সুন্দরবনের ভারতীয় এলাকায় ২ বাংলাদেশি নিহত
jugantor
সুন্দরবনের ভারতীয় এলাকায় ২ বাংলাদেশি নিহত

  সাতক্ষীরা প্রতিনিধি  

২৩ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সাতক্ষীরার পশ্চিম সুন্দরবনের বিপরীতে ভারতীয় এলাকায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তারা বাঘের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন বলে প্রাথমিক ধারণা করা হয়।
নিহতরা হলেন, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের পশ্চিম কৈখালী গ্রামের কফিল উদ্দিনের ছেলে রতন (৪২) ও একই গ্রামের মনো মিস্ত্রি নামে এক ব্যক্তির ছেলে মিজানুর রহমান (৪০)। এ ঘটনায় বেঁচে যাওয়া অন্যজন হলেন আবু মুসা (৪১)। তিনি জয়াখালি গ্রামের সাত্তারের ছেলে।
কৈখালি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল ইসলাম নিহত দু’জনের পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানান-বুধবারে রতন, মিজান ও মুসা একসঙ্গে কাঁকড়া ধরার জন্য সুন্দরবনে যান। তারা ভুল করে ভারতীয় এলাকায় ঢুকে পড়েন। ঝিল-নদীসংলগ্ন বাকশা খালের বড়মুখো-ছোটমুখো পয়েন্টের মাঝামাঝি এলাকায় বাঘের হামলার শিকার হন তারা। মানুষখেকো বাঘটি প্রথমে মিজানের ওপর হামলা করে। মিজান তার হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এ সময় তাকে ঠেকাতে তার সঙ্গী রতন বাঘের ওপর পাল্টা হামলা চালায়। এ সময় বাঘ মিজানকে ছেড়ে রতনের ওপর আক্রমণ করে। ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়।
রেজাউল আরও জানান, দু’জনের সঙ্গে বাঘের এ লড়াই দেখে আতঙ্কে মুসা নদীতে ঝাঁপ দেয়। এ সময় তাকে ভারতের গোসাবা থানা পুলিশ ও স্থানীয়রা উদ্ধার করে। মুসা ভারতীয় এলাকা থেকে শুক্রবার সকালে তার সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও রেজাউল ইসলাম জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, লাশ দুটি কোথায় তা মুসা নিজে এবং ভারতীয় শমসেরনগর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরাও জানাতে পারেননি। তবে বিএসএফ লাশ দুটি খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছে। নিহতদের স্বজনরা তাদের ফেরত চেয়ে ১৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।
এদিকে অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, এখন সুন্দরবনের নদীতে চলছে ভাটিখার গোন। এ মুহূর্তে মাছ বা কাঁকড়া ধরতে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় কোনো জেলে নদীতে নামেন না। মিজানুর রহমান একজন চোরাকারবারি। স্থানীয় লতিফ ও মামুন কয়ালের নেতৃত্বে একদল গরু ও মাদক চোরাচালানি সিন্ডিকেটের সঙ্গে মিজান জড়িত। মোটরসাইকেল চালক মুসার বাবা আব্দুস সাত্তার জানিয়েছেন, তার জামাই মিজান মুসাকে তার সঙ্গে ডেকে নিয়ে যায়। মুসা কখনও জঙ্গলে মাছ ধরতে যায় না বলে আব্দুস সাত্তার উল্লেখ করেন। এ সূত্রগুলোর ধারণা, তারা কেউ বাঘের হামলায় নিহত হননি। গরু ও মাদক পাচারকালে ভারতীয়দের হাতে মোল্লাখালি এলাকায় কোনো না কোনোভাবে তারা নিহত হয়েছেন বলে তারা খবর পেয়েছেন। মিজান রতনের ওই সিন্ডিকেটটি গরু ও মাদক চোরাচালানের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। কৈখালি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি খোঁজখবর নিচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত তাদের যে বাঘে খেয়েছে এমনটি নিশ্চিত করা যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ১৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল ইয়াসিন চৌধুরী জানান, রতন ও মিজানের নিহত হওয়ার খবর তিনিও শুনেছেন। মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে বিজিবি অধিনায়ক নিশ্চিত করে বলেন, রতন ও মিজান বিএসএফের গুলিতে নিহত হননি। এ বিষয়ে নিশ্চিত করার জন্য তিনি বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথাবার্তা বলেছেন। অধিনায়ক আরও জানান, বিজিবি এবং বিএসএফ পৃথকভাবে সুন্দরবনসংলগ্ন নদীতে লাশ দুটির খোঁজ করছে। সুন্দরবনের কৈখালি ফরেস্ট স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাইদ জানান- রতন, মিজান ও মুসা নামের কেউই তাদের কাছ থেকে পাশ নেয়নি। তারা পাশ না নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করে থাকলে এবং তারা বাঘের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন বলে যে খবর পাওয়া গেছে সে সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন।

সুন্দরবনের ভারতীয় এলাকায় ২ বাংলাদেশি নিহত

 সাতক্ষীরা প্রতিনিধি 
২৩ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সাতক্ষীরার পশ্চিম সুন্দরবনের বিপরীতে ভারতীয় এলাকায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তারা বাঘের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন বলে প্রাথমিক ধারণা করা হয়।
নিহতরা হলেন, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের পশ্চিম কৈখালী গ্রামের কফিল উদ্দিনের ছেলে রতন (৪২) ও একই গ্রামের মনো মিস্ত্রি নামে এক ব্যক্তির ছেলে মিজানুর রহমান (৪০)। এ ঘটনায় বেঁচে যাওয়া অন্যজন হলেন আবু মুসা (৪১)। তিনি জয়াখালি গ্রামের সাত্তারের ছেলে।
কৈখালি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল ইসলাম নিহত দু’জনের পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানান-বুধবারে রতন, মিজান ও মুসা একসঙ্গে কাঁকড়া ধরার জন্য সুন্দরবনে যান। তারা ভুল করে ভারতীয় এলাকায় ঢুকে পড়েন। ঝিল-নদীসংলগ্ন বাকশা খালের বড়মুখো-ছোটমুখো পয়েন্টের মাঝামাঝি এলাকায় বাঘের হামলার শিকার হন তারা। মানুষখেকো বাঘটি প্রথমে মিজানের ওপর হামলা করে। মিজান তার হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এ সময় তাকে ঠেকাতে তার সঙ্গী রতন বাঘের ওপর পাল্টা হামলা চালায়। এ সময় বাঘ মিজানকে ছেড়ে রতনের ওপর আক্রমণ করে। ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়।
রেজাউল আরও জানান, দু’জনের সঙ্গে বাঘের এ লড়াই দেখে আতঙ্কে মুসা নদীতে ঝাঁপ দেয়। এ সময় তাকে ভারতের গোসাবা থানা পুলিশ ও স্থানীয়রা উদ্ধার করে। মুসা ভারতীয় এলাকা থেকে শুক্রবার সকালে তার সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও রেজাউল ইসলাম জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, লাশ দুটি কোথায় তা মুসা নিজে এবং ভারতীয় শমসেরনগর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরাও জানাতে পারেননি। তবে বিএসএফ লাশ দুটি খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছে। নিহতদের স্বজনরা তাদের ফেরত চেয়ে ১৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।
এদিকে অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, এখন সুন্দরবনের নদীতে চলছে ভাটিখার গোন। এ মুহূর্তে মাছ বা কাঁকড়া ধরতে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় কোনো জেলে নদীতে নামেন না। মিজানুর রহমান একজন চোরাকারবারি। স্থানীয় লতিফ ও মামুন কয়ালের নেতৃত্বে একদল গরু ও মাদক চোরাচালানি সিন্ডিকেটের সঙ্গে মিজান জড়িত। মোটরসাইকেল চালক মুসার বাবা আব্দুস সাত্তার জানিয়েছেন, তার জামাই মিজান মুসাকে তার সঙ্গে ডেকে নিয়ে যায়। মুসা কখনও জঙ্গলে মাছ ধরতে যায় না বলে আব্দুস সাত্তার উল্লেখ করেন। এ সূত্রগুলোর ধারণা, তারা কেউ বাঘের হামলায় নিহত হননি। গরু ও মাদক পাচারকালে ভারতীয়দের হাতে মোল্লাখালি এলাকায় কোনো না কোনোভাবে তারা নিহত হয়েছেন বলে তারা খবর পেয়েছেন। মিজান রতনের ওই সিন্ডিকেটটি গরু ও মাদক চোরাচালানের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। কৈখালি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি খোঁজখবর নিচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত তাদের যে বাঘে খেয়েছে এমনটি নিশ্চিত করা যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ১৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল ইয়াসিন চৌধুরী জানান, রতন ও মিজানের নিহত হওয়ার খবর তিনিও শুনেছেন। মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে বিজিবি অধিনায়ক নিশ্চিত করে বলেন, রতন ও মিজান বিএসএফের গুলিতে নিহত হননি। এ বিষয়ে নিশ্চিত করার জন্য তিনি বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথাবার্তা বলেছেন। অধিনায়ক আরও জানান, বিজিবি এবং বিএসএফ পৃথকভাবে সুন্দরবনসংলগ্ন নদীতে লাশ দুটির খোঁজ করছে। সুন্দরবনের কৈখালি ফরেস্ট স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাইদ জানান- রতন, মিজান ও মুসা নামের কেউই তাদের কাছ থেকে পাশ নেয়নি। তারা পাশ না নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করে থাকলে এবং তারা বাঘের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন বলে যে খবর পাওয়া গেছে সে সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন।  

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন