ফেঁসে যাচ্ছেন বিএসসির সাবেক এমডি
jugantor
আইনের তোয়াক্কা না করে জমি ভাড়া
ফেঁসে যাচ্ছেন বিএসসির সাবেক এমডি

  কাজী জেবেল  

২৩ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিএসসি

সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত আইন পিপিএ-এর (পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট-২০০৬) তোয়াক্কা না করে ১০ বছরের জন্য জমি ভাড়া দিয়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। লিজগ্রহীতাকে সুবিধা দিতে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ চুক্তি করায় প্রতিমাসে ভাড়া বাবদ ২ লাখ ৮৭ হাজার ৫২৫ টাকা বঞ্চিত হচ্ছে সংস্থাটি। আইনি লড়াইয়ে থাকায় খুলনা নগরীর প্রাণকেন্দ্র হিসাবে বিবেচিত ২৪-২৫ নম্বর কেডিএ এভিনিউতে মূল সড়কের সঙ্গে অবস্থিত প্রায় ১২ কাঠার জমিটি এখন উদ্ধার করতে পারছে না সংস্থাটি। সেখানে অস্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণে চুক্তি থাকলেও নির্মাণ করা হয়েছে স্থায়ী ভবন। এসবকিছুর জন্য এককভাবে দায়ী করা হয়েছে বিএসসির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ইয়াহইয়া সৈয়দকে। নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় গঠিত দুই সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লিজগ্রহীতা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র আরও জানিয়েছে, ওই জমিতে থাকা ‘অবৈধ’ ভবন উচ্ছেদ করতে সম্প্রতি খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (কেডিএ) চিঠি দিয়েছে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়। ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি সম্পত্তি নিয়মবহির্ভূতভাবে ভাড়া দেওয়ায় বিএসসির সাবেক এমডির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করতে সম্প্রতি বিএসসিকেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে আইন উপদেষ্টার মতামত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসসির সচিব খালেদ মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন

পেয়েছি। প্রতিবেদন ও নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া জমির স্থাপনার ওপর উচ্চ আদালতের একটি স্থগিতাদেশ রয়েছে। সেই আদেশের বিষয়েও আইনি লড়াই চলছে।

তবে সব নিয়ম মানা হয়েছে বলে দাবি করেছেন লিজগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান হাউজটন এক্সপোর্টের মালিক মহাসিনুল হাবীব। তিনি বলেন, জমি ভাড়া দিতে পত্রিকায় তিনবার বিজ্ঞাপন দেওয়ার পর সর্বোচ্চ দরদাতা হিসাবে আমাকে জমিটি লিজ দেওয়া হয়। চুক্তির শর্ত মেনে সেখানে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। নিজের পেনশন ও সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে ভবন নির্মাণের এক বছর না যেতেই আমাকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। কিন্তু ভবন নির্মাণের ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে না। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বর্তমান ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকের রেষারেষির বলি বানানো হচ্ছে আমাকে।

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে যোগাযোগ করেও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের সাবেক এমডি কমোডর ইয়াহ্ইয়া সৈয়দের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর সুমন মাহমুদ সাব্বির যুগান্তরকে বলেন, এটা ব্যক্তিগত নয়, প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়। মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অনিয়ম ধরা পড়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, খুলনার ২৪-২৫ নম্বর কেডিএ এভিনিউতে প্রধান সড়কের সঙ্গেই শিপিং করপোরেশনের ১১ দশমিক ৭৩ কাঠা নিজস্ব জমি এটি। এর বাজারমূল্য কমবেশি ১২ কোটি টাকা। জমিটি ১০ বছরের জন্য হাউজটন এক্সপোর্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। শিপিং করপোরেশনের ৩০২ নম্বর সভায় সদস্যরা চুক্তিপত্র পর্যালোচনা করেন এবং এ চুক্তিকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ হিসাবে অভিহিত করেন। এ বিষয়ে সত্যতা যাচাইয়ে ১৯ আগস্ট নৌমন্ত্রণালয়ের তৎকালীন যুগ্মসচিব মো. মুহিদুল ইসলামকে সভাপতি ও উপসচিব মো. সাইফুল ইসলামকে সদস্য করে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ২২ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিল করে।

আরও জানা গেছে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে জমি লিজ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম থাকার প্রমাণ মিলেছে। এ জমি লিজ দেওয়ার ক্ষেত্রে এককভাবে সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালককে দায়ী করা হয়েছে। তবে এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দরপত্র পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন-২০০৬ অনুযায়ী জমিটি লিজ দেওয়া হয়নি। দরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় বা বিভাগের প্রতিনিধি এবং বহিঃসদস্য হিসাবে কেউ উপস্থিত ছিলেন না। এভাবে জমি ভাড়ার চুক্তি করার পর সেটি আবার সংশোধন করে লিজগ্রহীতাকে আরও বেশি সুযোগ করে দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে আইন কর্মকর্তার ভেটিং নেওয়া হয়নি। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৯ সালের ১৭ এপ্রিল বিএসসির তৎকালীন এমডি কমোডর ইয়াহ্ইয়া সৈয়দ চুক্তিটি অনুমোদন করেন। কিন্তু এর মাত্র ৫ দিন পর ওই বছরের ২৩ এপ্রিল পরিচালনা পর্ষদের ৩০১ নম্বর সভায় চুক্তির বিষয়টি অবহিত করা হয়নি।

তদন্ত প্রতিবেদনে জমি ভাড়া দিয়ে বিএসসি প্রতিমাসে ৩ লাখ ৪৪ হাজার ২০০ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, জমির অবস্থান ও গুরুত্ব বিবেচনায় বর্তমান বাজার দরের চেয়ে অনেক কম দরে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। জমির ভাড়া ও জমির ওপর স্থাপিত তিন তলা ভবনের জন্য প্রতিমাসে ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৫২৫ টাকা ভাড়া আদায় হওয়ার কথা। অথচ মাসে ৭০ হাজার টাকা দরে জমিটি ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এ হিসাবে প্রতি বিএসসি ২ লাখ ৮৭ হাজার ৫২৫ টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছে। লিজগ্রহীতার বিরুদ্ধে চুক্তির ১০ নম্বর শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ এনে এতে বলা হয়, অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের শর্ত থাকলেও আরসিসি ঢালাই করা ৪০টি কলামের উপর ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বিএসসির সাবেক পরিচালক কমোডর ইয়াহ্ইয়া সৈয়দের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং শর্ত ভঙ্গ করায় হাউজটন এক্সপোর্টের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

(এ প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন যুগান্তরের খুলনা ব্যুরোর প্রতিবেদক নূর ইসলাম রকি)

আইনের তোয়াক্কা না করে জমি ভাড়া

ফেঁসে যাচ্ছেন বিএসসির সাবেক এমডি

 কাজী জেবেল 
২৩ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
বিএসসি
প্রতীকী ছবি

সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত আইন পিপিএ-এর (পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট-২০০৬) তোয়াক্কা না করে ১০ বছরের জন্য জমি ভাড়া দিয়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। লিজগ্রহীতাকে সুবিধা দিতে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ চুক্তি করায় প্রতিমাসে ভাড়া বাবদ ২ লাখ ৮৭ হাজার ৫২৫ টাকা বঞ্চিত হচ্ছে সংস্থাটি। আইনি লড়াইয়ে থাকায় খুলনা নগরীর প্রাণকেন্দ্র হিসাবে বিবেচিত ২৪-২৫ নম্বর কেডিএ এভিনিউতে মূল সড়কের সঙ্গে অবস্থিত প্রায় ১২ কাঠার জমিটি এখন উদ্ধার করতে পারছে না সংস্থাটি। সেখানে অস্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণে চুক্তি থাকলেও নির্মাণ করা হয়েছে স্থায়ী ভবন। এসবকিছুর জন্য এককভাবে দায়ী করা হয়েছে বিএসসির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ইয়াহইয়া সৈয়দকে। নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় গঠিত দুই সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লিজগ্রহীতা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র আরও জানিয়েছে, ওই জমিতে থাকা ‘অবৈধ’ ভবন উচ্ছেদ করতে সম্প্রতি খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (কেডিএ) চিঠি দিয়েছে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়। ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি সম্পত্তি নিয়মবহির্ভূতভাবে ভাড়া দেওয়ায় বিএসসির সাবেক এমডির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করতে সম্প্রতি বিএসসিকেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে আইন উপদেষ্টার মতামত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসসির সচিব খালেদ মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন

পেয়েছি। প্রতিবেদন ও নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া জমির স্থাপনার ওপর উচ্চ আদালতের একটি স্থগিতাদেশ রয়েছে। সেই আদেশের বিষয়েও আইনি লড়াই চলছে।

তবে সব নিয়ম মানা হয়েছে বলে দাবি করেছেন লিজগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান হাউজটন এক্সপোর্টের মালিক মহাসিনুল হাবীব। তিনি বলেন, জমি ভাড়া দিতে পত্রিকায় তিনবার বিজ্ঞাপন দেওয়ার পর সর্বোচ্চ দরদাতা হিসাবে আমাকে জমিটি লিজ দেওয়া হয়। চুক্তির শর্ত মেনে সেখানে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। নিজের পেনশন ও সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে ভবন নির্মাণের এক বছর না যেতেই আমাকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। কিন্তু ভবন নির্মাণের ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে না। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বর্তমান ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকের রেষারেষির বলি বানানো হচ্ছে আমাকে।

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে যোগাযোগ করেও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের সাবেক এমডি কমোডর ইয়াহ্ইয়া সৈয়দের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর সুমন মাহমুদ সাব্বির যুগান্তরকে বলেন, এটা ব্যক্তিগত নয়, প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়। মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অনিয়ম ধরা পড়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, খুলনার ২৪-২৫ নম্বর কেডিএ এভিনিউতে প্রধান সড়কের সঙ্গেই শিপিং করপোরেশনের ১১ দশমিক ৭৩ কাঠা নিজস্ব জমি এটি। এর বাজারমূল্য কমবেশি ১২ কোটি টাকা। জমিটি ১০ বছরের জন্য হাউজটন এক্সপোর্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। শিপিং করপোরেশনের ৩০২ নম্বর সভায় সদস্যরা চুক্তিপত্র পর্যালোচনা করেন এবং এ চুক্তিকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ হিসাবে অভিহিত করেন। এ বিষয়ে সত্যতা যাচাইয়ে ১৯ আগস্ট নৌমন্ত্রণালয়ের তৎকালীন যুগ্মসচিব মো. মুহিদুল ইসলামকে সভাপতি ও উপসচিব মো. সাইফুল ইসলামকে সদস্য করে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ২২ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিল করে।

আরও জানা গেছে, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে জমি লিজ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম থাকার প্রমাণ মিলেছে। এ জমি লিজ দেওয়ার ক্ষেত্রে এককভাবে সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালককে দায়ী করা হয়েছে। তবে এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দরপত্র পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন-২০০৬ অনুযায়ী জমিটি লিজ দেওয়া হয়নি। দরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় বা বিভাগের প্রতিনিধি এবং বহিঃসদস্য হিসাবে কেউ উপস্থিত ছিলেন না। এভাবে জমি ভাড়ার চুক্তি করার পর সেটি আবার সংশোধন করে লিজগ্রহীতাকে আরও বেশি সুযোগ করে দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে আইন কর্মকর্তার ভেটিং নেওয়া হয়নি। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৯ সালের ১৭ এপ্রিল বিএসসির তৎকালীন এমডি কমোডর ইয়াহ্ইয়া সৈয়দ চুক্তিটি অনুমোদন করেন। কিন্তু এর মাত্র ৫ দিন পর ওই বছরের ২৩ এপ্রিল পরিচালনা পর্ষদের ৩০১ নম্বর সভায় চুক্তির বিষয়টি অবহিত করা হয়নি।

তদন্ত প্রতিবেদনে জমি ভাড়া দিয়ে বিএসসি প্রতিমাসে ৩ লাখ ৪৪ হাজার ২০০ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, জমির অবস্থান ও গুরুত্ব বিবেচনায় বর্তমান বাজার দরের চেয়ে অনেক কম দরে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। জমির ভাড়া ও জমির ওপর স্থাপিত তিন তলা ভবনের জন্য প্রতিমাসে ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৫২৫ টাকা ভাড়া আদায় হওয়ার কথা। অথচ মাসে ৭০ হাজার টাকা দরে জমিটি ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এ হিসাবে প্রতি বিএসসি ২ লাখ ৮৭ হাজার ৫২৫ টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছে। লিজগ্রহীতার বিরুদ্ধে চুক্তির ১০ নম্বর শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ এনে এতে বলা হয়, অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের শর্ত থাকলেও আরসিসি ঢালাই করা ৪০টি কলামের উপর ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বিএসসির সাবেক পরিচালক কমোডর ইয়াহ্ইয়া সৈয়দের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং শর্ত ভঙ্গ করায় হাউজটন এক্সপোর্টের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

(এ প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন যুগান্তরের খুলনা ব্যুরোর প্রতিবেদক নূর ইসলাম রকি)

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন