে হবে। সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, যুবদলকে মাঠে থেকে সব ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ভোট কেন্দ্রে অবস্থান নিতে হবে। ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহাদাত নগরীর ২ নম্বর জালালাবাদ ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন। এ সময় পথসভায় তিনি বলেন, এর আগে সারা দেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মতো চসিক নির্বাচনকেও প্রহসনে পরিণত করার চেষ্টা হচ্ছে।

বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি-ধমকি দেয়া হচ্ছে। আর ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে আসতে নিষেধ করা হচ্ছে। বুধবার রাতে বিএনপির ২০-৩০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।