কাউন্সিলর হত্যাকারী জাহিদুল গ্রেফতার
jugantor
সিরাজগঞ্জে এসপির সংবাদ সম্মেলন
কাউন্সিলর হত্যাকারী জাহিদুল গ্রেফতার

  সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি  

২৩ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিরাজগঞ্জে পৌরসভা নির্বাচনে জয়ী কাউন্সিলর প্রার্থী মো. তরিকুল ইসলাম খানের হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও একজনকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) হাসিবুল আলম জানান, গ্রেফতার জাহিদুল ইসলাম (২০) মূল হত্যাকারী।
সিরাজগঞ্জ সদর থানা চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শুক্রবার দুপুরে এসপি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১টার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের সহযোগিতায় যাত্রাবাড়ী থানার ধলপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে সিরাজগঞ্জ নিয়ে আসা হয়। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শুক্রবার সকালে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার জাহিদুল পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি এবং সিরাজগঞ্জ শহরের সাহেদনগর ব্যাপারীপাড়া মহল্লার টিক্কা ব্যাপারীর ছেলে।
পুলিশ সুপার বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত শুরু করে। পুলিশ সদর দপ্তর, ডিএমপি, সিআইডি ও পিবিআই এই কাজে সহযোগিতা করে। তদন্তের একপর্যায়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের সহযোগিতায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত জাহিদুল ইসলামকে আটক করা হয়। তিনি জিজ্ঞাসাবাদে তরিকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন।
এসপি আরও বলেন, জাহিদুল ইসলাম পৌর নির্বাচনে অপর কাউন্সিলর প্রার্থী শাহাদত হোসেন বুদ্দিনের সমর্থক ছিলেন। নির্বাচনের ৩ দিন আগে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার জন্য ঢাকা থেকে সাহেদনগর ব্যাপারীপাড়া নিজ বাড়িতে আসেন। নির্বাচনের আগের দিন রাতে এক আসামির বাড়িতে তার উপস্থিতিতে এজাহারভুক্ত ও অন্য আসামিরা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তরিকুল ইসলাম খানের ওপর হামলার পরিকল্পনা করে।
তরিকুল ইসলামের ওপর হামলা চালানোর সময়ের কথা উল্লেখ করে এসপি হাসিবুল আলম বলেন, ফলাফল ঘোষণার আগে অন্য আসামিদের সঙ্গে গ্রেফতার জাহিদুল ইসলাম ছুরি নিয়ে শহীদগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে উপস্থিত হন। সন্ধ্যা ৭টার কিছু আগে ফলাফল ঘোষণার সময় ডালিম প্রতীকের প্রার্থী তরিকুল ইসলাম খানকে বিজয়ী ঘোষণা করা হলে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী অন্য আসামিদের সহযোগিতায় জাহিদুল বিজয়ী প্রার্থী তরিকুলের পেটে ছুরিকাঘাত করে সেখান থেকে চলে যান। এরপর তিনি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা ছুরিটি লুকিয়ে রেখে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার ধলপুর এলাকার ভাড়া বাসায় চলে যান।
এ ঘটনায় ১৭ জানুয়ারি বিজয়ী কাউন্সিলর প্রার্থী তরিকুল ইসলাম খানের ছেলে একরামুল হাসান বাদী হয়ে ৩২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩০-৪০ জনকে আসামি করে সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে এসপি হাসিবুল আলম আরও বলেন, বিজয়ী কাউন্সিলর প্রার্থী তরিকুল ইসলামকে হত্যার ঘটনায় মামলার এজাহারভুক্ত ২৭ নম্বর আসামিকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে। এ মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। তিনি জানান, জবানবন্দিতে এজাহার নামীয় কয়েকজন আসামি ছাড়াও অজ্ঞাতনামা বেশ কয়েকজন আসামির নাম স্বীকার করেছে জাহিদুল।
এদিকে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাহাউদ্দিন ফারুকী সন্ধ্যায় জানান, গ্রেফতার জাহিদুল ইসলাম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। পরে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

সিরাজগঞ্জে এসপির সংবাদ সম্মেলন

কাউন্সিলর হত্যাকারী জাহিদুল গ্রেফতার

 সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি 
২৩ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সিরাজগঞ্জে পৌরসভা নির্বাচনে জয়ী কাউন্সিলর প্রার্থী মো. তরিকুল ইসলাম খানের হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও একজনকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) হাসিবুল আলম জানান, গ্রেফতার জাহিদুল ইসলাম (২০) মূল হত্যাকারী।  
সিরাজগঞ্জ সদর থানা চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শুক্রবার দুপুরে এসপি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১টার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের সহযোগিতায় যাত্রাবাড়ী থানার ধলপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে সিরাজগঞ্জ নিয়ে আসা হয়। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শুক্রবার সকালে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার জাহিদুল পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি এবং সিরাজগঞ্জ শহরের সাহেদনগর ব্যাপারীপাড়া মহল্লার টিক্কা ব্যাপারীর ছেলে।  
পুলিশ সুপার বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত শুরু করে। পুলিশ সদর দপ্তর, ডিএমপি, সিআইডি ও পিবিআই এই কাজে সহযোগিতা করে। তদন্তের একপর্যায়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের সহযোগিতায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত জাহিদুল ইসলামকে আটক করা হয়। তিনি জিজ্ঞাসাবাদে তরিকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন।
এসপি আরও বলেন, জাহিদুল ইসলাম পৌর নির্বাচনে অপর কাউন্সিলর প্রার্থী শাহাদত হোসেন বুদ্দিনের সমর্থক ছিলেন। নির্বাচনের ৩ দিন আগে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার জন্য ঢাকা থেকে সাহেদনগর ব্যাপারীপাড়া নিজ বাড়িতে আসেন। নির্বাচনের আগের দিন রাতে এক আসামির বাড়িতে তার উপস্থিতিতে এজাহারভুক্ত ও অন্য আসামিরা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তরিকুল ইসলাম খানের ওপর হামলার পরিকল্পনা করে।
তরিকুল ইসলামের ওপর হামলা চালানোর সময়ের কথা উল্লেখ করে এসপি হাসিবুল আলম বলেন, ফলাফল ঘোষণার আগে অন্য আসামিদের সঙ্গে গ্রেফতার জাহিদুল ইসলাম ছুরি নিয়ে শহীদগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে উপস্থিত হন। সন্ধ্যা ৭টার কিছু আগে ফলাফল ঘোষণার সময় ডালিম প্রতীকের প্রার্থী তরিকুল ইসলাম খানকে বিজয়ী ঘোষণা করা হলে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী অন্য আসামিদের সহযোগিতায় জাহিদুল বিজয়ী প্রার্থী তরিকুলের পেটে ছুরিকাঘাত করে সেখান থেকে চলে যান। এরপর তিনি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা ছুরিটি লুকিয়ে রেখে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার ধলপুর এলাকার ভাড়া বাসায় চলে যান।
এ ঘটনায় ১৭ জানুয়ারি বিজয়ী কাউন্সিলর প্রার্থী তরিকুল ইসলাম খানের ছেলে একরামুল হাসান বাদী হয়ে ৩২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩০-৪০ জনকে আসামি করে সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে এসপি হাসিবুল আলম আরও বলেন, বিজয়ী কাউন্সিলর প্রার্থী তরিকুল ইসলামকে হত্যার ঘটনায় মামলার এজাহারভুক্ত ২৭ নম্বর আসামিকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে। এ মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। তিনি জানান, জবানবন্দিতে এজাহার নামীয় কয়েকজন আসামি ছাড়াও অজ্ঞাতনামা বেশ কয়েকজন আসামির নাম স্বীকার করেছে জাহিদুল।
এদিকে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাহাউদ্দিন ফারুকী সন্ধ্যায় জানান, গ্রেফতার জাহিদুল ইসলাম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। পরে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন